আজ মঙ্গলবার,৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Diabetes

ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

ডায়াবেটিস রোগের হোমিও চিকিৎসা


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো ডায়াবেটিস রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

 

ডায়াবেটিস কিঃ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী (রোগ) স্বাস্থ্যের অবস্থা যা আপনার দেহকে কীভাবে শক্তিতে রূপান্তরিত করে তা প্রভাবিত করে। আপনি যা খান তার বেশিরভাগ খাবার চিনিতে বিভক্ত হয়ে যায় (একে গ্লুকোজও বলা হয়) এবং আপনার রক্ত প্রবাহে তা ছড়িয়ে পড়ে। যখন আপনার ব্লাড সুগার উপরে যায়, তখন এটি আপনার অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন নিঃসরণে সংকেত দেয়।

 

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ীঃ বহুমূত্র রোগ, মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস(ইংরেজি: Diabetes mellitus) একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ‘ডায়াবেটিস’ বা ‘বহুমূত্র রোগ’।



তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হল এ রোগের মূল কথা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে নিতে সমর্থ হয় এবং একে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে।

ইনসুলিন উৎপাদন বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা-এর যেকোনো একটি বা দুটোই যদি না হয়, তাহলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে।


 

লক্ষণ অনুযায়ী হোমিও চিকিৎসাঃ

অ্যাসিটিক অ্যাসিড (Acetic Acid) – ভিনেগারঃ ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগীর বা শোথ রোগীর দারুণ পিপাসা ও অত্যন্ত দূর্বলতা (অ্যাসিড ফস)।

পানির মত প্রচুর মূত্র। কখনও কখনও রোগী উপুড় হয়ে ঘুমায় (বিপরীত- আর্সেনিক)। শোথ রোগে, টাইফয়েড ও থাইসিস বা যক্ষ্মারোগে উদরাময় – প্রচুর মল। দুর্বলতা, খুব পিপসা ও সেই সঙ্গে রাত্রে প্রচুর ঘাম হয়। শোথ ও বহুমূত্র রোগে দারুণ পিপাসা কিন্তু জ্বরে পিপাসা একেবারেই থাকে না।

 

অ্যাসিড বেঞ্জোয়িকাম (Acid Benzoicum) – লোবাণ হতে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অ্যাসিড-বেঞ্জোয়িকাম তৈরী করা হয়ঃ

মূত্রধারের বিভিন্ন পীড়া, হাঁপানি, গলক্ষতাদি, বাত ও গেঁটে বাত রোগে এটা উপযোগী। প্রস্রাবে যদি অত্যন্ত দূর্গন্ধ থাকে এবং লাল বা ঘোড়ার প্রস্রাবের মতো হয় তবে এই ওষুধ ব্যবহার করা যায়।

বিশেষ করে খেয়াল রাখতে হবে যে, এই ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের যেনও কটু গন্ধ থাকে ও ঝাঁঝাল প্রকৃতির হয়।

 

আর্সেনিকাম অ্যালবাম (Arsenicum Album) – জারিত শঙ্খ বিষ, শীত কাতরঃ প্রস্রাবে অ্যালবুমেন, জ্বালা, ফোঁটা ফোঁটা বা অল্প প্রকৃতির, বার বার প্রস্রাবের বেগ হওয়া।

রোগী মনে করে যে তার রোগ আর আরোগ্য হবে না। সে আরও মনে করে যে, মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জ্বালাকর পিপাসা, অল্প অল্প পানি পান করে। খাদ্য বস্তুর গন্ধ সহ্য করতে পারে না। উপরোক্ত লক্ষণগুলো থাকলে আর্সেনিকাম অ্যালবাম ব্যবহার করা যায়।



 

অ্যান্টিম ক্রুড (Antim Crud) – সালফাইড অফ অ্যান্টিমনি, উভয় কাতরঃ প্রস্রাবে ‍দুর্গন্ধ, বার বার প্রস্রাবের বেগ হয়। আঙুলের নখগুলো ফাঁটা ফাঁটা। পায়ের তালুতে কড়া। সূর্যের তাপ সহ্য করতে পারে না।

 

অ্যাব্রোটেনাম (Abrotenum) – সাদার্ণ উড নামক গাছড়া, শীত কাতরঃ প্রচুর ক্ষুধা ও আহার সত্ত্বেও ক্রমিক শীর্ণতা হতে থাকে। শীর্ণতা নিম্নদেশ হতে উর্দ্ধপথে প্রসারিত হয়।

প্রচুর আহার সত্ত্বেও শরীর শুকাতে থাকে। বৃদ্ধ ব্যক্তির শোথ, গায়ের চর্মে ভাজ পড়ে। শরীর অপেক্ষা ঘাড় ও গলা শুকিয়ে যায় বেশি বেশি।

 

অরাম মেটালিকাম (Aurum Metallicum) – স্বর্ণ ধাতু, শীত কাতরঃ প্রস্রাব ঘোলের মত ঘোলাটে, পুরু তলানী। জ্বলনসহ পুনঃ পুনঃ মূত্রত্যাগ। জীবন সর্বদাই বোঝার মত মনে হয়। কোন প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না।

 

ব্যারাইটা কার্ব (Baryta Carb) – বেরিয়াম কার্বনেট নামক খনিজ পদার্থ, শীত কাতরঃ বৃদ্ধ ও মোটা ব্যক্তি যারা ডায়াবেটিস ও বাত রোগে ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় এই ওষুধ। পুরাতন কাশি থাকে, টনসিল থাকে, ঠাণ্ডা আদৌ সহ্য করতে পারে না।

 

ক্যালক্যারিয়া কার্ব (Calcarea Carb) – ঝিনুকের খোল, শীত কাতরঃ প্রস্রাব অল্প দুর্গন্ধময়, ঘোলাটে ও প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব হয়।

শর্করাযুক্ত বহুমূত্রে ফুসফুস আক্রান্ত হলে, পানি পিপাসা বেশি হলে, সমস্ত শরীর দূর্গন্ধহীন ঘাম হলে যার জন্য সহজেই ঠাণ্ডা লাগে। মস্তক ও উদর বৃহৎ। শিশুদের ব্রহ্মতালু ও হাড়ের জোড়াগুলো উন্মুক্ত থাকে।

 



এছাড়াও, লক্ষণ অনুযায়ী ক্যালক্যারিয়া ফসফরিকা, কলচিকাম অটামনেল, ক্যালক্যারিয়া ফ্লোরিকা, কার্বো ভেজিটেবিলিজ, চেলিডোনিয়াম মেজাস, কষ্টিকাম, গ্রাফাইটিস, হেলোনিয়াস, হেপার সালফিউরিস, ইগনেশিয়া, আয়োডিয়াম, কেলি কার্বনিকাম, ক্রিয়োজোটাম, লাইকোপোডিয়াম, মেডোরিনাম, নাক্স ভমিকা, নাইট্রিকাম অ্যাসিডাম, ন্যাট্রাম মিউরিয়েটিকাম, ন্যাট্রাম সালফিউরিকাম, ফসফরিক অ্যাসিড, সোরিনাম, পালসেটিলা, সালফার, সিপিয়া, সাইলিশিয়া, থুজা অক্সিডেন্টালিস এবং ইউরেনিয়াম নাইট্রিকাম ওষুধগুলো ব্যবহার করা যায়।

[অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগ এর চেয়ে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগ অনেকটাই কঠিন। নিজেই নিজের উপর লক্ষণ মিলিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করাটা উচিত নয়। আপনি অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিন।]


আজ আর নয়। ফিরে আসবো অন্য দিন নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ১২:৩১)
  • ২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৮ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)