আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Sexual Problem

দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation) সমস্যার ১০০% সমাধান

দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা ও সমাধান


সানরাইজ৭১ এ আপনাকে স্বাগতম। আশা করছি, আপনি অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। সানরাইজ৭১ এ বিভিন্নভাবে আমরা যারা জড়িত আছি তারাও ইনশাআল্লাহ ভালো আছি। আজ আমরা একটি গোপণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে গোপণ বলতে কোন কিছু নেই। শুধু রয়েছে সমস্যা আর সমাধান। যৌন সমস্যাগুলোকে মূলত গোপণ সমস্যা বলাটাই শ্রেয়। কারণ, এই সমস্যাগুলো কেউ কারও কাছে এত সহজে প্রকাশ করে না। এমনকি ডাক্তারের কাছেও না। যাই হোক, এই ধরণের ভুল করা উচিত নয়। আপনি যদি আপনার রোগ নিয়ে বসে থাকেন তবে নানা ধরণের জটিল থেকে জটিলতর সমস্যা হতে পারে।



আজ আমরা দ্রুত বীর্যপাত নিয়ে কথা বলবো। সমস্যাটি হয় পুরুষের। এটিও মূলত একটি রোগ। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এই ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাহলে আর কথা নয় – চলুন মূল আলোচনায় প্রবেশ করি।

দ্রুত বীর্যপাতকে ইংরেজী ভাষায় বলা হয় প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশান। স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমের সময় বা মিলনের সময় কোনো পুরুষের যদি খুব তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হয়ে যায় তাহলে একেই বলা হয় দ্রুত বীর্যপাত বা প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশান। হতে পারে সেটা সঙ্গম বা মিলন শুরুর আগেই হয়ে গেল কিংবা সঙ্গম শুরুর ১/২ মিনিটের মধ্যেই হয়ে গেল।

একটু কঠিনভাবে যদি বলা যায় তাহলে এভাবে বলতে হবে যে, সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীর ইচ্ছার আগেই যদি বীর্যপাত ঘটে সেটাই দ্রুত বীর্যপাত অর্থাৎ আপনার মন চাচ্ছে আরও ১০ মিনিট আপনি আলিঙ্গন করবেন কিন্তু ১০ মিনিট তো ‍দূরের কথা যেই ভাবা সেই বীর্যপাত। অথবা, আপনার স্ত্রী চাচ্ছে আপনি আরও কিছুক্ষণ আলিঙ্গন করতে থাকুন কিন্তু তা পারছেন না সেটাও দ্রুত বীর্যপাত।



যৌনসঙ্গম শুরুর একটু পরেই যদি বীর্যপাত ঘটে যায় তবেই সেটা প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশান বা দ্রুত বীর্যপাত। আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে তৃপ্ত করতে না পারেন তবেই সেটা আপনার সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হবে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে যে, প্রতি ৩ জন পুরুষের মধ্যে প্রায় ১ জন এই দ্রুত বীর্যপাত সমস্যায় ভোগেন।

পূর্বে ধারণা করা হতো যে, মানসিক সমস্যার কারণে এই দ্রুত বীর্যপাত সমস্যাটি হয়ে থাকে। কিন্তু, দিনের দিন চিকিৎসাবিজ্ঞান উন্নত থেকে উন্নতর হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। দ্রুত বীর্যপাত সমস্যাটি নিয়েও গবেষণার অন্ত নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বীর্যপাত সমস্যাটির জন্য শুধু মানসিক কারণই মুখ্য নয়, এক্ষেত্রে শারীরিক বিভিন্ন বিষয়গুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি জানলে অবাক হতে পারেন যে, দ্রুত বীর্যপাতের সাথে পুরুষত্বহীনতার সম্পর্ক রয়েছে।

আশার কথা হচ্ছে, বর্তমানে অনেক চিকিৎসা বেরিয়েছে। বিভিন্ন প্রকারের ওষুধ, মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং, যৌন পদ্ধতির শিক্ষা ইত্যাদি। ঠিকমতো এগুলো গ্রহণ করলে এবং মেনে চললে যৌন সংক্রান্ত এই সমস্যা আপনার থাকবেনা। যৌনজীবন ধীরে ধীরে মধুর হয়ে যাবে। সংসার জীবনে অপার শান্তি নেমে আসবে। ধৈর্য্য নিয়ে পড়ুন। আরও অনেক কথা আলোচনা হবে। শেষের দিকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা তুলে ধরা হবে। উপরে চিকিৎসা সংক্রান্ত যে পয়েন্টগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা মূলত পুরুষের জন্য। আর পুরুষের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা খুব ভালো কাজ করে।



 

দ্রুত বীর্যপাতের লক্ষণ বা উপসর্গঃ যৌন মিলনের সময় একজন পুরুষ কতটা সময় ধরে আলিঙ্গন করতে থাকবে সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠি নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে তেমন কিছু হয়তো বলা হয়নি। তারপরেও এভাবে বলা যায় যে, যৌন কার্য শুরুর পূর্বেই বা শুরু করার সাথে সাথেই যদি পুরুষটির বীর্যপাত হয়ে যায় কিংবা ১/২ মিনিটের মধ্যেই যদি বীর্যপাত হয়ে যায় তবে সেটা অবশ্যই দ্রুত বীর্যপাত। ‍আর এই সমস্যাটা সব ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। কেউ যদি সেক্স ডল ব্যবহার করে কিংবা হস্তমৈথুন করে তখনও দেখা যাবে যে, খুব দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যাচ্ছে।

 

প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশান বা দ্রুত বীর্যপাত কে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

১। প্রাইমারী প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশান এবং

২। সেকেন্ডারী প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশান।

প্রাইমারী প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশান হলো – আপনি যৌনকার্য বা আলিঙ্গন শুরু করা মাত্রই বীর্যপাত ঘটে যাওয়া।



সেকেন্ডারী ইজাকুলেশান হলো – বর্তমানে আপনার দ্রুত বীর্যপাত হচ্ছে কিন্তু আগে হয়তো হয়নি। অর্থাৎ যৌন জীবনের প্রথমদিক সুখের ছিল এবং তৃপ্তিদায়ক ছিল কিন্তু বর্তমানে আপনার সেটা নেই। সেই তৃপ্তি নেই কারণ দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যাচ্ছে।

 

দ্রুত বীর্যপাতের কারণঃ এটা আসলে কমপ্লিটলি হঠাৎ করে কারও পক্ষেই বলা সম্ভব না। কারণ, দ্রুত বীর্যপাতের অনেকগুলো প্রভাবক আছে। সেই প্রভাবকগুলো মূলত মানসিক কারণ এবং জৈবিক কারণ ও অন্যান্য কারণগুলোর সাথে জড়িত।

মানসিক কারণঃ জীবনের শুরুর দিকে আপনি যদি এমন কিছু যৌন অভিজ্ঞতার সাথে জড়িত থাকেন যা মোটেই গ্রহণযোগ্য কোন কিছু নয় তবে পরবর্তী জীবনে বা বিবাহিত জীবনে সেটা পরিবর্তন করা দুরুহ ব্যাপার। হতে পারে সেটা হস্তমৈথুন কিংবা চুরি করে গোপনে কোন নারীর সঙ্গে আলিঙ্গন। কারণ, তখন তো আপনি খুব ভয় করে যৌন মিলন করেছেন।

আর যতো তাড়াতাড়ি আপনার বীর্য বের হয়ে যাবে সেটাই আপনার জন্য আপনি মঙ্গল মনে করেছেন; যাতে কেউ না দেখে কিংবা না জানে। এই ব্যাপারটিই পরবর্তী জীবনে অর্থাৎ বিবাহিত জীবনে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। বিবাহিত জীবনে আপনার মাঝে আর কোনো ভয় থাকে না। আপনি যদি সারা রাত ধরে আপনার স্ত্রীর সাথে আলিঙ্গন করতে চান কারও কিছু বলার নাই বা দেখারও নাই।



এখানে আরও একটি ব্যাপার বলে রাখা ভালো যে, অপরাধ বোধ বিষয়টিও আপনার যৌন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন – আপনি প্রাপ্ত বয়সে বা যৌন জীবনের শুরুতে এমন কারও সাথে যৌন আলিঙ্গন করছেন যেটা আপনার উচিত নয়। আপনার নিজেকে অপরাধী মনে হতে পারে। হতে পারে সেই নারী অসহায় কিংবা তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমনটা করছেন। এই বিষয়টিও পরবর্তী জীবনে দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বিবাহ বহির্ভুত কোনো যৌন সম্পর্ক’কে ইসলাম সমর্থন করে না।

 

দ্রুত বীর্যপাতের অন্যান্য কিছু কারণঃ

পেনিসের শিথিলতাঃ পুরুষাঙ্গকে ইংরেজীতে পেনিস বলা হয়। যৌন মিলনের সময় আপনার পেনিস যদি ঠিক মতো শক্ত না হয় কিংবা কতক্ষণ আপনি যৌন মিলন করবেন সে বিষয়ে খুব চিন্তিত থাকেন তবে আপনার দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে।

দুঃশ্চিন্তাঃ যৌন মিলনের সময় অনেকেই বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। স্ত্রী’কে তৃপ্ত করতে পারবেন কিনা, না পারলে স্ত্রী কি মনে করবে, সেদিন তো পারিনী – আজও যদি না পারি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। আর এতে করেই দ্রুত বীর্যপাত ঘটে যায়। তবে, দুঃশ্চিন্তার অন্য কোন কারণও থাকতে পারে। হতে পারে সেটা পারিবারিক, পারিপার্শ্বিক কিংবা অন্য কিছু।

অতিরিক্ত উত্তেজনাঃ হয়তো বেশ কয়েকদিন পরে বা বেশ কয়েক মাস পরে যখন কোন পুরুষ তার স্ত্রী’কে কাছে পায় তার মধ্যে বেশ ‍উত্তেজনা বিরাজ করে। রাতে যৌন কার্যের সময় সে খুব বেশি তাড়াহুড়ো শুরু করে। আর এ কারণেই দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে পারে। তবে, এই পরিস্থিতিতে এটা রোগের মধ্যে পড়ে না। যারা একদম সুস্থ্য ব্যক্তি, যাদের কোনো যৌন সমস্যা নেই তাদেরও এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে। সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এমন ব্যক্তির যাদের সাধারণ অবস্থায়ও দ্রুত বীর্যপাত হয় আবার স্ত্রী’কে অনেকদিন পরে কাছে পেলেও এমন অবস্থা হয়।



 

জৈবিক কারণঃ বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে বিভিন্ন গবেষক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, শুধু মানসিক কারণ নয় – দ্রুত বীর্যপাতের জন্য জৈবিক বা শারীরিক কারণও অনেকটা দায়ী। এই কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ হলোঃ

১। শরীরে যদি হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা থাকে।

২। মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটার যদি অস্বাভাবিক মাত্রায় থাকে।

৩। বীর্যপাতের সময় অস্বাভাবিক ক্রিয়া।

৪। থাইরয়েড গ্রন্থির যদি সমস্যা থাকে।

৫। প্রোস্টেট (Prostate) অথবা মূত্রনালীর প্রদাহ ও সংক্রমণ (Inflammation) থাকে।

৬। বংশগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যদি ধারণ করে।



৭। নানারকম অসৎ উপায়ে যৌন কার্য করে যদি শরীরকে ড্যামেজ করে ফেলা হয়।

 

আরও কিছু কারণে দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে পারেঃ

১। কোনো আঘাতের কারণে বা সার্জারীর কারণে যদি স্নায়ুতন্ত্রের (Nervous System) ক্ষতি হয়।

২। মাদক বা নারকোটিক্স কিংবা দুঃশ্চিন্তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় যেমন- ট্রাইফ্লুপেরাজিন প্রত্যাহার করা এবং কোন ক্ষেত্রে যদি অন্য মানসিক সমস্যা থাকে।

৩। এমন এক সময়ে যৌন মিলনে আগ্রহী হওয়া যখন আপনি চাচ্ছেন না কিন্তু আপনার স্ত্রী আপনাকে ছাড়ছে না। সেক্ষেত্রে আপনার দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে।

৪। দিনের বেলায় যৌন কার্য করা। সাধারণত কেউ ডাকতে পারে, কেউ দরজায় কড়া নাড়তে পারে কিংবা কারও উপস্থিতি আপনাকে বিব্রত করতে পারে এই তাড়নায় দ্রুত যৌন মিলন করতে গিয়ে দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে।



৫। জীবনের শুরু থেকেই যদি হস্তমৈথুনের অভ্যাস থাকে তবে বিবাহিত জীবনে দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে।

এখন কথা হলো – প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাতের জন্য দুটো কারণই দায়ী অর্থাৎ শারীরিক ও মানসিক। তবে, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ’রা শারীরিক কারণটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ, শারীরিক কারণগুলো অনেক সময় জীবনভর থেকে যায়।

 

কিছু ঝুকিপূর্ণ বিষয়ঃ

আপনার দ্রুত বীর্যপাতের ঝুকি বেড়ে যেতে পারে। তাই, সবসময় সাবধান হওয়া উচিত। নিচে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হলোঃ

১। পুরুষাঙ্গের শিথিলতাঃ আপনার লিঙ্গ বা পেনিস যদি ঠিক মতো শক্ত না হয় কিংবা মাঝে মাঝে হয় আবার হয় না, আবার হলেও বেশিক্ষণ শক্ত থাকে না তবে এমন অবস্থায় দ্রুত বীর্যপাত ঘটার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। যৌন ক্রিয়ার সময় আপনার লিঙ্গ শক্ত থাকবে কিনা কিংবা মাঝপথে তা শক্তি হারিয়ে ফেলবে এমন ভয়ও কিন্তু আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটাতে পারে।

২। স্বাস্থ্যগত সমস্যাঃ যদি আপনার হৃদরোগ থাকে তবে যৌন ক্রিয়ার সময় তা আপনার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি হৃদরোগ নিয়ে আপনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষ করে আলিঙ্গনের সময় তবে আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে পারে।

৩। মানসিক চাপঃ আবেগজনিত কারণ কিংবা মানসিক চাপেও আপনার দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে। তাই, যখন আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে আলিঙ্গন করবেন তখন পৃথিবীর সব কিছু ভুলে যান। তবেই আপনি সফল হবেন। আর যদি মনের মধ্যে মানসিক চাপগুলো ও কষ্টগুলো মনে করতে থাকেন তবে আপনার দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।



৪। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার এমন অবস্থা হতে পারে। তাই, আপনার যৌন ক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করে এমন ওষুধগুলো পরিহার করার চেষ্টা করুন।

৫। অতিরিক্ত নেশা সেবনঃ নেশা সেবনের কোনো ভালো দিক নেই। আপনার যদি অতিরিক্ত নেশা সেবনের অভ্যাস থাকে তবে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সেটা আপনার যৌন শক্তির উপর প্রভাব ফেলবে।

 

রোগ যেভাবে নির্ণয় করা হয়ঃ

আপনি যখন কোনো চিকিৎসকের কাছে যাবেন তখন তিনি আপনার পুরো যৌন ইতিহাস জেনে নিবেন। আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ইতিহাস, পারিবারিক ও সামাজিক ইতিহাস, বংশগত ইতিহাস, আপনার মানসিক অবস্থা, আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার সম্পর্কের গভীরতা ইত্যাদি বিষয়গুলো তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রয়োজনে, আপনার স্ত্রীর কাছেও শুনতে পারেন।

আপনার কিছু শারীরিক পরীক্ষাও করতে পারেন। পুরুষের যে হরমোন অর্থাৎ টেস্টোস্টেরন এর মাত্রা দেখার জন্য রক্ত বা ব্লাড পরীক্ষা সহ আরও কিছু পরীক্ষা দিতে পারেন। এই সবকিছু করার পরে চিকিৎসক আপনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, আপনার দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে কোন কারণটি দায়ী।



 

দ্রুত বীর্যপাতের জটিলতা বা পারিবারিক জীবনে এর প্রভাবঃ

১। দ্রুত বীর্যপাতের কারণে আপনার স্বাস্থ্যের হয়তো কোনো ক্ষতি হবে না কিন্তু আপনার পারিবারিক জীবনে ধস নেমে আসতে পারে। সামাজিক জীবনে চলাফেরা করতে আপনার বিব্রতবোধ লাগতে পারে।

২। দ্রুত বীর্যপাত সমস্যার কারণে আপনার সঙ্গিনীর সাথে আপনার সম্পর্কের অবণতি হতে পারে। কোনো কোনো সময় সম্পর্ক বিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটতে পারে।

৩। দ্রুত বীর্যপাত সমস্যার কারণে সন্তান নিতে সমস্যা হতে পারে। বন্ধ্যাত্ব সমস্যা দেখা দিতে পারে। বন্ধ্যাত্ব সমস্যা দেখা দিলে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

 

দ্রুত বীর্যপাতের চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ

দ্রুত বীর্যপাতের বেশ কিছু চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আমরা সবগুলো বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। সাধারণত সেক্সুয়াল থেরাপি, ওষুধ পত্র এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে দ্রুত বীর্যপাতের চিকিৎসা করা হয়। অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা সবচেয়ে উত্তম ফল দেয়।



 

সেক্সুয়াল থেরাপিঃ এটা আসলে এমন একটি থেরাপি যেখানে চিকিৎসক আপনাকে রুটিন করে দেবেন আপনি কোন সময় আপনার সঙ্গিনীর সাথে আলিঙ্গন করবেন আর কখন করবেন না। হয়তো আরও কিছু ব্যাপার উনি সংযুক্ত করতে পারেন।

যদিও আপনার সঙ্গিনীর সাথে মেলামেশা কখন করবেন কখন করবেন না এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সুতরাং সেক্সুয়াল থেরাপি’কে আপনার পজিটিভ হিসেবে মেনে নিতে হবে শুধু আপনার সুস্থ্যতার জন্য।

 

ওষুধ পত্রঃ দ্রুত বীর্যপাতের চিকিৎসায় কিছু ক্রিম ব্যবহার করতে দেয়া হয়। সেগুলো যথাক্রমে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ও টপিক্যাল অ্যানেসথেটিক ক্রিম। এসব ওষুধ সাধারণত লিঙ্গের অনুভূতিকে কমিয়ে দেয়। ওষুধ প্রথম অবস্থায় খুব অল্প মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ক্রীম কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়।

কিন্তু, আপনি যখন এসব ক্রীম ব্যবহার করে যৌন সঙ্গম করবেন তখন আপনার স্ত্রীর যোনির সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে আপনি হয়তো কিছুটা সময় ধরে যৌন মিলন করতে পারছেন অর্থাৎ বীর্যপাত দ্রুত হচ্ছে না কিন্তু আপনার স্ত্রী কিন্তু তেমন সুখকর অনুভূতি পাবে না। সুতরাং কোনমতেই এই ক্রীম সবসময় ব্যবহার করা যাবে না। এগুলোর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।



 

সাইকোথেরাপিঃ এটি হচ্ছে এক প্রকার কাউন্সেলিং। আপনার যৌন সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের সাথে খোলামেলা বলা ও পরামর্শ গ্রহণ করা। আপনি যদি আপনার সমস্যা বিস্তারিতভাবে চিকিৎসকের কাছে বলতে সমর্থ হন তবে চিকিৎসক আপনাকে হয়তো সুপরামর্শ দিতে সক্ষম হবেন। আর এতে করে আপনার মনোবল দৃঢ় হবে। আপনার ‍দুঃশ্চিন্তা কমে যাবে। কিছু কিছু দম্পতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সাইকোথেরাপির মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

 

দ্রুত বীর্যপাত প্রতিরোধের জন্য করণীয়ঃ

আপনার যদি দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা থেকে থাকে তবে সেটা নিয়ে বসে থাকবেন না। এই রোগটি সম্বন্ধে আপনার স্ত্রী-ই কেবল জানে আর তো কেউ জানার কথা নয়। সুতরাং, আপনার স্ত্রীর সাথে বিষয়টি খোলামেলা আলোচনা করুন। সমস্যাটা আসলে কোথায় তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

খারাপ জায়গায় গমন করা, পর নারীর সাথে যৌন ক্রিয়া, হস্তমৈথুন এসব বদ অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন। ধুমপান ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করুন। মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাদ দিন। চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। যৌন মিলনের সময় আপনার স্ত্রীকে প্রথমে উত্তেজিত করুন।



এটা বিভিন্ন ভাবে করা যায়। আপনার স্ত্রী সম্পর্কে আপনিই সবচেয়ে ভালো জানেন সুতরাং তার শরীরের কোথায় স্পর্শ করলে সে সবচেয়ে বেশী উত্তেজিত হয় তা খুঁজে বের করুন এবং সঙ্গমের বা যৌন মিলনের অন্তত ১০ মিনিট আগে থেকে তাকে বিভিন্ন ভাবে উত্তেজিত করুন। এতে করে খুব সহজেই আপনার স্ত্রীকে আপনি পরিতৃপ্ত করতে পারবেন।

যৌন মিলন প্রতিদিন যখন তখন করবেন না। একটা রুটিন মাফিক নিয়মে এটা করুন। হতে পারে সপ্তাহে ২ দিন কিংবা ৩ দিন প্রতি রাতে ১ বার কিংবা ২ বার। এতে আপনার স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এবং দ্রুত বীর্যপাত সমস্যার সমাধানও হতে পারে। কোনোভাবেই সমস্যার সমাধান না হলে আপনার স্ত্রী সহ দুজনই চিকিৎসকের কাছে যান এবং চিকিৎসা নিন।

 

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

আপনারা তো অনেকেই জানেন যে, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থা হলো মূলত লক্ষণ নির্ভর। তবে এ কথা গ্যারান্টি দিয়েই বলা যায় যে, সেক্সুয়াল সমস্যাগুলোর সমাধান হোমিওপ্যাথিতে খুব ভালোভাবেই করা যায়। যদি লক্ষণ মিলিয়ে সঠিক ওষুধটি দেয়া যায় এবং রোগী যদি নিয়ম মাফিক নির্দিষ্ট সময় জুড়ে ওষুধ সেবন করেন। নিচে কিছু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ লক্ষণ ভিত্তিক উল্লেখ করা হলো।



১। ক্যালেডিয়াম (Caladium Seg) – স্বপ্নদোষ হয়ে হয়ে লিঙ্গ একেবারে শিথিল হয়ে পড়েছে। মন বার বার স্ত্রীর সাথে আলিঙ্গন করতে চায় কিন্তু লিঙ্গে শক্তি আসে না। অর্থাৎ লিঙ্গ দুর্বল হয়ে গেছে কিন্তু মন দুর্বল হয়নি। যদিও কখনো কখনো সহবাস করা যায় কিন্তু খুব অল্প সময়েই বীর্যপাত হয়ে যায়। এরকম লক্ষণ থাকলে এই ওষুধটি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

২। কোনিয়াম (Conium Mac) – স্ত্রী সহবাসের ইচ্ছা খুবই প্রবল কিন্তু লিঙ্গ উথ্যান হয় না। শক্ত হয় না। চুমু দেয়ার সময়ই হয়তো বীর্য বের হয়ে যায়। অথবা, লিঙ্গ যোনিতে প্রবেশ করানো মাত্রই বীর্য বের হয়ে যায়। এরকম ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩। লাইকোপোডিয়াম (Lycopodium) – হস্তমৈথুন করে করে অবস্থা শেষ করে ফেলেছে, জীবনকে ফানা ফানা করে ফেলেছে, স্বপ্নদোষ হতো কিংবা অত্যাধিক স্ত্রী সহবাস করার কারণে ধ্বজভঙ্গ রোগ হয়েছে। এখন আর কোন ভাবেই স্ত্রী সঙ্গমে ইচ্ছা জাগে না; জাগলেও লিঙ্গ শক্ত হয় না। এমন ক্ষেত্রে নিশ্চিন্তে এই ওষুধ ব্যবহার করা যায়।



৪। ‍এগনাস কাস্ট (Agnus Castus) – অবৈধভাবে (হস্তমৈথুন, সেক্স ডল ইত্যাদি) বা অপব্যবহারের মাধ্যমে বীর্য অতিরিক্ত ক্ষয় করে যারা ধ্বজভঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের জন্য এই ওষুধ ব্যবহারযোগ্য।

৫। এনাকার্ডিয়াম (Anacardium Ori) – যেসব রোগীর স্মরণশক্তি একেবারেই কম এবং প্রস্রাবের সময় অনেক সময় বীর্যপাত হয়ে যায় তাদের জন্য এই ওষুধ ব্যবহারযোগ্য।

৬। এসিড ফস (Acid Phos) – স্ত্রী সহবাসের কারণে মাথা ঘুরে, রাতে দুই বার বা তার অধিক বার সহবাস করলে মাথায় প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়, স্মৃতি শক্তি কম এবং লিঙ্গ শিথিল তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা যায়।



৭। স্যালিক্স নায়াগ্রা (Salix Nig) – মন থেকে খুব খুব স্ত্রীর সাথে আলিঙ্গন করতে চায় কিন্তু লিঙ্গ শক্ত হয় না যাদের তাদের এই ওষুধ ব্যবহারযোগ্য।

৮। টিটেনিয়াম (Titenium) – যাদের বীর্য পাতলা এবং অতি শী্ঘ্রই বীর্যপাত হয় তাদের জন্য এই ওষুধ।

৯। নুপার লুটিয়া (Nuphar Lut) – কাম উত্তেজনার কথা-বার্তায় কিংবা উত্তেজনায় যদি অসাড়ে বীর্যপাত হয়ে যায় তবেই এই ওষুধ প্রযোজ্য। সেক্সুয়াল কথা-বার্তা শুনলে কিংবা বললেই বীর্যপাত হয়ে যায় এমন ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য ওষুধ এটি।

১০। টার্নেরা (Turnera) – এটি হলো শুক্র বর্ধক ওষুধ। যারা শুক্র বাড়াতে চান তাদের জন্য এই ওষুধ।

১১। অ্যাভেনা স্যাট (Avana Sat) – অতিরিক্ত স্ত্রী সহবাস, স্বপ্নদোষ কিংবা হস্তমৈথুনের কারণে যারা শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল তাদের জন্য এই ওষুধ প্রযোজ্য।



১২। মেডোরিনাম (Medorrhinum) – যারা গণোরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ধ্বজভঙ্গ হয়েছে তারা প্রথমে এই ওষুধ এবং পরে লক্ষণানুযায়ী অন্য ওষুধ সেবন করতে হবে।

১৩। ফসফরাস (Phosphorus) – যারা হস্তমৈথুন, অতিরিক্ত স্ত্রী সহবাস, স্বপ্নদোষ কিংবা অন্য কোন কারণে ধ্বজভঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ প্রযোজ্য। তবে, এই ওষুধের রোগীরা সাধারণত চলার সময় বা হাঁটার সময় সামান্য নুয়ে চলে। এরা সুন্দর, লম্বা এবং ছিপছিপে গড়নের হয়।

আজ এখানেই শেষ করলাম। আশা করছি, পুরো পোস্টটি পড়ার ফলে আপনার অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর জানতে পেরেছেন। ফিরে আসবো আবার যৌন সংক্রান্ত আরও বিভিন্ন চিকিৎসা বিষয়ক টিপস নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন। নিজের যত্ন নিন এবং সাবধানে থাকুন।

আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়ুন।



এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলে এবং প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (দুপুর ২:০৯)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)