আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Vitamin C

করোনা ঠেকাতে যে দুই ভিটামিন সবচেয়ে কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে – জেনে নিন

করোনা ঠেকাতে কার্যকরী ভিটামিনসমুহ


 

আজ সানরাইজ৭১ এ বিশেষ একটি বিষয় নিয়ে কিছু লিখতে এলাম। বিষয়টি হলো করোনা নিয়ে। আসলে, মূলত করোনা নিয়ে নয় করোনা ভাইরাস’কে ঠেকানো নিয়ে। যখন থেকে করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী দেখা দিয়েছে তখন থেকেই মানুষ আসলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী, বড় বড় গবেষণাগার সহ বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী এ বিষয়ে ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিন তৈরীর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। এখনও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু, ১০০% কার্যকরী করোনা বিরোধী বা নিধক ওষুধ/ভ্যাকসিন এখনও আশার আলো দেখেনি



তবে বিভিন্ন গবেষণায় যা দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে একটি গবেষণার কথা না বললেই নয়। আমরা জানি যে, কারও শরীরে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে তবে তার শরীরে এত সহজে কোনো অসুখ বাসা বাঁধতে পারে না। উক্ত দেহে কোনো রোগ হয়ে গেলেও তা দেহের তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারে না। শরীরে করোনা ভাইরাস ঠেকাতেও এই পদ্ধতিটি খুবই কার্যকরী। আমরা শুরু থেকেই শুনে আসছি যে, যার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তাকে করোনা কিছুই করতে পারে না।

অতি সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমেরিকার নিউইয়র্কের এক হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর শরীরে ভিটামিন সি ইনজেকশান দেওয়ায় খুব ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। অর্থাৎ রোগী অনেকটাই সুস্থ্য হয়েছেন। আর এই কারণেই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা প্রত্যেক বেলার খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কোনো খাবার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। শুধু ভিটামিন সি নয়, সাথে ভিটামিন ই রাখারও পরামর্শ দিচ্ছেন। সাধারণত, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই মিলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



অনেক বিশেষজ্ঞ অলরেডি বলেছেন যে, শরীর একদিকে যেমন কাজ করার শক্তি তৈরী করে তেমনি নিজেকে সুস্থ্য রাখতেও শরীর নিজেই কাজ করে নির্বিঘ্নে। আর এ কথা তো বলাই বাহুল্য যে, শরীরের জন্য নানা রকম ভিটামিন অত্যাবশ্যকীয়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই এর কথা তো কমবেশি সবাই জানে। আমাদের শরীরে যতো বেশি অ্যান্টিবডি উৎপাদন হবে আমাদের শরীর ততো বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করবে। আর এই অ্যান্টিবডি উৎপাদন করতেও ভিটামিন সি ও ই এর গুরুত্ব অপরিসীম। এখন, স্বভাবতই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই দুটি ভিটামিনের ঘাটতি হলে শরীরে কি কি লক্ষণ দেখা দিতে পারে এবং কিভাবে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তো চলুন এবার আমরা এই বিষয়টি বিস্তারিত জেনে নিইঃ

১। নিয়ম করে প্রত্যেকদিন খাবারের তালিকায় লেবুর রস রাখতে পারেন। কারণ, লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এছাড়াও আরও অসংখ্য গুণাবলি রয়েছে লেবুর। লেবুর উপকারিতা বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই লিংকে প্রবেশ করুন। আরেকটা কথা না বললেই নয়, লেবুর রস উচ্চ তাপমাত্রায় তার গুণ হারিয়ে ফেলে। সুতরাং আপনার রুমের যে তাপমাত্রা সেই তাপমাত্রাতেই সেটা খান অর্থাৎ লেবুটি রুমেই কাটুন এবং রুমেই খেয়ে নিন। গরম বা ঠাণ্ডা করার প্রয়োজন নেই।



 

২। প্রত্যেক বেলার খাবারে বিভিন্ন ফলমুল রাখতে পারেন। কেননা, বিভিন্ন ফলে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন। বিশেষ করে, ভিটামিন সি ও ই অধিকাংশ ফলমুলেই রয়েছে। প্রতিদিন বিশেষতঃ কম করে হলেও আনারস, কলা, পেয়ারা ও মুসাম্বি খেতে পারেন।

 

৩। আমলকির কথা সবাই জানে। এটি এমন একটি ফল যা মোটেও খুব দামি নয়। সচরাচর কম দামেই বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। অথচ ফলটি ভিটামিন সি’তে সমৃদ্ধ। আমলকি প্রথমে মুখে নিয়ে যখন খাবেন তখন সামান্য চুক্কা লাগতে পারে। কিন্তু খাওয়া শেষে কিন্তু খুব ভালো লাগে এবং মিষ্টির আভাস পাবেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এটা নিশ্চিন্তে রাখতে পারেন এবং আমলকি কাঁচা চিবিয়ে খাওয়াটাই সবচেয়ে উপকারী

 

৪। আমরা যখন খাদ্য খাই তখন তা পরিপাক হয়। তারপর শরীরের প্রয়োজন অনুসারে রক্তের সাথে তথা কোষের সাথে মিশে গিয়ে শক্তি উৎপাদন ও অন্যান্য কাজ করে। আর এগুলো কাজ সম্পন্ন হতে কিছু এনজাইম প্রয়োজন হয়। জানলে হয়তো অবাক হবেন যে, ভিটামিন সি ও ই কো-এনজাইমের কাজও করে। তাই, খাদ্য দ্রব্যাদি পরিপাকের ক্ষেত্রেও এদের ভূমিকা রয়েছে।

 

৫। শরীরে যদি ভিটামিন সি এর অভাব পরিলক্ষিত হয় তাহলে আপনার শরীর ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। আর অনেক সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে শ্রবণ শক্তিও কমে যায়। অন্যদিকে, অ্যালঝাইমার্স নামক রোগ সারাতেও ভিটামিন ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরের বিভিন্ন তন্তুর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার্থেও ভিটামিন ই এর গুরুত্ব রয়েছে।



 

৬। গর্ভকালীন সময়েও ভিটামিন ই এর মৌলিক গুরুত্ব রয়েছে। গর্ভাবস্থায় কোনো মায়ের শরীরে যদি ভিটামিন ই এর অভাব থাকে তবে সন্তানের অ্যানিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। গর্ভাবস্থায় অনেক সময় অনেক মায়ের গর্ভপাত হয়ে যায়। এর কারণ হিসেবেও ভিটামিন ই এর অপর্যাপ্ততা বোঝায় অর্থাৎ গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরে যদি পর্যাপ্ত ভিটামিন ই না থাকে তবে সেই মায়ের গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে যেকোন সময়।

 

৭। আমাদের শরীরে আরও বিভিন্ন কাজ করে ভিটামিন সি। বিশেষ করে, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসের যোগান দেয়। ভিটামিন সি মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে এবং এতে করে আমাদের মানসিক চাপ কমে যায়। এই জন্যই আপনার যখন মাথা ঘুরবে, কাজের প্রেসার বেশি থাকবে তখন লেবু মিশ্রিত এক কাপ গরম লাল চা খেয়ে নিন। এক নিমিষেই দেখবেন – অনেকটা প্রশান্তি লাগবে। আর ভিটামিন সি এর সমস্ত কাজকে ত্বরান্বিত করে ভিটামিন ই। ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই মিলে আমাদের শরীরের কোষকে সব সময় ত্বরান্বিত করে। এর ফলে আমাদের কোষ সুরক্ষিত থাকে। আর এতে করে শুধু করোনাই নয়, অন্য কোন ভাইরাসও এত সহজে আমাদের শরীরে আক্রমণ করতে পারে না। আক্রমণ করলেও তেমন কিছু করতে পারে না।

 

৮। আপনি যখন নিয়মিত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাবেন তখন আপনার শরীরে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড তৈরী হবে। আর অ্যাসকরবিক অ্যাসিড শরীর থেকে খুব সহজেই টক্সিন বের করে দেয়। এতে করে আমাদের শরীর পরিষ্কার থাকে। এছাড়াও, যারা বহুদিন থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভুগছেন তারা নিয়মিত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ সেরে যাবে। আর মানবদেহে যদি কখনো অতিরিক্ত পরিমাণ ভিটামিন সি হয়ে যায় তবে কোনো চিন্তার কারণ নেই। কারণ, অতিরিক্ত ভিটামিন সি শরীরে জমা থাকে না। সেটা সময় মতো বের হয়ে যায় শরীর থেকে।



 

বৈশ্বিক বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদ’রা বলেছেন যে, প্রতিদিন অন্তত ৭০-১০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি শরীরের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলেই এই চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। যদি খাবারের মাধ্যমে এটা পূরণ না হয় তাহলে বিভিন্ন ধরণের সাপ্লিমেন্টারী ব্যবস্থা আছে। সেগুলো গ্রহণ করলেও হয়। আর অন্যদিকে যদি ভিটামিন ই এর কথা বলি তাহলে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের লাগে ন্যূনতম ১৫ মিলিগ্রাম আর একটি শিশুর লাগে ন্যূনতম ৭ মিলিগ্রাম। এজন্য যদি সম্ভব হয় তবে প্রতিবেলার খাবারে অন্তত কম করে হলেও রাখতে চেষ্টা করুন – সূর্যমুখীর বীজ, আমন্ড, অলিভ অয়েল, চীনাবাদাম, আখরোট, ডিম এবং টাটকা ফলমুল। নিয়মিত যদি বাদাম পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া যায় তবে আরও বেশি উপকার হয়। এছাড়াও বাঁধাকপি ও ব্রকলি নামক সবজিতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।

 



আজ এ পর্যন্তই। আগামী পর্বে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো। সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন। আর নিয়মিত চেষ্টা করুন ভিটামিন সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার। প্রত্যেকবেলার খাবারে সামান্য হলেও রাখার চেষ্টা করুন। সর্বোপরি, করোনা মহামারীর এই সময়ে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য সর্বোপরি দেশের মানুষের জন্য সচেতনতা তৈরী করুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ৯:৪৭)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)