আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Homeopathy Doctor's Voice

অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভিজ্ঞতার আলোকে হোমিওপ্যাথিক মর্মবাণী

হোমিওপ্যাথিক মর্মবাণী


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। সানরাইজ৭১ পরিবারবর্গও ভালো আছে। আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করবো হোমিওপ্যাথিক মর্মবাণী সম্বন্ধে। আশা করছি, উপকৃত হবেন। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

 

আর্টিকা ইউরেন্সঃ চিংড়ি খাওয়ার কারণে আমবাত হয়েছে এমন অনেক রোগীকেই আর্টিকা ইউরেন্স প্রয়োগ করে সুস্থ্য করে তোলা গেছে।

 

এগারিকাস মাসকেরিয়াসঃ রোগীর ডান উর্ধ্বাঙ্গ এবং বাম উর্ধ্বাঙ্গ এবং ডান নিম্নাঙ্গ আক্রমণে এগারিকাস মাসকেরিয়াস ব্যবহার করে আমি বেশ ভালো ফল পেয়েছি।

 



ওষুধ প্রয়োগ প্রসঙ্গেঃ এক রোগী আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, ডাক্তার বাবু কি ওষুধ খেলাম, শুধু জিহ্বাটাই ভিজলো, পেটে কিছু গেলো বলে তো মনে হলো না।

আমি বলেছিলাম, হোমিওপ্যাথিক ওষুধে জিহ্বা ভিজলেই হলো। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ জলে গুলে দেবার পর তা যদি জিহ্বাকে ছুয়ে যায় বা ভিজাতে পারে তবে জিহ্বার প্রচুর স্নায়ুকে স্পর্শ করে ফলে ওষুধের ক্রিয়া দ্রুতবেগে হয়।

অন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে ওষুধ পেটে যাওয়ার পর সেখান থেকে রক্তের মাধ্যমে দেহের রোগাক্রান্ত অংশে যায় । কিন্তু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ স্নায়ুর মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। এখানে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের বৈশিষ্ট্য।

 

গ্রাফাইটিসঃ এলোপেসিয়া সমস্যায় আক্রান্ত অনেক রোগীকে আমি গ্রাফাইটিস প্রয়োগে আরোগ্য করেছি।

 

পঞ্চাশ সহস্রতমিক ওষুধের শক্তি লিপিবদ্ধকরনঃ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের শক্তি নির্দেশ করার জন্য অনেকেই এলএম২, এলএম৩ ইত্যাদি বা এম২, এম৩ ইত্যাদি বা ০/২, ০/৩ ইত্যাদি ব্যবহার করেন।

কিন্তু এর কোনটাই মহাত্মা হানেমান নির্দেশিত পন্থা নয়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধের পঞ্চাশ সহস্রতমিক শক্তি নির্দেশ করার জন্য ২/০, ৩/০ ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিত।

কারণ এই পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করলেই এই পদ্ধতির ওষুধের শক্তির প্রকৃত মান বা অবস্থা বোঝা যায়, অন্য কোনভাবেই নয়।

 



পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতি ব্যবহার প্রসঙ্গেঃ অনেক বয়স্ক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাথে আলোচনার সময় তাঁরা কেন পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন না জানতে চেয়েছি।

তারা আমাকে বলেছেন, ’দেখো বাবা, আমরা পুরানো যুগের মানুষ, পুরানোটাই ব্যবহার করি, তোমরা নতুন যুগের মানুষ, তোমরা নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করো’।

আমি বিনীতভাবে বলি, “আপনার বয়স তো ২০০ বছরের বেশি নয়, তাই না? মহাত্মা হানেমান তো ২০০ বছর আগেই ‘নতুন পদ্ধতি’ হিসেবে এই পদ্ধতির কথা চূড়ান্ত করে গেছেন। তাই সেটি মানতে বা ব্যবহার করতে বাধা কোথায়?

 

মাইরিস্টিকাঃ ঘাড়ের স্পন্ডেলাইটিসের বেশ কয়েকজন রোগীকে আমি মাইরিস্টিকা প্রয়োগে আরোগ্য প্রদান করেছি।

 

হ্যামামেলিসঃ গাড়িতে চড়ে প্রচন্ড ঝাঁকুনি লেগে জরায়ু থেকে রক্তস্রাব হচ্ছে এমন একাধিক মহিলাকে হ্যামামেলিস প্রয়োগ করে রক্তস্রাব দ্রুত বন্ধ করাতে সক্ষম হয়েছি।

 

হোমিওপ্যাথিক ওষুধের কাজ না করাঃ আমি একথা দ্যর্থহীনভাবেই বলতে চাই যে, বাজারে প্রচলিত ফিল্টার ব্যবহার করে পরিশ্রুত জল দিয়ে তৈরী হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কখনই পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে না।

কারণ এই ধরনের জলে ওষুধ তৈরী করা হলে তা অনেকাংশেই হানেমান নির্দেশিত মিশ্র প্যাথির সমান অবস্থা তৈরী করে যা মোটেও কাম্য নয়।

 

হোমিওপ্যাথিক ওষুধে জলের ব্যবহারঃ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সঠিকভাবে নির্দেশিত হলেও তা যথাযথভাবে কাজ নাও করতে পারে ওষুধ তৈরীতে যে জল ব্যবহার করা হয়েছে তার কারণে।

আমি অনেক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে দেখেছি বাজারে প্রচলিত ’জল পরিশ্রুতকরন যন্ত্র’ (Water Purifier Machine) ব্যবহার করে পরিশ্রুত জল দিয়ে হোমিও ওষুধ তৈরী করে রোগীকে দিতে।



কিন্তু একথা তো ভুললে চলবে না যে এসব মেশিনে জল পরিশ্রুতকরণের জন্য ক্লোরিন ব্যবহার করা হয় যা জলকে ক্লোরিনায়ন করে তোলে।

এই ধরনের জলে হোমিও ওষুধ তৈরী করা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই ক্লোরিনের সাথে বিক্রিয়া করবে। ফলে ওষুধের মৌলিক কার্যকারিতা তাতে যথেষ্টই বাধাগ্রস্থ হবে আর ওষুধও তেমন ভালো কাজ করবে না।

 

হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ক্রিয়াঃ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ক্রিয়া কেবল তাপেই বিনষ্ট হতে পারে। সেকারণেই হোমিওপ্যাথিক ওষুধ অতিরিক্ত তাপযুক্ত স্থানে রাখা যায় না।

আর এই কারণেই হোমিওপ্যাথিক ওষুধ যে শিশিতে তৈরী করে রোগীকে প্রদান করা হয় পূণরায় সেই শিশি ব্যবহার করতে হলে গরম জলে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হয়। এক্ষেত্রে বলা ভালো শুধু শিশিই নয়, শিশির ক্যাপও ভালোভাবে গরম জলে ফুটিয়ে নিতে হবে।


আজ এখানেই শেষ করছি। ফিরে আসবো অন্য দিন নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – সাবধানতা ও সচেতনতাই যথেষ্ট।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (সকাল ৮:০৮)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)