আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Mental Patients

ক্ষ্যাপামি, বিষাদগ্রস্ততা, ভুল দেখা, খেয়াল দেখা ও প্রলাপ বকার লক্ষণ ও হোমিও চিকিৎসা

মানসিক রোগ ও চিকিৎসা


 

সানরাইজ৭১ এ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করছি, প্রত্যেকেই ভালো আছেন। আমি এই লেখায় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিছু মানসিক রোগ ও হোমিওপ্যাথিতে এগুলোর চিকিৎসা নিয়ে। আশা করি – ছাত্র, ডাক্তার ও রোগী সবাই উপকৃত হবেন। এখানে মূলত; ক্ষ্যাপামির চিকিৎসা, বিষাদগ্রস্ততার চিকিৎসা, ভুল দেখার চিকিৎসা, খেয়াল দেখার চিকিৎসা ও প্রলাপ বকার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হলো। সময় নিয়ে পুরো লেখাটি পড়ার অনুরোধ রইলো। আর কথা নয়। চলুন শুরু করিঃ

 

ক্ষ্যাপামির চিকিৎসাঃ অধিক হস্তমৈথুন বা স্ত্রী-সহবাস, দীর্ঘদিন ধরে নেশা করা, পিতা-মাতার মস্তিষ্কবিকৃতি, উপদংশ বা ধাতুগত কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। পুরোপুরি ক্ষ্যাপামির সময় রোগীর সব কাজেই অস্বাভাবিক বা অবাস্তব মনে হয়।

হাসি, অট্টহাসি, বিকট চিৎকার, কাউকে মারতে-কাটতে যাওয়া, আপনমনে বক-বক করা, নিজের চুল নিজে ছেঁড়া, রোগী কখনও ভেংচায়, কখনও নানারকম নির্লজ্জতা প্রকাশ করে প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। রোগীকে এ সময় কোনো উত্তেজক বা গুরুপাক খাদ্য দেওয়া উচিত নয়। ডাবের পানি, ঘোল, দই প্রভৃতি খাওয়ানো দরকার। রোগীর নিয়মিত গোসল করা প্রয়োজন। ঘুম ভালো হওয়া চাই। রোগী কথা বলতে চায় না বা বেশি কথা বলে, এরূপ লক্ষণে- ভিরেট্রাম অ্যালবাম ৬।

নির্লজ্জতার জন্য এ রোগ হলে- হায়োসায়েমাস ৬।

শপথ করতে থাকলে- লাইকোপোডিয়াম ৩০।

হাসি বা আহ্লাদ লক্ষণে- বেলেডোনা ৬ বা স্ট্র্যামোনিয়াম ৬।

রোগী যদি কাঁদে- পালসেটিলা ৬।

রোগী যদি মুখ ভ্যাংচায়- কিউপ্রাম ৬।

 

বিষাদগ্রস্ততার চিকিৎসাঃ স্নায়বিক দুর্বলতা, নারীর জরায়ুর রোগ, অধিক মৈথুন, হঠাৎ শোক-দুঃখ পাওয়া, মানসিক পরিশ্রম বেশি হওয়া, পারদের অপব্যবহার বা উগ্র ধরণের ওষুধ সেবনের কারণে রোগীর বিষাদ-ভাব দেখা যেতে পারে। এমন হলে রোগী নিস্তব্ধভাবে একা-একা থাকতে ভালোবাসে। নিজের জীবনে ধিক্কার দেখা দেয়, দীর্ঘশ্বাস ফেলে, মাঝে মাঝে কাঁদে, সংসারের প্রতি উদাসীন থাকে, আত্মহত্যা করার ইচ্ছা জাগে, সব সময় বিমর্ষ-ভাব, এসব লক্ষণ দেখা দেয়। এ রোগ পুষে রাখলে কঠিন ধরণের রোগে পড়তে পারে এবং তার ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। রোগের শুরুতেই চিকিৎসা করানো দরকার।

রোগী নিজের মুক্তির জন্য সর্বদা দেব-দেবীর নাম করে, মনে করে এতেই সে মুক্তি পাবে, এরূপ লক্ষণে- পালসেটিলা ৬।

প্রেমের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য বিষাদভাব দেখা দিলে- ফসফরাস ৬ বা স্ট্র্যামোনিয়াম ৬ বা হায়োসায়েমাস ৩।

অজীর্ণ রোগের জন্য বিষাদ দেখা দিলে- নাক্সভমিকা ৬ বা পালসেটিলা ৬।

প্রবাসে থাকার জন্য বিষাদ, বাড়িতে আসার জন্য ছটফট করতে থাকা লক্ষণে- ইগ্নেসিয়া ৬ বা ফসফরিক অ্যাসিড ৬ বা ক্যাপসিকাম ৩ বা ম্যাগনেসিয়া মিউর ৬।

পারদের অপব্যবহার-জনিত কারণে এ রোগ হলে- সালফার ৬ (প্রথমে), অরাম-মেট ৩x চূর্ণ-২০০ (পরে)।

নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়ে বিষাদগ্রস্ত হলে- ভিরেট্রাম অ্যালবাম ৬ বা স্ট্যাফিস্যাগ্রিয়া ৬।

শোক-দুঃখের কারণে বিষাদগ্রস্ত হলে- ইগ্নেসিয়া ৩ বা ফসফরিক অ্যাসিড ৬।

রোগীর সব সময় আত্মহত্যার ইচ্ছা থাকলে- পালসেটিলা ৬ বা আর্সেনিক ৬ বা অরাম-মেট ৩০।

মানসিক পরিশ্রম বা চিন্তা-ভাবনা বেশি করার ফলে বিষাদগ্রস্ততা দেখা দিলে- নাক্সভমিকা ৬।

যকৃতের দোষ থাকার জন্য এ রোগ হলে- কার্ডুয়াস ম্যারিয়ানা ৩x।

 

ভুল দেখার চিকিৎসাঃ এটিও মানসিক ব্যাধি। অত্যাধিক পরিশ্রম, স্নায়ুর দুর্বলতা প্রভৃতি কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। রোগী নানা রকম অবাস্তব জিনিস দেখে। আচমকা ভূত-প্রেত দেখেছে বলে মনে করে। রোগীর ধারণা হয় যে – সে ঠিকই দেখেছে। আসলে কিন্তু এটি ভুল দেখা।

কোনো জীব-জন্তুর প্রকৃত আকার অপেক্ষা ছোট দেখলে- প্ল্যাটিনা ৬।

জন্তুর আকার বড় দেখলে- হায়োসায়েমাস ৬।

ভূত-প্রেত দেখেছে বা ঐরকম কোনো অবাস্তব জিনিস দেখেছে মনে হলে- আর্সেনিক ৬ বা বেলেডোনা ৬।

রোগী যদি মানুষের কঙ্কাল দেখে কিম্বা মৃতদেহ দেখে তাহলে দিতে হবে- ওপিয়াম ৬ বা সিলিকা ৬।

 

খেয়াল দেখার চিকিৎসাঃ এ ধরণের রোগী চলে আপন খেয়ালের বশে। সে যা করে তা বাস্তবসম্মত নয়, কিন্তু রোগী মনে করে সে ঠিক কাজই করেছে। অনিদ্রা, ভুল বকা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অনর্গল বক-বক করা, চিৎকার প্রভৃতি লক্ষণ। রোগী কখনও হাসে, কখনও কাঁদে, কখনও বিভীষিকা দেখে আঁতকে ওঠে। কাউকে হঠাৎ বিনা কারণে মারতে বা কাটতে তেড়ে যাওয়া এ ধরনের রোগীর লক্ষণ। রোগীর লজ্জা, ভয় ও ঘৃণা থাকে না। সকলের সামনে উলঙ্গ হতেও তার আটকায় না।

এমন রোগী বদ্ধ উন্মাদ হয়ে পড়তে পারে। বিকট হাসি, কাটতে বা মারতে তেড়ে যাওয়া, কাউকে কামড়াতে উদ্যত হওয়া, চোখ-মুখ লাল হয়ে পড়া খিটখিটে মেজাজ হওয়া প্রভৃতি লক্ষণে- বেলেডোনা ৩।

অত্যন্ত লজ্জাহীনভাবে কামোন্মতায়- ফসফরাস ৩ (পুরুষদের জন্য), হায়োসায়েমাস ৩x (স্ত্রীলোকদের জন্য)।

অনবরত বক-বক করা, বিভীষিকা দেখে আঁতকে ওঠা প্রভৃতি লক্ষণে- স্ট্র্যামোনিয়াম ৩x।

খুন করতে ইচ্ছা জাগে লক্ষণে- নাক্সভমিকা ৩ বা ল্যাকেসিস ৬ বা সালফার ৩০ বা ভিরেট্রাম অ্যালবাম ৬। যেকোন একটি ওষুধ সেব্য।

এ রোগের উৎকৃষ্ট ওষুধ- হায়োসায়েমাস ৩-৩০, বেলেডোনা ৩-৩০, সালফার ৩০ ও স্ট্র্যামোনিয়াম ৩x-৩০।

 

প্রলাপ বকার চিকিৎসাঃ স্নায়ুর দুর্বলতা, প্রবল জ্বর, শোক-দুঃখ ভয় পাওয়া, মাথায় আঘাত লাগা, কোনো অ্যাক্সিডেন্ট আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা প্রভৃতি কারণে রোগীর প্রলাপ বকা শুরু হয়। কখনও আপনমনে বিড়-বিড় করে, কখনও জোরে জোরে আপন খেয়ালে বক-বক করে চলে, কখনও চিৎকার করে, কখনও বা আক্ষেপ দেখা দেয়। মাথায় উক্ত উঠেও অনেক সময় এরকম হয়ে থাকে। সঠিক লক্ষণ দেখে রোগীকে ওষুধ দিলে সুফল পাওয়া যায়। এ ধরণের রোগীকে দিতে হবে সহজপ্রাচ্য খাদ্য। কোনো উত্তেজক খাদ্য বা নেশা সেবন সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে। রোগীর মন যাতে প্রফুল্ল থাকে তার ব্যবস্থা করা দরকার। নির্মল বাতাস রোগীর পক্ষে খুবই প্রয়োজন। আবোল-তাবোল কথা বলা, মুখ-চোখ লাল বা দৃষ্টি একভাবে স্থির থাকা প্রভৃতি লক্ষণে- ওপিয়াম ৬।

হাসা, চিৎকার করা, সব সময় কথা বলা, শিস দেওয়া, গান গাওয়া প্রভৃতি লক্ষণে- স্ট্র্যামোনিয়াম ৬। ভীষণ রাগ, অন্ধকার ঘরে একা থাকতে ভয় প্রভৃতি লক্ষণে উপরের ওষুধটি ব্যবহার করা চলে।

বিড়-বিড় করে বকা, তন্দ্রা ভাব, মূর্ছা যাওয়া বা সংজ্ঞাহীন হওয়া, গুম হয়ে থাকা, দুর্বলতার জন্য সামান্য নড়াচড়ায় কষ্টবোধ, মুখমণ্ডল মলিন হওয়া প্রভৃতি লক্ষণে- হায়োসায়েমাস ৬।

বিকট হাসি, দাঁত কিড়মিড় করা, মাথায় রক্ত ‍উঠা, সারা মুখ লাল হয়ে ওঠা, খিঁচুনি, চিৎকার, ভূত-প্রেত বা জন্তু দেখে ভয়ে লাফ দেবার ইচ্ছা প্রভৃতি লক্ষণে- বেলেডোনা ৬।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (সন্ধ্যা ৭:৫৪)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)