আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

৬ মাস থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার সম্পর্কে জেনে নিন

বাচ্চার খাবার

 

৬ মাস বয়সটা গুরুত্বপুর্ণ, কারণ ৬ মাস পূর্ণ হতেই বাচ্চাকে বুধের দুধের পাশাপাশি বাইরের খাবারের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। অনেক মায়েরই জিজ্ঞাসা থাকে কিভাবে শুরু করবে, বাচ্চাকে কি খাওয়াবে এবং কত টুকু খাওয়ানো উচিত।

৬ মাস পূর্ণ হবার পর বাচ্চাকে প্রথমে তরল এবং সেমি সলিড খাবার দিতে হবে। প্রথম ১৫ দিন বাচ্চাকে খাবারের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। বাচ্চা বুকের দুধের সাথেই শুধু পরিচিত ছিল। তাই বাচ্চা জানে না বাইরের কোন কিছু তার খাবার। স্বাভাবিক ভাবেই অনেক বাচ্চা খেতে চাইবে না। মুখে দিলে বের করে দিবে। ধৈর্য হারানো যাবে না। বার বার চেষ্টা করতে হবে।

বাচ্চাকে শুরুতে সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। কারণ বাচ্চার পরিপাকতন্ত্র জটিল খাবার হজম করার জন্য প্রস্তুত নয়। জাই ভাত, ডাল ছাড়া খিচুড়ী দেয়া যেতে পারে। নরম ফল এবং ফলের রস দেয়া যেতে পারে। আলু সহ অন্যান্য সবজী দেয়া যেতে পারে। অনেক বাচ্চার খাওয়া শুরু করতে ১-২ সপ্তাহ লেগে যায়। মনে রাখবেন ৬-৮ মাস বাচ্চার প্রধান খাবার হলো মায়ের বুকের দুধ।

২ সপ্তাহ পর বাচ্চার খাবারে ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, কলিজা, তেল যুক্ত করা যায়। তখনও বাচ্চার খাবার থাকবে সেমি সলিড। পরিমাণ থাকবে ২-৩ টেবিল চামচ প্রতিবার দিনে ২ বার। এছাড়া ১-২ বার নাস্তা দেয়া যেতে পারে। কোন ফল বা সবজির ছোট এক টুকরা ম্যাশ করে নাস্তা হিসাবে দেয়া যায়।
৭ম এবং ৮ম মাসে বাচ্চাকে ১২৫ মিলি প্রতি বেলায় ২ বেলা খাবার দিবেন। এছাড়া ১-২ বার নাস্তা দেয়া যেতে পারে। নাস্তা হিসাবে দই, ক্ষীর, চিজ এসব পুষ্টিসমৃদ্ধ।

৯-১২ মাসঃ এই বয়সে বাচ্চার খাবার হবে আরো ঘন, এই বয়সে সলিড খাবার শুরু করা যায়। খাবারের পরিমাণ হবে ১২৫ মিলি করে প্রতিবার ৩ বেলা। এছারা বাচ্চাকে ২ বেলা নাস্তা দিতে হবে। এই বয়সে বাচ্চাকে ফিংগার ফুড শুরু করতে হবে। ছোট ছোট করে কাটা সবজি, ফল দিতে হবে বাচ্চার জন্য।

১-২ বছরঃ এই বয়সে বাচ্চাকে ৩ বেলা প্রতিবার ২৫০ মিলি খাবার দিবেন। খাবার হবে স্বাভাবিক সকল পারিবারিক খাবার। এছাড়া ২ বার পুষ্টিকর নাস্তা দিবেন। যদিও বাচ্চা এই বয়সে বুকের দুধ খাবে, খেয়াল রাখতে হবে এই বয়সে বাচ্চার প্রধান খাবার হবে পারিবারিক খাবার। বাচ্চাকে বুকের দুধ বেশি দেয়া যাবে না। অনেক বাচ্চা বুকের দুধে আসক্ত থাকে বলে বাইরের খাবার খেতে চায়না এবং পুষ্টিহীনতায় ভুগে।

খেয়াল রাখবেন আপনার বাচ্চা পর্যাপ্ত আমিষ জাতীয় খাবার পাচ্ছে কিনা। প্রতিবেলা মাছ, মাংস, ডিম এর যে কোন একটা রাখার চেষ্টা করবেন। চর্বি জাতীয় খাবার বাচ্চার পুষ্টির জন্য খুবই দরকারী। বাচ্চার খাবার ভাজার জন্য বাটার বা ঘি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া যে কোন বাদাম রাখতে পারেন প্রতিদিনের খাবারের তালিকায়।

কি কি পরিহার করবেন? ১ বছর এর আগে বাচ্চাকে লবণ এবং চিনি দেয়া যাবে না। লবণ বাচ্চা বড় হলে তার উচ্চরক্তচাপের ঝুকি বাড়ায়। এছাড়া বাচ্চাদের অপরিপক্ক কিডনী লবণ ফিল্টার করতে পারে না, অযাচিত চাপ হয় বাচ্চার কিডনীর জন্য। চিনি ব্যবহারে বাচ্চা বড় হলে তার ডায়াবেটিস এর ঝুকি বাড়ে। এছাড়া বাচ্চার দাঁতে ক্যারিজ এর জন্য দায়ী চিনি। সকল প্রকার সল্টি খাবার এবং টেস্টিং সল্ট দেয়া খাবার পরিহার করবেন।

ব্লেন্ড করা খাবার, সিরিয়াল, সেরেলাক পরিহার করবেন। এসব খাবার দেয়া হলে বাচ্চা মূল খাবার চিনতে শিখে না এবং কোন খাবারের স্বাদ কেমন সেটা জানতে পারে না। ফলে বাচ্চার প্রিয় কোন খাবার হয়না এবং বাচ্চা একটু বড় হলে খাওয়ায় রুচি পায়না।

সুত্রঃ ইন্টারনেট

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (রাত ৯:০৫)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)