আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Life History

মোটু বল্টু ও সাদেকের গল্প (কারও জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া)

একটি কষ্টের গল্প ও সামান্য অভিজ্ঞতা


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে একরাশ লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করছি, সবাই অনেক অনেক ভালো আছেন। আজ আপনারা জানবেন একটি শিক্ষামূলক গল্প সম্বন্ধে। পুরো কাহিনীটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে অনেক কিছুই জানতে পারবেন। কারও জীবনের কাল্পনিক অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া গল্প এটি। অনুগ্রহ করে এড়িয়ে যাবেন না। পড়ুন, বুঝুন, অনুধাবণ করুন এবং পরিশেষে আপনার মন্তব্য জানান এবং ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। আমরা সরাসরি যাচ্ছি ঘটনায়।

[এই ঘটনাটির সাথে কারও জীবনের কোনো অংশ যদি মিলে যায় তবে এ জন্য কেউ দায়ী নয়। এটি নিতান্তই একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প তথা কষ্টের গল্প। গল্পটি লিখতে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।]




সময়টি ছিল ২০১৫ সাল। সাদেক (মূল নাম ব্যবহার করা হলো না, এটি রুপক নাম) তখন সবেমাত্র তিন বছর মেয়াদী ডিগ্রী কোর্স কমপ্লিট করেছে। সাদেক এর পরিবার অস্বচ্ছল। পরিবারে তিন বোন এবং সাদেক সহ দুই ভাই। বাবা সেই ২০০০ সালেই মারা গিয়েছে। এখন শুধু মা আছে। টানাপোড়েনের সংসার। সাদেক খুব কষ্ট করেই প্রথম শ্রেণীতে বি,এস,এস কোর্স কমপ্লিট করেছে। তারপর সে একটি চাকরি খুঁজতে থাকে।

Crying Moments

কিন্তু মামা, খালু ছাড়া এই যুগে তো চাকরি পাওয়া কঠিন ব্যাপার। সাদেক অল্প দিনেই সেটা বুঝে গিয়েছিল। পরিবারে যতোটা শিক্ষিত সাদেক হয়েছিল ততোটা শিক্ষা লাভ করতে আর কেউ পারেনি। ফলাফলের দিক থেকেও সাদেক বরাবরই প্রথম ছিল সেই ক্লাস ওয়ান থেকে মেট্রিক পর্যন্ত। স্নাতক পর্যায়েও সাদেক খুব ভালো করেছিল। কলেজে সে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিল।

যখন তেমন কোনো চাকরি হচ্ছিল না তখন সাদেক একটি সিদ্ধান্ত নেয়। সেটা হলো – আগে মাস্টার্স কমপ্লিট করবে তারপর চাকরি করবে। সেই অনুযায়ী সে একটি সরকারি কলেজে অর্থনীতিতে মাস্টার্সে ভর্তি হয়। বাড়ি থেকেই পড়াশোনা করছিল।

এই সময় একদিন তাকে এক বড় ভাই ফোন করে। বড় ভাই এর নাম মোটু বল্টু (মূল নাম ব্যবহার করা হলো না, এটি রুপক নাম)। তিনি সাদেক’কে তার কাছে যেতে বললেন। সাদেক’কে তিনি একটি অফার করেন। সাদেক তার কথা মতো একটা সময় বের করে মোটু বল্টুর কাছে গেলেন। এর আগে আপনাদের পেট মোটা বল্টু সম্পর্কে একটু বলতে চাই।



মোটু বল্টু একজন মধ্যম বয়স্ক ব্যক্তি। তার পেট সত্যিই মোটা। খুবই মোটা। যখন হাঁটাহাটি করে তখন পেটটি আগে আগে যায়। পেটের তুলনায় পাছার মাংস অনেক কম। যখন হাটে তখন একটু ফানি টাইপের ব্যক্তির মতো দেখা যায়। টিভিতে দেখানো ফানি কার্টুনগুলোর মতো দেখা যায়।

মোটু বল্টুর ৩টি সন্তান আছে। বেশ কয়েক বিঘা জমি আছে। একটি থানায় টেক (টেকনোলজি সংক্রান্ত) ব্যবসা করে। একটি সন্তান ৯ বছর বয়সেই মোটু বল্টুর মতোই হয়ে গেছে। দেখলে অবাক হবেন। শুধু খায় আর ঘুমায় তাই এই অবস্থা।

মোটু বল্টুর প্রতিদিনের জীবন ডায়েরি শুনলে আরও অবাক হবেন। তার একটি অফিস আছে। অফিসটি দেখলে আপনার মাথা চক্বর দেবে। জীবনে তো ঝাড়ু দেয়-ই না। সেখানে ঢুকলে আপনার সেটাকে জঙ্গল মনে হবে। সুস্থ্য মস্তিষ্কের কোনো মানুষ সেখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না।

বল্টু পাগলা প্রতিদিন বিকেলবেলা অফিসে আসেন, তারপর থেকে রাত ৪টা কিংবা ৫টা পর্যন্ত থাকেন। তারপর বাসায় গিয়ে ঘুমান আবার সেই দুপুর গড়িয়ে বিকেল ৩টায় উঠে খাওয়া দাওয়া করে আবার অফিসে যান। অফিসে উনি যে কি করেন সেটা আল্লাহই ভালো জানে। আগে নাকি খুব মদ, গাজা, ফেনসিডিল খাওয়ার অভ্যাস ছিল। রাতে আবার সেই কাজ-ই করে নাকি কে জানে। যাই হোক, এটা হলো তার রুটিন।

মোটু বল্টুর ব্রেন, বুদ্ধি কিছুটা আছে। তবে নিজেকে সব সময় হাতির হোল মনে করে। তবে আপনারা মোটু বল্টুকে হাতির হোল না বলে মাথা মোটা বলতে পারেন। খুবই হিংসা-পরায়ণ। কাউকে সম্মান করে না। মুর্খদের তো একদমই না। এমনকি তার ক্লাইন্টদেরও না। ঠিক মতো এক লাইন ইংরেজীও বলতে পারবে না। কিন্তু নিজেকে ইংলিশ ম্যান ভাবে।



কেউ যখন মোটু বল্টুর সাথে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, তখন মোটু বল্টু সাহেব আবার হাতির হোল হয়ে যায় আর তার ভাওতাবাজি কথা-বার্তা দিয়ে ঐ লোককে দমিয়ে দেয়। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যে ব্যাপারেই তার সাথে কথা বলুক – মোটু বল্টু প্রমাণ করতে চায় যে, ঐ ব্যাপারে সে বেশী জানে।

মোটু বল্টুর চরিত্র সম্পর্কে যারা জানে তারা কখনো তার সাথে তর্কে জড়ায় না। কারণ, তারা জানে এর সাথে তর্ক করে কোনো লাভ নেই। আসলে, একজন মানুষ যতোই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, মানুষের প্রতি তার হয়তো সামান্য শ্রদ্ধাবোধ বলতে কিছু থাকে। কিন্তু, বল্টু সবার সামনেই নিজেকে হাতির হোল হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।

আরও অনেক কথা রয়েছে তার চরিত্র সম্পর্কে। এখন একটু মোড় ঘোড়ানো যাক। ঐ যে মোটু বল্টু সাদেক’কে তার কাছে যেতে বললো – তারপর সাদেক একদিন তার কাছে গেল। তখন মোটু বল্টু তাকে কাজের অফার করলো। তার অফিসের ধরণ দেখে কিন্তু সাদেক এর একদম পছন্দ হলো না। তারপরেও বাড়ি থেকে যাওয়া যাবে, পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হবে না এই ভেবে সাদেক রাজি হয়ে গেল।

সাদেক এভাবে প্রায় বেশ কয়েকদিন গেল। কিন্তু মোটু বল্টু কাজ দেয় না। শুধু নিয়ে গল্প করে আর ও যে নিজেকে হাতির হোল ভাবে সেটা জাহির করে। সাদেক এসব শুনতে একদমই পছন্দ করছিল না। সাদেক এর কথা ছিল – আমি আসবো, আপনার কাজ দিবেন, আমি কাজ করে আবার সময় মতো চলে যাবো। সাদেক কোন সময় যাবে আর কোন সময় ফিরবে সেটাও মোটু বল্টুকে বলে দেয়।



বেতন নিয়ে মোটু বল্টু অবশ্য সাদেক’কে বলেছিল যে, কত লাগবে? সাদেক আত্মসম্মানের খাতিরে আর শ্রদ্ধা-ভক্তির দিক থেকে সেই কথা বললো না। সাদেক বিষয়টি মোটু বল্টুর উপর ছেড়ে দিল। সাদেক বললো যে, আপনি যা ভালো মনে করেন তাই করবেন। আমি চাইতে পারবো না।

Sample Working Moments

সাদেক প্রথমদিকে মোটু বল্টুর চরিত্র সম্পর্কে জানতো না। সে ভেবেছিল, মোটু বল্টু হয়তো খুবই জ্ঞানী একজন মানুষ। হয়তো খুবই বিবেকবান। তার কাছে কিভাবে বেতনের কথা বলি। উনি হয়তো যা দেবেন তা আমার জন্য যথেষ্ট-ই হবে। কিন্তু মোটু বল্টু যে নিজেকে সব সময় হাতির হোল ভেবে বসে থাকে তা যদি সাদেক জানতো তাহলে সাদেক ভুল করেও সেখানে কাজ করতো না।

সময় ঠিক হয়ে গেল। সাদেক পরদিন থেকে যাওয়া শুরু করলো। কিন্তু মোটু বল্টুর অফিস তো আর সকাল ১০টায় খোলা হয়না। সাদেক অফিসের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। ফোন করে। মোটু বল্টু বলে আসতেছি, তারপর তার ১ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টা খবর নাই। সেই ১টা কিংবা ২/৩ টার সময় আসে। বেশ কয়েকটা দিন এভাবেই কেটে গেল সাদেকের।



এখন একটা বিষয় আপনারাই ভেবে দেখুন, মোটু বল্টু কিন্তু জানে যে, সাদেক কখন অফিসে আসে আর কখন যায়। সাদেক সকাল ১০টার মধ্যে অফিসে যায় আর বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে চলে আসে। তাহলে, এই যে প্রতিদিন সাদেক এসে অফিসের সামনে দাড়িয়ে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা এটার একটা বিহিত করা দরকার তো। অর্থাৎ সমাধান করা দরকার তো। এটা কার দায়িত্ব – আপনারাই বলেন? এটা মূলত মোটু বল্টুর দায়িত্ব। কিন্তু, সে এটার কোনো সুরাহা-ই করেনি।

পরে একদিন সাদেক মোটু বল্টুকে বলে যে, আমি তো সেই ১০টায় এসে কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকছি। আমাকে কি একটা চাবি দেয়া যায় না? তাহলেই তো সমস্যার সমাধান। আমার আর এসে দাড়িয়ে থাকা লাগবে না। তখন মোটু বল্টু বলে যে, এই কথাটা তো তোমাকে আগে বলতে হবে। তোমার সমস্যা তোমাকেই সমাধান করা লাগবে। এটা কি আমি করে দেব?

তখন সাদেক বললো যে, আমি চাবি কোথায় পাবো? আমাকে তো বলতে হবে। আপনি তো দেখছেন বিষয়টা। তাহলে আপনি তো বলতে পারতেন। মোটু বল্টু তখন কি জানি একটা অযুক্তি পেশ করলো। সাদেক আর কথা বললো না। শেষে মোটু বল্টু বললো যে, তার বাড়ি থেকে চাবি যাতে সাদেক নিয়ে আসে। দেখুন, মোটু বল্টু যদি সচেতন মানুষ হতো আর ভালো মানুষ হতো তাহলে শুরুতেই সাদেক’কে চাবি আনার কথা বলে দিতো। সাদেক’কে এতোটা কষ্ট সহ্য করতে হতো না।

যাই হোক, এভাবে চলছিল সাদেক এর কাজ। প্রতিদিন সে বাড়ি থেকে যেত এবং কাজ শেষ করে সময় মতো বাড়িতে ফিরত। কোন কোন দিন তার ফিরতে লেইট হতো কিন্তু সময়ের আগে বাড়ি ফিরতে পারতো না। এভাবে প্রায় এক মাস হয়ে যাচ্ছে। আর তখন ছিল ছোট ঈদের সময়। অর্থাৎ ঐ মাসের একদম শেষ তারিখে ছোট ঈদ হওয়ার কথা ছিল। তো, যেহেতু ঈদের একটা মাস তাই সবারই তো আশা-আকাংখা থাকে। যারা চাকরী করে, হোক সেটা সরকারী বা বেসরকারী কিংবা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠান সবাই একটা আশায় থাকে। সাধারণত কিছু টাকা বোনাস হিসেবে দেয়া হয় এবং মূল বেতন তো দেয়া হয়-ই।

Sample Worried Times

সাদেকও আশায় ছিল। কিন্তু মোটু বল্টু এসব ব্যাপারে নিশ্চুপ ছিল। তার কাছে যেন কোন ঈদ বলে বিষয়-ই নেই। বেতন বোনাসের ব্যাপারে কোন কথাই বলে না। তখন সাদেক বাধ্য হয়ে বলেই ফেলল। তখন মোটু বল্টু সাদেক’কে মাত্র ২০০০ টাক দিলো। তারপরেও সাদেক’কে রাত ৮ টা পর্যন্ত আটকে রাখলো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এবং তারপর টাকা দিলো এবং আরও অনেক কথা বললো। সাদেক বিষয়টিতে খুবই মনোক্ষুণ্য হলো কিন্তু কিছু বললো না। কারণ, তখন সাদেক এর পরিবারে চরম অর্থকষ্ট চলছিল। সাদেকের লক্ষ্য ছিল, যেভাবেই হোক – সাদেক’কে কিছু টাকা পেতে হবে এবং তা দিয়ে পরিবারের খরচ করতে হবে যেহেতু একটা ঈদের ব্যাপার।



সাদেক যথারীতি একমাস পরিশ্রম করে মাত্র ২০০০ টাকা নিয়ে বাসায় ফিরলো এবং তা দিয়ে যতোটুকু সম্ভব খরচ করলো। সাদেক ভাবলো যে, মোটু বল্টুর কাছে হয়তো টাকা শর্ট আছে তাই মাত্র ২০০০ টাকা দিলো। ঈদের পরে হয়তো সেটা পুষিয়ে দেবেন। যথারীতি ঈদের পরের মাসও সাদেক কাজ করলো। কাজের কিন্তু ভালোই প্রেসার থাকে। দুপুর বেলা না খেয়েই সাদেক কাজ করে। কারণ, তার কাছে কোনদিন কানা কড়িও থাকে না যদিও মানি ব্যাগটা সব সময় নিজের কাছেই রাখে। মোটু বল্টু বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে বসে থাকে।

তো, পরের মাসে মোটু বল্টু সাদেক’কে বর্তমান কাজের পাশাপাশি আরেকটি কাজের অফার করে। সেটা হলো তার মোটু ছেলেটাকে পড়াতে হবে। সব মিলে সাদেক এর বেতন যাতে মাসে দশ হাজার (১০,০০০/-) টাকা পড়ে সেই ব্যবস্থা করা হবে। এই কথা মোটু বল্টু সাদেক’কে বললো। সাদেক তো মহাখুশি। মাসে দশ হাজার টাকা পেলে মোটামুটি তার সংসার চলবে।

সাদেক মোটু বল্টুর কথায় রাজি হয়ে তার মোটু ছেলেটাকে পড়াতে রাজি হয়ে গেল। পরের দিন থেকে সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত মোটু ছেলেটাকে পড়ায় আর তারপর আবার অফিসে গিয়ে কাজগুলো কমপ্লিট করে। মাঝে মাঝে অফিসে কোনো কাজই থাকে না। সাদেক তখন বসে থাকে। মোটু বল্টু বলেও না যে, এই কাজ করতে হবে বা এই কাজ আছে। এখন, সাদেক না জেনে কি আর করবে। সাদেক কি সেখানে কাজ বানাবে? কাজ কি বানানো যায়? আপনারাই বলেন।



তো এভাবে দ্বিতীয় মাসটিও কেটে গেল। কিন্তু দ্বিতীয় মাসেও মাত্র চার হাজার টাকা দেয়া হলো সাদেক’কে। সাদেক কিছু না বলে সেই পরিমাণ টাকাই নিলো। ভাবলো, হয়তো পরের মাসে বেশী দেবে। আর মোটু বল্টুর মোটু ছেলেটার কথা যদি একটু বলি, তাহলে বলা যায় – এটাও নিজেকে হাতির হোল মনে করে। যদিও ছোট মানুষ। আর শুধু খায়। লেখাপড়ার তো কোনো মনোযোগ-ই নাই। গণিতে একেবারেই কাঁচা। কিভাবে টিচারকে ফাঁকি দেয়া যায় সেটা ভালো করেই জানে। মোটু ছেলেটার একটা ছোট ভাই আর তার ছোট একটা বোন আছে। তো ঐ ছোট ভাইটার কথা কি বলবো? ওটাকে বলা যায় পাতলু। কার্টুনে যেমন মোটুর বন্ধু পাতলু থাকে ঠিক তেমনই। একদমই চিকন-চাকন। আর শুধু সারাদিন কার্টুন দেখে। কারেন্ট যদি চলে যায় তাহলে মোবাইলে দেখা শুরু করে।

Sample Worried Photos

আর কিসব পেচাল পারে – আপনি যদি ঐটার সাথে কয়েকটা মিনিট থাকেন তাহলে সত্যিই বিরক্ত হয়ে যাবেন। মানে কার্টুন দেখে দেখে ওটাও একটা কার্টুন হয়ে গেছে। ঐভাবে যদি ঐ পাতলু কন্টিনিউ করে নিশ্চিত ওটা বড় হলে মানসিক সমস্যায় ভুগবে। কারণ, সব কিছুরই একটা লিমিটেশন আছে।

যাইহোক, সাদেক কিন্তু এই পাতলুর অত্যাচারও সহ্য করেছে। এই পাতলুর মা-ও কিন্তু তেমন ভালো নয়। একদম বদমেজাজি। সাদেক যখন প্রাইভেট পড়ায় তখন যদি মোটু ছেলে কোনো দুষ্টুমি করে সেটা দেখার দায়িত্ব সাদেক এর। কিন্তু যদি আশপাশে মোটু পাতলুর মা থাকে আর শোনে তাহলে সামনে এসে সাদেক এর সামনেই কি সব ভাষা বলে গালি দেয়। খুবই লজ্জাকর আর অবমাননাকর বিষয়। সাদেক খুবই আনইজি ফিল করতো। সাদেক ইচ্ছে করলেই সব কাজ বাদ দিতে পারতো। কিন্তু, তার অসহায়ত্ব তাকে সেখানে ধরে রেখেছিলো।

এভাবে সাদেক এর আরেকটি মাস কেটে গেলো। সেই মাসে অবশ্য সাদেক’কে মোটের উপর সাত হাজার টাকা দিয়েছিলো। তারপরেও আজ এক হাজার, কাল পাঁচশত এভাবে। যাইহোক, সাদেকের ঐ মাসটা তাতে ভালোই কাটে যদিও তার আর্থিক সংকটের সামনে এই টাকা নেহাতই মূল্যহীন। কোন মতে খেয়ে পরে জীবনটা চলছিল। তারপরের মাস যথারীতি চলছিল। সাদেক অফিসে আসছিল আর কাজ করছিল।

এবার কিন্তু বড় ঈদ চলে আসলো। ঐ মাসের ৩১ তারিখে বড় ঈদ হওয়ার কথা। অবশ্য সেদিনই হয়েছে। মাসটা প্রায় পুরোটাই কেটে গেলো। কিন্তু, বেতন বোনাসের কোনো নাম গন্ধ নেই। আর মোটু বল্টু তো অফিসে আসেই বিকেল বেলা। সাদেক তার সাথে কথা বলতে সময়-ই পায় না। কল করলে কলও রিসিভ করে না। সাদেক ভাবে, হয়তো মোটু বল্টু আর্থিক সংকটের মধ্যে আছে। তো, ঈদের আগের দিন সাদেক মোটু বল্টুকে শেষ বারের মতো ফোন করে। বলে যে, যদি তাকে অন্তত একটা হাজার টাকা দেয়া হতো তাহলে ঈদটা কোনভাবে পার করা যেত। মোটু বল্টু ওপাশ থেকে তৎক্ষণাৎ না করে দিলো। তার পক্ষে কোনো টাকা দেয়াই সম্ভব না । বোনাস তো দূরের কথা। সাদেক এই বিষয়টিও মেনে নিলো। কারণ, মানুষের তো সমস্যা থাকতেই পারে।



এরপর ঈদের পরের মাসে সাদেক আবার যথারীতি কাজ আরম্ভ করলো। সেই মাসে সাদেক’কে মোটের উপর তিন হাজার টাকা দেয়া হলো মোটু বল্টুর পক্ষ থেকে তারপরেও কয়েকটা ধাপে। ঐ যে আজ পাঁচশত,কাল পাঁচশত এভাবে। কিন্তু এভাবে যখন চারটা মাস কেটে গেলো তখন সাদেক একটু হিসাব করলো। আসলে তাকে মাসে মাত্র চার হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে। এটা আপাতঃ গড় হিসাব। সাদেক এবার বিষয়টি মাথায় নিলো।

সাদেক ভাবলো, না এভাবে আর নয়। মনে হচ্ছে, মোটু বল্টু আর বেতন বাড়াবে না। সাদেক মোটু বল্টুকে বিষয়টি জানাবে বলে মন স্থির করলো। পঞ্চম মাসের শুরুতেই সাদেক মোটু বল্টুকে জানালো বিষয়টি। খুব ভদ্রতার সাথেই জানালো। মোটু বল্টু তাকে অফিসে যেতে বললো এবং সেখানে কথা বলতে বললো। সাদেক তার কথা মতো পরের দিন মোটু বল্টুর অফিসে গেল। কিন্তু মোটু বল্টু তিনটার দিকে অফিসে ঢুকেই আবার কোথায় যেন চলে গেল আর কোনো খোঁজ নেই। সেদিন সাদেক ঐ ভাবেই চলে আসলো।

পরের দিন সাদেক আবার গেল। সেদিন সাদেক এর সাথে মোটু বল্টুর আলোচনা হলো। রুপক ডায়ালগ আকারে কথার কিছু অংশ নিচে দেয়া হলোঃ

সাদেকঃ ভাই, আমি তো আপনাকে বেতনের ব্যাপারে বলেছিলাম। আসলে চার মাসে আমি হিসাব করেছি আপনি মাত্র আমাকে ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। অর্থাৎ মাসে আমার মাত্র ৪ হাজার টাকা পড়েছে। এই টাকায় তো আসলে সংসার চলে না।

মোটু বল্টুঃ হা সাদেক, এই কথা তুমি এখন বলছো? তারপরেও আমাকে মোবাইলে বলছো। তোমাকে তো আমি শুরুতেই বলেছিলাম যে, তোমার কত লাগবে? বার বার বলেছিলাম।



সাদেকঃ হ্যা ভাই, আপনি তো বলেছিলেন। কিন্তু, আমি দায়িত্বটা আপনাকেই দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি যে আমাকে মাসে মাত্র ৪ হাজার টাকা দিবেন সেটাতো জানতাম না। জানলে তো আগেই আপনাকে বলতাম যে মাসে আমাকে এত টাকা দিতে হবে। যাই হোক ভাই, এখন কি করবেন?

মোটু বল্টুঃ তোমাকে তো আমি আগেই বলেছিলাম। তখন তুমি কিছু বলোনি। এখন বলছো কেন?

[বার বার একই কথা। আগেই আপনাদের’কে বলছিলাম না যে, মোটু বল্টু নিজেকে হাতির হোল মনে করে।]

সাদেকঃ কেন ভাই, আবার একই কথা বলছেন? সেটা তো আগের ব্যাপার। আপনার উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু আপনি যে এমনটা করবেন সেটা তো আমি জানতাম না। এখন কি করবেন সেটা অনুগ্রহ করে আমাকে বলেন।

মোটু বল্টুঃ তোমার অনেক সমস্যা আছে। তুমি হেন করনি, তেন করনি – তোমার এই দোষ, তোমার ঐ দোষ – আরও নানা রকম কথা বার্তা বললো।



সাদেকঃ ঠিক আছে ভাই। আমি বুঝতে পারছি। আমি আপনাকে সহজ করে বলি, আমার দোষ থাকতে পারে সেটা অসম্ভবের কিছু না। মানুষ মাত্রই ভুল। কিন্তু আমি মনে করি, আমি ইচ্ছা করে কোনো ভুল করিনী। আর আপনি যে ভুলগুলো ধরছেন তা আসলে মেজর কোনো বিষয় না। আপনি আজ কেন এগুলো বলছেন? যখন আপনি আমার ভুলগুলো দেখেছেন তখনই তো বলতে পারতেন। আমি নিজেকে শুধরে নিতাম।

আমি বুঝতে পারছি ভাই, আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন। আমি আমার কথাটা সাফ আপনাকে বলে দেই। আমি এই বেতনে আপনার এখানে কাজ করতে পারবো না।

মোটু বল্টুঃ তুমি আসবানা তাতে আমার কি আসে যায়?

[মোটু বল্টু একটু হট হয়ে গেছে। তারপর আরও আবোল তাবোল কিছু কথা-বার্তা বললো।]

সাদেকঃ ঠিক আছে ভাই। আপনার আর কথা-বার্তা বলতে হবে না। আমি চলে যাচ্ছি। হিসাব হিসাবের জায়গায় থাকলো। আর কোন হিসাবও করতে হবে না। আমি চলে যাচ্ছি। আর আসবো না।

সাদেক তখন বাড়িতে ফিরে আসলো। মোটু বল্টু অবশ্য ফ্যাল ফ্যাল করে খানিকটা তাকিয়ে ছিল।

Sample Crying Image

ঘটনার এখানেই সমাপ্তি। আপনারা কি বুঝলেন? হয়তো একেকজন একেকভাবে ‍বুঝেছেন। কেউ হয়তো মনে করছেন যে, সুযোগের সদ্ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ হয়তো বলবেন যে, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে খেলা করা হয়েছে। আরও অনেক কিছু।

আসলে শেষের কথাটাই কারেক্ট। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে খানিকটা খেলা করা হয়েছে। সাদেক এর ব্যাকগ্রাউন্ড যদি বিচার করেন, তবে সাদেক কিন্তু নিতান্তই সব দিক থেকে গরীব নয়। হ্যা, একথা সর্বাগ্রে সঠিক যে, সাদেক অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। কিন্তু অন্যান্য সাইটগুলোতে সে দুর্বল নয়। সে ইচ্ছে করলেই কোনো একটি কোম্পানীতে গিয়ে ভালো বেতনে চাকরি করতে পারবে।



মোটু বল্টুর মতো ফাতরা লোকের আন্ডারে কাজ করে না খেয়ে তাকে মরতে হবে না। কোন একদিন মোটু বল্টু অ্যাক্সিডেন্ট করেছিল। অ্যাক্সিডেন্ট করার কয়েকদিন পরে মোটু বল্টু তার অফিসে এসেছে একটা লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরে। সাদেকও তখন পাশেই বসা। মোটুর বল্টুর একজন ক্লাইয়েন্টও সেখানে উপস্থিত ছিল। সেই ক্লাইন্ট ও মোটু বল্টুর কথোপকথন একটু শুনুন।

ক্লাইয়েন্টঃ ভাই, আপনি অ্যাক্সিডেন্ট করেছেন আমরা তো জানিই না। আপনি তো জানান নাই। আহ্ কি না ব্যথা পেয়েছেন। ভাই জানালে খুব ভালো হতো।

মোটু বল্টুঃ ঐ, তুই কাইরে? তুই কি ডাক্তার? তোক জানায়া মোর লাভটা কি? মুর্খ পাবলিক। তোক জানায়া মোর লাভটা কি – ক ক্যানে? তুই ডাক্তার? মোর কাছত তুই গেলে মোর কি উপকার হইল?

ক্লাইয়েন্টঃ না ভাই, আমি তো ডাক্তার না। কিন্তু একটু দেখতে যাইতাম। আপনি হাজার হলেও আমাদের বস। আমাদের একটা দায়িত্ব আছে না?

মোটু বল্টুঃ এই মুর্খ, চুপ। আর প্যা প্যা করিন না। এ্যালা মুই তো তোর সামনেই আছো। এ্যালা ভালো করি দেখি নে।

মোটু বল্টুর এসব কথা শুনে সাদেকও অনেকটা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। আর যে ক্লাইয়েন্ট জিজ্ঞাসা করেছিল সে তো নিশ্চুপ হয়ে গেল।

আসলে মোটু বল্টুর সব আচার আচরণ এভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। আপনারা যদি মোটু বল্টুর সাথে মিশতেন তবে বুঝতে পারতেন যে, মোটু বল্টু আসলে কেমন!

পরিশেষে বলতে চাই, সাদেক অল্প সময় অবস্থান করেই অনেকটা জানতে পেরেছিল মোটু বল্টু সম্পর্কে। মোটু বল্টুর কিছু টাকা থাকতে পারে, একটু আধিপত্য থাকতে পারে কিন্তু মোটু বল্টুর কোনো আত্মসম্মানবোধও নেই। মোটু বল্টুর একটি সুত্র হলো – ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে সবাই নাকি নাড়াচাড়া করে যা করা ঠিক নয়। এই গাধা মোটু বল্টুকে কিভাবে বুঝাবেন যে, কোনো ঘটনা ঘটার পরেই তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এই যে এতসব টিভি চ্যানেল, নিউজ পোর্টাল সবাই তো ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। মোটু বল্টুর হিসাবে এসব ভুল।



যাই হোক, সাদেক এর মতো কেউ যাতে ধোকা না খায়। তাই কয়েকটি পরামর্শ আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য রইলোঃ

১। কোনো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পূর্বে প্রতিষ্ঠানের মালিকের চরিত্র সম্পর্কে অবগত হন।

২। যারা সেখানে আগে থেকেই কাজ করে তাদের ফিডব্যাক নেন। এতে আপনি অনেকটাই ধারণা করতে পারবেন যে, আপনি সেখানে কাজ করলে কেমন সুযোগ সুবিধা পাবেন।

৩। প্রতিষ্ঠানের মালিক নিজেকে যদি হাতির হোল মনে করে তবে ঐ প্রতিষ্ঠানে আপনার কাজ করা উচিত নয়।

৪। ঐ প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই যারা কাজ করে তাদের সাথে আপনার যোগ্যতার তুলনা করে দেখুন। যদি নিতান্তই দেখেন যে, আপনার যোগ্যতার ধারে কাছেও কেউ নাই তবে সেখানে আপনি কাজ করে মোটেও সুবিধা পাবেন না।

৫। প্রতিষ্ঠানের মালিক বেতন-ভাতা কেমন দেয়, ঠিক মতো দেয় কিনা সেই বিষয়টিও জেনে নেবেন।

৬। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকের ডাকে প্রথম বারেই সাড়া দেবেন না। যদি সম্ভব হয় মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীগুলোতে কাজ করুন।

৭। কাজ করার শুরুতেই যদি দেখেন যে, আপনার চরিত্রের সাথে আপনার মালিকের চরিত্রের বড়ই তফাৎ তবে তৎক্ষণাৎ চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন (ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে)।

 

সাদেক জীবনে খুবই কষ্ট করে বড় হয়েছে। এই ২৫ বছর বয়সে সাদেক অনেক ব্যাপারেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সাদেক এর লক্ষ্য এখন পাল্টে গেছে। আপনারা সাদেক নামক রুপক ছেলেটির জন্য দোয়া করবেন।




[এই ঘটনাটির সাথে কারও জীবনের কোনো অংশ যদি মিলে যায় তবে এ জন্য কেউ দায়ী নয়। এটি নিতান্তই একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প তথা কষ্টের গল্প। গল্পটি লিখতে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।]

 

আজ তাহলে এখানেই শেষ করলাম। সবাই ভালো থাকবেন। নিজের প্রতি যত্নশীল হউন এবং সাবধানে থাকুন। আবারও আসবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে।

 

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

2 responses to “মোটু বল্টু ও সাদেকের গল্প (কারও জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া)”

  1. Shamim says:

    অনেক কিছু সেখার ছিলো ,কিন্তু এই লেখা পড়ে শিখলাম। কিছু বেদনাদায়ক সামান্য হাসিরও বটে।

  2. ধন্যবাদ! আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। নতুন নতুন পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ