আজ মঙ্গলবার,৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Corona Virus

করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়? করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার উপায়সমুহ

করোনা ভাইরাস টিপস


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আশা করছি, সবাই সুস্থ্য এবং ভালো রয়েছেন। আজ আমরা মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। করোনা ভাইরাস নিয়ে আরো কিছু পোস্ট আমাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে। সময় থাকলে এই লিঙ্কে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন। তো চলুন, আজকের খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা শুরু করিঃ

করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়িয়ে পড়ে তা জেনে নিনঃ

১। করোনাভাইরাস রোগ প্রতিরোধের জন্য বর্তমানে কোনও ভ্যাকসিন নেই। আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি কার্যকর হয়ে উঠেনি। তবে, অচিরেই হয়তো এটি সম্ভব হবে।

২। অসুস্থতা বা এই ভাইরাস প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হল এই ভাইরাসের সংস্পর্শ এড়ানো বা এড়িয়ে চলা।

৩। এই ভাইরাসটি মূলত ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে বলে মনে করা হয় এবং এটিই আসলে বাস্তবতা। একজনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে করোনা ভাইরাস খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।

৪। যারা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন তাদের মধ্যে (প্রায় ৬ ফুটের মধ্যে) এটি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

৫। সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা যখন তার সাথে সম্মুখে আলাপচারিতা হয় বা কথা বলা হয় তখন তার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৬। এই শ্বাস-প্রশ্বাস বা নাক-মুখে থেকে যা বের হয় অর্থাৎ জীবাণু তা কাছাকাছি থাকা মানুষের ফুসফুসে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গিয়ে ফুসফুসে অবতরণ করতে পারে।

৭। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, করোনা ভাইরাস এমন লোকদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে যাদের মধ্যে কোনো লক্ষণই নেই।

Sample Image of Musk Uses

করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার্থে আমাদের প্রত্যেকের যা করা উচিতঃ

১। আপনার হাত বারে বারে ধুয়ে নিন। বাইরে থেকে এসে প্রয়োজনে গোসল করে নিন।

২। আপনার হাত প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে ধৌত করুন। অবশ্যই সাবান ব্যবহার করুন। বিশেষ করে হাঁচি, কাশি দেয়ার পরে অবশ্যই তা করবেন। এই কাজটি করা খুব গুরুত্বপূর্ন।

৩। খাবার খাওয়ার আগে বা খাবার প্রস্তুত করার আগে হাত-পা ও মুখ ধুয়ে নিন।

৪। আপনার মুখ স্পর্শ করার আগে হাত ধুয়ে নিন।

৫। বিশ্রাম নেওয়ার পরে অবশ্যই হাত-মুখ ধুয়ে নিন এবং তারপর প্রয়োজনে বাইরে বের হন।

৬। পাবলিক প্লেস ছেড়ে যাওয়ার পরে অবশ্যই হাত-মুখ ধুয়ে নিন।

৭। আপনার মাস্ক বা মুখোশটি ব্যবহারের পর যখন খুলবেন তখন হাত-মুখ ধোয়ার সাথে সাথে মাস্ক বা মুখোশটিও ধুয়ে ফেলুন।

৮। ডায়াপার পরিবর্তন করার পরে অবশ্যই হাত-মুখ ধুয়ে নিন।

৯। অসুস্থ কোন ব্যক্তির সেবা-যত্ন করার পরে অবশ্যই হাত-মুখ ‍ধুয়ে নিন।

১০। কোনো প্রাণী বা পোষা প্রাণী স্পর্শ করার পরে হাত ধুয়ে নিন।

১১। যদি সাবান এবং পানি সহজেই না পাওয়া যায় তবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন যাতে কমপক্ষে ৬০% অ্যালকোহল থাকে। আপনার উভয় হাতের পৃষ্ঠে স্যানিটাইজার ঢেলে নিন এবং শুষ্ক না হওয়া পর্যন্ত ঘষতে থাকুন।

১২। হাত না ধুয়ে আপনার চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। প্রকৃতপক্ষে, এমন অবস্থায় স্পর্শ না করাই উত্তম।

 

আরও যা করতে পারেনঃ

১। আপনার বাড়ির অভ্যন্তরে অসুস্থ ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন। সেবা-যত্ন অবশ্যই করবেন তবে সাবধানতার সাথে।

২। যদি সম্ভব হয় তবে অসুস্থ ব্যক্তি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ৬ ফুট দুরত্ব বজায় রাখুন।

৩। আপনার বাড়ির বাইরে নিজের এবং আপনার পরিবারে থাকেন না এমন লোকদের মধ্যে ৬ ফুট দূরত্ব রাখুন।

৪। মনে রাখতে হবে যে, কোনো প্রকার লক্ষণ ছাড়াই কিছু লোক ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হতে পারে অর্থাৎ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরেও কিছু লোকের মধ্যে কোনো প্রকার লক্ষণ দেখা যায় না।

৫। নিজেকে অন্যান্য ব্যক্তিদের থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট (প্রায় ৩ হাতের দৈর্ঘ্য) দুরত্বে রাখুন।

৬। যারা খুব অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে থাকে তাদের জন্য অন্যদের থেকে দূরত্বে থাকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

যখন বাড়ির বাইরে থাকবেন কিংবা অন্যদের আশেপাশে থাকবেন তখন অবশ্যই মাস্ক অর্থাৎ মুখোশ পরিধান করুন; কেননা-

১। আপনি অসুস্থ বোধ না করেও অন্যদের কাছে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। কারণ, অনেকেরই লক্ষণ থাকে না।

২। মুখোশ পরিধানের অর্থ শুধু আপনার নিজের নিরাপত্তা নয়, অন্যরাও এতে নিরাপত্তা পাবে আপনার থেকে।

৩। পাবলিক প্লেসগুলোতে অবশ্যই আপনার মাস্ক পরা উচিত। কারণ, এই জায়গাগুলো নিরাপদ নয়।

৪। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যাদের বয়স ২ বছরের কম তাদের মাস্ক পরানো উচিত নয়। অবশ্য, মা-বাবা সন্তানকে কাছে রাখা অবস্থায় মাস্ক পরাতে পারেন। অন্যদিকে, যাদের শ্বাস-কষ্ট আছে, অজ্ঞান, অক্ষম বা অন্যদের সহায়তা ছাড়া যারা মাস্ক পড়তে পারে না তাদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট। কিন্তু পাবলিক প্লেসে তাদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরাটা বেশি নিরাপত্তার যদি তাদের সাথে তাদের সহায়তাকারী হিসেবে কেউ থাকে।

৫। যে মাস্কগুলো স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সংরক্ষিত অনুগ্রহ করে সেই মাস্কগুলো পরিধান করবেন না। কারণ, সার্জিক্যাল মাস্ক এবং এন৯৫ মাস্কগুলোর সরবরাহ কম বিধায় স্বাস্থ্য সেবাকর্মী এবং অন্যান্য প্রথম প্রতিক্রিয়াকারীদের জন্য এগুলো সংরক্ষণ করা উচিত।

৬। মাস্ক পরিহিত অবস্থায়ও নিজের এবং অন্যদের মধ্যে প্রায় ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, মাস্ক কিন্তু সামাজিক দূরত্বের বিকল্প নয়।

Sample Image of Corona Virus Tips

হাঁচি এবং কাশি’র ক্ষেত্রে সাবধানতাঃ

১। আপনি যখন হাঁচি কিংবা কাশি দেবেন তখন অবশ্যই রুমাল কিংবা হাতের কণুই দিয়ে তা ঢেকে ফেলুন। আপনার আশেপাশে কেউ না থাকলেও এমনটা করুন। প্রয়োজনে, টিস্যু সাথে রাখুন এবং হাঁচি, কাশির সময় ব্যবহার করুন। যেখানে সেখানে থুথু ফেলার অভ্যাসটা আজই ত্যাগ করুন।

২। আপনার ব্যবহৃত টিস্যুগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলুন। যেখানে সেখানে ফেলবেন না। কেননা, তা থেকেও করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে।

৩। হাঁচি, কাশি এবং টিস্যু ব্যবহারের পরে যদি সম্ভব হয় তবে অবিলম্বে আপনার হাত অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ধুয়ে ফেলুন। আর যদি এটা সম্ভব না হয় তবে অন্তত ৬০% অ্যালকোহল রয়েছে এমন স্যানিটাইজার দিয়ে আপনার হাতগুলো পরিষ্কার করুন।

 

পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্তকরণঃ

১। প্রত্যেকদিনের ব্যবহার্য জিনিসগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে, রুটিনভিত্তিক পরিষ্কার করুন। যেমন – টেবিল, বিদ্যুতের সুইচ, ডেস্ক, মোবাইল ফোন কিংবা টেলিফোন, কিবোর্ড, মাউস, টয়লেট, দরজা-জানালা, টিউবওয়েল ইত্যাদি। অর্থাৎ আপনাকে স্পর্শ করতে হয় তা অবশ্যই নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

২। আপনার ঘরের মেঝেতে যদি কার্পেট কিংবা অন্য কিছু থাকে তবে তা সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন।

৩। এমন সব জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন যেগুলো মূলত মানসম্মত।

 

আপনার স্বাস্থের প্রতি খেয়াল রাখুনঃ

১। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং আনুষঙ্গিক লক্ষণগুলোর প্রতি নজর রাখুন এবং সতর্ক থাকুন।

২। আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো প্রতিনিয়ত করছেন, অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছেন – সবই ঠিক আছে; কিন্তু অন্তত সবার থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। এটা অবশ্যই আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। কিন্তু, চেষ্টা করুন শুধুমাত্র ‍সুস্থ্য থাকার জন্য।

৩। আপনার মধ্যে যদি করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত আপনার শরীরের তাপমাত্রা চেক করুন। ঠাণ্ডা লাগানো থেকে বিরত থাকুন।

৪। আপনার শরীরে কোনো ধরণের লক্ষণগুলোর সাথে সাদৃশ্যতা থাকলে অবশ্যই সরকার প্রদত্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করুন এবং ডাক্তারের সহযোগীতা নিন।

করোনা ভাইরাস মূলত পৃথিবীবাসীর জন্য অভিশাপস্বরূপ। তা না হলে এটা এতো দ্রুত সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তো না হয়তো। তাই, নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে হলেও স্বাস্থ্য বিধিগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন। পাছে লোকে কিছু বলে তাতে কান দেবেন না। আর অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভরসা রাখুন। সাবধানে চলাফেরা করুন। আজ এখানেই ইতি টানছি। দেখা হবে আবারও নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সবাই সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন। সবার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ১২:১৪)
  • ২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৮ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)