আজ বুধবার,১০ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৫শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Skin Care

মুখ ও ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি বিভিন্ন ফল ও সবজির ব্যবহার জেনে নিন

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ফল ও সবজির ব্যবহার


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ফল ও সবজির ব্যবহার নিয়ে। আশা করি, উপকৃত হবেন। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

 

যদি আপনি আপনার যৌবন এবং সৌন্দর্যকে আজীবন ধরে রাখতে চান তাহলে হয়তো আপনার মনে একটা প্রবল আকাঙ্খা থাকতে পারে এমন কোনো কিছু ব্যবহার করার প্রতি যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এখানে এমন কিছু ফল ও সবজির ব্যবহার সম্বন্ধে বলা হয়েছে।




আপেলঃ এর রস মল্ট ভিনিগারের সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে একটি চমৎকার চুলের রাইনা হিসেবে কাজ করে। এটি সোনালি চুলকে ধুসর করে দেয়।

আপেল চটকে একটা মণ্ড প্রস্তুত করুন। তারপর সেটি ফেসপ্যাক হিসাবে ব্যবহার করুন। মিনিট খানেক পরে ধুয়ে ফেলুন। আপেলের খোসা পায়ের পাতায় এবং হাতে ঘষুন। সেগুলো নরম এবং চকচকে হয়ে উঠবে।

 

কলাঃ যোগহার্ট দিয়ে অথবা ছাড়াই কলার মণ্ড ফেসমাস্ক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বককে নিখুঁত করতে ‍খুবই উপকারী। যদি হাতে কালো দাগ থেকে থাকে তবে একটি অপরিপক্ব কলার ফালি কেটে হাতে ঘষলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

এছাড়াও পাকা কলার মণ্ডে কয়েক ফোঁটা নারিকেল অথবা জলপাইয়ের তেল দিয়ে অথবা সামান্য পরিমাণ মধু দিয়ে একটি চমৎকার ফেসপ্যাক তৈরি করা যেতে পারে।

 

বার্লিঃ বার্লি আবার ত্বকেও ব্যবহৃত হয়। ত্বকে যদি কোনো খুঁত থেকে থাকে তবে ফেসপ্যাক বার্লি থেকে তৈরী যে বীয়ার তা ত্বকের পক্ষে একটি কার্যকরী লোশন। খুবই উপকার দেয়।

 

গাজরঃ গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে। এটি ফেস প্যাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়। গোসল করার আগে গাজরের রসের সঙ্গে মিশিয়ে গোসল করবেন।

চোখের চারপাশ যদি ফুলে থাকে তবে গাজরের মণ্ড চোখের চারপাশে লাগালে খুবই উপকার পাওয়া যায়। এটি যখন বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয় তখনই খুব ভালো লাগে। এই তেলটি মাথায় ঘষতে হবে।



একটি বড় তোয়ালে পানিতে ডুবিয়ে কিছু সময়ের জন্য মাথায় জড়িয়ে রাখতে হবে। যাতে তেলটি মাথার ভিতরে ভালোভাবে বসে যায়। এই তেলটি চোখের পাতার রঙ কালো এবং ঘন করার জন্যও ব্যবহৃত হয়।

এটির ভিতরে প্রবলভাবে অ্যান্টিসেপটিক  এবং তরতাজা গুণ বিদ্যমান। খসখসে ত্বকের পক্ষেও উপকারী। এটি ডাক্তারী ক্রিমে এবং ফেসপ্যাকেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এই ফলটি ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ করতেও সাহায্য করে। সামান্য দুধে শশার গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে তারপর সেটিকে মুখে লাগালে ত্বক মসৃণ ও তরতাজা হয়ে উঠে।

 

ধুনিয়াঃ এটির বীজ মধু এবং কমলালেবুর ফুলের সাথে মিশিয়ে একটি সুন্দর চমৎকার আফটার সেভ লোশন তৈরী করা যায় অর্থাৎ দাঁড়ি কামাবার পর যে লোশন লাগানো হয়ে থাকে।

 

ডিমঃ একটি ত্বকের ন্যুরশিং এর কাজে ব্যবহার করা হয়। ডিমের যে সাদা অংশটি থাকে সেটি হলো একটি চমৎকার ক্লীনজার। শ্যাম্পু করার আগে একটি বিশেষ কন্ডিসানিং প্রতিক্রিয়ার জন্য এটি মাথায় লাগানোর প্রয়োজন হয়।

একটি ডিমের সাদা অংশে দুই চামচ ব্রাণ্ডির সঙ্গে মিশিয়ে চুল ‍ধুয়ে ফেলার আগে মাথায় লাগাতে হবে।

 

মধুঃ যত রকম প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার আছে এটি হলো সব থেকে শ্রেষ্ঠ। এই ময়েশ্চারাইজারটি ত্বক নরম, আর্দ্র এবং চকচকে করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

ল্যাভেণ্ডারঃ যত রকম বহুমুখী কসমেটিক সাহায্যকারী আছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। এটি ত্বককে যেমন নরম করে, ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখে, তেমনি একটি ত্বককে তাজা এবং টোন আপ করে।

এছাড়াও এটি ক্লিনজারের একটি উপাদান।




লেবুঃ এটি হলো একটি সুন্দর ক্লীনজার। খুব চমৎকারভাবে একটি ত্বককে পরিষ্কার করে থাকে, এর mantle কে বিব্রত না করেই এটি গোসল করার আগে যে ক্রীমগুলো ব্যবহৃত হয় তাতে এবং মাস্কগুলোতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

 

পুদিনাঃ এটি ত্বককে ঠাণ্ডা করা ছাড়াও তৈলাক্ত ত্বক তাজা করে তোলে এবং ত্বকের দাগ পরিষ্কার করে। এর রস মুখে এবং গলায় লাগাতে হবে, তারপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

নুনঃ যে পানিতে চোখ ধুতে হবে সেই পানিতে সামান্য নুন মিশিয়ে নিলে চোখের উপকার হয়।

 

থাইমঃ এটি সংক্রমণ বিরোধী একটি উপাদান হিসাবে বহু পরিচিত। এই উপাদানটি সংক্রমণ হতে রক্ষা করে এবং আঘাতজনিত কোন ক্ষয় হলে তা সারিয়ে তোলে।

 

এছাড়াও কমলালেবু, পীচফল, আলু, গোলাপ, টমেটো ও হলুদ সহ আরও নানাবিধ ফল ও সবজি শরীরের সৌন্দর্যের বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়।





আজ এখানেই শেষ করছি। ফিরে আসবো অন্য দিন নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – সাবধানতা ও সচেতনতাই যথেষ্ট।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সকাল ১১:২৫)
  • ২৫শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৯ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ১০ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)