আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Mental Patients

বুদ্ধিলোপ, অবসাদ বায়ু, মানসিক বিকার ও নেশা সেবন-জনিত মানসিক রোগের লক্ষণ ও হোমিও চিকিৎসা

মানসিক রোগ ও চিকিৎসা


 

সানরাইজ৭১ এ আপনাদের স্বাগত জানাই। আপনারা জানেন, এখানে আমরা প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য তথ্য শেয়ার করছি। ছাত্র, ডাক্তার, রোগী সবাই উপকৃত হবেন আশা করি। তো, আজ আমরা আলোচনা করবো চারটি মানসিক রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে। জানবো হোমিওপ্যাথিতে এগুলোর চিকিৎসা সেবা নিয়ে। হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা করতে হলে আসলে একটু ধৈর্য্য থাকতে হয়। নতুবা তেমন উপকার পাবেন না।

হোমিওপ্যাথিতে অ্যালোপ্যাথির ন্যায় ডোজ হিসাব করে চিকিৎসা সেবা নেওয়া বা দেওয়া দুই-ই বোকামী। এই লেখায় আপনারা জানবেন, বুদ্ধিলোপের চিকিৎসা, অবসাদ বায়ুর চিকিৎসা এবং মানসিক বিকারের চিকিৎসা ও নেশা সেবন-জনিত বিকারের চিকিৎসা।

 

 ‍বুদ্ধিলোপের চিকিৎসাঃ যারা একঘেয়ে জীবন-যাপন করে তাদেরই সাধারণত এই রোগটা হয়ে থাকে। কয়েদী ও নাবিকদের জীবন এভাবেই কাটে। দীর্ঘকাল একই বিষয়ে চিন্তা করা, দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্যাদি সেবন প্রভৃতি কারণে বুদ্ধিলোপ ঘটে থাকে। মূলতঃ একঘেয়েমির জন্যই এরকম হয়।

গুম হয়ে থাকা, তন্দ্রা-ভাব, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মাঝে মাঝে কান্না পায় প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। বুদ্ধিলোপ হল রোগীর অন্যমনস্ক-ভাব বা গুম হয়ে থাকা ভাবটা বেশি করে দেখা দেয়। এ রকম হলে চিকিৎসা দ্বারা রোগীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে না আনলে মানসিক দিকের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক দিকটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন রোগী সহজেই আরও কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। রোগীর মধ্যে কি কি লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় তা ভালোভাবে অনুসন্ধান করে ওষুধ দিলে এ ভাবটা কেটে যায় বা সমস্যা দূর হয়।

বিমর্ষ ভাব দেখা দিলে- কোনায়াম ৬।

কোন কিছু ভাববার বা বোঝবার ক্ষমতা বিলুপ্ত হলে- ক্যালক্যারিয়া কার্ব ৬।

কেঁদে ফেলা, গুম হয়ে থাকা, বেশি প্রস্রাব, বুদ্ধিলোপ প্রভৃতি লক্ষণে- ফসফরিক অ্যাসিড ৬ বা অ্যানাকার্ডিয়াম ৬।

রোগ বেশি দিনের পুরনো হলে- হেলিবোরাস ৬ ও জিঙ্কাম ৬।

শুধু ওষুধ খাওয়ালেই হবে না, রোগীর জীবন-যাত্রার গতি যাতে স্বাভাবিকভাবে চলে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।  রোগীকে পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়াতে হবে, প্রতিদিনি ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে হবে, বিশ্রাম ও ঘুমের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে, লোকজনের সঙ্গে যেন ঠিকমত মেশে তা দেখতে হবে, মন যাতে সব সময় প্রফুল্ল থাকে সে বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে পরিবারের অন্য সবাইকে।

 

অবসাদ বায়ুর চিকিৎসাঃ মানসিক অবসাদ থেকেই দেখা দেয় শারীরিক অবসাদ। এর ফলে কাজে উদ্যম বা স্পৃহা থাকে না। স্ফূর্তিহীনতা দেখা দেয়, রোগী বিমর্ষ হয়ে পড়ে, রোগীর মনে হয় সে কোন কঠিন রোগে ভুগছে – এ রোগ আর সারবে না। রোগীর মধ্যে একটা স্পষ্ট হতাশার ভাব দেখা দেয়। এ সবের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণতা প্রভৃতি রোগ প্রকট হয়। রোগী অনেক সময় প্রলাপ বকে।

পারদ-ঘটিত কারণে এ রকম রোগ হলে- আর্সেনিক ৬, কোনায়াম ৩, নেট্রাম মিউর ১২, স্ট্যাফিস্যাগ্রিয়া ৬। যেকোন একটি ওষুধ সেব্য।

প্রলাপ করতে থাকলে দিতে হবে- ইগ্নেসিয়া ৩।

কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণতা প্রভৃতি দেখা দিলে- নাক্সভমিকা ৬ (প্রথমে), সালফার ৩০ (পরে)।

 

মানসিক বিকারের চিকিৎসাঃ মাথায় আঘাত পেয়ে, অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে, স্নায়ুর দুর্বলতার জন্য, অতিরিক্ত নেশা সেবনের জন্য, উগ্র ধরণের ওষুধ খাওয়ার ফলে অনেক সময় মানসিক বিকার দেখা দেয়। অতিরিক্ত শুক্রক্ষরণ বা ক্ষিপ্ত জন্তু কামড়ালেও এ রকম হতে পারে। রোগী হাসে, কাঁদে, নাচে, লাফায়, ঢিল ছোঁড়ে, মারতে যায়, চিৎকার করে, গালাগালি দেয় সহ প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। আবার, গুম হয়ে থাকা, বিমর্ষ-ভাব প্রভৃতি লক্ষণও কখনও কখনও দেখা দেয়। অন্যমনস্ক-ভাব বা মূর্ছাও দেখা দেয়।

প্রেমের ক্ষেত্রে নিরাশ হয়ে বা কোনো বিষয়ে শোক পেয়ে এ রকম হলে- ফসফরিক অ্যাসিড ৩০।

বিমর্ষ-ভাব, ধর্ম নিয়ে নানা রকম পাগলামি প্রভৃতি লক্ষণে- সালফার ৩০।

দীর্ঘদিন ধরে নেশা সেবন, অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম, গভীর চিন্তা প্রভৃতি কারণে এ রোগ হলে- নাক্সভমিকা ৩x।

হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলে, বা কাঁদতে কাঁদতে হেসে ফেলে, বিমর্ষ ভাব, একা থাকতে চাওয়া, নীরবে চোখের জল ফেলা, দীর্ঘশ্বাস ফেলা প্রভৃতি লক্ষণে- ইগ্নেশিয়া ৩।

ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা, সব সময় কিছু একটা কাটা বা ছেড়ার ইচ্ছা, সর্বদা প্রেম চর্চা করতে ভালোবাসা প্রভৃতি লক্ষণে- ভিরেট্রাম অ্যালবাম ৬।

রোগীর নির্দিষ্ট সময়ে গোসল খাওয়া দরকার। নিয়মিত মুক্ত বায়ুতে কিছুক্ষণ ভ্রমণ করা উচিত। বিশ্রাম যেন ঠিকমত হয়। ঘুমে যেন কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়। রোগীকে ঘোল, ডাবের পানি প্রভৃতি খাওয়ানো দরকার।

 

নেশা সেবন-জনিত বিকারের চিকিৎসাঃ দীর্ঘদিন নেশা সেবন করার ফলে নানারকম মানসিক বিকৃতি দেখা দিয়ে থাকে। এই সব মানসিক বিকারের সঙ্গে শারীরিক অসঙ্গতিও পরিলক্ষিত হয়। রোগীর ক্ষিপ্ত-ভাব দেখা দেয়, কাঁপুনি থাকে, ভুল বকে, দুঃস্বপ্ন দেখে, নানা রকম বিভীষিকা দেখে প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। রোগীর চোখ-মুখ লাল হওয়া, ঘুম না হওয়া প্রভৃতি লক্ষণও থাকে। রোগ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করলে তাড়াতাড়ি সারে, নতুবা এ রোগ সারতে যথেষ্ট সময় লাগে। ‍শুধু ওষুধ খাওয়ালেই হবে না, রোগীর নেশা সেবনও বন্ধ করে দিতে হবে। রোগীকে পুষ্টিকর আহার, ‍দুধ, সুপক্ক ফল প্রভৃতি খাওয়ানো দরকার। মাঝে মাঝে ডাবের পানি ও ঘোলের শরবৎ খাওয়াতে হবে। নির্মল বায়ু রোগীর পক্ষে অত্যাবশ্যক। গোসল-আহার নির্দিষ্ট সময়ে করতে হবে। ঘুম যাতে ঠিকমতো হয় সেদিকটাও নজরে রাখতে হবে।

রোগের শুরুতে যে ওষুধটি দিলে সুফল পাওয়া যায় তা হলো- আর্সেনিক ৬।

অনিদ্রায় বা ঘুম কম হলে- ওপিয়াম ৬।

রোগের প্রবল অবস্থায় অর্থাৎ যখন নানা রকম বিভীষিকা দেখে, চোখ-মুখ লাল হয়, এক ‍দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয় তখন দিতে হবে- বেলেডোনা ৬।

এ ধরণের রোগীর পক্ষে উপযুক্ত ওষুধ- নাক্সভমিকা ১x-৩x। এই ওষুধটি রোগের যেকোন অবস্থায় দেওয়া চলে।

রোগী বিভীষিকা দেখতে থাকলে- স্ট্র্যামোনিয়াম ৩।

রোগীর যদি পাকাশয়ের গোলযোগ দেখা দেয় তাহলে দিতে হবে- অ্যান্টিম টার্ট ৩। পাকাশয়ের গোলযোগ সহ বমি হলে বা বমি-বমি ভাব থাকলেও এই ওষুধটি দেয়া চলে।

রোগের পুরাতন অবস্থায় দেওয়া উচিত- ফসফরাস ৬ বা ক্যালক্যারিয়া কার্ব ৬।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (রাত ৮:৫৮)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)