আজ বৃহস্পতিবার,১৯শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৪ঠা মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম কি ও চিকিৎসা কি?

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম কি?

 

 

👉সিস্ট বলতে বুঝায় পানি বা তরল জাতীয় কোন কিছু যখন একটা ছোট থলের মধ্যে থাকে। পলিসিস্টিক ওভারি বলতে বুঝায় ওভারি বা ডিম্বাশয়ে এরকম অনেক সিস্ট থাকে। সাধারণত ১২ টা বা তার বেশি সিস্ট থাকে।

কেন হয়?

👉যখন একজন মেয়ের শরীরে এন্ড্রোজেন নামক একটা হরমোন বেড়ে যায় তখন এ ধরণের সিস্ট তৈরী হয়।উল্লেখ্য , এই হরমোন পুরুষ দের বেশি থাকে।

কাদের হয়?

👉 মেয়েদের মাসিক শুরু হওয়ার পর থেকে মাসিক বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত যে কোন বয়সেই হতে পারে।সাধারণত ২০-৩০ বছর বয়সে বেশি হয়।প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে ১ জন মেয়ের হতে পারে। তবে যাদের ওজন বেশি তাদের বেশি হয়।

কি কি সমস্যা হলে বুঝতে হবে তার পলিসিস্টিক ওভারি হতে পারে?

👉সাধারণত যদি কোন মেয়ের মধ্যে এই তিনটি সমস্যা দেখা দিলে আমরা ধরে নিতে পারি তার পলিসিস্টিক ওভারি থাকতে পারে

১.অনিয়মিত মাসিক/মাসিক বন্ধ থাকা/মাসিক খুব কম পরিমাণে হওয়া

২.মুখে বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অস্বাভাবিক লোম,ব্রণ।

৩.শরীরের ওজন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় যেমন ঘাড়, চামড়া অস্বাভাবিক কালো হয়ে যাওয়া।

কিভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
👉১.রোগীর মুখে তার সমস্যার কথা শোনা হয়।যদি তার মধ্যে উপরে উল্লেখিত সমস্যা গুলো পাওয়া যায়।
২.আমরা তলপেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে যদি ওভারি তে ১২ টা বা তার বেশি সিস্ট পাওয়া যায়।
৩.রক্তে এন্ড্রোজেন বেশি পেলে।

পলিসিস্টিক ওভারি থাকলে একজন মেয়ের কি কি সমস্যা হতে পারে?

👉১.ওজন বেড়ে যেতে পারে
২.বন্ধাত্ব
৩.ডায়াবেটিস মেলাইটাস (টাইপ -২)
৪.উচ্চ রক্তচাপ
৫.ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে
৬.স্লিপ এপনিয়া /ঘুমানোর সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে
৭.ডিপ্রেশন এন্ড এনজাইটি( হতাশা ও বিষণ্ণতা)
৮.জরায়ুর ক্যান্সার

পলিসিস্টিক ওভারি হলেই কি বন্ধাত্ব হতে পারে?

👉 না।সব সময় বন্ধাত্ব হয়না।

বন্ধাত্ব হলে কি চিকিৎসা করলে কি বাচ্চা হওয়া সম্ভব?

👉 সম্ভব।অনেক সময় নিয়মিত ও সঠিক চিকিৎসা নিলে এই বন্ধাত্ব থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব।

বন্ধাত্ব হলে চিকিৎসা কি?

👉১.ওজন কমানো।দেখা গেছে সাধারণত শরীরের ১০% ওজন কমালে তার মাসিক নিয়মিত হয় এবং তার বাচ্চা ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়।
২.মেডিকেল ম্যানাজমেন্ট । অর্থাৎ আমরা কিছু ওষুধ দেই। জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল,মেটফরমিন।
৩.সার্জিক্যাল ম্যানাজমেন্ট। অর্থাৎ আমরা কিছু সার্জারী করতে পারি। ল্যাপারোস্কোপিক সিস্ট পাংচার, সিস্টেকটমি, ওভারিয়ান ড্রিলিং।

সবশেষে আমরা ইন ভিট্রো ফারটিলাইজেশন করতে পারি।

শরীরে লোম বেড়ে গেলে চিকিৎসা কি?

👉১.কিছু ফেসিয়াল হেয়ার রিমোভাল ক্রিম আছে, যা অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
২.লেজার হেয়ার রিমোভাল।
৩.ইলেক্ট্রোলাইসিস ওফ হেয়ার।

কিভাবে আমরা পলিসিস্টিক ওভারি হতে নিজেকে কিছু টা হলেও দূরে রাখতে পারি?

👉 প্রত্যেক মেয়েদের উচিৎ নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

সবশেষে বলতে চাই, পলিসিস্টিক ওভারি হলে হতাশ না হয়ে ওজন কমান আর ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিন,সুস্থ থাকুন।যেহেতু অনেক দিন চিকিৎসা প্রয়োজন তাই ধৈর্যের বিকল্প কিছু নেই।

 

সুত্রঃ ইন্টারনেট

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (রাত ৯:০২)
  • ৪ঠা মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৯শে রজব ১৪৪২ হিজরি
  • ১৯শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)