আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Rabies

জলাতঙ্ক রোগের (Rabies) লক্ষণ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

 জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো জলাতঙ্ক রোগের লক্ষন ও চিকিৎসা নিয়ে। আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

পাগলা কুকুর বা বিড়াল যদি দংশন করে বা কামড়ায় তাহলে সাথে সাথে এসিড নাইট্রিক বা কার্বলিক এসিড Q অথবা ১x শক্তি দিয়ে ভালোভাবে পুড়িয়ে দিতে হবে। পরে বেলেডোনা Q, ৩x শক্তি ২/৩ ফোঁটা করে দিনে ৪/৫ বার খাওয়াতে হবে।

কুকুর বা শিয়াল কিংবা বিড়াল যদি রেগে গিয়ে কামড়ায় বা আচড়ায় বা আচড় দেয় তাহলে সাথে সাথে বিষাক্ত হয়ে হাইড্রোফোবিয়া বা জলাতঙ্ক রোগ হয় না। ১৭/২০ দিন পরে হয়তো কুলক্ষণ দেখা দিতে পারে।

কুকুর, বিড়াল বা শিয়াল যদি কাপড়ের উপর দিয়ে কামড়ায় তবে লালা তখন কাপড়ের উপরেই লেগে থাকে। বিষাক্ত হওয়ার তেমন কোনো ভয় থাকে না। আর একটি কথা সব সময় মনে রাখতে হবে যে, কুকুর, বিড়াল কিংবা শিয়াল যদি কামড়ায় তবে কখনো মৃত্যু হবে না।

কারণ, ঐ প্রাণীগুলো যদি পাগল হয় তবে ৩/৫ দিনের বেশি বাঁচে না। যদি ঐ কুকুর, বিড়াল বা শিয়াল ১০/১৫ দিন বেঁচে থাকে তাহলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই। তারপরেও রোগীকে নিয়ম করে ওষুধ খেতে হবে।

রোগীর দিকে নজর রাখতে হবে। স্বভাবে পরিবর্তন আসছে কিনা সেটাও দেখা জরুরী। যেমন, মানুষকে কামড় দিলে সেই মানুষ ক্রোধান্বিত বা পাগলা কুকুরের মতো ব্যবহার করে কিনা।

পাগলা কুকুর, বিড়াল বা শিয়াল চেনার উপায়ঃ কুকুর পাগল হলে তার লেজ সোজা ও সর্বদা নিচে পায়ের দিকে রাখবে।


 

রোগের লক্ষণসমুহঃ

সাধারণত কুকুরে কামড় দিলে ১ মাস পরে ক্ষতস্থানে সামান্য প্রদাহ ও স্থানসমুহ চুলকাতে থাকে, ক্রমেই রোগীর অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ, রাত্রিকালে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে। গলার পেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়ে ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। উজ্জ্বল আলোক সহ্য হয় না, আয়নার দিকে তাকাতে পারে না।

অন্যদিকে, পানি জাতীয় পদার্থ দেখা মাত্রই চমকে ওঠে, ভয় পায়, ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন ধনুষ্টংকারে পরিণত হয় এবং তাড়াতাড়ি ‍মৃত্যুমুখে পতিত হয়। কখনও উন্মাদের মতো চিৎকার করে এবং মানুষকে কামড়াতে চায়।


 

চিকিৎসাঃ

এসিড নাইট্রিক ও এসিড কার্বলিক এর Q, ১x শক্তি দিয়ে কামড়ানোর স্থানটি পুড়িয়ে দিতে হবে। অ্যাজা ৬x শক্তি ১ ফোঁটা করে দিনে ৪/৫ বার খাওয়াতে হবে। বেলেডোনা ৩x, ৩০ শক্তি ১ ফোঁটা করে দিনে কয়েকবার খাওয়াতে হবে।

সিকেলি কর ৬-৩০ শক্তি, স্বাভাবিক উত্তেজনা ও প্রলাপ করলে- স্ট্রেমোনিয়াম ১x দিনে কয়েকবার খাওয়াতে হবে। ল্যাকেসিস ৬-৩০ শক্তিও প্রয়োগ করা যায়। তবে বেলেডোনা ১x ও আর্সেনিক ৬ প্রায় সময়ই আবশ্যক হতে পারে।

 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করা হলো। নতুন কোনো স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে আবারও হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (রাত ৮:২১)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)