আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Newborn Baby

নবজাত শিশুর যত্ন যেভাবে নিতে হয় – খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

নবজাত শিশুর যত্ন


সানরাইজ৭১ এ আপনাকে স্বাগতম। আশা করছি, আপনি ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো নবজাত শিশুর যত্ন নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

 

প্রথম ২৪ ঘন্টায় চিকিৎসকের (প্রয়োজনে) পরামর্শ আবশ্যক। কারণ, নবজাত শিশুর যদি

১। শ্বাস-কষ্ট হয়।

২। শিশুর বর্ণ নীল অথবা কালচে হয়ে গেলে।

৩। খিচুনি দেখা দিলে।

৪। অতিরিক্ত বমন বা বমি হলে।

৫। নাভী হতে রক্তপাত হলে।

৬। জন্মের ২/৩ দিনের মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ না করলে।


 

নবজাত শিশুর নাভীর যত্নঃ

নাভী কাটার ব্লেড ও ব্যবহৃত সুতা উত্তমরূপে পানিতে ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। অন্যথায়, ধনুষ্টংকার নামক মারাত্মক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিশুর জন্মের পরে নাভীর গোড়া হতে ১ ইঞ্চি পর পর সুতা দিয়ে শক্ত করে তিনটি গিট দিতে হবে।

অতপর দুই গিটের মাঝখানে ব্লেড দিয়ে কেটে দিতে হবে। যতদিন নাভি না পড়ে ততদিন পর্যন্ত ঐ স্থানে ২% জেনশন, ভায়োলেট বা নেবানল ক্রীম (Cream Nebanol) লাগাতে হবে। নাভি প্রতিনিয়ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।


 

শিশুর খাদ্যঃ

গর্ভকালীন সময়ে উপযুক্ত সুষম খাদ্য খেলে এবং প্রচুর পরিমাণে পানীয় পান করলে প্রস্রবের কয়েক দিনের মধ্যেই মায়ের বুকে যথেষ্ট পরিমাণে দুধ আসে। ‍দুধই শিশুর উপযুক্ত খাদ্য।

যে মা শিশুকে বুকের দুধ দেন তাকে তার নিজের শরীর ও পোশাকের পরিচ্ছন্নতার প্রতি নজর রাখতে হবে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।

যতদিন মা দুধ খাওয়াতে সক্ষম ততদিনই দেওয়া চলে। তবে ক্রমবর্ধমান শরীরের জন্য ৫/৬ মাস বয়সে শক্ত খাবার দেওয়া উচিত। এতে পুষ্টির অভাব দেখা দেয় না এবং শিশু কম বয়সেই শক্ত খাবার হজম করতে পারে।

আমাদের দেশের শিশুদের পুষ্টিহীনতার কারণ শিশুকে খাওয়ানোর পদ্ধতি ও নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা।


 

বুকের দুধের উপকারিতাঃ

১। বুকের দুধে শিশুর পেটে অসুখ হয় না।

২। মা ও শিশুর মধ্যে স্নেহের বন্ধন আরও নিবিড় হয়।

৩। বুকের দুধে মা’কে কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না।

৪। এতে মায়ের জরায়ুর সংকোচন ত্বরান্বিত হয় এবং জরায়ু তাড়াতাড়ি পূর্বের আকারে ফিরে আসে।

৫। এতে করে মাসিকের পুনরাম্ভ বিলম্বিত হয়।

৬। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পুষ্টি বাড়ে।


 

শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, পুষ্টিহীনতার জন্য মায়ের বুকের দুধ কমে গেলে তার জন্য বেশিদিন খাওয়ানো সম্ভব হয় না। এর উপর যদি যদি আবার আরেকটি সন্তান গর্ভে আসে তবে মায়ের শরীর ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আগের সন্তানকে আর দুধ খাওয়ানো সম্ভব হয় না। এই জন্যই ঠিক এই সময়ে তার নিয়মিত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করা দরকার।

শিশুর ৫ মাস বয়সের আগে খাওয়ার বড়ি গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে করে বুকের দুধ কমে যায়।


 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, আলোচনাটি একটু হলেও আপনাদের উপকারে আসবে। আবারও আসবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ৩:৫৩)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)