আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Baby

শিশুদের রোগ ও হোমিওপ্যাথিতে এর চিকিৎসা – পর্ব ০৪

শিশুর রোগ ও চিকিৎসা


শিশুর কোনো রোগ হলে রোগটা কি তা আগে জানা দরকার। শিশুর মা ও যিনি চিকিৎসা করবেন উভয়কেই এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে মূল রোগটাকে ধরবার চেষ্টা করতে হবে।

শিশু কথা বলতে পারে না, আকার-ঈঙ্গিতে বোঝাতেও পারে না কিছু – এ অবস্থায় নিজেদেরই লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় ও ওষুধ নির্বাচন করতে হবে।

আবার এমন রোগও আছে যার কোনো লক্ষণ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। যেমন- পেট কামড়ানি, পেট ব্যথা প্রভৃতি। এক্ষেত্রে শিশু কেবল কাঁদে।

মা ও চিকিৎসককে কান্নার কারণ কি তা জানতে হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক এ রকম অবস্থায় শিশুর মায়ের ঐ সময়কার শারিরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।

মা ও শিশু উভয়কে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসক একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন যে, রোগটা এই হতে পারে বা হওয়া সম্ভব। এবার তিনি ওষুধ নির্বাচন করবেন।

এ কথা মনে রাখা দরকার যে, শিশু রোগের চিকিৎসা করা কাজটা মোটেই সহজ নয়। খুব সাবধানতা অবলম্বনপূর্বক এ কাজে হাত দেওয়া উচিত।

ওষুধের মাত্রার বিষয়েও হুঁশিয়ার থাকতে হয় চিকিৎসককে। মাত্রা বেশি হলে শিশুর পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতির আশংকা থাকে।


 

তড়কা রোগঃ শিশুদের তড়কা রোগ হয় যেসব কারণে তা হলো স্নায়ুবিক দূর্বলতা, আঘাত লাগা, চর্মরোগ  বসে যাওয়া ইত্যাদি। কৃমির কারণেও এ রোগ হতে পারে। দাঁত ওঠবার সময়েও তড়কা হতে পারে।

এ রোগ হলে মূর্ছা, হাত-পা ছোড়া, চোখ কপালে তোলা, হাত-পায়ের আড়ষ্টতা, মুখ-চোখ লাল, ঘুমোতে ঘুমোতে চমকে ওঠা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। লক্ষণ অনুসারে ওষুধ খাওয়ালে এ রোগ অল্প দিনেই সেরে যায়।

দাঁত ওঠার সময় তড়কা হলে- ক্যামোমিলা ৬।

চর্মরোগ বসে গিয়ে তড়কা হলে- সালফার ৩০।

মুখ-চোখ লাল, ঘুমন্ত অবস্থায় চমকানো, হাত-পায়ের আড়ষ্টতা লক্ষণে- বেলেডোনা ৬।

কৃমির জন্য এ রোগ হলে- সিনা ৩x।

খাওয়ার দোষে তড়কার লক্ষণ দেখা গেলে- নাক্সভমিকা ৬।

হাম বসে গিয়ে তড়কা হলে- ব্রায়োনিয়া ৩০ বা ক্যাম্ফার ১২।

জ্বর, পিপাসা, অস্থিরতা, আক্ষেপ প্রভৃতি লক্ষণে- অ্যাকোন ৬। ভয় পেয়ে শিশুর তড়কা হলেও এই ওষুধটি খাওয়ানো চলে।

খাওয়ার দোষে তড়কা হলে- নাক্সভমিকা ৩০।

 

শিশুর ধনুষ্টংকারঃ এ রোগটিকে অনেকে বলেন ‘পেঁচোয় পাওয়া’। শিশু কাঁদে, স্তন টানতে চায় না, মুখ দিয়ে ফেনা ওঠে, হাত-পা আড়ষ্ট হয়ে পড়ে, খিঁচুনি থাকে, চোয়াল ধরে যায় প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। অজীর্ণতা, ঠাণ্ডা লাগা প্রভৃতি কারণে এ রোগ হয়।

কিছুদিন এ রোগে ভুগলে শিশু রোগা হয়ে যায়, দুর্বল হয়ে পড়ে, সব সময় কাঁদতে থাকে। উপযুক্ত চিকিৎসায় এ রোগ সেরে যায়।

খাওয়ার দোষে এ রোগ হলে- নাক্সভমিকা ৬।

চোঁয়াল ধরে গেলে বা কাঁপুনির সাথে চোঁয়াল এদিক-ওদিক নাড়তে থাকলে- জেলসিমিয়াম ৩।

আঘাতের কারণে এ রোগ হলে- আর্নিকা ৩।

ঠাণ্ডা লেগে এই রোগ হলে এবং সেই সঙ্গে বেশি জ্বর থাকলে- অ্যাকোন ৩।

বেশি জ্বর, মাথা গরম, চোখ-মুখ লাল প্রভৃতি লক্ষণে- বেলেডোনা ৬।

মায়ের দূষিত দুধ পান করার ফলে এ রোগ হলে- ক্যামোমিলা ১২ বা ইগ্নেসিয়া ৬।

উগ্র ধরণের ধনুষ্টংকার রোগে- অ্যাসিড হাইড্রোস্যানিকাম ৬।

 

শিশুর নীল রোগঃ শিশুর সারা শরীর নীল হয়ে যায়, সেই সঙ্গে বুক ধড়ফড় করে।

এ রোগের ওষুধ- ডিজিটালিস ৬।

এই রোগ হয়ে যদি হিমাঙ্গ অবস্থা দেখা দেয় তাহলে দিতে হবে- আর্স আল্ব ৬।

 

শিশুর অনিদ্রাঃ অনেক সময় শিশু ঘুমোতে চায় না বা ঘুমোলেও সঙ্গে সঙ্গে জেগে ওঠে। শিশু এ জন্য কাঁদে অনবরত। এ অবস্থায় দেখতে হবে ঘুম না হওয়ার কারণটা কি। কারণ জেনে ওষুধ খাওয়ালে রোগটা সেরে যায়।

যদি কৃমির জন্য অনিদ্রা দেখা দেয়- নাক্সভমিকা ৬।

খাওয়ার দোষে অনিদ্রায়- পালসেটিলা ৬।

মাথায় রক্তাধিক্যজনিত কারণে অনিদ্রায়- বেলেডোনা ৩x।

দাঁত ওঠবার সময় অনিদ্রা দেখা দিলে- ক্যামোমিলা ৬।


আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ৪:৪০)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)