আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Thuja

টিকার কুফল হোমিওপ্যাথিতে সমাধান – জানুন থুজা (Thuja) সম্পর্কে

থুজা (বিস্তারিত)


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ থুজা নিয়ে। এটি কি, কি কাজ করে, কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে। আর কথা নয় – মূল আলোচনায় যাচ্ছি।


 

আমাদের হোমিওপ্যাথি মেটেরিয়া মেডিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রত্ম ভান্ডার, অন্যতম শ্রেষ্ঠ পলিক্রেষ্ট (Polychrest) বা বহুল ব্যবহৃত ওষুধ হলো থুজা।

দ্বিতীয় সর্বশ্রেষ্ঠ এন্টি সাইকোটিক মেডিসিন। সাইকোটিক মায়াজম কি, কেন হয়, এবং ভবিষ্যত পরিনাম কি তা আপনারা জানেন।

সাইকোটিক শব্দটি গ্ৰীক সাইকন শব্দ হতে এসেছে, গ্ৰীক ভাষায় সাইকন মানে গোল। সাইকোটিক মায়াজম সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের শরীরের গোল গ্ল্যান্ড বা গোল অঙ্গ গুলোর উপর বেশি আক্রমন করে,তেমন পুরুষের অন্ডকোষ, মহিলাদের জরায়ু, টনসিল ইত্যাদি এটাও আপনারা জানেন।

আপনারা জানেন, সাইকোটিকের আক্রমন প্রধানত শরীরের বাম দিকে এবং সাইকোটিক এর বৃদ্ধি সারাদিন, অতি বিরল ক্ষেত্রে রাতেও বাড়তে পারে।

আপনারা আরো জানেন, সাইকোসিসের আক্রমনে শরীরে শ্লেষ্মা বা স্রাব এর পরিমাণ বেড়ে যায়। সাইকোসিসের কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন অর্গান কে স্বাভাবিক আকৃতির তুলনায় বড় করে দেয়া।

অনেক সময় এই অঙ্গ বৃদ্ধির ফলে Stricture বা অবরুদ্ধতা ও দেখা দেয়। আপনারা জানেন – হাঁপানি, কি অর্শ, বাত, টিউমার ইত্যাদি রোগের মুল কারন বা মায়াজম হলো সাইকোটিক।

যদিও ক্যান্সার একক মায়াজম নয়, ক্যান্সার একত্রে কয়েকটি মায়াজমের সম্মিলিত সংমিশ্রণ, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যান্সারের ব্যাক মায়াজম বা প্রধান মায়াজম হলো সাইকোটিক মায়াজম।

আপনারা জানেন, থুজার রোগী সন্দেহপ্রবণ, লবন বেশি খায়, মুখ মন্ডল তেলতেলে, পেটে জীবন্ত প্রাণী থাকার অনুভূতি ইত্যাদি।

থুজা লক্ষনানুযায়ী গনোরিয়ার একটি শ্রেষ্ট ওষুধ এবং গনোরিয়া এর সর্বাবস্থায় কার্যকরী। অন্যদিকে, থুজা আঁচিলের ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওষুধ।

এমনকি অনেক অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকসহ সাধারণ জনগণও জানেন আঁচিলের ওষুধ থুজা। কিন্তু উনারা জানেন না, কি ধরনের আঁচিলের ওষুধ থুজা?

কারন, থুজা আঁচিলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওষুধ হলেও সব আঁচিলে থুজা কার্যকরী নয়, কোন আঁচিলে থুজা কার্যকরী সেটা জানেন আপনারা, মানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ।

যে সব আঁচিল ফাটাফাটা, দেখতে অনেকটা ফুলকপির মতো, রস ঝরে, মাঝে মধ্যে রক্তও বের হয়, সে সকল আঁচিলে থুজা কার্যকরী, যদিও থুজার অন্যান্য লক্ষণেরও প্রয়োজন।

রোগীর দেহে থুজা প্রয়োগের পর যদি লুপ্ত গনোরিয়া, মহিলাদের ভালো হয়ে যাওয়া লিউকোরিয়া স্রাব আবার দেখা দেয়, তাহলে এটা অত্যন্ত ভাল লক্ষন।

আপনারা জানেন, সাধারণত অর্জিত গনোরিয়া রোগে থুজা এবং প্রাপ্ত বা Hereditary বা বংশগত গনোরিয়া রোগে মেডোরিনাম বেশি কার্যকরী। থুজা নিয়ে এ কথাগুলো না বললেও চলতো, কারন এগুলো আপনারা ভালভাবেই জানেন। এটি অবতারণা মাত্র।

আমি থুজা নিয়ে পুরোপুরি আলোচনা করবো না,আমি থুজার একটি অংশ নিয়ে আলোচনা করবো। আর সেই অংশটি হলো Vaccinosis.

আপনি এ্যলোপ্যাথি ডিকশনারিতে খুঁজলে সম্ভবত Vaccinosis শব্দটি পাবেন না,কারন এটা একান্তই হোমিওপ্যাথি পরিভাষা।

যে কোন বয়সের মানুষকে টিকাদান বা টিকাকরন’কে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Vaccination.

এই Vaccination হতে মানবদেহে যে সকল মারাত্মক বিষক্রিয়া, বা টিকা পরবর্তী রোগ সমুহ সৃষ্টি হয়, বা এককথায় টিকার কুফল কে হোমিওপ্যাথির ভাষায় বলা হয় Vaccinosis।

অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকগণও স্বীকার করেন যে, টিকার মারাত্মক কুফল আছে এবং টিকা পরবর্তী বিভিন্ন অনারোগ্য মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

কিন্তু যেহেতু টিকা উনাদের আবিষ্কার এবং উনারাই এর ব্যাপক প্রসারে অবদান রেখেছেন এবং এখনো রাখছেন, তাই টিকার বিরুদ্ধে উনাদের গলার স্বর উচ্চকিত নয়।

আপনারা ইউটিউবে খুঁজলে টিকার কুফল সংক্রান্ত অনেক আর্টিকেল পাবেন। টিকা যদিও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকগণ কর্তৃক আবিষ্কৃত এবং উনাদের পরামর্শে রাষ্ট্রীয় আইন কর্তৃক অবশ্যই পালনীয় তবুও টিকার কুফল নিবারনের কোন ব্যাবস্থাপত্র অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকগণের নিকট নেই।

টিকার কুফল নিবারনের একমাত্র ব্যাবস্থা আছে আপনাদের নিকট, মানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণের নিকট।

টিকার কুফল নিবারনের জন্য হোমিওপ্যাথি মতে বেশ কিছু ওষুধ আছে,যেমন Variolonum,Vaccininum ও Malandrinum; এ তিনটির মধ্যে Malandrinum অধিক পরিমাণে ব্যাবহার হয়, এবং বেশি কার্যকরী।

এ ছাড়াও Mezerium, Antim tart, Silicia, Kali mur ইত্যাদিও লক্ষনানুযায়ী দারুন উপকারী।

একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হবেন অতি গভীর দৃষ্টি ভঙ্গির অধিকারী। রোগী লিপি করার সময় বর্তমান সমস্যা সমুহ ছাড়াও উত্তেজক কারণসমুহ, অতীতের রোগ সমুহ, বংশগত রোগ সমুহ, গর্ভ কালীন মায়ের রোগ সমুহ, গর্ভ কালীন মায়ের টিকা নেয়ার ইতিহাস, সন্তানের টিকা নেয়ার ইতিহাস সহ সবকিছু জানবেন।

বর্তমানে ডায়াবেটিস একটি এপিডেমিক (Epidemic) রোগে পরিনত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ঘরেই ডায়াবেটিস রোগী আছে, সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে Autism বা Autistic শিশুর সংখ্যা।

এই অটিজম এবং ডায়াবেটিস এপিডেমিক হারে বাড়ার অনেক কারনেই মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ এই Vaccination বা টিকা দেয়া।

আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা হতে বলছি, আজকাল অনেক শিশু এবং কিশোর, কিশোরীদের বিভিন্ন জটিল রোগে সুনির্বাচিত ও উপযুক্ত শক্তির ওষুধ প্রয়োগের পরও ভালো ফল আসে না।

সেক্ষেত্রে টিকা দেয়ার ইতিহাস পেয়ে মধ্যবর্তী ওষুধ হিসেবে কয়েক মাত্রা থুজা প্রয়োগের পর পুর্বের ওষুধ স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভালো কাজ করে, অথবা পুনঃ পুর্বের ওষুধ প্রয়োগে বাধা দূর হয়ে চমৎকার কাজ করে।

এমনিতেই সাইকোটিক মায়াজম আরোগ্য করা সুকঠিন, অনেক সময় প্রায় অসম্ভব। তার উপর যদি Vaccinosis এর মতো অত্যন্ত শক্তিশালী একটি কৃত্রিম মায়াজম সাইকোটিক মায়াজম এর সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে একজন রোগীর অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, একটু চিন্তা করে দেখেছেন কি?

মনে রাখবেন, টিকা দেয়ার পর যদি ঐ স্থানে একটু পচন ধরে যাকে ইনফেকশন বলে, তাহলে টিকার ক্ষতি কিছুটা কম হতে পারে।

আর যদি টিকা দেয়ার স্থানে কোন পচন বা ইনফেকশন না হয়, তবে তা আরও বেশি ভয়ংকর, অবশ্য আজকাল অনেক টিকা মুখেও সেবন করানো হয়ে থাকে।

আমি অনেক রোগী পেয়েছি, বিশেষ করে শিশু রোগী, টিকা দেয়ার পর Hydrocephalus, Asthma, Meningitis, Pneumonia, Gland swelling, Skin disease এবং Autism এ আক্রান্ত হয়েছিলো।

 

উৎসঃ ফেইসবুক হতে নেয়া (সামান্য পরিমার্জিত)


 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, থুজা ওষুধটি নিয়ে মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন। আগামী দিনে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আবারও হাজির হবো। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ১১:০৪)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)