আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Kidney Stone

কিডনীতে পাথর (Kidney Stone) হওয়ার লক্ষণ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

কিডনীতে পাথর ও চিকিৎসা


কিডনীতে পাথর হলে বর্তমানে আর তেমন কেউ চিন্তা করে না। কারণ, এটার আধুনিক চিকিৎসা প্রায় সব প্যাথিতেই রয়েছে। অ্যালোপ্যাথিতে সাধারণত অপারেশন করে পাথর বের করে আনা হয় আর হোমিওপ্যাথিতে দীর্ঘদিন ওষুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে পাথরকে ভেতরেই গলিয়ে ফেলা হয় বা ধ্বংস করা হয়।

কিডনীর মধ্যে শক্ত দানার মতো কঠিন পদার্থ বা স্টোন এর মতো জমা হলেই আমরা সেটাকে সাধারনত কিডনী স্টোন বা কিডনী পাথর বলে থাকি। এ পাথর কোনো সময় কিডনী, কোনো সময় মূত্রনালী, মূত্রগ্রন্থি এবং কখনো মূত্র থলিতে এসে জমা হতে পারে। আর এর ফলে শারিরীকি বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষতঃ প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্যতম।

 

কিডনীতে যেসব কারণে পাথর হয়ঃ

আমরা জানি, কিডনীর প্রধান কাজ হলো – শরীর থেকে আবর্জনা ও পানি প্রস্রাব আকারে শোধন করে বের করে দেওয়া। দুটি ইউরেটারের মাধ্যমে মূত্রথলিতে এসে জমা হয় প্রস্রাব। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী বেরিয়ে আসে।

সারাদিনে আমরা যা খাই তার প্রয়োজনীয় অংশ পরিপাকের মাধ্যমে আমাদের শরীরের কোষগুলোতে চলে যায়। বাকি অপ্রয়োজনীয় পদার্থগুলো কিডনীর মাধ্যমে শরীর থেকে মূত্র আকারে নির্গত হয়ে যায়।

এছাড়াও শারীরবৃত্তীয় অনেক কাজ করে থাকে কিডনী। কিডনীতে বিভিন্ন ধরনের পাথর হতে পারে। যেমন- স্ট্রাভাইন স্টোন, ইউরিক স্টোন, সিস্টিক ও ক্যালসিয়াম স্টোন।

যেসব খাবারে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকে সেসব খাবার খেলে এবং ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবারের কারণেও কিডনী সমস্যা দেখা দিতে পারে। মনে রাখবেন, যারা প্রতিনিয়ত বেশি পরিমাণ পানি পান করছেন তারাও কিন্তু ক্যালসিয়াম খাচ্ছেন।

এর মানে এই নয় যে, আপনি পানি কম পান করবেন। দিনে কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি করুন। যারা পানের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে চুন খান তাদের কিন্তু এই সমস্যা হতে পারে।

কারণ, চুনে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করার ফলে রক্ত সংবহন ক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটে থাকে, পরিপাক কাজে ব্যাঘাত ঘটে আর এসব কারণে পরোক্ষভাবে হলেও আপনার কিডনীর সমস্যা হতে পারে। কোনো সংক্রামক রোগ যদি আপনার মূত্রযন্ত্রে আক্রমণ করে তাহলেও আপনার কিডনী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

 

কিডনীতে পাথর হয়েছে এটার সম্ভাব্য কিছু শারিরীক লক্ষণঃ

যেকোন বয়সে এটা হতে পারে। নারী বা পুরুষের যে কারও হতে পারে। বার বার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, কিডনী বরাবর ব্যথা হয়ে যদি তা কুচকির দিকে যায়, পেটে ও বুকেও এই ব্যথা প্রসারিত হতে পারে।

অন্ডকোষ ও কুচকি সহ প্রভৃতি স্থানে অত্যন্ত যন্ত্রণা হওয়া, রাতের ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ব্যথা হওয়া, যেকোন ভারী জিনিস তুলতে গেলে ব্যথা, অন্ডকোষ উর্ধ্ব দিকে টেনে ধরার মতো অনুভব হওয়া, কখনো হঠাৎ করে ব্যথা ও যন্ত্রণা।

বমি-বমি ভাব বা নিয়মিত বমি হতে পারে, হেচকি বা হিক্কা ওঠে, নাড়ী দ্রুত চলে, দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে (১০০-১০৫ ডিগ্রি), প্রস্রাবের চাপ প্রায় সময়ই হয় কিন্তু প্রস্রাব বের হয় না। অনেকক্ষেত্রে, প্রস্রাব ফোঁটা ফোঁটা বের হয় এবং তলপেটে ব্যথা হয়।

প্রস্রাবে রক্ত-পুঁজ মিশ্রিত থাকতে পারে। রক্ত প্রস্রাব হতে পারে, প্রস্রাব ধোয়ার মতো দেখায়। দু’তিন নালে প্রস্রাব হতে পারে। কোনো কোনো সময় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো রোগী অনেক সময় বোধ করে যে, কিডনীতে তার পাথরটি যেন নড়াচড়া করে। ছোট বাচ্চারা প্রস্রাব করতে গিয়ে কান্না করতে পারে।

যথা সময়ে চিকিৎসা না নিলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন- কিডনীর প্রদাহ, শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া; বিশেষ করে হাত-পা, মুখ ইত্যাদি। আবার কোনো কোনো সময় রোগীর মূত্র অবরোধ হয়ে যন্ত্রণায় অস্থির ও অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

 

কিডনীতে যাতে পাথর না হয় তার জন্য করণীয়ঃ

প্রয়োজন মতো বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে প্রতিনিয়ত। শরীরে ঠাণ্ডা লাগানো উচিত নয়। ব্যথা উপশমের জন্য হালকা গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে। হাঁটা-চলা করলে এবং ঝাঁকুনিতে অনেক ক্ষেত্রে পাথর নেমে আসতে সাহায্য করে।

প্রতিনিয়ত দুধ, সাবু, বার্লি, দধি বা দই, লেবুর শরবৎ, বিশুদ্ধ পানি এগুলো সুপথ্য হিসেবে বিবেচিত। অপরদিকে, সব সময় বিশুদ্ধ বায়ুর মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

 

বিশেষভাবে করণীয়ঃ

এই ধরনের রোগ নিয়ে কখনোই বসে থাকবেন না। এটা অনুচিত। এরকম করলে আপনার রোগ জটিল পর্যায়ে চলে যাবে। তখন কোনো প্যাথিতেই আপনি সুফল নাও পেতে পারেন।

কারণ, এগুলো ক্রনিক ডিজিজের আওতায় পড়ে। আর ক্রনিক ডিজিজগুলোর চিকিৎসা যতো দেরি করে শুরু করবেন ততই আপনি বিপদে পড়বেন। চুন আর সুপারি খাওয়া বন্ধ করবেন। অম্ল, অজীর্ণ খাদ্যাদি, মদ্যপান, মাংস, গুরুপাক খাদ্য বর্জন করতে হবে।

পেইনকিলার অর্থাৎ অ্যালোপ্যাথিক ব্যথার ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে খেলেও এরকম সমস্যা হতে পারে। সুতরাং পেইন কিলার বা ব্যথা নিরাময়ের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ যতোটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন বা এড়িয়ে চলুন। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া না খাওয়াটা উত্তম যেহেতু অন্য প্যাথিতে এর সমাধান রয়েছে।

 

হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসাঃ

হোমিওপ্যাথিতে রোগ নয় রোগীর চিকিৎসা করা হয়। একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রোগীর সমস্ত রোগ বিবরণী শোনার পরে যদি সঠিকভাবে ওষুধ নির্বাচন করে রোগীকে দেয় তবে পিত্ত পাথর রোগের চেয়ে কিডনী পাথরের রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে।

হোমিওপ্যাথিতে অনেকগুলো ওষুধ রয়েছে। অ্যালোপ্যাথির মতো এখানে রোগ ভিত্তিক ওষুধ ফিক্সড করা নেই। হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। যেহেতু একেক জন রোগীর লক্ষণও সাধারণত একেক রকম হয় তাই এখানে ওষুধের নাম মেনশন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে সাধারণত – লাইকোপোডিয়াম, লিথিয়াম কার্ব, সার্সাপেরিলা, থ্যালাপ্সি বার্সা, এপিজিয়া, ক্যানথারিস ও ক্যালক্যারিয়া ব্যবহার করা হয়। লক্ষণের ভিন্নতার কারণে আরও কয়েক প্রকার ওষুধ নির্বাচিত হতে পারে। এগুলো বিষয় একজন চিকিৎসক অবশ্যই ভালো করেই জানেন।

তবে নিজে নিজেই নিজের উপর ওষুধ প্রয়োগ করতে যাবেন না। এতে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (বিকাল ৩:৪২)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)