আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Heart Dieases

হৃদরোগ (Heart Disease) এর লক্ষণ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হৃদরোগ বা হার্টের রোগের  চিকিৎসা


মানুষের শরীরের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো হার্ট বা হৃৎপিন্ড। এটি জন্ম থেকেই চলা শুরু করে এবং মৃত্যু অবধি চলতেই থাকে। হার্টে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। সমস্যা হলেই লক্ষণ দেখা দেয়। লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কেউ যদি শুরুতেই অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেয় তবে অনেকাংশেই বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।


অ্যালোপ্যাথিতে চিকিৎসা করতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন হতে পারে যেটা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। আজ সানরাইজ৭১ এ এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো যেখানে লক্ষণের সাথে সাদৃশ্য রেখে কিছু ওষুধ (হোমিওপ্যাথিক) তুলে ধরা হলোঃ

 

আর্নিকাঃ অত্যাধিক পরিশ্রম করলে (যেমন – ভার বহন করা, দৌড়া-দৌড়ি করা, দাঁড় টানা, কুড়ালি দিয়ে গাছ কাঁটা, ঠেলা গাড়ি চালানো ইত্যাদি) যদি হার্ট এর রোগ হয় তবে আর্নিকা ৩x প্রয়োগ করলে সাথে সাথে উপকার পাওয়া যাবে।

ব্যবহারের নিয়মঃ পানি ওষুধ ১ ফোঁটা আর বড়ি হলে ৩/৪টি বড়ি দিনে ৩/৪ বার খেতে হবে। প্রথম শক্তির ওষুধে কাজ না হলে দ্বিতীয় শক্তির ওষুধ চলবে।


 

রাসটক্সঃ শুয়ে বসে থাকলে হার্টের ব্যথা বৃদ্ধি পায় কিন্তু নড়াচড়া করলে ব্যথা কমে এরকম হলে এই ওষুধের পর্যায়ক্রমে ৩x, ৩০ ও ২০০ শক্তি প্রয়োগে উপকার হবে।


 

ডিজিটেলিসঃ হৃৎপিন্ডের ভালবের বিশেষ কোনো পীড়া না থাকা স্বত্বেও হৃৎপিন্ডের ‍দুর্বলতা। একটু নড়াচড়া করলেই মনে হয় এখুনি হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। হৃৎপিন্ডের পীড়া কিংবা ব্রাইটস ডিজিজ জনিত শোথ বা উদরী প্রস্রাব অতি অল্প।

ডিজিটেলিস এ হৃৎপিন্ডের উপর বিশেষ ক্রিয়া প্রকাশ করে এবং হৃৎপিন্ডের পীড়ার একটি টনিক ওষুধ হিসাবে গণ্য করা হয়। তবে ডিজিটেলিস প্রয়োগ করতে হলে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোর উপর সদা সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে।

নারীর গতি অতি ধীরে ধীরে চলতে চলতে হঠাৎ মধ্যেখানে দ্রুত হয় ও আবার মৃদু ভাবে চলতে থাকে, রোগী সামান্য মাত্র নড়াচড়া করলেই হৃৎস্পন্দন জোরে হয়। নাড়ীর ৩য়, ৫ম বা ৭ম আঘাত সবিরাম হৃৎপিন্ডের পীড়ায় রোগী বুকে সুঁচ ফোঁটানোর মত ব্যথা অনুভব করে।

বাম পার্শ্বে শয়ন করলে হৃৎকম্পন, হৃদপিন্ডের পীড়াজনিত শোথ রোগে ও হৃৎপিন্ডে পানি জমলে এবং এর সাথে শ্বাসকষ্ট অধিক তার জন্য শুইতে পারে না ইত্যাদি লক্ষণগুলো থাকলে ডিজিটেলিস প্রয়োগে বিশেষ উপকার হয়।

এর সম্পুরক ওষুধঃ কোনিয়াম, স্পাইজিলিয়া, সেকালি কর, ক্যালি কার্ব, ন্যাট্রাম মিউর।


 

সিমিসিফিউগাঃ হৃৎক্রিয়া হঠাৎ বন্ধ হয়ে শ্বাসকষ্ট, কম্পিত নাড়ী, বামদিকের স্তনের ভিতর ও নিম্নে বেদনায় এটা উপকারী। জরায়ু ও বাতের বেদনায় কলোসিন্থ, পালসেটিলা, আয়োডিয়াম, সিপিয়া এগুলো ১x, ৩x ও ৩০ শক্তি প্রয়োগ করলে উপকার হয়।


 

ক্রেটাগাসঃ এটাকে হৃৎপিন্ডের পীড়ার একটি মহৌষধ বললেও ভুল হবে না। দীর্ঘকাল ধরে কোনো প্রকার হৃৎপিন্ডের পীড়ায় এবং হঠাৎ হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া লোপ হবার উপক্রমে (Heart Failure) এর তুলনায় কোন ওষুধ নাই।

ক্রেটাগাস ব্যবহারে উপকার ছাড়া কোন অপকার হবে না। হঠাৎ করে হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া লোপ (Collaps), হৃৎপিন্ডের মুখের বিকৃতি (Valvular Disease) হৃৎস্পন্দন, নাড়ীর দ্রুত গতি, হৃৎপিন্ডের বিবর্ধন (Hypertrophy of the Heart), বাতে শ্লেষ্মা জ্বরে হৃৎপিন্ডের অবসাদ, হৃৎপিন্ডের বিকৃতজনিত শোথ ইত্যাদি পীড়ায় এবং Fatty Degeneration, Pain in region of the Heart, Heart Dilated, First Sound Weak, Plus Acierated Irregular Intermittent, হৃৎসুল বেদনা ইত্যাদি পীড়ায় এটা মহৌষধ হিসেবে গণ্য। এটার মাদার টিংচার ৫-১৫ ফোঁটা ২/৩ ঘন্টা পর পর ব্যবহার করা যেতে পারে।


 

স্ট্রোফেনথাসঃ এটা হৃৎপিন্ডের নানা প্রকার দূরারোগ্য পীড়ায় উপকারী। হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া অতি ক্ষীণ অথচ দ্রুত, কিন্তু স্বাভাবিক তৎসহ শ্বাসকৃচ্ছতা ধমনীর স্বল্পতা, নার্ভাস স্নায়ু প্রধান ও হিষ্ট্রিয়াগ্রস্থ স্ত্রীলোকদের হৃৎস্পন্দন হৃৎপিন্ডে সূচি বিদ্ধবৎ বেদনা, শোধ, ফোলা ইত্যাদি হৃৎপীড়ায় ও হৃৎপিন্ডের পীড়াজনিত অন্যান্য রোগসমূহে এটা ব্যবহারে উপকারিতা দেখা যায়।

ক্রম শক্তি ৩x, ৬x ও নতুন পীড়ায় মাদার ওষুধ (Q) ৫ ফোঁটা করে প্রত্যহ ৩/৪ বার খাওয়াতে হবে।


 

আইবেরিসঃ হৃৎপিন্ডের ভিতর বেঁধা ফোঁড়ার মতো এক প্রকার বেদনা, একটু নড়াচড়া করলে বা হাসলে, কাশলে, বুক ধড়ফড়ানি বেড়ে যায় – তাতে যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, বুকে এত জোরে ধড়ফড় করে উপর হতেও দেখা যায় (Tachycardia) এবং নাড়ীর গতি সবিরাম ও নাড়ী মোটা হয়।


 

লরোসিরেসাসঃ হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া অনিয়মিত ও মৃদু নাড়ী, শিশুর নীল রোগ, মুখ-মন্ডল নীল বর্ণ, হঠাৎ শরীর ঝাঁকি খাওয়া ভাব হলে এই ওষুধ প্রযোজ্য।


 

কোনিয়ামঃ স্মৃতি শক্তি হ্রাস পেয়ে কাজ করতে গেলে মাঝে মাঝে ভুল হয়। মাথা ঘোরায়, মাথায় বেদনা, বুক ধড়-ফড় করে, নাড়ী অনিয়মিত ও এলোমেলো, ভালো ঘুম হয় না, যা একটু ঘুম আসে তাতে নানা ধরণের বিব্রতকর স্বপ্ন দেখে – এই সব লক্ষণে কোনিয়াম ৩, ৬, ৩০ ও ২০০ শক্তি প্রয়োগ করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।


 

গ্লোনিয়নঃ বুকের বাম দিকে অত্যন্ত অস্বস্তিকর, ভীষণ হৃৎস্পন্দন, কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাস, বক্ষ স্থলে চাপবোধ ও বুক ভারীবোধ মনে হয় যেন বুকে একটি পাথর চাপা দেওয়া আছে।

সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে কষ্ট হয় ও মাথা ঘোরে, চোখের সামনে যেন অনেক কিছু ভেসে ওঠে। এইসব লক্ষণে গ্লোনিয়ন – ৩x, ৬ ও ৩০ শক্তি ব্যবহারে উপকার হয়।


 

কেলিফসঃ অত্যাধিক শারীরিক দুর্বলতা, একটু নড়াচড়া করে বেড়ালে রোগী হাঁপিয়া (হেঁপে) উঠে। রোগীর হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া বন্ধ হবার উপক্রম হয়। অনিয়মিত প্রবল স্পন্দন, নাড়ী সবিরাম ও বিশৃঙ্খল। এই সব লক্ষণে কেলি ফস – ৩x, ১২x বায়োক্যামিক গরম পানির সাথে ব্যবহার করলে উপকার হবে।


 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, আপনারা খানিকটা হলেও উপকৃত হয়েছেন। ফিরে আসবো নতুন কোনো স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ৮:২০)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)