আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Sex Problem

যৌন দুর্বলতার জন্য হোমিওপ্যাথিক যে ওষুধগুলো খুবই কার্যকর – আর ভয় থাকবে না

স্ত্রী সহবাস জনিত দুর্বলতা


 

আজকের পোস্টটি একটু আলাদারকম রোগব্যাধি নিয়ে। এটাকে বলা যায় যুবক বয়সের রোগ। আসলে, রোগটি যে যুবক বয়সেই হয় এমন নয়। আগেও হতে পারে কিন্তু সেটা অনেকেই ধরতে পারে না। যখন বিয়ে করে কিংবা সংসার জীবনে প্রবেশ করে তখন সেটা বুঝতে পারে। হ্যা, আজ সানরাইজ৭১ এ আমরা যৌন রোগ নিয়ে কথা বলবো। অসংখ্য নারী ও পুরুষ এই রোগে ভোগে। যৌন দুর্বলতা বলতে আমরা মূলত পুরুষদের রোগ-ই বুঝি। কিন্তু, নারীদেরও যৌন দুর্বলতা থাকতে পারে। সেটা নারীর আচরণে বোঝা সম্ভব কিন্তু যৌন মিলনের মাধ্যমে সেটা বোঝা নাও যেতে পারে। সময় মত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর কথা নয়, চলুন মূল আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্বন্ধে জানি।

 

১। এনাকার্ডিয়াম (Anacardium): ভেল, তল্লাতক, গরম কাতর হয়।

হৃদয়টি বড়ই ‍দুর্বল। বিষন্নভাব নিয়ে থাকে, মায়া-মমতা কম থাকে সবার প্রতি, নিষ্ঠুর আচরণের অধিকারী হয় এবং সর্বদা সবাইকে সন্দেহ করে। নিজের স্ত্রীকেও সন্দেহ করে। সবসময়ই রোগী মনে করে যে, তার বিরুদ্ধে কেউ না কেউ ষড়যন্ত্র করছে। সে নিজের কানে অনেক সময় শুনতে পায় যে, তাকে হয়তো মেরে ফেলা হবে। ডিস্পেপসিয়া জনিত শূল বেদনা সাধারণত আহারের পরেই উপশম হয়। পেট খালি হলেই ব্যথা বৃদ্ধি পায়। এই লক্ষণগুলোর ক্ষেত্রে গ্রাফাইটিস, পেট্রোলিয়াম এবং চেলিডোনিয়াম ব্যবহার করা যায়। পার্থক্য – মোটাসোটা, কোষ্ঠবদ্ধতা, দাঁউদ ও চুলকানির ক্ষেত্রে গ্রাফাইটিস আর পেট্রোলিয়াম। অন্যদিকে, কোষ্ঠবদ্ধতাসহ মলদ্বারে একটি ছিপি আছে বলে মনে হয় এরূপ লক্ষণে – এনাকার্ডিয়াম।

মূল লক্ষণগুলো হচ্ছে – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, কোন প্রকার স্বপ্ন না দেখেই বীর্যপাত হয়ে যায়, রোগীর জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে রেতঃপাত হয়ে পুরুষত্বহানী ঘটলে এনাকার্ডিয়াম খুবই ফলপ্রদ ওষুধ।

শিরঃপীড়া রোগীর যাতনাপূর্ণ অংশে যেন একটি গোজ বসানো রয়েছে, কিন্তু আহারেই এর ‍উপশম হয়। বেশিরভাগ সময়ই রোগী শপথ করে কথা বলে। অনেক সময় স্মৃতিশক্তি লোপ পায় বা কমে যায়। পায়খানার যাওয়ার পরে কোথ দেয়ার সাথে সাথেই পায়খানার বেগ শেষ হয়ে যায়। রাত্রে মনে হয় কে যেন পেছনে হাঁটছে। এই এনাকার্ডিয়াম ওষুধটি ডান পাশের রোগের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। পরবর্তী শক্তির ওষুধ – লাইকোপোডিয়াম, প্লাটিনা, পালসেটিলা। ক্রিয়ানাশক – ক্লিমিটিস এবং রাস্টক্স। রোগের বৃদ্ধি হয় – মানসিক পরিশ্রমে, ক্রোধান্বিত হলে, ঠাণ্ডায় ও আহারের দুই ঘন্টা পরে। রোগের উপশম হয় – আহারে, উষ্ণ পানি পানে বা স্নানে।

 

২। ক্যালক্যারিয়া কার্ব (Calcarea Carb): ঝিনুকের খোল, শীত কাতর।

রোগী শ্লেষ্মা ও রস প্রধান ধাতুর, সুন্দর চুল, সাধারণত ফর্সা চেহারার অধিকারী, ভীরু বা দুর্বল, মোটা হওয়ার প্রবণতা, চলতে গেলে সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পুরো শরীরে ঘাম হয় কিন্তু কোনো ঘাম থাকে না। খুব সহজেই ঠাণ্ডা লেগে যায়। মস্তক আর উদর বড় আকারের হয়। মাথার ব্রহ্মতালু ও হাড়ের জোড়াগুলো উন্মুক্ত থাকে। অস্থিগুলো বাকা বিশিষ্ট হয় বিশেষ করে মেরুদন্ড ও হাত-পায়ের লম্বা হাড়। ঘুমের মধ্যে মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায় (Sanicula, Silicia)। ডিমের প্রতি আগ্রহ বেশি। পায়ের পাতা ভিজা ও প্রচুর ঠাণ্ডা (Nat Mur)। সাময়িক উত্তেজনায় সাধারণত প্রচুর পরিমাণে ঋতুস্রাব হয় (Sulphur, Tuberculinum)। শিশুর দাড়াতে, হাঁটতে ও কথা বলতে দেরি হয় (Causticum)। স্বরভঙ্গ সকালে বৃদ্ধি পায় (Argent Nit, Causticum)। বয়স্কদের উপকার হতে থাকলে একমাত্রা দিলেই হবে কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে বারবার দেয়ার প্রয়োজন পড়ে।

মূল লক্ষণগুলো হচ্ছে – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, অহেতুক অত্যাধিক সঙ্গম স্প্রীহা, সঙ্গমকালে লিঙ্গ শক্ত হয়না, সঙ্গমের পরে ঘর্মস্রাব, সঙ্গমে দৈহিক ও মানসিক দুর্বলতা প্রকাশ পায়।

মহিলাদের ঋতুস্রাব নিয়মিত সময়ের পূর্বে এবং প্রচুর পরিমাণে হয় ও দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়। ক্যালক্যারিয়া কার্ব ওষুধটি ডান পাশের রোগে ভালো কাজ করে। পরবর্তী ওষুধ – লাইকোপোডিয়াম (পাওয়ার পরিবর্তন করে দিতে হবে), সাইলিশিয়া, কেলি-বীচ, এব্রোটেনাম, টিউবারকুলিনাম, ন্যাট্রাম মিউর, সোরিনাম, এন্টিম ক্রুড। ক্রিয়ানাশক হলো – ব্যারাইটা কার্ব। ক্যালক্যারিয়া কার্বের সাথে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক রয়েছে – ইপিকাক, অ্যাসিড নাইট, নাক্স ভমিকা, সালফার।  রোগ কমে যায় – শুষ্ক আবহাওয়ায়, বেদনা পার্শ্বে শয়ন করলে (ব্রায়োনিয়া, পালসেটিলা)।

 

৩। সিঙ্কোনা (পেরুভিয়ান বার্ক)/চায়না (Cinchona or China): শীত কাতর বিশিষ্ট।

বলিষ্ঠ, কৃষ্ণবর্ণ, যারা পূর্বে হৃষ্টপুষ্ট ছিল কিন্তু বর্তমানে রসরক্তাদি স্রাবের ফলে দুর্বল হয়ে পড়েছে (কার্বোভেজ)। প্রতিটি সন্ধিস্থানে ব্যথা হয়। সর্বাঙ্গে ক্ষতবৎ বেদনা এবং ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে চরমে উপনিত হয়। অধিক স্পর্শকাতর (নেট্রাম মিউর)। অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন (সালফার)। শিরঃপীড়া মস্তকে দংশনের ন্যায়, পশ্চাতে আরম্ভ হয়ে সমস্ত মস্তকের উপর বিস্তৃত হয় বিশেষ করে সহবাসের পরে এবং শয়নে বৃদ্ধি পায়। রোগী বসতে বা দাঁড়াতে বাধ্য হয়। সমস্ত পেটের মধ্যে গ্যাস, গড়-গড় করে। উদগারে উপশম হয়না। উপশম করতে গেলে দিতে হবে – কার্বোভেজ। ফল খেয়ে যদি উদরাময় ও গ্যাস হয় (আর্সেনিক ও পালস)। শূলব্যথা প্রত্যহ নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হয়। রাত্রে বৃদ্ধি, আহারে বৃদ্ধি, চাপে উপশম (কলোসিন্থ)। অনেক সময় এক হাত ঠাণ্ডা ও অন্য হাত গরম থাকে। সবিরাম জ্বর প্রতিবার ২-৩ ঘণ্টা এগিয়ে আসে। দেহ আবৃত করলে সমস্ত শরীরে ঘামের দেখা মেলে। জ্বর কখনো রাত্রে আসে না। কেচোর মতো লম্বা ক্রিমি মুখ দিয়ে বের হয় (সিনা)।

মূল লক্ষণগুলো হলো – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, স্বপ্নদোষ বা অস্বাভাবিক উপায়ে ইন্দ্রিয় চালানোর ফলে পুরুষাঙ্গের শিথিলতা, অনেক ক্ষেত্রে এক রাত্রে তিন-চার বার স্বপ্নদোষ হয়, ফলে রোগী অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। যৌন মিলনের সময় স্ত্রীকে তৃপ্ত করতে পারে না।

নাক, মুখ, অন্ত্র ও জরায়ু হতে অবিরত রক্তস্রাব হয়। পরবর্তী ওষুধ –ফেরাম মেট, ন্যাট মিউর, সালফার, কার্বোভেজ, ক্যালক্যারিয়া কার্ব। ক্রিয়ানাশক ওষুধ – আর্সেনিক। আর সিঙ্কোনা বা চায়নার সাথে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক রয়েছে – ডিজিটেলিস ও সাইলিশিয়া’র। রোগ বৃদ্ধি পায় – সামান্য স্পর্শে, বায়ু প্রবাহে, একদিন অন্তর একদিন, মানসিক উত্তেজনায়, জৈব তরল পদার্থের অপচয়। আর রোগ কমে বা উপশম হয় – জোরে চাপ দিলে, দ্বিভাজ হলে এবং উত্তাপে।

 

নিচে কিছু ওষুধের কেবল মূল লক্ষণগুলো দেয়া হলোঃ


৪। গ্রাফাইটিস (Graphitis): কৃষ্ণ সীসক, শীত কাতর।

মূল লক্ষণগুলো হলো – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, সঙ্গমে অনিচ্ছা, যৌনক্রিয়া সংক্রান্ত দূর্বলতা, জননাঙ্গের উপর দাদ জাতীয় উদ্ভেদ বা ফুসকুড়ি, মেদবহুল লোকের সঙ্গমকালে বীর্যপাতের অভাব।

এই ওষুধটি ডান পাশের রোগে ভালো কাজ করে। পরবর্তী ওষুধ – লাইকোপোডিয়াম, কস্টিকাম, হিপার সালফ, সাইলিশিয়া। ক্রিয়ানাশক হলো – আর্সেনিক, রাসটক্স ও নাক্স ভমিকা। রোগের বৃদ্ধি পায় – রাত্রিকালে, ঋতুস্রাবের সময় ও পরে, ঠাণ্ডা বাতাসে, গরম খাদ্যে, চুলকালে ও পূর্ণিমায়। আর রোগের হ্রাস পায় – মুক্ত বাতাসে, খাবার খেলে, উষ্ণ দুগ্ধ পানে, বধিরতায় (চলন্ত গাড়িতে)।

 

৫। জেলসিমিয়াম (Gelsemium): হরিদ্রাবর্ণ জেসমিন ফল, গরম কাতর।

মূল লক্ষণগুলো হলো – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, কৃত্রিম মৈথুনে আসক্ত স্ত্রী ও পুরুষ। বীর্য পাতলা, মাথা ধরে অতঃপর দৃষ্টিশক্তি কমে আসে, হাত-পায়ে অতিরিক্ত কম্পন ও অসংজতভাব, পশ্চাত দিক থেকে আসে দিনে ২/৩ বার, প্রচুর মূত্রত্যাগে মাথা ব্যথা কমে।

পরবর্তী ওষুধ – ব্রায়োনিয়া, কস্টিকাম, গ্রাফাইটিস ও সিপিয়া। ক্রিয়ানাশক – চায়না ও ন্যাট্রাম মিউর। রোগ বৃদ্ধি পায় – দেহ সঞ্চালনে, মানসিক উত্তেজনায়, ‍দুঃসংবাদে, ধুমপানে, পীড়ার বিষয় চিন্তা করলে। রোগ উপশম হয় – উত্তাপে, শীতল বায়ুতে, উত্তেজক ওষুধ সেবনে।

 

৬। লাইকোপোডিয়াম (Lycopodium): ক্লাব মস নামক পার্বত্য শৈবাল, শীত কাতর।

মূল লক্ষণগুলো হলো – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, যুবকগণ অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করে ধ্বজভঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়, যাদের পুরুষাঙ্গ ক্ষুদ্র, শিথিল ও ঠাণ্ডা তাদের পক্ষে এই ওষুধ ব্যবহার্য। বৃদ্ধ বয়সে যারা বিয়ে করে এই ওষুধ তাদের বন্ধুরূপে কাজ করে। বৃদ্ধদিগের ধ্বজভঙ্গ রোগ হলে ব্যবহার্য ওষুধ – সেলিনিয়াম।

লাইকোপোডিয়াম নামক ওষুধটি ডান পাশের রোগে ভালো কাজ করে। পরবর্তী ওষুধ – আয়োডিয়াম, ক্যালিকার্ব, কার্বোভেজ, ল্যাকেসিস ও সালফার। ক্রিয়ানাশক – কস্টিকাম ও পালস। রোগের বৃদ্ধি ঘটে – উত্তাপে, বিকাল ৪টা হতে রাত ৮ টার মধ্যে, আহারে, ঠাণ্ডা বাতাসে, নিদ্রাভঙ্গের পরে।  রোগের উপশম হয় – মূত্রত্যাগের পর, খোলা বাতাসে, সঞ্চালনে।

 

৭। ফসফরিক অ্যাসিড (Phosphoric Acid): ফসফরাস ও অক্সিজেনের সংযোগে প্রস্তুত, গরম কাতর।

মূল লক্ষণগুলো হলো – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, যে সকল যুবক-যুবতী কৃত্রিম উপায়ে মৈথুন করে হীনবীর্য হয়ে পড়ে এবং পেটে নানারকম রোগ দেখা দেয়, রোগীর গা ও কোমর অত্যন্ত দুর্বল, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করে ও প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ‍দুঃশ্চিন্তায় পুনঃ পুনঃ পীড়িত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পরবর্তী ওষুধ – টাইফয়েড রোগে- অ্যাসিড মিউর, ফসফরাস, সাইলিশিয়া। উদরাময়ের পরে ও পূর্বে চায়না খুব ভালো কাজ করে। ক্রিয়ানাশক – নাক্স ভমিকা, কক্বুলাস। রোগের বৃদ্ধি পায় – স্পর্শে, বসে থাকলে, শোক ও দুঃখে, শুক্রক্ষয়ে, কথা বলায় বক্ষের দুর্বলতা বাড়ে (স্ট্যানাম)। রোগের উপশম হয় – নড়াচড়ায়, শান্তনায়, গরমে এবং কখনো চাপে।

 

৮। সেলিনিয়াম (Selenium): একটি মৌলিক পদার্থ।

মূল লক্ষণগুলো হলো – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, যৌবনের উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য পরবর্তীতে দুর্বলতা। এই ওষুধের একটি বিশিষ্ট লক্ষণ হলো – নিদ্রায়, স্বপ্নে, হাঁটা-চলায়, প্রস্রাব ও পায়খানার পরে অসাড়ে শুক্রপাত হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। হাত-পা শীর্ণ, চোখ-মুখ বসে যায়, শুক্র তরল হয়ে যায়, তাতে কোনো প্রকার গন্ধ থাকে না, লিঙ্গ সম্পূর্ণ মোটা ও শক্ত হয়না। শেষে ধ্বজভঙ্গ হয়ে পড়ে।

পরবর্তী ওষুধ – জনন ও শ্বাস-যন্ত্রের ক্ষেত্রে- ফসফরাস, গায়ক ও বক্তাদের ক্ষেত্রে- আর্জেন্ট মেট, স্ট্যানাম; কঠিন মল ও সরলান্তের নিষ্ক্রিয়তায়- অ্যালুমিনা, জননেন্দ্রিয়ের দুর্বলতায় ও নিষ্ক্রিয়তায়- ক্যালাডিয়াম, ন্যাট্রাম মিউর, স্ট্যাফিস ভালো কাজ করে। রোগের বৃদ্ধি ঘটে – সূর্যতাপে, গ্রীষ্মকালে, উচ্চস্বরে গান বা বক্তৃতা করলে, সঙ্গম হেতু ও উত্তাপে। রোগের হ্রাস ঘটে – সূর্যাস্তের পরে, ঠাণ্ডা পানি বা বাতাস ‍মুখে নিলে।

 

৯। ইউরেনিয়াম নাইট্রিকাম (Uranium Nitricum): বদ মেজাজ, মানসিক অবসন্নতা, অত্যন্ত পিপাসা, বমি-বমি ভাব, রাক্ষুসে ক্ষুধা কিন্তু খেলে পেট ফেঁপে উঠে। শর্করাযুক্ত প্রচুর পরিমাণে মূত্রপাত। উপরোক্ত লক্ষণগুলো থাকলে যৌন দুর্বলতা থাকা অস্বাভাবিক নয়।

 

১০। জিঙ্কাম মেটালিকাম (Zincum Metallicum): দস্তা ধাতু, শীত কাতর।

মূল লক্ষণগুলো হলো – স্ত্রী সহবাসজনিত দুর্বলতা, অতিরিক্ত দুর্বলতার জন্য পা দুটি সব সময় নাড়তে থাকে, আপনা-আপনি স্পন্দিত হতে থাকে, সঙ্গমকালে শীঘ্র রেতঃপাত হয়, অতিমাত্রায় রক্তহীনতা ও তৎসহ চুড়ান্ত অবসন্নতা। রোগী এত দুর্বল যে, উদ্ভেদসমুহ প্রকাশিত হয় না।

পরবর্তী ওষুধ – ক্যালি ফস, সিপিয়া, ইগ্নেশিয়া, সালফার। ক্রিয়ানাশক – হিপার সালফ। শত্রুভাবাপন্ন ওষুধ হলো – ক্যামোমিলা, নাক্স ভমিকা। রোগের বৃদ্ধি ঘটে – ঋতুকালে, স্পর্শে, মদ পান করলে, মিষ্টি খেলে, দুগ্ধ পান করলে, উষ্ণ গৃহে। রোগের কমতি হয় বা হ্রাস হয় – আহার করলে, স্রাব আরম্ভ হলে, উদ্ভেদ বের হলে, ‍চুলকালে, বক্ষ লক্ষণ গয়ার উঠলে, মূত্রস্থলী লক্ষণ প্রস্রাব নির্গত হলে।

 

আরও কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের মাদার টিংচার ও সেগুলোর লক্ষণঃ


অশোকা (Asoaka) – মাদারঃ মাসিক ও জরায়ুর সমস্যায়, অতি মাসিক স্রাব, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ব্যথাযুক্ত মাসিক, রক্তচাপ, রক্ত পরিষ্কারক, জরায়ুর শক্তিবর্ধক, ক্যান্সার বিরোধী, সাদা স্রাব।

রোহিতক (Rohitaka) – মাদারঃ লিভারের সমস্যা, জন্ডিস, হেপাটাইটিস, লিভারের বিষক্রিয়া, অর্শ্ব, আলসার, এন্টি টিউমার।

অ্যাভেনা স্যাটাইভা (Avena Sativa) – মাদারঃ শারীরিক, স্নায়বিক, যৌন দুর্বলতা, পক্ষাঘাত, মৃগীরোগ, ঋতু গোলযোগে কার্যকর।

 

কিছু বায়োক্যামিক ওষুধের ব্যবহারঃ


ক্যালক্যারিয়া ফসফরিকাম (Calcarea Phosphoricum) – বাত ও বদহজমজনিত দুর্বলতা, সাধারণতঃ শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতায় কার্যকর।

কেলি ফসফরিকাম (Kali Phosphoricum) – স্নায়বিক দুর্বলতা, বদহজম, নিশ্বাসে ‍দুর্গন্ধ, অতিমাত্রায় পরিশ্রম ও শারীরিক দুর্বলতাজনিত মাথা ঝিমঝিম করে।

ফেরাম ফসফরিকাম (Ferrum Phosphoricum) – সর্দি, শ্বাসনালীর প্রদাহ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা জনিত দুর্বলতায় টনিক হিসেবে কার্যকর।

আমি জানি, আলোচনাটি দীর্ঘ হয়ে গেছে। কিন্তু, কিছু করার ছিলোনা। আলোচনা সংক্ষিপ্ত করলে অনেক কথাই বলা হতো না। ফিরে আসবো আগামী পর্বে নতুন কোনো রোগের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন, নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই লেখাটি আপনার যদি ভালো লেগে থাকে এবং যদি প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ১০:৩৫)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)