আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Worm

পেটে কৃমি হলে যেভাবে তা দূর করবেন (হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা)

কৃমি (Worms)


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো কৃমি নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায় প্রবেশ করছি।

 

কেন হয় ও লক্ষণগুলো কি কি?

পেটে এক ধরণের পোকা জন্মায় – একেই বলা হয় কৃমি। কৃমি তিন রকমের। ছোট্ট সুতার মতো কৃমিকে বলে কুঁচো কৃমি। কেঁচোর মতো কৃমিকে বলে কেঁচো কৃমি। আর ফিতার মতো লম্বা কৃমিকে বলা হয় ফিতা কৃমি।

কৃমি যে শ্রেণীরই হোক, তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভয়ংকর ক্ষতিকারক। সুতরাং কৃমিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা দরকার। বেশি মিষ্টদ্রব্য খেলে, অজীর্ণতা দোষে, কাঁচা ফলমূল খাওয়ার জন্য, পচা মাছ, মাংস খাওয়ার জন্য এই রোগ বেশী হয়ে থাকে।

পেটে কৃমি হলে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়, নাক ও গুহ্যদ্বার চূলকায়, পেট ফাঁপে, মুখে দুর্গন্ধ হয়, মুখ দিয়ে পানি ওঠে, ঘুমোতে ঘুমোতে দাঁত কিড়মিড় করে, পেটে বেদনা হয় সহ প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। লক্ষণ বিচার করে রোগীকে ওষুধ খাওয়ানো হলে কৃমি ধ্বংস হয়।


 

চিকিৎসাঃ

কৃমি রোগের সর্বোৎকৃষ্ট ওষুধ – সিনা ২x-২০০। ওষুধটি যেকোন ধরণের কৃমির জন্য রোগীকে খাওয়ানো চলে।

এতে যদি উপকার না হয় তাহলে দিতে হবে – স্ট্যানাম ৬-৩০।

কৃমির আরও একটি ভালো ওষুধ – স্যান্টোনাইন ১x। এ ওষুধটিও সকল রকম কৃমির জন্য রোগীকে খাওয়ানো চলে।

প্রবল তৃষ্ণাবোধ, ভয় পাওয়া, হঠাৎ চমকে ওঠা প্রভৃতি লক্ষণে – বেলেডোনা ৩।

মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে, চোখের চারপাশে নীল দাগ, বমি বা বমি-বমি ভাব, পেটে শূলবেদনা প্রভৃতি লক্ষণে – স্পাইজিলিয়া ৩। এই ওষুধটি কুঁচো কৃমি হলে খুব ভালো কাজ করে।

কৃমির জন্য পেটে বেদনা, মুখে দুর্গন্ধ হলে – মার্ক সল ৬।

কেঁচো কৃমির উৎকৃষ্ট ওষুধ – সিনা ২x-২০০ বা স্যান্টোনাইন ১x বিচূর্ণ।

ফিতা কৃমির উৎকৃষ্ট ওষুধ – মারকিউরিয়াস কর ৩x, স্ট্যানাম ৩x বিচূর্ণ, কিউপ্রাম-অ্যাসেটিকাম ৩, ফিলিঙ্গম্যান ।


 

আনুষঙ্গিক চিকিৎসাঃ

কাঁচা ফলমুল খাওয়া কমাতে হবে। বাসী জিনিস খাওয়া চলবে না। প্রতিদিন সকালে চিরতা ভেজানো পানি খেলে উপকার হয়। পলতা, উচ্ছে প্রভৃতি তেতো জিনিস মাঝে মাঝে খাওয়া দরকার। নিম-ঝোল এ রোগের পক্ষে খুবই উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। পুষ্টিকর অথচ লঘু খাদ্য আহার করলে কৃমির রোগীর পক্ষে উপকার হয়। মিষ্টদ্রব্য কম খাবার চেষ্টা করা উচিত। কৃমি বেশি হলে সরলান্ত্রে লবণ-মেশানো পানি পিচকারি করে দিলে কৃমি নির্মূল হতে পারে।


 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করা হলো। আশা করি, আলোচনাটি আপনাদের কাজে লাগবে। আবারও অন্য দিন আসবো অন্য কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে। সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (দুপুর ২:১৩)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)