আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Tumor

টিউমার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সাফল্য

হোমিওপ্যাথিতে টিউমারের চিকিৎসা


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো হোমিওপ্যাথিতে টিউমারের চিকিৎসা নিয়ে। টিউমারের চিকিৎসা সাধারণত হোমিওপ্যাথিতেই সবচেয়ে ভালো হয়। হোমিওপ্যাথির মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশী রোগী টিউমার থেকে মুক্তি পায়। আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায় যাচ্ছি।

 

টিউমার কিঃ

দেহ কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই টিউমার বলা হয়। বিস্তারিতভাবে যদি বলি তাহলে বলা যায়, শরীরের যেকোন স্থানের (মাথা, হাত, বুক, পিঠ ইত্যাদি) কোষসমুহ যদি ধীরে ধীরে বা দ্রুততার সাথে অস্বাভাবিক (সাধারণত গোল আকৃতির) ও অসামঞ্জস্যভাবে বেড়ে ওঠে তাকে টিউমার বলা হয়।


 

টিউমারের প্রকারভেদঃ

টিউমারকে আমরা সাধারণত তিনভাগে ভাগ করতে পারি। যথাঃ (১) হিস্টোমা বা কানেকটিভ টিস্যু টিউমার, (২) সাইটোমা এবং (৩) টেরাটোমা বা মিক্সড সেল টিউমার।

 

হিস্টোমা টিউমারের প্রকারভেদঃ

হিস্টোমা টিউমার আবার দু’প্রকার। যথাঃ (১) বিনাইন ও (২) মালিগন্যান্ট


 

বিনাইন টিউমারঃ

এই টিউমারগুলো সাধারণত তুলতুলে ও নরম আকৃতির হয়। খুব একটা শক্ত হয় না। এর বৃদ্ধি ঘটে খুব আস্তে-ধীরে। উপরে কোনো বিশেষ আবরণ থাকে না। এই টিউমারের উপরের চামড়া বা চর্ম আলাদা বা পৃথক মনে হয়। টিউমারের পার্শ্বে অবস্থিত গ্রন্থিসমুহ আক্রান্ত হয় না। এই টিউমারে আঘাত করলে বা কিংবা চাপ প্রয়োগ করলে কোনো যন্ত্রণা অনুভূত হয় না।

 

ম্যালিগন্যান্ট টিউমারঃ

এই টিউমার নিরেট আকৃতির বা শক্ত হয়। খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। এই টিউমারের আবরণ থাকে। এটার উপরের চর্ম আলাদা মনে হয় না। এই টিউমার সংলগ্ন গ্রন্থিসমুহ আক্রান্ত হয়। টিউমারটিতে চাপ দিলে যন্ত্রণা অনুভূত হয়। এই টিউমারে আঘাত করলে কিংবা অপারেশন করা হলে ক্ষতি হয়। অপারেশন করলে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রায়ই ক্যান্সার হতে দেখা যায়।


 

শরীরের একেক স্থানের টিউমার যে নামে পরিচিতঃ

১। নাক, জরায়ু প্রভৃতি শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির টিউমারের নাম প্যাপিলোমা।

২। জরায়ু ও পাকস্থলী প্রভৃতি স্থানের মাংস পেশির টিউমারের নাম মাইওমা।

৩। চর্মের উপরে যে টিউমার হয় তার নাম এপিথেলিওমা।

৪। পিঠ, কাঁধ প্রভৃতি স্থানে ফ্যাটি টিস্যু টিউমারের নাম লিপোমা।

৫। হাড়ের কার্টিলেজ এর টিউমারের নাম কনড্রমা।

৬। মাথার খুলি, মুখ-মণ্ডল ও নাসিকা গহ্বর প্রভৃতি স্থানে হাড়ের অস্থি টিউমারের নাম অস্টিওমা।

৭। মস্তিষ্ক কোষের টিউমারের নাম গ্লাইওমা।

৮। মস্তিষ্ক, লিভার প্রভৃতি স্থানের লসিকা নালীর টিউমারের নাম লিমফ্যানজিওমা। সাধারণত কম বয়সে সার্কোমা টিউমার দেখা দেয়। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পরে কার্সিনোমা টিউমার দেখা দেয়।


 

টিউমারের চিকিৎসাঃ

১। ব্যারাইটা কার্বঃ রোগী শীত কাতর, ঘাড়, গলা, বগল বা শরীরের কোন স্থানে নরম তুলতুলে টিউমার। সেটা বড় কিংবা ছোট হতে পারে। নবজাতক শিশুর মাথায় যদি নরম তুলতুলে টিউমার দেখা দেয় তাহলে ব্যারাইটা কার্ব অব্যর্থ।

 

২। ক্যালক্যারিয়া কার্বঃ মোটা, মেদপূর্ণ ও থলথলে মাংসল রোগীর মাথার ঘামে যদি বালিশ ভিজে যায় এবং সহজেই ঠাণ্ডা লাগে। এই লক্ষণের রোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে টিউমার হলে ক্যালক্যারিয়া কার্ব খুবই উপযোগী।

 

৩। কোনিয়ামঃ শক্ত টিউমার যেমন – পেটে, স্তনে কিংবা শরীরের যেকোন স্থানে হতে পারে। সুচ ফোটানোর মতো ব্যথা থাকতে পারে। কোন সময় যদি শরীরে আঘাত লাগে এবং এর ফলে টিউমার হয় ও তাতে ব্যথা থাকে তবে কোনিয়াম-ই সর্বশ্রেষ্ঠ ওষুধ।

 

৪। স্ট্যাফিসেগ্রিয়াঃ রোগী শীতকাতর, বদমেজাজী, অত্যন্ত কামুক, পোকা ধরা দাঁত, মেজাজ খিটেখিটে। এই ধাতুর রোগীদের চোখের পাতায় অঞ্জনি হওয়ার পরে ঐ স্থানে ছোট টিউমারের মতো হয়ে থাকে। এই অবস্থায় এটিই হলো উত্তম ওষুধ। উপরের লক্ষণাদি ছাড়াও চোখের পাতায় টিউমারের ক্ষেত্রে এই ওষুধ অব্যর্থ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

 

৫। গ্রাফাইটিসঃ শীত কাতর, কোষ্ঠবদ্ধতার ধাতুর রোগীদের বর্ণ মোটা চামড়ার রোগীদের চোখের পাতায় টিউমারে অব্যর্থ ওষুধ।

 

৬। পালসেটিলাঃ নম্র ও ভদ্র প্রকৃতির, স্নেহশীল, মেজাজ কম, শান্ত স্বভাবের, গরম কাতর; এই ধাতুর রোগীদের চোখের নিচের পাতায় অঞ্জনি হবার পরে ঐ স্থানটি টিউমারের মতো হয়ে থাকলে পালসেটিলা আরোগ্য করতে পারে।

 

৭। হেল্কা লাভাঃ ঘাড়ে যদি বড় ও শক্ত গ্ল্যাণ্ড টিউমার হয় তবে হেল্কালাভা খুবই উপকারী।

 

৮। রুটাঃ কব্জির মধ্যে যদি টিউমার হয় তবে এই ওষুধ অব্যর্থ।

 

৯। থুজাঃ কানের ভিতরে যদি টিউমার হয়। নাকের ভিতর যদি পলিপাস হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে হওয়া টিউমার থুজায় আরোগ্য হয়। সাইকোটিক দোষযুক্ত রোগীদের বেলায় থুজা খুবই কার্যকরী।

পরিশেষে বলবো, টিউমারের চিকিৎসায় অনেকগুলো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহৃত হয়। তবে লক্ষণ মিলিয়ে যদি একটি মাত্র (সঠিক) ওষুধ রোগীদের বেলায় প্রয়োগ করা যায় তবে রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে পারে। যেহেতু টিউমার একটি জটিল রোগ তাই অবশ্যই অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, আলোচনাটি আপনাদের কাজে লাগবে। নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে আবারও হাজির হবো অন্য সময়। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (ভোর ৫:১৯)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)