আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Herbal & Scizers

কিছু ভেষজ গুণাগুণ ও সিজার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি

নানারকম কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো নানারকম কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ নিয়ে। সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।


 

কচুর লতি যেসব উপকার করেঃ

১। রক্ত শূন্যতা দূর করে।

২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৩। স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে।

৪। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

৫। হাড়ের গঠন ঠিক রাখে।

৬। ত্বক এবং চুল ভালো রাখে।


 

ডিম নিয়ে কিছু কথাঃ

১। ডিম সিদ্ধ করার সময় সামান্য পরিমাণ লবণ দিয়ে সিদ্ধ করুন। এতে খোসা ছাড়ানো সহজ হবে এবং ডিম তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হবে।

২। ডিম সিদ্ধ করার পর গরম জল থেকে উঠিয়ে ফ্রিজের ঠাণ্ডা জলে ডুবিয়ে রেখে ঠাণ্ডা কর নিলে খোসা ছাড়াতে ‍সুবিধা হয়।

৩। যাদের প্রেসার কম তারা নিয়মিত কয়েকদিন ডিম সিদ্ধ খেতে পারেন।


 

কালোমেঘ এর গুণাগুণঃ

১। শিশুদের লিভার টনিকঃ কিছু দিন সকাল বেলা খালি পেটে ১ ঝিনুক/চামচ করে কালমেঘ পাতার রস শিশুদের খাওয়ালে লিভারের ক্ষেত্রে একেবারে টনিকের মতো কাজ করে। মায়েরা এটা করে দেখতে পারেন।

২। শিশুদের স্বাস্থ্য বড়িঃ মৌরি, বড়ো এলাচের খোসা, জুয়ান, মুথো ও কালমেঘের পাতা সমপরিমাণ নিয়ে একসাথে বেটে পরিমাণ মতো (ট্যাবলেট সাইজ) বড়ি তৈরি করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। প্রত্যহ একটি করে বড়ি স্তনদুগ্ধে মেড়ে নিয়ে খাওয়ালে শিশুরা নীরোগ তো হবেই সাথে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।

৩। আরথ্রাইটিস রোগেঃ প্রত্যহ সকালে ১৫/২০ টি কালমেঘ পাতার রস খেলে আর্থারাইটিস রোগ হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

৪। সর্দি, জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথায়ঃ ১০/১২টি কালমেঘ পাতার রস গরম জলে মিশিয়ে সকালে/ সন্ধ্যায় সেবন করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। তবে সেবনের পর ১ চামচ মধু অবশ্যই খাওয়া দরকার।

এছাড়াও ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, আলসার, ত্বকের সমস্যা, কুষ্ঠ, কলেরা, অনিয়মিত মাসিক ইত্যাদির ক্ষেত্রে কালমেঘ খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।


 

মিষ্টি কুমড়ার বীজের গুণঃ

১। অনিদ্রা সমস্যা দূর করে।

২। বাতের ব্যথা কমায়।

৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৪। কুমড়ার বীজের কিউকরবিটন ও ভিটামিন সি চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৫। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৬। পুরুষত্ব বাড়ায় ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।


 

সজনে পাতার উপকারিতাঃ

১। লেবুর চেয়ে ৭ গুন ভিটামিন সি থাকে।

২। দুধের চেয়ে ৪ গুণ বেশী ক্যালসিয়াম ও ২ গুণ আমিষ রয়েছে।

৩। গাজরের চেয়ে ৪ গুণ বেশী ভিটামিন এ রয়েছে।

৪। কলার তুলনায় ৩ গুণ বেশী পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে।


 

সিজার করে বাচ্চা হলে অবশ্যই নিম্নোক্ত তথ্যগুলো জেনে রাখুনঃ

প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিবর্তে বর্তমানে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সিজারের সাহায্য নিতে দেখা যায়। কিন্তু সিজারের পর কী হয়, তার ব্যাপারে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। জেনে নিন সিজার করানোর ব্যাপারে দরকারি কিছু তথ্য।

সিজার করে সন্তান জন্ম দিলে চার দিনের মতো হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। এ ব্যাপারে জানিয়েছেন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হসপিটালের ডাক্তার আয়েশা নূর মিলি ।

তিনি জানান, অনেক মা-ই জানেন না যে সিজার করানোর পরেও যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত হয়। তবে এই রক্তপাতের পরিমাণ হবে সীমিত। খুব বেশি রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ এবং গাড় রঙের রক্ত যাচ্ছে কী না সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে।

কারণ, এগুলো ইনফেকশনের লক্ষণ। সিজার করানোর পর মা’কে ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়। তা খাওয়ানো হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে মা এবং তার পরিবারকে সতর্ক থাকতে হবে।

সিজার করানোর পরে আরেকটি সমস্যায় মেয়েদের ভুগতে দেখা যায় তা হলো পরের দিন পা ফুলে যাওয়া। এক্ষেত্রে ঘুমানোর সময়ে বা শুয়ে থাকার সময়ে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা একটু উঁচু করে রাখতে হবে।

তাহলে পা ফোলা কমে যাবে। সিজার করানোর পর অনেক মা-ই সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না। সিজার করানোর পর তিন দিনের মাঝে বুকের দুধ না খাওয়ালে এ সময়ে স্তনে চাকা চাকা অনুভূত হয় এবং ব্যাথা হতে পারে।

সমস্যার সমাধানে তোয়ালে গরম করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও দুধ বাচ্চাকে না দিলেও বের করে ফেলে দিতে হবে বা রেখে দিতে হবে।

আরেকটি ব্যাপার যা অনেক মা-ই জানেন না, তা হলো বুকের দুধ ফিডারে রেখে খাওয়ানো। মায়ের দুধ ফিডারে করে ফ্রিজে রেখে দিলে তা বাচ্চাকে দেওয়া যাবে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঠাণ্ডা দুধ তো অবশ্যই বাচ্চাকে দেওয়া যাবে না।

কিন্তু এটা চুলায় ফুটিয়ে বা ওভেনে গরম  করেও দেওয়া যাবে না। গরম পানিতে ফিডার রেখে এই দুধ গরম করে দিতে হবে।

 

এ ছাড়াও সিজার করার পর আরও বেশ কিছু ব্যাপারে জেনে রাখা ভালোঃ

১) ক্যাথেটারঃ সিজার করানোর পর একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করা হতে পারে তার শরীরে। এটা শুধু প্রথম দিনেই রাখা হয়। পরের দিন খুলে ফেলা হয়।

২) সেলাইয়ের দাগঃ সেলাইয়ের দাগটা থেকে যায় অনেকদিন, অনেক বছর পর্যন্ত। তবে সময়ের সাথে তা অনেক হালকা হয়ে যায়, আগের মতো উঁচুও হয়ে থাকে না। অপারেশনের পর এই কাটা দাগ শুকাতে দিতে হবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ। পুরো শুকিয়ে গেলে তারপরেই কেবল দাগ দূর করার জন্য তেল মালিশ বা দাগ দূর করার ক্রিম লাগানো যেতে পারে।

৩) অপারেশনের পর টয়লেটের কাজ সারাঃ এটা বেশ বড়সড় একটা অপারেশন সুতরাং অনেকেই এই অপারেশনের পর টয়লেটের কাজ সারতে ভয় পান। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তার কিছু ওষুধ দেবেন যা সহজে টয়লেটের কাজ সারতে সাহায্য করবে।

৪) হাঁটাচলাঃ সিজারের পর রক্ত জমাট বাঁধার ভয় যেন না থাকে তার জন্য পরের দিন হালকা হাঁটাচলা করাটা ভালো।

৫) শরীরে কাঁপুনিঃ শরীর থেকে অ্যানেসথেসিয়ার প্রভাব কেটে যাবার সময়ে অনেকের কাঁপুনি দেখা যায়। শরীরের নিম্নদেশে বিশেষ করে পায়ে অসাড়তা অনুভব হতে পারে। কয়েক ঘন্টার মাঝে এই অনুভুতি কেটে যাবার কথা।

৬) রক্তপাতঃ প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম না দিলেও রক্তপাত হবেই। একে বলা হয় পোস্টপারটাম ব্লিডিং। এটা খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

৭) ভারী কাজঃ  নিষেধ বাচ্চার চাইতে ভারী কিছু আপনি তুলতে পারবেন না প্রথম ২-৩ সপ্তাহ। ৪-৬ সপ্তাহ ব্যায়াম বন্ধ। আর শারীরিক সম্পর্ক বন্ধ রাখতে হবে প্রথম ছয় সপ্তাহ।

৮) হাঁচি-কাশিতে ব্যাথা হতে পারেঃ সার্জারির পর হাঁচি-কাশি দিতে গেলে পেটে ব্যাথা লাগতে পারে। এ সময়ে পেটের ওপর বালিশ চেপে ধরে রাখলে ব্যাথা কম হবে। অনেকেই এ সময়ে বেল্ট পরে থাকেন। এই বেল্টও ব্যাথা কমাতে সহায়ক। প্রথম সপ্তাহে এই সমস্যা বেশি হবে। পরে কমে যাবে।


 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, তথ্যগুলো আপনাদের কাজে লাগবে। ফিরে আসবো আবারও অন্য দিন নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে। সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (বিকাল ৫:০২)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)