আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Alkushi

যৌন রোগ কি, লক্ষণগুলো কি এবং ভেষজ ও কবিরাজী মতে এর উত্তম চিকিৎসা

যৌন রোগের চিকিৎসা


যৌন রোগ নিয়ে আমাদের জানার শেষ নেই। রোগটা অনেকেই খুব গোপন করে রাখে। সাহস করে বলতে চায় না। কিন্তু, এর ফলে ব্যক্তি বিশেষের জীবনে খুব বড় ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা থাকে। সানরাইজ৭১ এ আজ সব গোপন ফাঁস করে দেওয়া হবে। যৌন রোগ কি, কি কি লক্ষণ থাকতে পারে, চিকিৎসা কি সবকিছুই আমরা জানবো ভেষজ চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে। তো আর দেরি কেন, চলুন শুরু করি।

 

আসলে যৌন রোগ কি?

যৌন কাজের মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে যে রোগ ছড়ায় তাকে যৌন রোগ বা যৌন বাহিত রোগ বলা হয়। কিন্তু অন্যান্য কারণেও এ রোগ হতে পারে।

 

কয়েকটি যৌন রোগের লক্ষণঃ

১। পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে পুজ ও রক্তপড়া এবং প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া ও আটকে আটকে প্রস্রাব হওয়া।

২। পুরুষ লিঙ্গের মাথায় গর্ত বা ঘা হওয়া এবং লিঙ্গের আশেপাশে ক্ষত বা চুলকানি হওয়া।

৩। অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া ও ব্যথা হওয়া।

৪। কুচকি ফুলে যাওয়া ও কুচকিতে বাগী হওয়া।

 

মেয়েদের ক্ষেত্রেঃ

১। অতিরিক্ত স্রাব বা পুঁজ যুক্ত স্রাব বের হওয়া অথবা গন্ধযুক্ত স্রাব বের হওয়া।

২। সহবাসে ব্যথা বা তলপেটে ব্যথা হওয়া।

৩। যৌনাঙ্গের আশেপাশে ফুস্কুড়ি, চুলকানি, ঘা বা ক্ষত সৃষ্টি হওয়া।

৪। কুচকি ফুলে যাওয়া, ফেটে যাওয়া বা বাগী হওয়া।

 



যৌন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কি ধরণের ক্ষতি বা কি কি ক্ষতি হতে পারে?

১। যৌন ক্ষমতা নষ্ট হতে পারে।

২। সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা হতে পারে।

৩। বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম দিতে পারে।

৪। পাগল হতে পারে।

এ রোগের সঠিক চিকিৎসা কোথায় পাবেন?

১। যেকোন সরকারি হাসপাতাল (যৌন বিভাগ)।

২। যেকোন এনজিও ক্লিনিকে।

৩। অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে।

৪। যৌন বিশেষজ্ঞ বা কোন স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিলে।

৫। নিজের বিবেক’কে জাগ্রত রাখা এবং মন্দ কাজ না করা।

 

যৌনরোগে আলকুশলীর ব্যবহারঃ

উদ্ভিদের বর্ণনাঃ আলকুশী একটি বর্ষজীবি লতানো গাছ। দেখতে অনেকটা শিম গাছের মতোই দেখা যায়। পাতা যৌগিক, তিনটি মাত্র পত্রখণ্ড নিয়ে গঠিত। একান্তর, বৃন্তযুক্ত, পত্রখণ্ড নরম এবং ওভেড রম্বয়েড, পাতার নিচের পৃষ্ঠে ছোট ছোট লোম আছে। মঞ্জুরীদন্ড লম্বা, অনিয়ত পুষ্প উভয় লিঙ্গ, এক প্রতিসম গর্ভপাদ পুষ্পী।

বৃত্যংশ পাঁচটি, এতে বিষাক্ত লোম আছে। পাপড়ি পাঁচটি। লালচে বেগুনি বর্ণের পুঃকেশর দশটি। গর্ভকেশর একটি। ফল পডজাতীয়, ১-৪ ইঞ্চি লম্বা স্ফীত, একটু বাঁকা প্রতি ফলে পাঁচ থেকে ছয়টি বীজ থাকে। ফল বিষাক্ত লোম দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। শুষ্কাবস্থায় বিষাক্ত লোমগুলো সামান্য নড়াচড়ায় ঝড়ে যায়।

সাধারন গুণঃ মধুর তিক্ত রস, গুরুপাক, অতিশয় শুক্রবর্ধক, বল বর্ধক, বায়ু প্রশমক, রক্ত পরিষ্কারক, কফ নিবারক ও পিত্তনিবারক।

ব্যবহার্য্য অংশঃ বীজ ও শিকড়। মাত্রা বা পরিমাণ – বীজ চূর্ণ এক আনা, মূলের রস এক তোলা।

ব্যবহারঃ আলকুশীর প্রধান ব্যবহার বাজীকর ওষুধ হিসেবে। যে ওষুধ অতিমাত্রায় শুক্র ‍সৃষ্টি করে অথবা অশ্বের মতো রমনে প্রবৃত্ত করে তাকে বাজীকর ওষুধ বলা হয়।

 

আয়ুর্বেদ ও কবিরাজী চিকিৎসাঃ

আলকুশীর বীজকে রাত্রিতে পানিতে (অথবা গরম দুধে) ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং পরদিন সকালে বীজের খোসা ছাড়াতে হবে। খোসা ছাড়ানো বীজকে এমনিতে অথবা দুধ-পানিতে একটু সিদ্ধ করে শিলপাটায় পিষে নিতে হবে এবং অল্প ঘি এর সাথে ভাজতে হবে। পরে এর সাথে চিনি মেশাতে হবে।

এ থেকে সকাল-বিকাল চা চামচে ‍দুই চামচ করে খেতে হবে এবং ওষুধ খাবার পর অন্তত এক কাপ দুধ খেতে হবে। এভাবে কিছুদিন খেলেই বাজীকরণ নির্বহ হবে। যাদের ধ্বজভঙ্গ শুক্রতারল্য বা স্ত্রীলোকের দর্শনেই শুক্রক্ষরণ হয় তাদের জন্য এটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু।

আলকুশীর বীজ চূর্ণ মাষ কলাই এর সাথে জুস তৈরী করে খেলেও বলবান ও বাজীকরণ নির্বহ হয়। সন্তান প্রসব বা অন্য কোনো কারণে স্ত্রীলোকের যোনি প্রসারিত হয়ে গেলে আলকুশীর শিকড়ের সাথে একখন্ড কাপড় ভিজিয়ে তা যোনীতে ধারণ করলে যোনি সংকীর্ণ প্রাপ্ত হয়। বিছা ও অন্যান্য বিষাক্ত পোকা-মাকড় দংশন করলে তাতে আলকুশীর বীজ চূর্ণ করে লাগালে বিষ নষ্ট হয়ে যায়।

এক প্রকার বাত ব্যথা আছে যাতে হাত উপরে উঠানো যায় না। এরূপ ক্ষেত্রে আলকুশীর শিকড়ের রস কয়েকদিন নিয়মিত খেলেই তা সেরে যায়। আলকুশীর বীজ ঋতুস্রাবকারী এবং বেশ বলকারক। আলকুশীর ফলের উপরের শুয়া বা অংশ অত্যন্ত বিষাক্ত। এটি লাগলে ত্বকে অত্যন্ত চুলকানি ও জ্বালা-যন্ত্রণা আরম্ভ হয়। কাজেই বীজ সংগ্রহকালে অত্যন্ত সাবধান ও যত্নবান হওয়া উচিত।

 

ঋতুস্রাব পরিমাণে কম হলেঃ

মেয়েদের শরীরে প্রয়োজনীয় রক্তের পরিমাণ কমে গেলে এবং দেহে চর্বি বেশি হলে এ অস্বাভাবিক ব্যাপারটি দেখা যায়। এরকম হলে আলকুশীর শুকনো বীজের গুঁড়ো ৫০০ মিগ্রা ঠাণ্ডা পানির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিনের মধ্যে একবার করে সকালের দিকে খেতে হবে।

অবশ্য চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে অপ্রয়োজনীয় চর্বি কমাতে হবে। আর শরীরের প্রয়োজনীয় রক্ত পূরণ করার জন্য পুষ্টিকর ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্য খেতে হবে। ধ্বজভঙ্গ রোগে আলকুশীর পাঁচটি বীজ রাতে ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে পরের দিন সকালে বীজের খোসা ছাড়িয়ে ফেলতে হবে।

এরপর ১০০ মিলিলিটার পানি এবং সমপরিমাণ গরুর দুধ মিশিয়ে খোসা ছাড়ানো বীজগুলো সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা হলে শীলপাটায় বেটে গাওয়া ঘি দিয়ে ভেজে চিনি হালুয়ার মতো করতে হবে। তবে, এটা বেশি পরিমাণে করার প্রয়োজন নেই। তিন থেকে চারদিন যাতে চলে সেই পরিমাণ হালুয়া তৈরী করলেই চলবে।

রোজ পাঁচ গ্রাম পরিমাণ একবার সকালে এবং দ্বিতীয়বার বিকালে ৪০০ মিলি গরুর দুধের সাথে সামান্য গরম অবস্থায় খাওয়া দরকার। একমাস নিয়মিত খেলে রোগ নিরাময় হবেই।

 



আলকুশীর অন্যান্য উপকারঃ

১। ইন্দ্রিয় শৈথিল্যেঃ আলকুশীর বীজ চূর্ণ এক আনা মাত্রায় নিয়ে দুধ ও চিনির সাথে জাল দিন। তারপর সে দুধ একমাস নিয়মিত খেলে ইন্দ্রিয় দৃঢ় হয় ও রতিক্রিয়ায় সক্ষম হয়।

২। ধাতু দূর্বলতাঃ এতেও আলকুশীর বীজ অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন সকালে আলকুশীর বীজ মধু ও ছালসহ মাষকলাই পিষে কিছুদিন খেলেই ধাতু দুর্বলতা দূর হবে এবং দেহে শক্তি সঞ্চারিত হবে।

৩। ধ্বজভঙ্গেঃ আলকুশীর ক্বাথ তৈরী করে রোজ এক ছটাক পরিমাণ সকালে ও বিকালে খেলে রক্তদোষ দূর হয় এবং ধ্বজভঙ্গ রোগ ভালো হয়।

৪। নারীর যোনিতে আঘাত লাগলেঃ আলকুশীর মূল সিদ্ধ করে ক্বাথ তৈরী করে নিন। তারপর সে পানি ছেঁকে নিয়ে তাতে পরিষ্কার ন্যাকড়া বা তুলা ভিজিয়ে সহনীয় মাত্রায় গরম করে সেটা যোনির উপর বসিয়ে রাখুন অথবা সেঁক দিন। একসপ্তাহ এভাবে ব্যবহার করুন। আঘাতজনিত বেদনা দূর হবে অবশ্যই।

৫। পুরুষ ও নারীর ক্ষয়রোগের ক্ষেত্রেঃ ‍পুরুষ ও নারীর ক্ষয়রোগের ক্ষেত্রে আলকুশী একটি মহা ওষুধ।

৬। যৌনশক্তি বৃদ্ধিতেঃ অশ্বের মতো বাজীকর করে। যৌন অক্ষমতা বলতে আপনার মধ্যে কোন কিছু থাকবে না। সবসময়ই আপনি আপনার স্ত্রী’র সাথে বাজি করতে পারবেন।

খাওয়ার নিয়মঃ গরম দুধে অথবা পানিতে সকালে ভিজিয়ে রাখবেন এবং রাতে ভাত খাওয়ার পরে চামড়া ফেলে চিবিয়ে খেয়ে এক কাপ দুধ অথবা এক কাপ পানির সাথে মিলিয়ে খাবেন।

 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করা হলো। আবারও ফিরে আসবো নতুন কোনো রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকলে এবং প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (দুপুর ২:৩৬)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)