আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শীতকালে নবজাতকের যেভাবে যত্ন নেবেন

নবজাতকের শীতকালীন যত্নাদি

 

 

 

১) শীতকালে নবজাতকের মা ও অন্য যারাই বাচ্চার দেখাশোনা করবেন তাদের বারবার হাত ধুয়ে নিতে হবে। এতে রোগ – জীবাণু শিশুর কাছে কম যাবে।

২) শীতকালে নবজাতকের যত্নআত্তি করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, ঘরে যাতে ঠাণ্ডা বাতাস না আসতে পারে। ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে দিনের বেলা দরজা–জানালা খোলা রেখে পর্যাপ্ত আলো–বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩) নবজাতককে গরম কিন্তু আরামদায়ক পোশাক পরিয়ে রাখতে হবে। নবজাতকের গায়ে ভারি কম্বল বা লেপ কোনোটাই দেওয়া যাবে না। শীতের প্রকোপ কমাতে নবজাতকের হাত ও পায়ে মোজা পরিয়ে রাখতে হবে।

৪) নবজাতক শিশুকে ম্যাসাজ করতে হবে। এতে তার শরীরের রক্ত–সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। ভালো বেবি অয়েল দিয়ে বাচ্চাকে ম্যাসাজ করাতে হবে।

৫) জন্মের ৩ দিন পর থেকে শিশুকে প্রতিদিন গোসল বা গা মুছিয়ে দিয়ে হবে। শীতের সময়ে একদিন পরপর গোসল করানো ভালো। গোসলের সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, মাথা ভেজানোর পরে খুব দ্রুত মাথা ভালো করে মুছে ফেলতে হবে। গোসলের সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।

৬) নবজাতক শিশুর ত্বক খুব সংবেদনশীল, তাই তাদের ত্বককে সবসময় মসৃণ রাখতে হবে। এজন্য ভালো মানের বেবি লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। যেকোনো বেবি প্রোডাক্ট ব্যবহার করার আগে তার মান যাচাই করে নিতে হবে। সেই সাথে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখও দেখে নিতে হবে।

৭) শীতকালে জন্ম নেয়া বাচ্চাদের বেলায় খেয়াল রাখতে হবে যাতে বাচ্চার সর্দি–জ্বর না হয়। নবজাতকের ঠাণ্ডা খুব খারাপ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই ঠাণ্ডা– সর্দি থেকেই বাচ্চার নিউমোনিয়া পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে, যা নবজাতকের জন্য খুব ক্ষতিকর।

৮) শিশুকে সবসময় ব্রেস্ট ফিডিং চালিয়ে যেতে হবে। যদি কোন কারনে শিশু অসুস্থও হয়ে যায়। তবুও মায়ের বুকের দুধ দেয়া বন্ধ করা যাবে না।

৯) নবজাতক যাতে কোন অবস্থায় প্রসাব–পায়খানা করে তার মধ্যে বেশিক্ষণ না থাকে সেদিকে নজরে রাখতে হবে। সম্ভব হলে ডায়াপার পরাতে হবে।

১০) ডায়াপার র‍্যাশ থেকে সাবধান হতে হবে। দিনের কিছু সময় ডায়াপার ছাড়া রাখতে হবে। তবে ডায়াপার র‍্যাশ যদি একান্ত হয়েই যায় সেক্ষেত্রে র‍্যাশ দূর করার ক্রিম লাগাতে হবে।

১১) নবজাতকের নাভি না পরা পর্যন্ত তেল বা পানি যাতে না লাগে খুব খেয়াল রাখতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

১২) সময় অনুযায়ী শিশুর সবগুলো টিকা দিয়ে দিতে হবে।

নবজাতকের বেলায় যা একদমই করা যাবে না
১) নবজাতকের শীতকালীন যত্নআত্তি নেয়ার ক্ষেত্রে একটি ভুল ধারণা হলো, গরম লাগবে ভেবে বাচ্চাকে একদম খোলা বা শীত লাগবে ভেবে অনেক কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা।

২) নবজাতক অবস্থায় শিশুর মুখের সংস্পর্শে এসে আদর করা থেকে একদম বিরত থাকা উচিত।

৩) বাইরে থেকে এসে কেউ যাতে হাত–মুখ না ধুয়ে নবজাতককের ঘরে প্রবেশ না করে সেদিকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।

ছোট্ট একটি প্রাণ আমাদের সবার জীবনে নিয়ে আসে অনাবিল আনন্দ। সেই আনন্দকে সব সময় ধরে রাখতে হলে আমাদের মা–বাবা, আত্মীয়দের নবজাতকের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে নবজাতক শিশুর জন্য দিতে হবে পরিপূর্ণ যত্ন। তবেই একজন নবজাতক শিশু বেড়ে উঠবে নিরাপদভাবে। তাহলে নবজাতকের শীতকালীন যত্নআত্তি করুন এবার নিশ্চিন্তে!

সুত্রঃ ইন্টারনেট

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (রাত ৯:১৭)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)