আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Skin Disease

চর্মরোগের চিকিৎসা নিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | চর্মরোগ আসলে কেন হয়?

চর্ম রোগের চিকিৎসা


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো চর্ম রোগের চিকিৎসা নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

 

চর্ম ব্যাধিকে কেবল দেহাংশের ভিন্ন ব্যাধি মনে না করে সারাদেহ ও মনের ব্যাধি মনে করা উচিত। ভাবাবেগ এবং পরিবেশের প্রবল প্রভাব থেকে চর্ম ব্যাধি উদ্ভব ও তার পরিণাম নির্দেশনায়।



চর্ম ব্যাধি চিকিৎসায় কেবলমাত্র লক্ষণের উপশম ঘটানোই বড় কথা নয়, ব্যাধি সৃষ্টিতে উদ্দীপকের কাজ করছে যে কারণ তত্ত্ব সেটাকে উৎঘাটন করাও চিকিৎসকের দায়িত্ব।

চর্ম ব্যাধির আক্রান্ত স্থানে পরীক্ষার জন্য মূল্যবান যন্ত্রের দরকার হয় না। প্রচুর আলো এবং বড় করে দেখার জন্য একটি ম্যাগনিফাইং গ্লাস চর্মব্যাধি পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট।

ব্যাধির ইতিহাস গ্রহণ, বিশেষ করে রোগীর পেশা এবং পরিবেশের ইতিহাস নেয়া খুবই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

কিছু সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় সহ বিশেষ পরীক্ষার প্রয়োজন পড়তে পারে। এই সকল ক্ষেত্রে একজন বিজ্ঞ রোগ তত্ত্ববিদের সাহায্য নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

কোন খাবার জিনিসে সংবেদনশীলতা যদি ব্যাধির কারণ বলে সন্দেহের অবকাশ থাকে, তবে সেই নির্দিষ্ট দ্রব্যটিকে খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

জানা না থাকলে গরুর মাংস, ইলিশ, চিংড়ি, হাঁসের মাংস, হাঁসের ডিম, কচু, বেগুন, সাগর কলা, আনারস, লিচু প্রভৃতি খাবার বাদ দিতে হবে।

স্পর্শজনিত চর্ম ব্যাধিরত প্রদাহে সাধারণত যে সকল বস্তুকে দোষী বলে সন্দেহ করা উচিত তার মধ্যে সাবান, তেল, ডেটল, নাইলন মোজা বা কাপড়, প্লাস্টিক সেন্ডেল ও পশমী কাপড় অন্যতম।




চর্ম ব্যাধিতে ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

১। চর্ম ব্যাধি সৃষ্টিতে ভাবাবেগ সক্রিয় থাকে বলে প্রশান্তিকর শ্রেণীর ওষুধ অনেক সময় ভালো কাজ করে।

২। বহু ধরণের ওষুধের স্থানীয় ব্যবহার চর্মের ব্যাধি সৃষ্টি করে।

৩। ঝাঁকিয়ে লাগানোর ওষুধ (ক্যালমিন লোশান) বস্তুতঃ পাউডার লাগানোর সহজ উপায়, লোশন, উবে যাওয়ার জন্য জায়গাটা ঠাণ্ডা হয়।

৪। তীব্র তরুন প্রদাহে বিশেষ করে রস ঝরতে থাকলে লোশন (পটাশ পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণ ০.৫%) ব্যবহার ঠাণ্ডা করে এবং এবং রক্তবাহী নল সংকোচন করে ক্ষরণ বন্ধ করে।

৫। ক্রিমে পানির অংশ বেশী থাকায় চর্মে সহজে বিস্তৃত হয় এবং কসমেটিক্সের কাজ করে।

৬। অয়েন্টমেন্ট দীর্ঘস্থায়ী রোগাবস্থার জন্য উপকারী। চর্মের উপরের স্তরকে নরম করে। পানিতে দ্রবণীয় অয়েন্টমেন্ট (হাইড্রক্টিশন অয়েন্টমেন্ট) চর্মের গভীরে ওষুধের প্রবেশ নিশ্চিত করে।

৭। ক্লোরামফেনিকল, স্ট্রেপটোমাইসিন, সালফানোমাইড, পেনিসিলিন প্রভৃতি চর্মে অ্যালার্জি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

৮। হিস্টামিন বিরোধী ওষুধের চর্মে অ্যালার্জি সৃষ্টির প্রবণতা আছে।




চর্মরোগের চিকিৎসায় জ্ঞাতব্যঃ

চর্মরোগের চিকিৎসার পূর্বেই মূলত বহুমূত্র, সংক্রমণ, সঠিক ওষুধ নির্ধারণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য (Personal hygine) সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা দরকার।

তবে, কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে পারলে রোগ নির্ধারণের জন্য সহজতর হয়ে থাকে।

যেমনঃ

১। যে সকল চর্মরোগে সাধারণতঃ কষ বাহির হয় সেক্ষেত্রে পাউডার ব্যবহার করা উচিত নয় বরং আক্রান্ত ক্ষতে স্যাভলন বা ডেটল না ব্যবহার করে স্পিরিট (অ্যালকোহল) বা পটাশ পারম্যাঙ্গানেট লোশন দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।

২। যে সকল ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে, যেমন- পেনিসিলিন, সালফানোমাইড বা জেন্টামাইসিন সেই সকল ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে পাউডার বা তরল ক্ষতের সংস্পর্শে না আসে।

৩। চর্মরোগে ‍হিস্টাসিন বেশী পরিমাণে ক্ষরণ হয়। তাই হিস্টাসিন জাতীয় ওষুধে উপকার হয়।

৪। ওষুধ বা লোশন ব্যবহারের পর রোগ সেরে গেলেও আরো কিছুদিন ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।

৫। উপযুক্ত কারণ বা বুঝে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার ঠিক নয়। এতে রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।

৬। বেশীর ভাগ আঙ্গুলের কোণায় ঘায়ে, বা সাধারণ চর্মরোগে চুন, মাকড়সার জাল, নেল পালিশ ইত্যাদি ব্যবহার করতে দেখা যায়। সেই ক্ষেত্রে তীব্র সংক্রমণের এবং রোগের ব্যাপকতার সম্ভাবনা থাকে।

৭। কোন কোন চর্মরোগের কষ বা ঘায়ের চলটা সুস্থ্য মানুষের চোখ বা কানে যাতে না লেগে আরও সংক্রমণ বৃদ্ধি করে সে ক্ষেত্রে জীবাণু নাশক বা সাবান ব্যবহার করা ভাল।



৮। নিমের পাতা সিদ্ধ করে উষ্ণ জলে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা শ্রেয় এবং বিপদমুক্ত থাকা যায়।


আজ এখানেই শেষ করছি। ফিরে আসবো অন্য দিন নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – সাবধানতা ও সচেতনতাই যথেষ্ট।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (সন্ধ্যা ৬:৫৮)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)