আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Mental Patients

আপনি কি মানসিকভাবে অসুস্থ্য? মেনে চলুন এই ১০টি অভ্যাস!

মানসিক দুশ্চিন্তা কি এবং এর প্রতিকার


সানরাইজ৭১ এ আপনাকে স্বাগতম। আশা করি, ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো মানসিক দুশ্চিন্তা কি এবং এর প্রতিকার নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায় যাচ্ছি।

 

মানসিক রোগ কী?

মনের মধ্যে যে রোগ হয় সেটাই মূলত মানসিক রোগ। মানসিক রোগ মূলত মনের অস্বাভাবিক অবস্থার জন্যই হয়ে থাকে। মানুষ যখন তার মনকে কন্ট্রোল করতে না পারে তখনই মানসিক রোগের সৃষ্টি হয়। মানসিক দুশ্চিন্তাও অনেকাংশে দায়ী মানসিক রোগের জন্য।

 

মানসিক রোগের কিছু কারণ নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

১। স্ট্রেসজনিত দুশ্চিন্তাঃ এমন কিছু কখনো কখনো আমরা চাই যা পাওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে ওঠে। আবার, অনেক সময় আমরা কোন কিছুতে ব্যর্থ হই। এই না পাওয়া ও ব্যর্থতা আমাদের বার বার দুশ্চিন্তায় ফেলে। এর ফলেই স্ট্রেসজনিত দুশ্চিন্তা আমাদের মনে বাসা বাঁধে।

 

২। ভাবনাত্মক দুশ্চিন্তাঃ জীবনে চলার পথে কারও কাছ থেকে আমরা কষ্ট পেতেই পারি। এটা মেনে নেওয়াই শ্রেয়। আপনি কখনোই ভাবতে পারেন না যে, আপনি অপমানিত হবেন না। এই ছোট ছোট আঘাত ও অপমানকে নিয়ে অনেকেই ভেঙে পড়েন। আর এর ফলেই আস্তে আস্তে শারিরীক ও মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এটাই হলো ভাবনাত্মক দুশ্চিন্তা।

 

৩। সম্পর্কজনিত দুশ্চিন্তাঃ আমাদের চারপাশে যারা থাকে তাদের সাথে আমরা কোনো না কোনো সম্পর্কে জড়িত। আমাদের রয়েছে পরিবার, আত্মীয়-পরিজন এবং কাছের মানুষ। কোনো কারণে এসব সম্পর্কে কখনো টানাপোড়েন দেখা যায়। যারা এটাকে মেনে নিতে পারে তাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যারা ব্যর্থ হয় তারাই সম্পর্কজনিত দুশ্চিন্তায় ভোগে।

 

৪। প্রাকৃতিক দুশ্চিন্তাঃ কিছু কিছু স্বাভাবিক কারণেও অনেকেই দুশ্চিন্তায় ভোগেন। উদাহরণস্বরুপ, ব্যবসায় মন্দা, আর্থিক সংকট, কঠিন রোগ কিংবা অহেতুক বদনাম ইত্যাদি। এসব কারণে প্রাকৃতিক দুশ্চিন্তার প্রসার ঘটে।

 

৫। ব্যর্থতাজনিত দুশ্চিন্তাঃ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকে যথেষ্ট চেষ্টার পরেও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। আসলে ব্যর্থ হওয়ার পর আবার নতুন করে চেষ্টা করার নামই জীবন। কিন্তু অনেকেই এই কাজটি না করে ভেঙে পড়েন এবং কেন আমি ব্যর্থ হলাম, আমার কোনো ত্রুটি ছিলোনা, সব আল্লাহর দোষ, আমার ভাগ্যের দোষ ইত্যাদি বলে দুশ্চিন্তা করতে থাকেন।

 

মানসিক রোগের প্রতিকারের জন্য করণীয়ঃ

১। শুধু শারিরীক স্বাস্থ্য নয়, আপনার মনের স্বাস্থ্যেরও যত্ন নিতে হবে। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করতে পারেন, সকালবেলা নিয়মিত ১৫-২০ মিনিট হাটাহাটি করতে পারেন এবং সৃষ্টিকর্তার উপাসনার মাধ্যমে আপনার দিনটি ‍শুরু করতে পারেন।

 

২। মনের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা আসতে থাকে তবে বিভিন্ন ধরণের বই পড়ুন, গান শুনুন, ভিডিও দেখুন কিংবা মুভি দেখুন। আপনার দুশ্চিন্তা কেটে যাবে।

 

৩। প্রতিদিন কি খাচ্ছেন সেদিকে একটু নজর দিন। সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাবার পরিমাণ মতো খান এবং সময় মতো খান। যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করার চেষ্টা করুন।

 

৪। আপনি কি পছন্দ করেন আর কি পছন্দ করেন না তা খাতায় লিপিবদ্ধ করুন। আপনি আসলে কোথায় কোথায় নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না তা খুঁজে বের করুন। নিজের অন্যান্য সমস্যাগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। সর্বোপরি, নিজেকে কাউন্সেলিং করার চেষ্টা করুন। দেখবেন, আপনার সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে গেছে। নিজেকে ফ্রি মনে হবে।

 

৫। পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন আমাদের সকলেরই। কারণ, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আপনার মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করবে না। সাধারণ সমস্যা সমাধান করতে আপনার বেশি সময় লেগে যাবে। তাই নিয়মিত ঘুমের দিকে নজর রাখুন।

 

৬। মানসিক চিন্তাকে যদি পারেন আপনার পরিবারের মানুষগুলোর সাথে ভাগাভাগি করে নেন। আপনার সঙ্গিনীর সাথে শেয়ার করুন। নিজের মনের মধ্যে এসব পুষে রাখবেন না।

 

৭। পরিবারের মানুষগুলোর সাথে নিয়মিত কথা-বার্তা বলুন। তাদের সাথে হালকা হয়ে যান। সপ্তাহে অন্তত একদিন বাইরে ঘুরতে যান। এতে করে আপনার মনোবল বৃদ্ধি পাবে। ছোট ছোট সমস্যাগুলো আপনার মনকে আর দুর্বল করতে পারবে না।

 

৮। মেডিটেশন করার চেষ্টা করুন। মনের একাগ্রতা ও ইতিবাচকতাকে বলা হয় মেডিটেশন। মেডিটেশনকে মনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়।

 

৯। যদি আপনার মানসিক সমস্যার কোনোভাবেই সমাধান না হয় তবে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

১০। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর অবশ্যই কিছু ভালো চিন্তা ও সৎ চিন্তা করুন। জটিলতাগুলোকে সহজতর করে সমাধান করার চেষ্টা করুন। সুচিন্তা সবসময়ই সমাধানের পথ দেখায়।

 

আজ এখানেই শেষ করলাম। আবারও আসবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (বিকাল ৪:৪৩)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)