আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Baby

জন্মের পর পরই শিশু যদি না কাঁদে তবে যা করবেন

ভূমিষ্ট শিশু যদি না কাঁদে


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো ভূমিষ্ট শিশু যদি ক্রন্দন না করে তা নিয়ে। আশা করি, আলোচনাটি থেকে অনেক কিছুই জানতে পারবেন। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

 

মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ট হওয়া মাত্র শিশু কাঁদে এটাই বিধি বা নিয়ম। কিন্তু শিশু যদি না কাঁদে তবে সেটা শিশুর অস্বাভাবিক অবস্থা এবং আমাদের উদ্বেগের কারন। মাতৃগর্ভ হতে শিশু প্রসবের সময় মাথায় জোরে চাপ লাগলে, মাতৃগর্ভের ময়লা শিশুর নাক, মুখ ও শ্বাসনালীতে ঢুকলে শিশু কাঁদতে পারে না এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও খুব কষ্ট পায়। তাই সযত্নে পরিষ্কার কাপড়-চোপড় দিয়ে শিশুর নাক-মুখ ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে দিতে হবে।


 

শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করার উপায়

১। ধাত্রী শিশুর পা ধরে মাথা নিচের দিকে ঝুলিয়ে কিছুক্ষণ শিশুর পিঠে ধীরে ধীরে থাবা দিলে শিশুর নাক-মুখ এর ময়লা বের হয়ে যেতে পারে এবং কেঁদে উঠতে পারে। শিশুর বুকে বাম হাত রেখে ডান হাতের সাহায্যে পিঠে থাবড়াইলে কিছুক্ষণ পর পর শিশু কেঁদে উঠতে পারে।

 

২। উপরোল্লিখিত প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হলে অল্প উষ্ণ গরম পানিতে শিশুকে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রেখে আবার পা ধরে উল্টা দিকে কিছুক্ষণ ঝাঁকি দিলেও শিশু কাঁদতে পারে। তবে অবশ্যই অনেক সাবধানে কাজটি করতে হবে এবং অনভিজ্ঞদের দিয়ে এ কাজ করানো উচিত নয়।

 

৩। শিশুর শ্বাস-নালীর মধ্যে ময়লা ঢুকছে মনে হলে একটি চিকন ক্যাথিটার শিশুর গলায় ঢুকিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে চুষলে শ্বাস-নালীর ময়লা পদার্থ বের হয়ে আসতে পারে।

 

৪। শিশুর মুখে মুখ লাগিয়ে ফুঁক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

 

৫। শিশুকে কোলে বা নরম বিছানায় শুইয়ে রেখে শিশুর স্কন্ধ ধরে এবং হাত দ্বারা শিশুর পাছা ধরে চাপ দিতে থাকবে। ঐ সময় অন্য একজন পরিষ্কার গরম পানির সাহায্যে নাক, মুখ ভালো করে ধৌত করে দিলেও সুফল পাওয়া যেতে পারে।

 

৬। কোন অবস্থাতেই যদি শিশু না কাঁদে বা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে না পারে তবে নাড়ীর স্পন্দন থামবার পূর্বে দ্রুত নাড়ি কেটে কৃত্রিম উপায়ে নিঃশ্বাস সঞ্চার করতে হবে। এ ব্যাপারে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

যাই হোক, শেষ পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কোন অবস্থাতেই আশা ছেড়ে দিলে চলবে না যদিও জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ। ‍


 

আমার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করি, যদি ঠাণ্ডাজনিত কারণে আপনার শিশু শ্বাস নিতে না পারে বা না কাঁদে তবে তাকে যতোটা সম্ভব গরম পরিবেশে রাখুন এবং সরিষার তেল শিশুর বুকে, গলায় অর্থাৎ পুরো বডিতে মালিশ করুন। এতেই আপনার শিশুর সুস্থ্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী রয়েছে। চেনা পরিচিত না থাকলে কিংবা কর্তৃত্ব না থাকলে সরকারি মেডিকেল গুলোতে নিয়ে খুব একটা লাভ নেই। বেশীর ভাগ সময়ই যারা নিয়ে যায় তারা তাদের বাচ্চাকে ফিরে পায় না। যেমনটা আমার জীবনে ঘটেছে। এই বিষয়টি অন্য দিন বিস্তারিতভাবে শেয়ার করবো।


 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, আলোচনাটি একটু হলেও আপনাদের কাজে আসবে। ফিরে আসবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন এবং সাবধানে থাকুন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ১০:৫২)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)