আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Herbal

ডায়াবেটিস, রক্তশুন্যতা, মাথাধরা, মাথা ঘোরা, চুল উঠা, চোখ উঠা সহ বিভিন্ন রোগের ভেষজ চিকিৎসা

কিছু রোগের ভেষজ চিকিৎসা


সানরাইজ৭১ এ আপনাকে স্বাগতম। আশা করছি, অনেক অনেক ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো কিছু রোগের ভেষজ চিকিৎসা নিয়ে। পুরো পোস্ট মনোযোগ দিয়ে পড়লে আশা করি উপকৃত হবেন। তো আর কথা নয় – চলুন যাই মূল আলোচনায়।

 

ডায়াবেটিস এবং ব্লাডসুগারঃ

লক্ষণঃ প্রবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা, বার বার প্রস্রাব, শরীর শীর্ণ প্রভৃতি এই রোগের লক্ষণ। প্রস্রাব পরীক্ষার দ্বারা রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। আবার, সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পরীক্ষারও প্রয়োজন পড়ে। এ রোগ দু’রকমের। প্রস্রাবে সুগার বা শর্করা এবং শর্করা বিহীন প্রস্রাব।

চিকিৎসাঃ দুবেলা খাবারের সঙ্গে ১টি করে ১ কোয়া রসুন চিবিয়ে খেতে হবে পরপর ৪৫ দিন।  অথবা, ১৫-২০টি নিমপাতা এবং ৫-৬টি গোলমরিচ ভোরবেলা একসাথে চিবিয়ে খেতে হবে পরপর ৪৫ দিন। এছাড়া কাঁচা আমপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে ৫ গ্রামের মতো পরিমাণ এবং কালো জামের বিচি শুকিয়ে গুঁড়ো করে ২ গ্রামের মতো পরিমাণ একত্রে মিশিয়ে রোজ খেতে হবে দিনে দু’বার করে ৪৫ দিন।

পথ্যঃ ভাত না খেতে পারলে সবচেয়ে ভালো। না পারলে একবেলা ভাত ও একবেলা রুটি। মিষ্টি দ্রব্য ও মাটির নিচের জিনিস খাওয়া নিষেধ।


 

এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতাঃ

লক্ষণঃ অতিরিক্ত রজঃস্রাব বা ঋতুস্রাব, শুক্রক্ষয়, বহুদিন যাবৎ ম্যালেরিয়া বা প্লীহা রোগে ভোগা, প্রভৃতি কারণে রক্তে আয়রণের বা হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি দেখা দেয়। চোখ, মুখ সাদা ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শরীর পাণ্ডুবর্ণ, অরুচি, দুর্বলতা প্রভৃতি এই রোগের লক্ষণ। পথ্য এ রোগের প্রধান ওষুধ।

চিকিৎসাঃ কুলেখাড়া বা কুলপী শাকের রস ২৫ গ্রাম করে খেতে হবে রোজ ভোরবেলা খালি পেটে অন্তত ১ মাস।

পথ্যঃ সমস্ত রকমের পুষ্টিকর খাদ্য, দুধ, ফলমূল খেতে হবে। পথ্যই এ রোগের মূল ওষুধ।


 

মাথা ধরাঃ

লক্ষণঃ মস্তকে রক্তাধিক্য, ঠাণ্ডা লাগা, শ্লেষ্মা, বাত, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, রাতজাগা, অজীর্ণতা, নেশা করা প্রভৃতি কারণে মাথা ধরে। এ রোগ প্রায়ই অন্য রোগের লক্ষণ মাত্র।

চিকিৎসাঃ দু’ফোটা রসুনের রস নস্যির মতো নাকে টানলে মাথা ধরা আরোগ্য হয়। সাথে সাথে মূল রোগের চিকিৎসা করতে হবে।


 

মাথা ঘোরাঃ

লক্ষণঃ মাথা ঘোরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্য রোগের লক্ষণ মাত্র। দুর্বলতা, শ্লেষ্মা, পেটে গ্যাস প্রভৃতি কারণে মাথা ঘোরা রোগ হয়।

চিকিৎসাঃ মাথা ধরা রোগের ন্যায় চিকিৎসা করতে হবে।


 

স্মরণশক্তি কমে যাওয়াঃ

লক্ষণঃ দেহের রস-রক্তের অভাব, মাথার আঘাত, সর্দি, মাথায় রক্তের আধিক্য এবং বয়সের চাপ, অত্যাধিক মানসিক চিন্তায় স্মরণশক্তি হ্রাস পায়।

চিকিৎসাঃ ২ চামচ ব্রাক্ষ্মী শাকের রস, ১ চামচ হেলেঞ্জার রস, ১ চামচ কলমী শাকের রস, ১ চামচ চিনি, ৫০ মিলি ছাগল বা গরুর দুধ একত্রে মিশিয়ে রোজ সকাল বেলা খেতে হবে ১ মাস।

পথ্যঃ স্বাস্থ্যসম্মত, পুষ্টিকর খাদ্য ও বিশ্রাম প্রধান পথ্য।


 

চুল ওঠাঃ

লক্ষণঃ পাকাশয়ের গণ্ডগোল, দুর্বলতা, প্রচুর ঘাম, কুইনাইনের অপব্যবহার, দুঃখ, যন্ত্রণা, মানসিক চিন্তা প্রভৃতি কারণে চুল ওঠে।

চিকিৎসাঃ ১ চামচ কালোমেঘের রস, ১ চামচ নিমপাতার রস, ১ চামচ কলমী শাকের রস একত্রে মিশিয়ে রোজ ভোরবেলা খালি পেটে খেতে হবে ১ মাস। এছাড়া ১০০ গ্রাম নারিকেল তেলে ৫০ গ্রাম কাঁচা আমলকী ভালো করে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিয়ে শিশিতে ভরে রাখুন। রোজ গোসলের আগে ভালো করে মাথায় মাখুন। অল্প বয়সে চুল পাকলে কবরী গাছের মূলের ছাল দুধের সঙ্গে বেটে মাথায় মাখতে হবে প্রত্যেক মাসে ৭ দিন। রিঠা ফল দিয়ে মাথা পরিষ্কারও করতে পারেন।


 

অনিদ্রাঃ

লক্ষণঃ অনিদ্রা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্য রোগের উপসর্গ মাত্র। মানসিক উত্তেজনা, মস্তিষ্কের রক্তাধিক্য, উত্তেজক দ্রব্য সেবন, অতিভোজন বা উপবাস রোগের কারণ।

চিকিৎসাঃ শুষনী শাকের রস দু’চামচ করে খেতে হবে ভোরবেলা খালি পেটে পরপর ১৫ দিন।

পথ্যঃ উত্তেজক দ্রব্য যেমন, মাংস, ডিম, পেয়াজ, রসুন ইত্যাদি খাওয়া নিষেধ। ঠাণ্ডা জাতীয় খাদ্য খাওয়া নিষেধ।


 

স্নায়ু পীড়াঃ

লক্ষণঃ অতিরিক্ত পরিশ্রম, অতিরিক্ত শুক্রক্ষয়, ঋতুস্রাব, দীর্ঘকাল যাবত মাদকদ্রব্য সেবন, আঘাত লাগা, ঠাণ্ডা লাগা, অজীর্ণতা প্রভৃতি কারণে স্নায়ু আক্রান্ত হয় এবং আক্রান্ত স্থলে সুঁচ ফোটাবার মতো যন্ত্রণা অথবা আক্রান্ত স্থান অবশ বোধ এই রোগের লক্ষণ।

চিকিৎসাঃ ১ কোয়া রসুন রোজ ১টা করে খেতে হবে আহারের সময় অন্তত ১৫ দিন। এছাড়া রসুন তেল করে সামান্য গরম অবস্থায় মালিশ করতে হবে প্রতিদিন দু’বার করে।

পথ্যঃ হাঁসের ডিম, বোয়াল মাছ ইত্যাদি খাওয়া নিষেধ।


 

মেরুমজ্জার পীড়াঃ

লক্ষণঃ শিরদাঁড়ায় বেদনা, অধিক রক্তক্ষয়, হৃদপিণ্ডের দুর্বলতা, কোমরে বেদনা প্রভৃতি এই রোগের লক্ষণ।

চিকিৎসাঃ ‍দুর্বার রস ২৫ গ্রাম, হেলেঞ্জার রস ২৫ গ্রাম, অর্জুন ছাল গুঁড়ো ১ চামচ আধা পোয়া গরম দুধে মিশিয়ে খেতে হবে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে একবার করে অন্তত ১ মাস।

পথ্যঃ রোজ ভাতের সঙ্গে ১ কোয়া রসুন চিবিয়ে খেতে হবে।


 

চোখ উঠাঃ

লক্ষণঃ চোখে ধুলা-বালি পড়া, রোদ, ঠাণ্ডা, ধোঁয়া লাগা প্রভৃতি কারণে এই রোগ হয়। চোখ লাল হওয়া, চোখে ব্যথা, চুলকানো, জ্বালা করা, চোখ জুড়ে যাওয়া প্রভৃতি এই রোগের লক্ষণ।

চিকিৎসাঃ হাতিশুড় পাতার রস ১ ফোঁটা করে চোখে দিতে হবে।

পথ্যঃ হেলেঞ্জা শাক ভাতে সিদ্ধ করে খেতে হবে বেশ কয়েকদিন।


 

অঞ্জনিঃ

লক্ষণঃ ঠাণ্ডা লাগা, দুর্বলতা, ধাতু দোষ প্রভৃতি কারণে চোখের পাতার ওপরে বা নীচে যে বেদনাযুক্ত ফুস্কুড়ি হয় তাকে বলা হয় অঞ্জনি।

চিকিৎসাঃ গরম পানিতে ১ চিমটি নুন ফেলে চোখের পাতায় সেঁক দিতে হবে দিনে দু’বার। এছাড়া হাতিশুড় পাতার রস দিনে দু’বার ১ ফোটা করে চোখে দিতে হবে।

পথ্যঃ ২ চামচ করে হেলেঞ্জার রস ৫০ গ্রাম গরম দুধে মিশিয়ে খেতে হবে প্রতিদিন সকালে।


 

দৃষ্টিশক্তি হ্রাসঃ

লক্ষণঃ স্নায়ুবিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত মাদকদ্রব্য সেবন, অল্প আলোতে পড়াশুনা করা, জোরালো আলোর দিকে বেশিক্ষণ চেয়ে থাকা প্রভৃতি কারণে চোখের শক্তি কমে যায়।

চিকিৎসাঃ ২ চামচ করে হেলেঞ্জার রস ৫০ মিলি গরম দুধে মিশিয়ে খেতে হবে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধায়।

পথ্যঃ হেলেঞ্জা শাক ভাতে সিদ্ধ করে এবং কলমী শাক খেতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে।


 

মাম্পসঃ

লক্ষণঃ কানের সামনের দিকে ও নীচের দিকে ফুলে যায়, জ্বর হয় এবং চিবোতে কষ্ট হয়। গিলতে কষ্ট হয়।

চিকিৎসাঃ খুব ঘন করে রক্তচন্দন ঘষে কানের নীচে থেকে গলা পর্যন্ত লাগাতে হবে দিনে দু’বার করে অন্তত ৭ দিন।

পথ্যঃ টক জাতীয় খাদ্য এবং ঠাণ্ডা জাতীয় খাদ্য খাওয়া নিষেধ।

 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করা হলো। আবারও আসবো নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে থাকুন। নিজের যত্ন নিন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (সকাল ৯:৩৭)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)