আজ সোমবার,১৮ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২রা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি

ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি শিখে নিন সহজেই

ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি


সানরাইজ৭১ এ আজকের পোস্ট পড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো –িইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি নিয়ে। যেমন-তেমনভাবে ইনজেকশন দিলেই কিন্তু হবে না। তাহলে রোগীর অনেক সময় বিভিন্ন রকম সমস্যা হতে পারে। ইনজেকশন দেয়ার জায়গাটা অনেক সময় ফুলে যায়, ইনফেকশন হয়, ভুল পথে সিরিঞ্জ চলে যায় ইত্যাদি।




সো, আমরা যারা ডাক্তার কিংবা মেডিকেল স্টুডেন্ট তাদের অবশ্যই এই ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি জানতে হবে এবং ভালোভাবে জানতে হবে। এখানে দেবার বলতে পুশ করার কথা বলা হচ্ছে।

যদিও এটা প্রাকটিকালী শেখাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার কিন্তু তবুও জানারও দরকার আছে। পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে আমার বিশ্বাস আপনাদের ক্লীয়ার একটা কনসেপশন আসবে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি সম্পর্কে। আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

 

ইনজেকশনের শ্রেণীবিভাগঃ ইনজেকশন বিভিন্ন প্রকারে দেওয়ার প্রয়োজন হয়। যেমন- ইন্ট্রামাস্কুলার (অধিক প্রচলিত), ইন্ট্রাভেনাস, সাবকিউটেনিয়াস, ইন্ট্রাকার্ডিয়াক, ইন্ট্রাস্পাইনাল।

ইনজেকশন দেয়ার উপকরণসমুহঃ ইনজেকশন দেবার সিরিঞ্জ, ছুরি, নিডল বা সুচ, তুলো, রেকটিফাইড স্পিরিট বা অ্যালকোহল, রাবার ব্যান্ড ইত্যাদি।

ইনজেকশন দেয়ার আগের প্রস্তুতি বা করণীয় বিষয়ঃ প্রথমেই ইনজেকশনের জন্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জটিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিডল বা সুচ লাগিয়ে নিতে হবে। নিডলটি নিতে হবে ব্যবহার্য্ ওষুধের গাঢ়ত্ব অনুযায়ী। যেমন খুব ঘন ওষুধের ক্ষেত্রে ২০ কিংবা ২২ নম্বর নিডল এর প্রয়োজন হয়। খুব তরল ওষুধের ক্ষেত্রে ২৩ নম্বর ও ২৪ নম্বর নিডল ব্যবহার করা ভালো।




ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি

সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশনের জন্য ২৬ নম্বর নিডল ব্যবহার করা চলে। আর সিরিঞ্জটিও নিতে হবে ওষুধের পরিমাণ অনুসারে। যেমন, ½ মিলি থেকে 2 মিলি পরিমাণ ওষুধের জন্য ২ সিসি সিরিঞ্জ-ই যথেষ্ট। এর অধিক ওষুধের জন্য ৫ সিসি প্রয়োজনে ১০ সিসি সিরিঞ্জও ব্যবহার করা হয়।

সিরিঞ্জ ও নিডলটিকে অ্যালকোহলে কিংবা ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এবার, পিস্টনটিকে পেছনে টেনে বের করে ধীরে ধীরে নেড়ে বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে। এখন সিরিঞ্জটি ওষুধ ভরবার উপযুক্ত হবে। যদি ভায়াল থেকে ওষুধ টানতে হয় তবে যে পরিমাণ ওষুধ টানতে হবে সেই পরিমাণ বাতাস সিরিঞ্জে নিয়ে ঐ ভায়ালের রাবার কর্ক ভেদ করে সুঁচ ফুটিয়ে পিস্টনটিকে ঠেলতে হবে যাতে সিরিঞ্জ মধ্যস্থিত সমস্ত বাতাস ভায়ালে চলে যায়।

তারপর ধীরে ধীরে ওষুধ সিরিঞ্জে আসতে থাকবে। তবে ভায়ালটিকে উপুর করে ধরতে হবে যাতে সিরিঞ্জটি নিচে থাকে। মাত্রানুযায়ী ওষুধ টেনে সুঁচটি ভায়াল থেকে টেনে বের করতে হবে। আর যদি অ্যাম্পুল থেকে ওষুধ নিতে হয় তাহলে অ্যাম্পুলের গলায় ছুরি দ্বারা ঘষে নিয়ে সামান্য আঘাত দিলে বা মোচড়ালে তার মাথা ভেঙ্গে যাবে।




এখন নিডলটি ওষুধে ডুবিয়ে উপুড় করে দিতে হবে এবং পিস্টনটি পেছন থেকে টানতে হবে তাহলে ওষুধ আস্তে আস্তে সিরিঞ্জে চলে আসবে। এই ওষুধ প্রয়োগের উপযু্ক্ত করবার জন্য নিডলটিকে উপুরের দিকে ধরে আস্তে আস্তে পিস্টনটিকে ঠেলে বুদবুদগুলো বার করে দিতে হবে। এখন এটা ব্যবহারের উপযোগী হবে।

 

ইন্ট্রামাস্কুলারঃ ইন্ট্রামাস্কুলার অর্থাৎ পেশীর মধ্যে এই ইনজেকশন দেয়া হয়। এই ইনজেকশন বাহুর উপরের ডেল্টয়েড পেশী কিংবা পাছার বা নিতম্বের গ্লুটিয়াল পেশীতে দেয়া হয়। তবে বাহুর পেশীর চেয়ে পাছার বা নিতম্বের পেশীতে ব্যথা বা যন্ত্রণা কম হয়। এখন বাম হাত দ্বারা বগলের ১ ইঞ্চি নিচে চেপে ধরে চাপ দিয়ে পেশিটিকে উপরের দিকে ফুলিয়ে নিতে হবে।

তারপর ঐ স্থানে একটি অ্যালকোহল বা রেকটিফাইড স্পিরিটে ভেজা তুলো ঘষে নিতে হবে। তারপর পূর্ব লিখিত নিয়মে ভরা ওষুধের সিরিঞ্জটিকে বাহুর সাথে ৬০ ডিগ্রি কোণ করে স্থাপন করতে হবে এবং ঐভাবে সূঁচটি দেহে প্রবেশ করাতে হবে। সুচ সম্পূর্ণ ফোটানো হলে দেখতে হবে তা শিরাতে পড়েছে কিনা – তার জন্য সিরিঞ্জটিকে সামান্য পেছন দিকে টানতে হবে।

যদি সিরিঞ্জের ওষুধে কোনো রক্ত কণা এসে পৌছায় তাহলে বুঝতে হবে এটা শিরাকে ভেদ করেছে। তাহলে ইনজেকশন দেয়া যাবে না। যদি রক্ত না আসে তবে পিস্টনটিকে সামনে ঠেলে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করাতে হবে। সমস্ত ওষুধ শরীরে প্রবেশ করানোর পর স্পিরিটসিক্ত তুলোটি নিডল এর গোড়ায় চেপে ধরে সুচটি টেনে বের করতে হবে।




যদি পাছায় দিতে হয় তাহলে প্রথমে রোগীকে কাৎভাবে শোয়াতে হবে তারপর ঐ অংশে স্পিরিটসিক্ত তুলো ঘষে নিতে হবে এবং দুইটি আঙুল দ্বারা ঐ স্থানের চামড়া টেনে ধরে সুচ ফোটাতে হবে। এক্ষেত্রে সুচটি একেবারে ৯০ ডিগ্রি কোণ করে প্রবেশ করাতে হবে এবং একই পদ্ধতিতে ওষুধ প্রবেশ করাতে হবে এবং শেষে গোড়ায় তুলা চেপে টেনে তুলে নিতে হবে।

দুই প্রকার ইনজেকশনেরই শেষে ঐ অংশে চেপে ধরে ভালোভাবে মর্দন করে দেওয়া ভালো তাতে ওষুধ তাড়াতাড়ি রক্তের সাথে মিশে যায় এবং ব্যথা বা যন্ত্রণা কমে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন সাধারণত হাতের পেশীতে দেওয়া যায় না। পায়ের পেশীতে দেয়া হয়।

 

ইন্ট্রাভেনাস ইনজেকশনঃ ইন্ট্রাভেনাস অর্থাৎ শিরার মধ্যে ওষুধ প্রবেশ করাতে হয়। সাধারণত কনুই এর সামনের দিকে যে ব্যসালিক ভেইন থাকে সেখানে দেয়া হয়। প্রয়োজনে বা অসুবিধা ঘটলে অন্য স্থানেও দেয়া যায়। এই ইনজেকশন দিতে হলে দুজন থাকলে ভালো হয়। এই ইনজেকশনে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করার প্রয়োজন হয়। কারণ এতে অনেক বিপদের সম্ভাবনা থাকে।

প্রথমে উপরের বিবরণ অনুযায়ী সিরিঞ্জে ওষুধ ভরে নিতে হবে। তারপর রোগীকে শুইয়ে দিয়ে তার হাতটি একটি অনুচ্চ বালিশের উপর রাখতে হবে। অবশ্য বালিশ ব্যবহার না করলেও অসুবিধার কিছু নেই। তারপর সহকারীকে বলতে হবে একটি রাবার বা অন্যান্য ব্যান্ড দ্বারা বাহুর উপরের অংশে বাঁধন দিতে হবে।

ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি

তারপর হাত মুঠো করিয়ে সমস্ত বাহু কনুই এর অংশে ভাঁজ করাতে হবে এবং পুনরায় ছড়াতে হবে। কয়েকবার এইরূপ করার পর দেখা যাবে যে, ব্যাসালিক ভেইনটি খুব ফুলে উঠবে এমতাবস্থায় ঐ অংশে দুটি আঙুল এক থেকে দেড় ইঞ্চি দূরে স্থাপন করে চেপে ধরতে হবে এবং ওষুধ ভর্তি সিরিঞ্জ বাহুর সাথে সমান্তরালভাবে রেখে ধীরে ধীরে শিরাতে সুচ ফোটাতে হবে যাতে ঐ সুচ শিরার কেবলমাত্র একটি দেওয়াল ভেদ করে।




তার আগে একটি তুলা রেকটিফাইড স্পিরিট বা বা অ্যালকোহলে ডুবিয়ে ঐ অংশে ঘষে নিতে হবে। সুচ পুরোপুরি প্রবেশ করলে পিস্টনটিকে পেছন দিকে টেনে দেখতে হবে সিরিঞ্জে রক্ত এসেছে কিনা। যদি সিরিঞ্জে রক্ত আসে তাহলে ধীরে ধীরে পিস্টন ঠেলে ওষুধ পুশ করতে হবে। আর যদি রক্ত না আসে তাহলে বুঝতে হবে সুচের আগাটি শিরার বিপরীতে দেয়াল ভেদ করে ভেতরে চলে গেছে।

যদি সিরিঞ্জে রক্ত আসে তাহলে ধীরে ধীরে পিস্টন ঠেলে ওষুধ পুশ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইন্ট্রাভেনাস ইনজেকশন খুব অল্প পরিমাণে এবং অনেকক্ষণ সময় ধরে প্রবেশ করাতে হয়। ওষুধ ‍পুশ করার আগে সহকারীকে বলতে হবে যে ধীরে ধীরে ব্যান্ডটি খুলে ফেলতে হবে।

ইন্ট্রাভেনাস ইনজেকশনে সিরিঞ্জে যেনও কোন বায়ুর বুদবুদ না থাকে সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। সব ওষুধ পুশ করা হয়ে গেলে স্পিরিট বা অ্যালকোহল সিক্ত ‍তুলাটি সুচের গোড়ায় চেপে ধরে তা টেনে বের করে নিতে হবে এবং কনুইটি তুলা সহ কিছুক্ষণ ভাঁজ করে রেখে দিতে হবে।

 

সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশনঃ সাবকিউটেনিয়াস কথার অর্থ চামড়ার নিচে। অতএব বুঝতেই পারছেন এই ইনজেকশন চামড়ার নিচে ব্যবহার করতে হয়। চামড়ার নিচে কিন্তু পেশীতে পৌছাবে না এমন স্থানে দিতে হয়। সাধারণত শরীরের যে অংশের চামড়া নরম এবং খুব পাতলা হয় সেখানেই দেয়া হয়।




চামড়ার নিচে ব্যবহৃত ওষুধ কমই আছে যা চর্মরোগে কিছু কিছু ব্যবহার হয়। মাথার টাকে স্টেরয়েড ইনজেকশন চামড়ার নিচে দেয়া হয়। তাছাড়া, কোন ওষুধে এলার্জি আছে কিনা তা জানার জন্য চামড়ার নিচে ওষুধ পুশ করে টেস্ট করা হয়। এই ইনজেকশনে বেশির ভাগ বাহুর সামনের দিকে চামড়ার নিচে দেয়া হয়।

প্রথমের উল্লেখিত পদ্ধতিতে ওষুধ সিরিঞ্জে ভরে নিতে হবে। তারপর যে স্থানে ইনজেকশন দেয়া হবে সেখানে স্পিরিট বা অ্যালকোহলসিক্ত তুলা ঘষে নিতে হবে। এবার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনী দ্বারা ঐ স্থানের চামড়া সামান্য উপরের দিকে টেনে তুলতে হবে, তারপর সুচটি ধীরে ধীরে প্রবেশ করাতে হবে।

লক্ষ্য রাখতে হবে সুচটি যেন চামড়ার সাথে সমান্তরালভাবে এবং চামড়ার তলদেশ বরাবর যায় আর তারপর পিস্টনটি পেছনে টেনে দেখতে হবে সিরিঞ্জে কোনো রক্তকণিকা এসেছে কিনা। যদি এসে থাকে তাহলে ওষুধ পুশ না করে সিরিঞ্জ বের করে নিতে হবে। আর যদি রক্তকণা না আসে তাহলে খুব ধীরে ধীরে ওষুধ পুশ করতে হবে। ওষুধ প্রবেশ করানো হয়ে গেলে সুচের গোড়ায় ওষুধ সিক্ত তুলা চেপে সুচ টেনে বের করে নিতে হবে।

ইন্ট্রাকার্ডিয়াক এবং ইন্ট্রাম্পাইনাল ইনজেকশন খুব অভিজ্ঞতা ছাড়া দেয়া উচিত নয়। ইন্ট্রকার্ডিয়াক ইনজেকশন হার্টে দেওয়া হয়ে থাকে। বুকের বামদিকের পঞ্চম ও ষষ্ঠ রিবের মাঝখান দিয়ে সুচ ফুটিয়ে এই ইনজেকশন দেওয়া হয়।

ইন্ট্রাম্পাইনাল ইনজেকশন মেরুদন্ডের লাম্বার ভট্রিবার মধ্যে দেয়া হয়। এগুলো অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া দেয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।

এছাড়াও ইন্ট্রাঅ্যাবডোমিনাল, ব্রেইনের ইনজেকশন দেয়া হয়। এগুলো একটু কঠিন বিষয় তাই এখানে বর্ণনা প্রদান করা হলো না।

 

স্যালাইন ইনজেকশন দেবার পদ্ধতিঃ স্যালাইন বিভিন্নভাবে দেয়া হয়। যেমন – পায়ুনালী দ্বারা, চামড়ার নিচে ব্যবহৃত স্যালাইন এবং ইন্ট্রাভেনাস স্যালাইন। তবে ইন্ট্রাভেনাস স্যালাইনই বেশি প্রয়োজন হয়। ইন্ট্রাভেনাস স্যালাইন ক্লোজড মেথড বা বদ্ধ পদ্ধতি এবং ওপেন মেথড বা উন্মুক্ত পদ্ধতি এই দুই ভাবে দেয়া হয়।




ইন্টাভেনাস স্যালাইন দিতে হলে স্যালাইন সেট অর্থাৎ স্যালাইন দেওয়া নল সুচসহ একটি, রাবার ব্যান্ড একটি, অ্যাডহেসিভ টেপ প্রয়োজন অনুযায়ী, স্পিরিট বা অ্যালকোহল, তুলো, গজ বা ব্যান্ডেজও কখনও কখনও প্রয়োজন হয়।

প্রথমে স্যালাইনের বোতলের সিল কেটে নিতে হয়। তারপর স্যালাইন সেটের মধ্যস্থিত বায়ু সরবরাহকারী নলটি উপযুক্ত স্থানে প্রবেশ করাতে হবে, তারপর স্যালাইন নলটির স্টপ কর্ক বন্ধ রেখে ঐ সুচটিও স্যালাইন বোতলের রাবার কর্কের নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করাতে হবে।

অতপর ঐ নলের যে বায়ুথলি থাকে তাতে চাপ দিয়ে অর্ধ্বাংশ পূর্ণ করে নিতে হবে। তারপর স্টপকর্ক খুলে দিয়ে কিছুটা স্যালাইন দ্রবণ বের করে দিতে হবে। এর ফলে দেখা যাবে নলটি বায়ুশূন্য এবং বুদবুদহীন হবে। এখন স্যালাইন বোতলটি উপুড় করে প্রয়োজনীয় উচ্চতায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

এরপর রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে দিয়ে তার একটি হাত মেঝের বা বিছানার সমান্তরালে নিতে হবে। ইন্ট্রাভেনাস ইনজেকশনের ন্যায় ব্যান্ড বেঁধে ব্যাসালিক শিরাটি ফুলিয়ে নিতে হবে। একই পদ্ধতিতে স্যালাইন সেট সংযুক্ত সুচটি ঐ শিরাতে ফোটাতে হবে।




তারপর ধীরে ধীরে বাহুর সমান্তরাল ঠেলে প্রবেশ করাতে হবে; যদি দেখা যায় সুচের গোড়ায় রক্ত এসেছে তাহলে ধীরে ধীরে বাঁধন খুলে দিতে হবে এবং স্টপ কর্ক খুলে স্যালাইন প্রবাহ চালু করতে হবে। যদি ‍সুচের আগা শিরার অপর দেয়াল ভেদ করে চলে যায় তাহলে ঐ স্থানে প্রবাহ চালু হওয়ার সাথে সাথে ফুলে উঠবে তখন সুচ টেনে বের করে নিতে হবে।

যদি স্যালাইন দ্রবণ শিরার রক্তে মেশে তখন অ্যাডহেসিভ টেপ দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি সাইজে কেটে নিয়ে সুচের গোড়ায় ও আগায় সেটে দেয়া দরকার। তা নাহলে হাত নড়াচড়া করলে সুচ শিরার বাইরে চলে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এই পদ্ধতিতে স্যালাইন দেয়াকে বদ্ধ পদ্ধতি বা Closed Method বলা হয়।

হঠাৎ যদি কোন কলেরা রোগীর অতিরিক্ত ডিহাইড্রেশন বা পানি শুন্যতা হয়ে শিরা খুব বসে যায় এবং তা সুচ প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে তখন ঐ স্থানের চামড়া কেটে শিরাকে উন্মুক্ত করে সুচ ফোটানো হয়। আর এই পদ্ধতিকে উন্মুক্ত পদ্ধতি বা Open Method বলা হয়।

এক্ষেত্রে স্যালাইন শেষে যেকোন অ্যান্টিবায়োটিক মলম বা পাউডার দিয়ে তার উপর গজ দ্বারা ব্যান্ডেজ করা দরকার। ক্লোজড মেথডে স্যালাইন দেয়া শেষ হলে ইন্ট্রাভেনাস ইনজেকশনের ন্যায় তা খুলে ফেলে ঐ স্থান মলম দ্বারা ম্যাসেজ করা যায়।

স্যালাইন দিতে গেলে কতকগুলো বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখা দরকার। যেমন – সাধারণ রোগীর ক্ষেত্রে স্যালাইন খুব ধীরগতিতে দিতে হবে। কিন্তু ডিহাইড্রেশনের রোগীকে প্রথম ঘন্টায় প্রয়োজন অনুযায়ী ১ থেকে ২ বোতল স্যালাইন সহজেই দেয়া চলবে। পরে মিনিটে ৮০ থেকে ১০০ ফোঁটা দেয়া চলবে। চামড়ার আর্দ্রতা, চোখের আর্দ্রতা ও প্রস্রাবের সরলতা প্রভৃতি দেখে স্যালাইন বন্ধ করতে হবে।




কিন্তু জ্বর, হার্টের রোগ, স্ত্রীরোগ, অস্ত্রোপচারের পূর্বে বা পরে, হেপাটাইটিস রোগে যখন Dextrose স্যালাইন বা কোন ইন্ট্রাভেনাস তরল দেয়া হবে তখন তা খুব ধীরগতিতে দিতে হবে অর্থাৎ মিনিটে ২৫-৩০ ফোঁটা দেওয়াই ভালো।

দীর্ঘ সময় বা দীর্ঘ দিন ধরে স্যালাইন দিতে হলে যে ফাইবার নিডল পাওয়া যায় তা ব্যবহার করা ভালো; এতে স্টীল সুচটি বার করে নেওয়া হয় ফলে ফাইবার সুচ শিরার বাইরে যাবার সম্ভাবনা বা ভয় থাকে না যার ফলে হাত নড়াচড়া করা যায়। তুলনামূলকভাবে সুস্থ্য রোগীর ক্ষেত্রে বসে স্যালাইন নেওয়াও সুবিধাজনক।

এইসব ক্ষেত্রে কবজির পাশের শিরাতে স্যালাইন দেয়াই ভালো। সাধারন রোগীর যদি স্যালাইন চলাকালীন কাঁপুনি আসে তাহল স্যালাইন বোতলটি একটি গরম পানির পাত্রে ডুবিয়ে সামান্য গরম করে নেয়া দরকার। স্যালাইন চলাকালীন রোগীর প্রতি সর্বদা নজর রাখা উচিত। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক স্যালাইন সেট ব্যবহার করতে হবে। একই সেট একজনের ব্যবহারের পর আরেকজনের ক্ষেত্রে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

 




আজ আর নয়। ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করা হলো। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো আগামী পর্বে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন, সবসময় মনটাকে ফ্রেশ রাখার চেষ্টা করুন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে দিনাতিপাত করুন – এই কামনাই করছি।

এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

বিভিন্ন অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুনঃ

ইনজেকশন ও স্যালাইন নিয়ে উইকিপিডিয়ায় পড়ুনঃ

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

3 responses to “ইনজেকশন ও স্যালাইন দেবার পদ্ধতি শিখে নিন সহজেই”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ১:৪০)
  • ২রা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২২শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি
  • ১৮ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন