আজ মঙ্গলবার,৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Doctors Voice

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় কয়েকজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মর্মবাণী

হোমিওপ্যাথিক মর্মবাণী


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। সানরাইজ৭১ পরিবারবর্গও ভালো আছে। আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করবো হোমিওপ্যাথিক মর্মবাণী সম্বন্ধে যেখানে কয়েকজন নামকরা ডাক্তার এর হোমিওপ্যাথি বিষয়ক বাণী তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, উপকৃত হবেন। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

 

ক্যালি কার্বঃ ক্যালি কার্বনিকামের রোগী যদি ভীত থাকে তবে সব কিছুই পাকস্থলীতে আঘাত করে। যখন তার ত্বক স্পর্শ করা যায় তখনও পাকস্থলী স্থানেই উৎকণ্ঠা, ভয় বা আশঙ্কা অনুভূত হয়।




স্পঞ্জিয়াঃ পূর্বে স্পঞ্জিয়া গলগন্ড রোগের একমাত্র ওষুধ ছিল। কিন্তু এখন গলগন্ডে আয়োডিয়াম ব্যবহার হওয়ায় এর ব্যবহার কমে গেছে। তবে আয়োডিয়াম বিফল হলে স্পঞ্জিয়া ব্যবহার করা কর্তব্য।

 

ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিঃ ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি মানে সন্দেহাতীতভাবে রোগীর আরোগ্য।

 

সদৃশ বিধানঃ মনে রাখা দরকার সদৃশ বিধান হোমিও চিকিৎসা পদ্ধতির অন্যতম মৌলিক নীতি। ওষুধ যত সদৃশ হবে, ততো বিনা গোলযোগে আরোগ্য সম্পাদন করবে।

 

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রসঙ্গেঃ গত ৪০ বছরের গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, হোমিওপ্যাথি মোটেও প্লাসিবো বা ফাইটামের মতো নয়।

যদি তাই-ই সত্যি হতো, তবে সংজ্ঞাহীন রোগী হোমিওপ্যাথিক ওষুধের প্রভাবে কিভাবে সংজ্ঞা ফিরে পায়? কিভাবে একজন নিষ্পাপ রোগাক্রান্ত শিশু হোমিওপ্যাথিক ওষুধের সাহায্যে রোগমুক্ত হয়ে নির্মল স্বাস্থ্য লাভ করে?

কিভাবে এই ওষুধ অন্যান্য প্রাণী ও পাখির উপর ভালোভাবে কাজ করে?

 

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রসঙ্গেঃ হোমিওপ্যাথি স্থুল মাত্রার ওষুধ পছন্দ করেনা। কারণ, হোমিওপ্যাথিতে ওষুধ শক্তিস্তরে কাজ করে। মহাত্মা হানেমান এবং পরবর্তীকালে তাঁর অনুসারীরা প্রমাণ করেন যে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ স্নায়ুর মাধ্যমে কাজ করে।

 

হোমিওপ্যাথিক ওষুধের পুনঃ প্রয়োগ প্রসঙ্গেঃ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ যখন ইচ্ছা তখন পুনঃ পুনঃ প্রয়োগ করা যায় না। এজন্য এ সংক্রান্ত নীতিমালা আমাদের বেশ ভালোভাবে জেনে রাখা দরকার।




হোমিওপ্যাথিক ওষুধের পরিবর্তন প্রসঙ্গেঃ কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগের পর যদি দেখা যায় যে, নতুন এবং কষ্টদায়ক লক্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে এই অবস্থায় নতুনভাবে ওষুধ প্রয়োগ করতে হলে অর্গানন অব মেডিসিনের ২৪৯ নং সূত্র অনুসরণ করতে হবে।

 

উচ্চশক্তির ওষুধ ব্যবহারঃ হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, বৃক্ক ইত্যাদির ক্ষয়প্রাপ্ত বা ধ্বংশপ্রাপ্ত হয়েছে এমন ক্ষেত্রে ওষুধের সর্ব প্রকার প্রয়োগ লক্ষণ মিলে গেলেও ১এম বা উচ্চ শক্তির ওষুধ প্রথমে ব্যবহার করা যাবেনা।

এসব ক্ষেত্রে উচ্চ শক্তির ওষুধ প্রয়োগে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

এন্টিডোট প্রয়োগঃ হঠকারী করে একবার ওষুধ প্রয়োগ করে আবার তার এন্টিডোট প্রয়োগ করা আবার এন্টিডোট ওষুধ প্রয়োগের পর তৎক্ষণাৎ নির্বাচিত ওষুধটি প্রয়োগ করা , এমন যেনও না করা হয়।

 

এন্টিসোরিক ওষুধ প্রয়োগঃ চিররোগে যেখানে তিনটি মায়াজমের মিশ্রিত লক্ষণ থাকে, সুস্পষ্ট কোনো একটি মায়াজমের লক্ষণ না পাওয়া যাবে, সেখানে প্রথমে এন্টিসোরিক মেডিসিন প্রয়োগ করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।

 

তরুণ রোগে ওষুধের ব্যবহারঃ তরুণ রোগের প্রবল উচ্ছাসে ওষুধের নিম্নশক্তি ব্যবহৃত হবে। আবার পুরাতন বা জটিল রোগের কোনো লক্ষণ যদি তরুণ রোগের মতো কষ্টের আধিক্য ও অভিব্যক্তি বা যন্ত্রনা ও ব্যথাবেদনাসমুহে আড়ষ্টতা বা চনচনেভাব বর্তমান থাকে অথবা প্রস্রাবের জ্বালায় অস্থির হয়ে যাওয়া –



পেটের যন্ত্রনায় কাতর হয়ে যাওয়া, পায়ের যন্ত্রনায় দড়ি দিয়ে বাঁধতে থাকা ইত্যাদিতে নিম্ন বা মধ্যশক্তির ওষুধ যথা ৩০ বা ২০০ ব্যবহার করা যাবে।

সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে তরুণ রোগে উচ্চ শক্তির ওষুধ ব্যবহার করা অবিধেয় ও বিপজ্জনক। এমনকি তরুণ আমাশয় বা উদরাময়ে নাক্স ভম ২০০ শক্তি ব্যবহার বিপজ্জনক।

 

নাক্স ভমঃ নাক্স ভম নন মায়াজমেটিক ওষুধ হওয়া স্বত্বেও তা সকালের প্রথমদিকে প্রয়োগ না করাই সঙ্গত। তবে পায়খানা পেট ব্যথা বা বমির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সকালে প্রয়োগ করা যায়।

 

তরুণ রোগে এন্টিসোরিক ওষুধের ব্যবহারঃ তরুণ রোগে এন্টিসোরিক ওষুধের যখন তখন ব্যবহার তেমন ক্ষতিকর হয়না।

 

ওষুধ প্রয়োগের সময়ঃ রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ নির্বাচিত হলেও কোনো ওষুধই তার বৃদ্ধিকালের মধ্যে প্রয়োগ বা সেবন করানো উচিত নয়।

 

পঞ্চাশ সহস্রতমিক ওষুধের ব্যবহারঃ দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৫০ সহস্রতমিক ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা অধিক সুবিধাজনক।

 

পঞ্চাশ সহস্রতমিক ওষুধের ব্যবহার প্রসঙ্গেঃ শততমিক পদ্ধতির যে শক্তির ওষুধ পূর্বে সেবন করানো হোক না কেন, যদি ৫০ সহস্রতমিক ওষুধ সেবন করাতে চিকিৎসক ইচ্ছা করেন তাহলে ১/০ বা ২/০ শক্তি থেকে ব্যবহার করাই সঠিক হবে।

তবে শততমিক ওষুধটির একটি অন্টিডোট ওষুধ দিয়ে পরে ৫০ সহস্রতমিক ওষুধ প্রয়োগ করলে ত্রুটিমুক্ত হবে।




পঞ্চাশ সহস্রতমিক ওষুধের ব্যবহার প্রসঙ্গেঃ পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতির ১/০ ও ২/০ শক্তির ওষুধগুলো তরুণ রোগে প্রয়োজনে দিনে ২/৩ বার প্রতিদিন ১ বার বা ২/৪ দিন পর পর ১ বার এভাবে সপ্তাহকাল, ২ সপ্তাহকাল একটানা সেবন করানো যেতে পারে।

তবে সর্বক্ষেত্রে ওষুধে উপকার দেখা গেলে তখনই পুণঃপ্রয়োগ বন্ধ বা অপেক্ষা করতে হবে। যদি একমাত্রা সেবনের পর উপকার দেখা দেয় তথাপিও।

পূণরায় যদি রোগের বৃদ্ধি দেখা যায় তাহলে দেখতে হবে যে, প্রথম নির্বাচিত ওষুধের লক্ষণ বা রোগীর কষ্ট পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে বা অবশিষ্টাংশ আছে তবে সেই নির্বাচিত ওষুধের শক্তি ১ নং বৃদ্ধি করে রোগীকে সেবন করাতে হবে।

 

মায়াজম প্রসঙ্গেঃ মায়াজমকে চিনতে ও জানতে হলে সিম্পটমস বা লক্ষণের সাহায্যেই জানতে হয়। সিম্পটমস হলো মায়াজমের বহিঃপ্রকাশ।

প্রভেদটা হলো মায়াজম নিজ সত্ত্বায় বিরাজিত থেকে অবিচ্ছ্বেদ্যভাবে জীবনীশক্তি মন ও দেহের সাথে চিরস্থায়ীভাবে সংযুক্ত থেকে লক্ষণসমুহের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে।

একমাত্র লক্ষণানুযায়ী এন্টিমায়াজমেটিক ওষুধ প্রয়োগ ব্যতীত তাকে উচ্ছেদ করা যায় না এবং রোগী স্থায়ী আরোগ্য ‍লাভ করতে পারে না।

আর মায়াজমবিহীন লক্ষণসমুহ হলো, একটি একটি কেবল শারীরিক অনুভূতিশীল অস্থায়ী কষ্টকর শক্তিবিশেষ, যা আবহাওয়ার কারণে, পরিবেশের কারণে, অনিয়ম আহারে-বিহারে সৃষ্ট হয় এবং সুস্থ্য জীবনীশক্তি তাকে আরোগ্য করতে পারে বা সাধারণ শক্তিশালী যে কোন প্যাথির ওষুধের সাহায্যে তা দূরীভূত হতে পারে।

 

স্বল্প ক্রিয়াশীল ওষুধের ব্যবহারঃ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, স্বল্প ক্রিয়াশীল ওষুধ ‍দিয়ে চিকিৎসায় মৃত্যুমুখ ব্যক্তি অধিকতর সুস্থ্য হয়ে বেশ কিছুদিন বেঁচে থেকে প্রায় সুস্থ্য অবস্থায় অস্বাভাবিকভাবে পরে ‍মুত্যু হয়েছে।

 

হোমিওপ্যাথি প্রসঙ্গেঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক দান, এর নিয়ম-বিধি প্রাকৃতিক নিয়মের (Law of Nature) উপর প্রতিষ্ঠিত।



সুতরাং পূর্ণিমা বা অমাবশ্যা বা সূর্য গ্রহণ, চন্দ্র গ্রহণ যেগুলো প্রকৃতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা যার প্রভাব পৃথিবীর উপর পরিলক্ষিত হয় সেগুলো বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।


 

আজ এখানেই শেষ করছি। ফিরে আসবো অন্য দিন নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – সাবধানতা ও সচেতনতাই যথেষ্ট।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (দুপুর ১২:০০)
  • ২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৮ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)