আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Herbal

এলার্জী, দাদ, একজিমা, ফোঁড়া, ব্রণ, ছুলি সহ বিভিন্ন রোগের ভেষজ চিকিৎসা

কিছু রোগের ভেষজ চিকিৎসা


সানরাইজ৭১ এ আপনাকে স্বাগতম। আশা করছি, অনেক অনেক ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো এলার্জী, দাদ, আঙুলহারা, ফোঁড়া, ব্রণ সহ আরো কিছু রোগের ভেষজ চিকিৎসা নিয়ে। মনোযোগ দিয়ে পুরো পোস্টটি পড়ুন। আশা করি, উপকৃত হবেন। আর কথা নয় – মূল আলোচনায় যাচ্ছি।

 

এলার্জীঃ

লক্ষণঃ শরীরের স্থানে স্থানে ফুলে ওঠে, চুলকায়। কারও কারও বিশেষ খাবার খেলে এলার্জী দেখা দেয় বিশেষতঃ গরুর মাংসের উপর এই প্রতিক্রিয়া খুব বেশি দেখা যায়।

চিকিৎসাঃ কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিতে হবে ৫০ গ্রাম, শুকনো নিমপাতা গুঁড়ো ২৫ গ্রাম, শুকনো আমলকী গুঁড়ো ৭৫ গ্রাম একত্রে মিশিয়ে রেখে দিতে হবে একটি শিশিতে। রোজ সকালে খালি পেটে খেতে হবে ৪ গ্রাম করে অন্তত ১৫ দিন।

পথ্যঃ ডিম, বেগুন, চিংড়ি মাছ, বোয়াল মাছ, ইলিশ মাছ, রসুন, পেয়াজ, লাল মাংস ইত্যাদি খাওয়া নিষেধ।


 

দাদঃ

লক্ষণঃ আক্রান্ত স্থানে গোল গোল চাকা হয়ে ফুলে ওঠে। চুলকায় এবং কষ পড়ে।

চিকিৎসাঃ একটি পাথরের বাটির মধ্যে নারিকেলের মালাই রেখে আগুন দিয়ে পোড়াতে হবে। মালাইটির জলন্ত অবস্থায় অন্য একটি পাথরবাটি দিয়ে ঢাকা দিতে হবে। আধ ঘন্টা পরে ঢাকা তুললে দেখা যাবে যে পাথরের বাটিতে কালো কালো তেলের মতো পদার্থ। আক্রান্ত স্থানে ঐ তেল লাগাতে হবে দিনে ১ বার করে অন্তত ৩ দিন। অথবা চুলকানি ও পাঁচড়ার ফর্মূলায় মলম তৈরী করে লাগাতে হবে।

পথ্যঃ টক জাতীয় খাদ্য, তেলে ভাজা খাদ্য, ঘি জাতীয় খাবার খাওয়া নিষেধ। সাবান ব্যবহার নিষেধ।


 

আঙুলহারাঃ

অজকর্ণ গাছের ছাল ৫০ গ্রাম, নিম ছাল ৫০ গ্রাম ও যষ্টিমধু ৫০ গ্রাম প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা করে বেটে আঙুলের ‍উপর প্রলেপ দিয়ে বেঁধে রাখুন ৫-১০ মিনিট। এভাবে দিনে ২/৩ বার লাগাতে হবে কমপক্ষে ৩/৪ দিন।

আবার, সোহাগা ৫০ গ্রাম, হাপরমালী ৫০ গ্রাম, তুলসী পাতা ২৫/৩০টি নিয়ে সবগুলো একসাথে বেটে প্রলেপ দিতে হবে। দিনে ৩/৪ বার করে এভাবে দিলে পরে উপকার পাওয়া যাবে।


 

একজিমাঃ

লক্ষণঃ এই রোগের প্রথমে এক প্রকার জ্বালাকর লাল পানি পূর্ণ ফুস্কুরি বের হয়। ঐ ফুস্কুরি ‍চুলকালে বা গলে গেলে ঘা হয়। ঐ ঘা হতে পানির মতো বা পুঁজের মতো রস বের হয়।

চিকিৎসাঃ পুনর্মবারিষ্ট খেতে হবে যেকোন কবিরাজী ওষুধের দোকান থেকে কিনে নিয়ে। এছাড়া অলিভ অয়েল লাগাতে হবে।

পথ্যঃ টক জাতীয় খাদ্য এবং অ্যালার্জী সৃষ্টিকারী খাদ্য খাওয়া নিষেধ।


 

ফোঁড়াঃ

লক্ষণঃ নানা কারণে রক্ত দূষণ হেতু এই রোগ হয়।

চিকিৎসাঃ অ্যান্টিব্যাকট্রিন অয়েল লাগাতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না ফোঁড়া পেকে ফেটে যায়।

পথ্যঃ টক এবং এলার্জী সৃষ্টিকারী খাদ্য খাওয়া নিষেধ।


 

ব্রণঃ

চিকিৎসাঃ কাঁচা হলুদের রস ১ চামচ এবং নিম পাতার রস ১ চামচ, চিনি ১ চামচ একত্রে মিশিয়ে ভোরবেলা খালি পেটে খেতে হবে অন্তত ১ মাস।

পথ্যঃ ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার এবং মিছরির শরবৎ খাওয়া উচিত। পেটের রোগের চিকিৎসা করতে হবে।


 

মুখের কালো দাগঃ

চিকিৎসাঃ মুসুরীর ডাল দুধ দিয়ে বেটে মুখে লাগালে ‍মুখের কালো দাগ দূর হয়। অথবা, মরিচাদি তেল লাগালে মুখের যেকোন কালো দাগ, চোখের কোণের কালো দাগ উঠে যায়। এই তেল যেকোন সম্ভ্রান্ত কবিরাজী দোকানে (সাধণা ঔষধালয়, ডাবর, বৈদ্যনাথ) পাওয়া যায়।


 

ছুলিঃ

চিকিৎসাঃ ১০ গ্রাম কচি নিমপাতা, ১০ গ্রাম সোহাগার খৈ, ১০ গ্রাম সাদা চন্দন ঘষা, ১০ গ্রাম হরিতাল একসাথে বেটে এর সঙ্গে শাঁখের গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে আক্রান্ত জায়গায় লাগাতে হবে দিনে দুবার করে ৭ দিন।


 

পোড়া নারাঙ্গাঃ

লক্ষণঃ প্রবল জ্বর, শীত, কাঁপুনি, বমি, মাথার যন্ত্রণা, প্রলাপ, উদরাময়, অবসন্নতা প্রভৃতি লক্ষন প্রকাশ পায়। পরে চামড়ায় যন্ত্রণা হয়ে ফোস্কা বের হয়। ফোস্কা বের হলে যন্ত্রণা কমে যায়।

চিকিৎসাঃ নারাঙ্গা ফল চন্দনের মতো ঘষে আক্রান্ত জায়গায় প্রলেপ দিলে আরোগ্য হয় (নারাঙ্গা মুদি দোকানে পাওয়া যায়)।


 

বাত ব্যাধিঃ

লক্ষণঃ ঠাণ্ডা লাগা, হাঁসের ডিম, টক বা ঠাণ্ডা দ্রব্য খাওয়া, যকৃতের দোষ, উপদংশাদি দোষ, পারদের অপব্যবহার প্রভৃতি কারণে বাত হয়ে থাকে। এই রোগে শরীরের সন্ধিস্থল আক্রান্ত হয়। প্রথমে সন্ধিস্থল লাল ও বেদনাযুক্ত হয়ে জ্বর হয়। পরে কাঁপুনি, ঘাম, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথার যন্ত্রণা, তৃষ্ণা, প্রলাপ, হার্টের গণ্ডগোল, অপরিষ্কার জিভ প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। তরুণ রোগে ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে না সারলে পুরাতন আকার ধারণ করে। রোগ কঠিন হলে বুকে যন্ত্রণা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট দেখা দেয়।

চিকিৎসাঃ দুবেলা গরম ভাতের সঙ্গে ১ কোয়া রসুন বাটা ও সামান্য ঘি মেখে খেতে হবে ১৫ দিন। ৫ গ্রাম হরিতকি গুঁড়ো করে গরম পানির সঙ্গে খেতে হবে প্রত্যহ সকালে ও সন্ধ্যায় ১৫ দিন।


 

পুরাতন বাতঃ

লক্ষণঃ তরুণ বাতের প্রায় সকল লক্ষণই থাকে। বেদনা একটু কম থাকে, কিন্তু আক্রান্ত স্থানে রস জমে ফুলে উঠে এবং সন্ধিস্থল শক্তভাব ধারণ করে।

চিকিৎসাঃ ৫ গ্রাম আদা, ৫ গ্রাম রসুন, ৫ গ্রাম কালোজিরা একসঙ্গে ঘি দিয়ে ভেজে গরমভাতের সঙ্গে খেতে হবে ১৫ দিন রোজ দু’বার করে।

পথ্যঃ হাঁসের ডিম, বোয়াল মাছ খাওয়া নিষেধ।


 

আড়ষ্ট ঘাড়ঃ

লক্ষণঃ এটাও এক প্রকার বাত। ব্যথা ও যন্ত্রণাহেতু রোগীর ঘাড় নাড়বার ক্ষমতা থাকে না। সাধারণতঃ বামদিকে আক্রমণ বেশী হয়।

চিকিৎসাঃ ২৫ মিলি সরষের তেলে ৫ গ্রাম নিমের ফল আগুনে ভালো করে ফুটিয়ে মালিশ করতে হবে গরম গরম।

পথ্যঃ রোজ একবার করে এককোয়া রসুন গরম ভাতের সঙ্গে খেলে ভালো হয়।


 

যক্ষ্মাকাশঃ

লক্ষণঃ অস্বাস্থ্যকর স্থানে বাস, অতিরিক্ত পরিশ্রম, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, দুশ্চিন্তা, বহু সন্তান প্রসব প্রভৃতি কারণে শারিরীক দুর্বলতা থেকে সহজে ক্ষয়কাশ আক্রমণের সম্ভাবনা ঘটে। ক্ষুধামন্দা, খুসখুসে কাশি, শ্বাস-কষ্ট, বুকে ব্যথা, নাড়ীর দ্রুত গতি, দুপুর বা বিকেলে জ্বর, স্বরভঙ্গ, রাত্রে অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা প্রকাশ পায়। পরে হলদে কফ ওঠে। কখনো কখনো কফ সহ রক্ত ওঠে। এ রোগ সাধারণতঃ যক্ষ্মা বা টি,বি রোগের পূর্ব লক্ষণ।

চিকিৎসাঃ রুদ্রাক্ষ চন্দনের মতো করে ঘষে ২০ গ্রাম পরিমাণ, ৫ গ্রাম তুলসী মঞ্জুরী, ৫০ গ্রাম পানিতে ফুটিয়ে রোজ দু’বার করে খেতে হবে ১৫ দিন। প্রয়োজনে, আয়ুর্বেদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন।

পথ্যঃ প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

 

আজকের আলোচনা এখানেই সমাপ্ত করা হলো। আবারও নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের যত্ন নিন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ৮:৩৩)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)