আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Vegetables

পটল ও রসুনের অসাধারন উপকারিতা – জানলে অবাক হবেন

পটল ও রসুনের অসাধারন উপকারিতা





পটলের হরেক রকমের উপকারিতা

আমাদের অতি পরিচিত একটি সবজি হলো পটল। প্রায় দেশের সব জায়গায় কম-বেশি চাষাবাদ হয়। খেতে সুস্বাদু। বেশিরভাগ সময় আমরা পটল ভাজি করে খাই।

গরুর মাংস দিয়ে অনেকেই রান্না করে খান। তাছাড়া, আরো বিভিন্ন ভাবে রান্না করে পটল খাওয়া যায়। এই পটল (রসুন নিয়েও আলোচনা রয়েছে পোস্টের শেষের দিকে) নিয়েই সানরাইজ৭১ এ আজকের আলোচনা।

আজ আমরা জানবো, পটলের বিভিন্ন গুণাগুণ বা উপকারিতা নিয়ে। আমরা প্রত্যহ এই সবজিটি খাই অথচ এর গুনাগুণ বা উপকারিতার কথা অনেকেই জানি না। আর কথা নয়, চলুন পটল সম্পর্কে জেনে নিইঃ





১। রক্তকে পরিষ্কার রাখেঃ রক্ত অপরিষ্কার হলে আমাদের শরীরে অনেক রোগ বাসা বাঁধে। বিশেষ করে চর্মরোগ।

সম্প্রতি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, পটল আমাদের রক্তকে পরিষ্কার রাখতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। আমাদের শরীরের কোষেও ময়লা জমে।

আর পটল শরীরের কোষকেও পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, রক্ত পরিশোধনে পটলের জুড়ি নেই। নিয়মিত পটল খেলে আমাদের ত্বকও সুন্দর থাকে।

 

২। ভারসাম্য রক্ষা করে পটলঃ আবহাওয়া বা মৌসুম পরিবর্তন হলে মানুষের মাঝে কমন কিছু রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। যেমন – ফ্লু বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা বা রোগ।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র দ্বারা প্রমাণিত যে, পটল মানবদেহের  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। করোনা পরিস্থিতিতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভালো রাখার দিকে সকলেই মদ দিয়েছেন।

কারণ, যার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তাকে করোনা ভাইরাস এত সহজে কাবু করতে পারবে না।




আমাদের গলায় ঠাণ্ডা লাগলে ব্যথা হয়, ঢোক গিলতে কষ্ট হয়, কোনো কোনো সময় ফুলে যায়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, পটল গলার এই ধরণের সমস্যা নিরসনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।

শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতেও পটলের ভূমিকা অনন্য। মানবদেহের বিশেষ কিছুর ভারসাম্য রক্ষা করে পটল।

 

৩। অ্যাসিডিটি দূর করেঃ শুনতে অবাক লাগছে। পটল আবার অ্যাসিডিটি দূর করে কিভাবে? আমরা যে পটল খাই তাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। আর আঁশ সাধারণত হজমে সাহায্য করে।

আর যখন আপনার হজম ঠিকমতো হবে তখন গ্যাস্ট্রোইনটেসটাইনাল ও লিভার সংক্রান্ত সমস্যাগুলো বা রোগগুলো থাকবে না।

এর ফলে, আপনার অ্যাসিডিটির সমস্যা আস্তে আস্তে কমে যাবে (যদি থাকে)।

 

৪। বয়সের ছাপ পড়তে দেয় নাঃ আমরা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছি। এখন আপনার বয়স কত? ধরে নিলাম ২৫ বছর। এখন আপনি দেখতে একজন সুদর্শন সুপুরুষ।

কিন্তু যখন আপনি ৪০ পার করবেন তখন আপনার বয়সের ছাপ বোঝা যাবে। আপনার ত্বকে বলিরেখা দেখা যাবে। সাধারণ সবজি পটলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ।

এগুলো কিন্তু আমাদের শরীরের এই ছাপ পড়াকে রোধ করতে অনেকটাই কাজ করে।




আগের মানুষ বেঁচে থাকত অনেক বছর। তারপরেও এখনকার মানুষের মতো এত তাড়াতাড়ি তাদের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তো না।

এখন আমরা যা খাই তার বেশিরভাগই বিভিন্নভাবে বিষাক্ত। তাই, মানুষ সময়ের আগেই বুড়ো হয়ে যায়। তাই যদি নিয়মিত বিষমুক্ত পটল খেতে পারেন তবে অনেকটাই উপকার পাবেন।

 

৫। রোগ থেকে মুক্তিঃ আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ হয়। সবচেয়ে কমন একটি রোগ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। এই রোগটিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

রোগটির চিকিৎসা একদমই কেউ যদি না করে তবে জীবনের শেষ দিকে এসে ঐ ব্যক্তিকে চরম কষ্ট ভোগ করতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণত বিভিন্ন কারণে হয়। তন্মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো – কেউ যদি নিতান্তই পানি কম পান করে সেটা হতে পারে দিনে ৮ গ্লাসের কম, বেশি মাত্রায় আয়রণ ও মিনারেল আছে এমন খাবার খেলে, খুব বেশি রাত জাগলে, অনিয়মিত খাবার খেলে।

পটলের ভেতরে এক প্রকার বীজ থাকে সেটা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেকটাই কার্যকর। তাই যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের উচিত নিয়মিত পটল তরকারি খাওয়া।





৬। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল কমায়ঃ ডায়াবেটিস মানেই রক্তে শর্করার বৃদ্ধি। এই রোগ কোনো কোনো সময় সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।

আবার, শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বেড়ে গেলেও নানাবিধ জটিল সমস্যা দেখা দেয়। পটলের ভেতরের বীজ রক্তের শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

পটল তরকারি খাওয়ার সময় কিংবা পটল ভাজি খাওয়ার সময় পটলের ভেতরে থাকা বীজগুলো ফেলে না দিয়ে খেয়ে নিন।

আর আপনি যদি ডায়াবেটিস রোগী হয়ে থাকেন কিংবা আপনার শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বেশি থাকে তবে তো কোনো কথাই নেই।

 

৭। ক্যালরি নিয়ন্ত্রণঃ আপনার শরীরের ক্যালরি অনেক সময় বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু পটল এটা সব সময়ই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

পটল খেলে আপনার পেটে ক্ষুধা আসতে সময় লাগবে। ফলশ্রুতিতে, বিভিন্ন খাবারের প্রতি আপনার আগ্রহ কমে যাবে। আপনি যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ওজনের অধিকারী হয়ে থাকেন আপনার নিয়মিত পটল খাওয়াটা জরুরী।

সহজ কথায়, আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে পটল।


 

এবার জানবো রসুনের উপকারিতা

প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলে যদি কিছু থাকে তবে সেটা হচ্ছে রসুন। সচরাচর প্রতিদিনই আমরা খাই বিভিন্ন তরকারিতে। প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই পাওয়া যেতে পারে।

পটল যেমন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তেমনি রসুনও একই কাজ করে। ‍শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো নয়, রসুনের রয়েছে নানাবিধ গুণাগুন।

রসুন রান্নার মাধ্যমে খাওয়ার চেয়ে যদি কাঁচা খাওয়া যায় তবেই উপকার অনেক বেশি। আর কথা নয়। এবার চলুন জেনে নিই রসুনের বহুমাত্রিক গুণাগুণ সম্পর্কে।

 

১। রক্তকণিকার শক্তি বৃদ্ধিতেঃ আমরা হয়তো অনেকেই জানি না যে, রসুনে অ্যালিন নামক এক প্রকার একটি পদার্থ রয়েছে। আরও পদার্থ রয়েছে।

এখানে শুধু অ্যালিন নামক পদার্থটির নাম বলা হলো; কারণ – রক্তকণিকার শক্তি বৃদ্ধির সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। রসুন যখন আপনি চিবিয়ে খাবেন এই অ্যালিন নামক পদার্থটি নিস্ক্রিয় থেকে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

আর এটি যখন সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন তা সালফারযু্ক্ত নানা প্রকার যৌগে পরিণত হয়ে যায়। আর এর ফলেই রক্তে থাকার শ্বেত কণিকার শক্তি বেড়ে যায়।

ফলশ্রুতিতে, সাধারণ সর্দি-জ্বর এত সহজে আক্রমণ করতে পারে না। তাই যে ব্যক্তি নিয়মিত কাঁচা রসুন খাবে তার সর্দি-কাশির ভয়টা অনেকটাই কম।




২। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণঃ রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে রসুন কিন্তু মূলত আপনার ডায়াবেটিস’কেই নিয়ন্ত্রণে রাখে।

সুতরাং একথা বললে ভুল হবে না যে, রসুন আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আর পটলের মতো রসুনেও রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।

যার ফলে রসুন শরীরের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোলেস্টেরল এর মাত্রাকেও প্রভাবিত করে।

৩। দুষিত উপাদান দূর করেঃ প্রত্যহ সকাল বেলা আপনি খালি পেটে রসুন খাওয়ার অভ্যাস করুন। রসুনের ২-৩ টি কোয়া সামান্য পানি সহ খেয়ে নিন।

এতে করে আপনার শরীরে থাকা দূষিত উপাদানগুলো বের হয়ে যাবে।

৪। ওজন ও রক্তচাপ কমায়ঃ নিয়মিত রসুন খেলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং খুব বেশি থাকলে তা আস্তে আস্তে কমতে আরম্ভ করবে।

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও এর জুড়ি নেই। পটলের মতো রসুনেরও বহুমাত্রিক গুণাগুণ রয়েছে।




৫। যৌনশক্তি বৃদ্ধিঃ নিয়মিত রসুন খেলে আপনার যৌনশক্তি ঠিক থাকবে। আপনি কখনো দুর্বল হয়ে পড়বেন না। তবে, অবশ্যই পরিমাণ মতো।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় কিছু নিয়ম রয়েছে কিভাবে রসুন খেতে হবে। তবে আপনি যদি প্রতিদিন খালি পেটে ২-৩ কোয়া রসুন খেতে পারেন তবুও উপকার পাবেন।

৫। রসুন খাওয়ার নিয়মঃ প্রতিদিন দুই তিন বার রসুন খেতে পারেন। অবশ্যই ২-৩ কোয়া। অতিরিক্ত খেতে যাবেন না।

কারণ, জানেন তো – অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। তরকারিতে, পিশ করে বা তেলে ভেজে নিয়ে না খেয়ে সরাসরি মুখে নিয়ে চিবিয়ে খাওয়াটাই বেটার।

এতে কাজ হয় প্রচুর। রসুন তরকারিতে দেয়ার সময় অবশ্যই কুঁচি কুঁচি করে কেটে দেবেন এবং প্রয়োজনে থেঁতো করে দিবেন।

এতে করে রসুনের মধ্যে সক্রিয় উপাদান অ্যালিসিনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রয়োজনে, হালকা গরম পানিতে বা সহনীয় পর্যায়ের গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস আর দুই কোয়া রসুন থেঁতো করে মিশিয়ে খান।

বিস্ময়কর উপকারিতা পেতে প্রতিদিন খান।


 

আজকের আলোচনা এখানেই সমাপ্তি করলাম। আবার ফিরে আসবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন আর সাবধানে থাকুন।




এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে একদমই ভুলবেন না যেনও।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (দুপুর ১:৪৯)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)