আজ মঙ্গলবার,৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Herbal Treatment

উদরাময়, বমি, অরুচি, চুলকানি ও পাঁচড়া ইত্যাদি রোগের ভেষজ চিকিৎসা

কিছু রোগের ভেষজ চিকিৎসা


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আমরা আজ আলোচনা করবো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রোগের ভেষজ চিকিৎসা নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায় যাচ্ছি।

 

উদরাময়ঃ

লক্ষণঃ ঠাণ্ডা লাগা, গরম লাগা, গুরুপাক দ্রব্য ভোজন, বদহজম প্রভৃতি কারণে রোগ হয়। বার বার করে তরল পায়খানা হবার নাম উদরাময়।

চিকিৎসাঃ পাথরকুচি পাতার রস আধ কাপ সামান্য লবণসহ ২ ঘন্টা পর পর খেতে হবে মল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত। এছাড়া চিনি, লবণ এবং গরম পানি ঠাণ্ডা করে একসাথে মিশিয়ে খাবার স্যালাইন তৈরী করে খেতে হবে প্রতি আধ ঘন্টা পর পর ১ চামচ করে।

পথ্যঃ লঘু পুষ্টিকর এবং সহজপ্রাচ্য খাদ্য খেতে হবে। উদরাময় খুব বেশী হলে প্রয়োজনে বার্লি খাওয়াতে হবে।

 

বমি হওয়াঃ

লক্ষণঃ বেশী লবণ খাওয়া, অসময়ে ভোজন, বেশী ভোজন, অনভ্যস্ত দ্রব্য খাওয়া, অজীর্ণতা, কৃমি দোষ, অপ্রিয় জিনিস দেখা, শোনা বা ঘ্রাণের দ্বারা বায়ু পিত্ত, কফ কুপিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে পেট থেকে ঠেলে বের করে দেয় মুখ দিয়ে। এরই নাম বমন বা বমি।

চিকিৎসাঃ ১০ গ্রাম পিপুল ১০ গ্রাম গোল মরিচ, ১০ গ্রাম গুলঞ্চ, ১০ গ্রাম হরিতকি রোদে ভালো করে শুকিয়ে হামানদিস্তায় ভালো করে চূর্ণ করে একটা শিশিতে ভরে রেখে দিন। প্রয়োজনে এই চূর্ণ ১ চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে চেটে খেতে হবে দিনে দু’বার করে কয়েকদিন।

পথ্যঃ টক, ঝাল বা গুরুপাক দ্রব্য খাওয়া নিষেধ।

 

অরুচিঃ

লক্ষণঃ জ্বর, কৃমি, অতিসার প্রভৃতি রোগে কিছুদিন ভুগলে আহারে অনিচ্ছা দেখা দেয়। একেই অরুচি বলে।

চিকিৎসাঃ আমরুল শাকের টক খেলে অরুচি দূর হয়। অথবা চিনি ১০ গ্রাম, আমলকি ১০ গ্রাম এবং কিসমিস ১০ গ্রাম একত্রে বেটে আহারের সময় মাঝে মাঝে আচারের মতো খেলে অরুচি দূর হয়।

পথ্যঃ রুচি অনুযায়ী খাদ্য খাওয়া উচিত।

 

পেটে ব্যথাঃ

লক্ষণঃ খাদ্যবস্তু হজম না হওয়া, পেটে বায়ু হওয়া, আমাশয়, কৃমি প্রভৃতি বিভিন্ন কারণে পেটে ব্যথা হয়।

চিকিৎসাঃ আমলকি চূর্ণ ১ গ্রাম ও ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে পেট ব্যথার উপকার হয়। অথবা হরিতকি ১০ গ্রাম, শুঁঠ ১০ গ্রাম, জোয়ান ১০ গ্রাম, সৈন্ধব লবণ ১০ গ্রাম একত্রে চূর্ণ করে শিশিতে ভরে রেখে দিতে হবে। পেটে ব্যথার রোগীকে দুপুরে খাবার পরে ১ চামচ চূর্ণ এবং রাত্রে খাবার পর ১ চামচ চূর্ণ খাইয়ে দিয়ে ১ গ্লাস পানি খাওয়াতে হবে।

পথ্যঃ পুষ্টিকর ও সহজপ্রাচ্য খাদ্য খাওয়া উচিত।

 

উকুনঃ

চিকিৎসাঃ ৫/৬ টা পান থেঁতো করে রস বের করে নিয়ে সেই রস রাত্রে শোবার সময় মাথায় ভালো করে ম্যাসেজ করতে হবে। পর পর দুদিন। এরপর মাথা শ্যাম্পু করতে হবে।

 

খুসকিঃ

চিকিৎসাঃ ২ গ্রাম কুড় ভস্ম ২৫ গ্রাম সরষের তেলে মিশিয়ে খুসকীর জায়গায় লাগাতে হবে পর পর কয়েকদিন।

চুলকানি ও পাঁচড়াঃ

লক্ষণঃ রক্ত দূষিত হওয়া এবং অপরিষ্কার থাকার জন্য এ রোগ হয়। ঘামাচির মতো ছোট ছোট ফুস্কুড়ি দেখা দেয়, চুলকায়, কষ পড়ে। কখনো কখনো বড় বড় ফোস্কার মতো হয়, পাকে এবং ঘা হয়।

চিকিৎসাঃ ভেজলিন ৫০ গ্রাম, গন্ধক গুড়া ২ গ্রাম, কর্পূর ২ গ্রাম, সলিস্যালিক অ্যাসিড ২ গ্রাম, চালমুগরা তেল ১০ গ্রাম মিশিয়ে মলম তৈরী করে নিতে হবে। নিমপাতা সিদ্ধ করা পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার ন্যাকড়া দিয়ে মুছে মলম লাগাতে হবে রোজ একবার।

পথ্যঃ টক জাতীয় খাবার, তেলেভাজা এবং ঘি জাতীয় খাদ্য নিষেধ।

 

আজ এখানেই শেষ করলাম। নতুন কোনো স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে পূনরায় হাজির হবো। সবাই সব সময় ‍সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন এবং পরিবারের মানুষের সাথে সম্ভব হলে বেশী বেশী সময় কাটান। নিজের শরীরের যত্ন নিন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ৮:২২)
  • ২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৮ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)