আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Cholera

কলেরা (Cholera) রোগের লক্ষণ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

কলেরা (Cholera) রোগের চিকিৎসা

 

কলেরার ভেদবমিতে এক রকম জীবাণু থাকে। জীবাণুগুলো অতি বিষাক্ত। ঐ জীবাণুগুলোই মহামারী সৃষ্টি করে। খাদ্য, পানীয়, দুধ প্রভৃতি দ্বারা জীবাণু সুস্থ্য মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং তার ফলেই রোগটা হয়। কলেরার প্রথম লক্ষণ দেখা দেয় রোগীর পায়খানা ও বমিতে।

পায়খানা হয় চালধোয়া পানির মতো আর বমি হয় গন্ধহীন পানির মতো। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, অবসন্নতা দেখা দেয়, চোখ মুখ বসে যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে খিল ধরে। সারা শরীর (বিশেষ করে হাত-পা) শীতল হয়ে পড়ে, শীতল ঘাম বের হয়, নিঃশ্বাসে কষ্ট দেখা দেয়, গলা ভেঙে যায়, নাড়ী লোপ পায় প্রভৃতি হলো পরবর্তী লক্ষণ।

কলেরা রোগটির পাঁচটি অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। সেগুলো হলো – (১) প্রচ্ছন্ন অবস্থা, (২) প্রবল অবস্থা, (৩) পতন অবস্থা, (৪) প্রতিক্রিয়া অবস্থা এবং (৫) দূর্বল অবস্থা।

 

(১) প্রচ্ছন্ন অবস্থাঃ কলেরা রোগের এটি প্রথম অবস্থা। সাধারনত ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রোগের লক্ষণ ধরা পড়ে। এর অবস্থানকাল দুই বা তিন দিন পর্যন্ত হতে পারে। এই অবস্থায় রোগীর মধ্যে দেখা অস্থিরতা ও ক্ষুধামান্দ্য।

(২) প্রবল অবস্থাঃ জ্বর আসে, রোগী শীত-বোধ করে। এই অবস্থা চলে ১০/১৫ ঘন্টা। আবার কখনো দুই তিন পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে পারে। পেটে ব্যথা হয়, উদরাময় দেখা দেয়, পানির মতো মলত্যাগ হয়, জিভে’তে সাদা আস্তরণ পড়ে, মুখ ম্লান দেখায়, রোগীর মধ্যে দেখা দেয় অবসাদ ভাব। বার বার মলত্যাগ হতে থাকে, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, পাতলা গন্ধহীন বমি হতে থাকে। রোগী এই অবস্থায় অস্থিরতা প্রকাশ করে।

(৩) পতন অবস্থাঃ এটি হলো রোগের তৃতীয় অবস্থা। রোগ আরম্ভের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রোগটা পতন অবস্থায় এসে পৌছায়। নাড়ীর গতি দ্রুত ও ক্ষীণ হয়। অনেক সময় অভিজ্ঞ চিকিৎসকও এ অবস্থায় নাড়ীর গতি ধরতে অক্ষম হয়ে পড়েন। শরীর অনেক বেশি ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ঘাম হয় আঠার মতো চটচটে। রোগের মারাত্মক অবস্থা এটি। এ অবস্থায় রোগীর সুচিকিৎসা না করা হলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

(৪) প্রতিক্রিয়া অবস্থাঃ কলেরা রোগের এটি চতুর্থ অবস্থা। রোগীর জ্বরের তাপমাত্রা বেশ বেড়ে যায়। ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠতে পারে। এ রকম অবস্থায় এসে পৌছালে রোগীর সাধারনত আর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে না। ৭/৮ দিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ্য হয়ে ওঠে।

(৫) দুর্বল অবস্থাঃ এটি রোগের পঞ্চম বা শেষ অবস্থা। রোগী প্রাণে বাঁচলো বটে কিন্তু এ অবস্থায় এতো দুর্বল হয়ে পড়ে যে রোগীর নড়াচড়ার ক্ষমতা থাকে না। হাতে-পায়ে বল থাকে না এ অবস্থায়। রোগী নিঝুমভাবে শুয়ে থাকতে চায়।

 

চিকিৎসককে মনে রাখতে হবেঃ

কলেরা রোগীর চিকিৎসা করার সময় চিকিৎসককে কয়েকটি অতি প্রয়োজনীয় কথা মনে রাখতে হবে। যেমন-

  • চটপট ওষুধ স্থির করে ফেলতে হবে।
  • কারো ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের উচিত নিজের হাতে ওষুধ খাওয়ানো।
  • বাজে কোম্পানীর ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়। পুরনো ফাইলের ওষুধও এ রোগীর জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • ওষুধ খাওয়ানোর পর রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা দরকার।
  • হাত-পা ক্রমশঃ ঠাণ্ডা হতে থাকলে কৃত্রিম উপায়ে (যেমন গরম তেল মালিশ করে) রোগীর হাত-পা গরম রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • রোগীর ঘরে যাতে ভিড় না থাকে সেই দিকে নজর রাখতে হবে। ঘরে আলো-বাতাস যেন ঠিক মতো প্রবেশ করে বা চলাচল করে, সেদিকেও চিকিৎসককে খেয়াল রাখতে হবে।
  • কলেরা রোগের কয়েকটি উৎকৃষ্ট ওষুধ হলো – ক্যাম্ফার, অ্যাকোনাইট, ইপিকাক, আর্সেনিক, কিউপ্রাম, কার্বোভেজ ও ল্যাকেসিস।

 

চিকিৎসাঃ

একেবারে প্রথম অবস্থায়- ক্যাম্ফার মাদার ঘন-ঘন দিতে হবে, তাহলে রোগ বাড়ার বিশেষ কোনো ভয় থাকবে না।

রক্ত-পায়খানা হলে অথবা পায়খানার চেয়ে বেশি বমি হলে- ইপিকাক ৬, ৩০ বা ২০০।

এক্ষেত্রে অন্য ওষুধও দেওয়া চলে- ভিরেট্রাম ৩০ বা অ্যাকোনাইট ৩০।

বার বার পানির মতো পায়খানা হলে এবং পায়খানার পরিমাণ বেশি হলে, পেটে ব্যথা থাকলে, মলের রঙ সবুজ হলে এবং মলদ্বারে যদি জ্বালা থাকে তাহলে দিতে হবে- আইরিস ৩x।

রোগীর অবসন্নতা, খিল ধরা, পায়খানার ওপর ছিবড়ের মতো পদার্থ ভাসলে দিতে হবে- রিনিসাস ৩-৬।

উপরোক্ত লক্ষণের সঙ্গে কপালে ঠাণ্ডা ঘাম ও হাতে-পায়ে খিল ধরা লক্ষণ থাকলে সেই মুহূর্তে দিতে হবে- কিউপ্রাম ৬।

মৃত্যুভয়, তৃষ্ণা, রোগীর ছটফট ভাব, পেটে জ্বালা, পায়খানা ও বমি থাকলে- অ্যাকোনাইট ব্যাডিক্স (মাদার)। এই ওষুধটি খাওয়ালে সুফল পাওয়া যাবে।

বমি হয়ে গেছে, এখন আর বমি ভাব নেই এ অবস্থায় দিতে হবে- অ্যান্টিম টার্ট ৬।

পেট ফাঁপা, মল-মূত্র বন্ধ, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি লক্ষণে- ওপিয়াম ৩।

খিঁচুনি গুহ্যদ্বার ফাঁক হয়ে থাকা, অসাড়ে পায়খানা হওয়া প্রভৃতি লক্ষণে- সিকেলি ৩।

প্রবল তৃষ্ণা বোধ, রোগী বার বার পানি পান করতে চায়, পানি বেশি পরিমাণে পান করে না, গায়ে দাহ থাকে, অবসন্নতা, প্রস্রাব বন্ধ, পাকস্থলিতে জ্বালা প্রভৃতি লক্ষণে- আর্সেনিক ৬।

শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্টবোধ, অবসন্নতা, চোখ-মুখ বসে যাওয়া, শরীর ঠাণ্ডা, শরীর নীল বর্ণ, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খিল ধরে যাওয়া, ঘাম হয় না, পায়খানা বা বমি হয় না, এমন লক্ষণ দেখা দিলে- স্পিরিট ক্যাম্ফার। এই ওষুধটি সেবনের সঙ্গে রোগীর গায়েও মাখাতে হবে।

এতে সুফল না পাওয়া গেলে- হাইড্রোসিয়ানিক অ্যাসিড ৩।

রোগীর শীতল শরীর যদি ক্রমশঃ উত্তপ্ত হয়, প্রস্রাব না হয়, এরকম লক্ষণে- ক্যান্থারিস ৬। এই ওষুধটি খাওয়ালে প্রস্রাব হয়ে যাবে ও রোগী কিছুটা আরাম বোধ করবে।

নাড়ী লোপ, নাভিশ্বাস, মুখমন্ডল মৃত ব্যক্তির মতো বিবর্ণ, শরীর বরফের মতো ঠাণ্ডা প্রভৃতি লক্ষণে রোগীকে খাওয়াতে হবে- কোব্রা বা ন্যাজা ৩ বিচূর্ণ। এ ওষুধটি খাওয়ালে সুফল পাওয়া যেতে পারে।

 

আনুষঙ্গিক চিকিৎসাঃ

রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র পূণরায় ব্যবহার করার আগে গরম পানি ও জীবাণুনাশক ওষুধ দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। রোগীর জামা-কাপড় বিছানা প্রভৃতিও ঐভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার।

রোগীকে ফোটানো পানি ঠাণ্ডা করে খাওয়াতে হবে। রোগীর সব রকম স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। রোগ সেরে গেলে হালকা ধরণের লঘু পথ্য খাওয়াতে হবে।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (সকাল ১০:৩৮)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)