আজ মঙ্গলবার,৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Baby

শিশুদের রোগ ও হোমিওপ্যাথিতে এর চিকিৎসা – পর্ব ০৫

শিশুর রোগ ও চিকিৎসা


শিশুর কোনো রোগ হলে রোগটা কি তা আগে জানা দরকার। শিশুর মা ও যিনি চিকিৎসা করবেন উভয়কেই এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে মূল রোগটাকে ধরবার চেষ্টা করতে হবে।

শিশু কথা বলতে পারে না, আকার-ঈঙ্গিতে বোঝাতেও পারে না কিছু – এ অবস্থায় নিজেদেরই লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় ও ওষুধ নির্বাচন করতে হবে।

আবার এমন রোগও আছে যার কোনো লক্ষণ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। যেমন- পেট কামড়ানি, পেট ব্যথা প্রভৃতি। এক্ষেত্রে শিশু কেবল কাঁদে।

মা ও চিকিৎসককে কান্নার কারণ কি তা জানতে হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক এ রকম অবস্থায় শিশুর মায়ের ঐ সময়কার শারিরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।

মা ও শিশু উভয়কে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসক একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন যে, রোগটা এই হতে পারে বা হওয়া সম্ভব। এবার তিনি ওষুধ নির্বাচন করবেন।

এ কথা মনে রাখা দরকার যে, শিশু রোগের চিকিৎসা করা কাজটা মোটেই সহজ নয়। খুব সাবধানতা অবলম্বনপূর্বক এ কাজে হাত দেওয়া উচিত।

ওষুধের মাত্রার বিষয়েও হুঁশিয়ার থাকতে হয় চিকিৎসককে। মাত্রা বেশি হলে শিশুর পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতির আশংকা থাকে।


 

শিশুর চক্ষু প্রদাহঃ শিশুর চোখ ফুলে ওঠে ও আরক্ত হয়, ওখান থেকে পুঁজ পড়ে বা রক্ত পড়ে। মাঝে মাঝে চোখ জুড়ে যায়। সাধারণত ঠাণ্ডা লেগে এ রোগ হয়ে থাকে। এ অবস্থায় প্রদাহ হয়। তার ফলে শিশু কষ্ট পায় ও বিরক্ত হয়।

চোখের পাতা ফুলে উঠলে, আরক্ত হলে অথবা সেখান দিয়ে পুঁজ-রক্ত বের হলে- আর্জ-নাই ৩ বা মার্ক সল ৬।

ঠাণ্ডা লেগে চক্ষু প্রদাহ হলে- অ্যাকোনাইট ৩x।

চোখের নিচের পাতা ফুললে- এপিস মেল ৬।

চোখের পাতা ফোলা ও লাল হওয়া লক্ষণে- বেলেডোনা ৬।

 

শিশুর ফোঁড়াঃ বড় মানুষদের মতো শিশুরও দেহের যেকোন জায়গায় ফোঁড়া হতে পারে।

ফোঁড়া হবার প্রথম মুখের ওষুধ- আর্নিকা ৩।

প্রদাহযুক্ত ফোঁড়া, গ্রন্থির ফোঁড়ায়- বেলেডোনা ৬ (প্রথমে), সিকেলি কর ৬ (পরে)।

ফোঁড়া হয়, ভালো হয়, আবার হয় – এরকম অবস্থায় দিতে হবে- সালফার ৩০।

পুঁজ হবার ভয় থাকলে বা পুঁজ হলে- হিপার সাল্ফ ৩০।

 

শিশুর অঞ্জনিঃ রোগটা হলো চোখের পাতার গোড়ায় ছোট ছোট ফুস্কুড়ি। পরে এই ফু্স্কুড়িগুলো একসঙ্গে জুড়ে ফোঁড়ার মতো দেখায়। ব্যথা হয়, যন্ত্রণা করে।

এতে পুঁজ হয়। ফোঁড়া পাকে, ফাটে ও পুজ বেরিয়ে যায়। ঘা যখন শুকিয়ে যায় তখন শিশু আরাম পায়। চোখে পিচুটি পড়ে। চোখ অনেক সময় জুড়ে যায়।

যেকোন রকম অঞ্জনিতে- হিপার সাল্ফ ৬ বা পালস ৩।

যে ফোঁড়া সহজে সারে না তার জন্য- থুজা ৩০ বা সালফার ৩০।

 

শিশুর দাঁত ওঠাঃ সচরাচর ৬ থেকে ১০ মাস বয়সের মধ্যে শিশুদের দাঁত ওঠে। অনেকের আবার আরও দেরি হয়। দাঁত ওঠার আগে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন – উদরাময়, পায়খানা বন্ধ প্রভৃতি।

উপরের লক্ষণসমুহ দেখা গেলে- ক্যামোমিলা ১২।

মাড়ি ভেদ করে দাঁত বের হতে না পারলে মাড়ি অল্প চিড়ে দেওয়া দরকার।

দাঁত উঠতে যদি দেরি হয় তাহলে শিশুকে খাওয়াতে হবে- ক্যাল ফস ১২ বা ক্যাল কার্ব ৬।

এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে দিতে হবে- সালফার ৩০।

 

শিশুর দাঁতে পোকাঃ আজকাল প্রায়ই এ রোগটা দেখা যায়। রোগের কারণ হিসাবে বলা যায় দাত অপরিষ্কার রাখা, অজীর্ণতা প্রভৃতি।

বেশি টক বা মিষ্টি খেলেও দাঁতে পোকা ধরে। দাঁতে পোকা ধরলে দাঁতের গোড়ায় ব্যথা হয়, অসহ্য যন্ত্রণা হয়, দাঁতের গোড়া ও গাল ফুলে যায়।

এসব লক্ষণ দেখা গেলে শিশুকে খাওয়াতে হবে- ক্রিয়োজোট ১২ বা সিলিকা ৬।

যন্ত্রণা লাঘবের জন্য দাঁতের গোড়ায় দিতে হবে- ক্রিয়োজোট ৬। দু’ফোঁটা দিলেই উপকার পাওয়া যাবে।


আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ১২:৪২)
  • ২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৮ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)