আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

www.sunrise71.com

হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে যে কথাগুলো না জানলেই নয়

হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা


 

 ভূমিকাঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা যে উন্নত ধরনের চিকিৎসা একথা অধিকাংশ শিক্ষিত ব্যক্তিই স্বীকার করেন। অনেকেই পরীক্ষা করে বা ওষুধ প্রয়োগ করে দেখেছেন যে, এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করলে স্থায়ী ফল লাভ হয়।

অন্যদিকে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তেমন কোনো ভয় থাকে না। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু কিছু নিয়ম-কানুন অবশ্যই পালন করা দরকার।



এই নিয়ম-কানুনগুলো না মানলে উপকার নাও হতে পারে। আর উপকার যদি না হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই রোগটা বেড়ে উঠবে এবং কঠিন আকার ধারণ করবে।

 

ওষুধ নির্বাচনঃ রোগের সঠিক ওষুধ নির্বাচন করতে হয়। সেজন্য রোগীর ধাতুগত, চরিত্রগত ও মানসিক লক্ষণসমুহ পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

এইসব লক্ষণের সঙ্গে কোনো ওষুধের ক্রিয়ার লক্ষণ যদি মিলে যায় তাহলে বুঝতে হবে যে উক্ত রোগীর পক্ষে ঐ ওষুধটি সঠিক।

 

বাজে ওষুধঃ অনেক দিনের পুরাতন ওষুধ প্রয়োগে উপকারের আশা কম থাকে। কেননা তখন ওষুধের গুণাগুণ কিছুটা নষ্ট হয়ে যায় ও তার উপকার করার ক্ষমতা কমে যায় বা একেবারেই থাকে না।

রোগীর উপর প্রয়োগ করা উচিত টাটকা ওষুধ। ওষুধটা বাজে কিনা তা শিশিটা চোখের সামনে ধরলেই বুঝতে পারা যাবে। বাজে ওষুধ হবে কিছুটা ঘোলাটে ধরনের, ওষুধের সঙ্গে কিছু ভাসছে মনে হবে।

 

নিষিদ্ধ আহার ও পানীয়ঃ উগ্র ধরনের আহার বা পানীয় বর্জন করতে হবে। গুরুপাক খাদ্যাদি সেবন বর্জনীয়। পেয়াজ, ডিম, টক প্রভৃতি খাওয়া চলবে না। চুন, সোডা, চা, বিড়ি, সিগারেট প্রভৃতি সেবনে ওষুধের কার্যকারিতা অনেকটা হ্রাস পায়।



 

নতুন ও পুরাতন পীড়ার ওষুধঃ সাধারনত নতুন পীড়ার ওষুধের স্থুলমাত্রা ও পুরাতন পীড়ার ক্ষেত্রে সুক্ষমাত্রা প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে পীড়ার গতি প্রকৃতি বুঝে অনেক সময় নতুন পীড়াতেও সুক্ষমাত্রা প্রয়োগ করার দরকার হয়।

কোনো এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসাধীন রোগী যদি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করাতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে স্থুলমাত্রার ৩০ শক্তি দিয়ে শুরু করা উচিত। পরে প্রয়োজন মনে হলে মাত্রার হেরফের ঘটাতে হবে।

 

ওষুধ সংরক্ষণঃ ওষুধ কিনে এনে যেভাবে খুশি সেভাবে রাখলে অল্প দিনের মধ্যেই তার গুণ নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে আগুনের তাপ ও রোদের তাপ ওষুধের গুণ নষ্ট করে। কাছাকাছি উগ্র ধরনের কোনো দ্রব্যাদি থাকলেও ওষুধের গুণ নষ্ট হয়। গন্ধক ও ধূণার ধোঁয়া হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ক্ষেত্রে প্রচন্ড ক্ষতিকর। সুতরাং ডাক্তার কিংবা রোগী দুজনকেই ওষুধ সংরক্ষণের ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধান ও সতর্ক থাকা উচিত।

 

ওষুধ প্রয়োগঃ বারবার ওষুধ সেবনের দরকার হয়না। যদি সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা যায় তবে মাত্র ২/৩ মাত্রাতেই কাজ হয়। সেজন্য ওষুধ প্রয়োগ করবার পর কয়েকদিন অপেক্ষা করার দরকার ওষুধটা ঠিক মতো কাজ করলো কিনা তা জানার জন্য। যদি কিছু মাত্র উপকার হয়ে থাকে তবে বুঝতে হবে যে, ওষুধ নির্বাচন ত্রুটি হয়নি। রোগীকে সঠিক ওষুধই সেবন করানো হয়েছে। এরুপ ক্ষেত্রে আর ওষুধ সেবন করানোর প্রয়োজন পড়ে না সাধারনত।



 

ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়াঃ ওষুধ অধিক মাত্রায় প্রয়োগ করা হলে তার পরিণাম ভয়ঙ্কর হতে পারে। যেমন- নাক্স ভম হোমিওপ্যাথিক সর্বাধিক উপকারী ওষুধ। কিন্তু অত্যাধিক মাত্রায় এটি প্রয়োগ করা হলে ধনুষ্টংকারের মতো সাংঘাতিক পীড়ায় আক্রান্ত হবার আশংকা থাকে।

 

ওষুধের মাত্রাঃ ওষুধ নির্বাচন করেও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয় রোগীকে কতটা মাত্রায় ওষুধ সেবন করানো হবে তা নিয়ে। সাধারনত পূর্ণ বয়স্কের ক্ষেত্রে ২/৩ ফোঁটা দিনে ৩/৪ বার ও ২/১ ফোঁটা ৭/৮ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে ২ বার। আর কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ১/৩ বা ১/২ ফোঁটা ওষুধ দিনে ২ বার। বাচ্চাদের ওষুধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো দরকার।

 

একাধিক ওষুধ প্রয়োগঃ একসঙ্গে একাধিক ওষুধ প্রয়োগ হোমিওপ্যাথিক নিয়মবিরুদ্ধ। কিন্তু আজকাল অনেক চিকিৎসক ৩/৪ রকমের ওষুধ একই সঙ্গে সেবনের নির্দেশ দেন। এতো ওষুধ সেবন না করে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা হলে এক রকমের ওষুধ সেবনেই রোগটা তাড়াতাড়ি সেরে যায়।

 

ভ্রান্ত ধারণাঃ অনেক সময় কোনো রোগে ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা যায়, রোগটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন এমন ধারণা হয় যে, ভুল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ধারণা ভুল। ওষুধ প্রয়োগ করলে অনেক সময় এমন হয়। এরুপ ক্ষেত্রে কয়েকদিন ওষুধ বন্ধ রাখলেই রোগটা ধীরে ধীরে কমে যাবে ও পরে একেবারেই সেরে যাবে। উক্ত রোগে আর ওষুধ প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই।

 



নীতিবিরুদ্ধ কাজঃ রোগে যেসব ওষুুধ আভ্যন্তরীণ প্রয়োগ করা হয়, সেই একই ওষুধ উক্ত রোগে বাহ্যিক প্রয়োগ করলে রোগটা তাড়াতাড়ি সেরে যায়। একটা কিন্তু হোমিওপ্যাথিক নীতিবিরুদ্ধ কাজ। কিন্তু যেহেতু উপকার হয় সেহেতু প্রয়োগ করতে বাঁধা নেই। তবে ওষুধটি যেনও একই হয় এবং ওষুধের শক্তিও যেনও একই থাকে। অন্য ওষুধ বাহ্যিক প্রয়োগ করলে বা সেবনের ওষুধের শক্তির হের-ফের ঘটালে রোগ সত্বর সারে না – কার্যকরী শক্তিতে অযথা বাঁধার সৃষ্টি হয়।

 

ওষুধ সেবনঃ সঠিক ওষুধ সেবন করা দরকার। ওষুধের পরিমাণ বা মাত্রা খুব কম হলেই ভালো হয়। প্রথমে স্থুলমাত্রা ও পরে সুক্ষ্মমাত্রা প্রয়োগ করা দরকার। রোগে কিছুটা উপকার দেখা গেলেই আর ওষুধ সেবন না করে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করা দরকার।

 

ফাইটম প্রয়োগঃ অনেক সময় রোগীকে সুগার অব মিল্ক বা গ্লোবিউলসের সঙ্গে স্পিরিট ক্যাম্ফর মিশিয়ে সেবন করানো হয়। ওষুধের সঙ্গেই এগুলো সেবন করানো হয়। এসব করার কারণ রোগীর মনোবল বৃদ্ধি করা। রোগী বুঝবে যে, ২/৩ রকমের ওষুধ খাচ্ছে, অতএব রোগটা তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে। আসলে কিন্তু সে তার রোগের জন্য ওষুধ সেবন করছে মাত্র এক রকমেরই।

 

ওষুধের শক্তি বিষয়ে ধারণাঃ ওষুধের শক্তি বিষয়ে অনেক নতুন শিক্ষার্থীর ধারণা থাকে না। সেজন্য এখানে একটি চার্ট দেওয়া হলো। এটি মনে রাখলে ওষুধ প্রয়োগ করতে সুবিধা হবেঃ
নিম্নশক্তি বলা হয় সাধারণতঃ 0 বা মাদার, x বা বিচূর্ণ, শক্তি ৬, শক্তি ৩০, শক্তি ২০০।
উচ্চশক্তি বলা হয় সাধারণতঃ শক্তি ৫০০ (D), শক্তি ১০,০০০ (M), শক্তি ১,০০,০০০ (C.M), শক্তি ৫,০০,০০০ (D.M), শক্তি ১,০০,০০,০০০ (M.M)। নিম্ন শক্তির ওষুধ ২/৩ ফোঁটা সেব্য। শক্তি ২০০-কে নিম্নশক্তি না বলে মধ্যম শক্তিই বলা বাঞ্চনীয়। একটি ১ ফোঁটা মাত্রায় সেব্য। উচ্চ শক্তির ওষুধ মাত্র একবার ১ ফোঁটা সেব্য। শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চ শক্তির ওষুধ প্রয়োগ করা ঠিক নয়।

 



গর্ভবতী নারী বা প্রসূতির ওষুধঃ গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োগ করতে হলে বিশেষ বিবেচনা করে দেখা দরকার যে, উক্ত ওষুধ প্রয়োগের ফলে গর্ভস্থ শিশুর কোনো ক্ষতি হবার আশংকা আছে কিনা। যদি তা থাকে তবে রোগিনীকে সে রকম ওষুধ সেবন করানো চলবে না। প্রসুতির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অনেকটা খাটে। কেননা, শিশু মাতৃদুগ্ধ পান করে জীবনধারণ করে।

সুতরাং সাধারণভাবেই ওষুধের ক্রিয়া শিশুকেও স্পর্শ করে। গর্ভবতী নারীকে কখনো উচ্চ শক্তির ওষুধ সেবন করানো উচিত নয়। কারণ, এতে হিতে বিপরীত হবার আশংকা থাকে।

 

ঘন ঘন ওষুধ প্রয়োগঃ এমন কিছু কিছু রোগ আছে যেসব রোগে ১৫ মিনিট বা ৩০ মিনিট অন্তর ওষুধ প্রয়োগ করার দরকার হয়। যেমন কলেরা রোগীর ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে ভীত হবার কোনো কারণ নেই। তবে ওষুধটা নির্বাচনে যেনও ভুল না হয়।

 

আপাত বিস্ময়ঃ অনেক সময় সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যায় না। তখন বিস্মিত হতে হয়। কেন এমন হলো? এমন তো হবার কথা নয়। চিকিৎসককে তখন গভীরভাবে ভেবে এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। কারণ, অনুসন্ধান করলে জানা যাবে কেন ওষুধটিতে সুফল পাওয়া গেল না। এরুপ ক্ষেত্রে লক্ষণ পর্যবেক্ষণে ভুলের জন্য এমন হয়েছে অথবা সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা হয়েছে মনে হলেও আসলে তা হয়নি। তাই বলে হঠাৎ করে আবার অন্য ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত নয়। তখন প্রযুক্ত শক্তির হের-ফের ঘটিয়ে পূণরায় প্রয়োগ করা দরকার।

 

চিকিৎসকের যা জানা দরকারঃ রোগী এলে তার মুখ থেকে রোগের কথা শুনেই ওষুধ দেওয়া ঠিক নয়। রোগীকে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন করে জানতে হবে কেন রোগটা দেখা দিয়েছে। প্রশ্নগুলি করলে রোগীর ধাতুগত, মানসিক ও চরিত্রগত লক্ষণসমুহ জানা যাবে। তখন দেখতে হবে কোন ওষুধের সঙ্গে এই সব লক্ষণের বেশীর ভাগ মিল আছে। সর্বাধিক লক্ষণ মিলে গেলেই বুঝতে হবে রোগীর জন্য সেই ওষুধটিই সঠিক।





 

যেসব প্রশ্ন রোগীকে অবশ্যই করা প্রয়োজনঃ

১। রোগটা কতদিন আগে হয়েছে?

২। প্রথমে অর্থাৎ রোগটা হওয়ার শুরুতে কি অসুবিধা হতো এবং এখন কি ধরনের অসুবিধা হয়?

৩। ঘাম হয় কিনা? কখন ঘাম হয়?

৪। ঘাম চটচটে হয় কিনা? কখন বেশী ঘাম হয়?

৫। ঘামের গন্ধ কেমন?

৬। পায়খানা ঠিক মতো হয় কিনা?

৭। মলের রঙ কেমন? মল কঠিন না নরম?

৮। মলত্যাগ করার সময় কোনো কষ্ট বোধ হয় কিনা?

৯। প্রস্রাব কেমন হয়?

১০। ঘুম কেমন হয়?

১১। শরীরে দূর্বলতা আছে কিনা?

১২। রোগের বর্তমান কষ্ট কেমন ধরনের?

১৩। খিদে ঠিকমতো হয় কিনা অর্থাৎ খাবারে অরুচি আছে কিনা?

১৪। এর আগে রোগের কোনো চিকিৎসা করানো হয়েছে কিনা, হলে কি চিকিৎসা করা হয়েছে?



১৫। রোগী মানসিক অবস্থা কেমন?

১৬। মানসিক অবস্থা আগে কেমন ছিল?

১৭। এই ধরনের রোগ (মূল রোগ) আগে আরও হয়েছিল কিনা; নাকি এই প্রথম?

১৮। রোগীর পেট, বুক, গলা, নাক, মুখ, চোখ, কান মস্তিষ্ক, প্রভৃতি বিষয়ে আরও কতকগুলো প্রশ্ন করা যায়। প্রয়োজন মনে হলে এই প্রশ্নগুলো অবশ্যই করতে হবে।

এ ছাড়াও চিকিৎসক মনে করলে রোগটার উৎপত্তি জানার জন্য বিভিন্ন ধরণের আরও প্রশ্ন করতে পারেন।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োগের পদ্ধতিঃ যেসব শিশুকে ১/৪ ফোঁটা বা ১/৩ ফোঁটা ওষুধ সেবন করাতে হবে তা ড্রপারে করে সেবন করানো যায় না। সেজন্য ৪ চামচ পানিতে ১ ফোঁটা বা ৩ চামচ পানিতে ১ ফোঁটা ওষুধ মিশিয়ে ঐ মিশ্রিত ওষুধ ১ চামচ সেবন করালেই ১/৪ ফোঁটা বা ১/৩ ফোঁটা ওষুধ সেবন করানো হবে। এইভাবে ১/২ ওষুধও সেবন করানো চলে।

 

প্রসূতিকে ওষুধ সেবন করানোঃ শিশুর এমন কিছু কিছু অসুখ হয় যেগুলির জন্য মাতৃদুগ্ধ অনেকাংশে দায়ী। এরুপ ক্ষেত্রে কেবল শিশুকে ওষুধ সেবন করালেই হবে না; সাথে প্রসূতিকেও ওষুধ সেবন করানো প্রয়োজন।

 

লাগাবার ওষুধঃ ক্ষত, পঁচা ঘা, হাড়ের ব্যথা প্রভৃতিতে অনেক সময় ওষুধ বাহ্যিক প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। এসব ক্ষেত্রে ওষুধ লাগাতে হয় ওষুধটি সঠিকভাবে নির্বাচন করে নারকেল তেল, ভেসলিন প্রভৃতির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে। এতে ওষুধ লাগানোর ক্ষেত্রে সুবিধা হয়।

 



বিবিধ ওষুধ প্রয়োগঃ একবার এ্যালোপ্যাথি, তারপর কবিরাজী, তারপর হোমিওপ্যাথি এভাবে এলোপাতাড়ি ওষুধ প্রয়োগ করা কোন মতেই উচিত নয়। এর ফলে রোগ কঠিন হয়ে পড়ে ও জটিলতার সৃষ্টি হয়।

 

ওষুধ সেবনের সময়ঃ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সকালে খালি পেটে সেবন করলে ভালো কাজ করে। তবে অন্য সময়ে যে কাজ করেনা তা কিন্তু নয়। সাধারনভাবে স্থুলমাত্রার ওষুধ সকালে খালি পেটে ও রাত্রিতে শোবার আগে অর্থাৎ ঘুমোতে যাওয়ার আগে সেবন করা দরকার। তবে প্রয়োজনে দুপুরে আরও একবার সেবন করা চলে।

 

ওষুধের গুণঃ প্রত্যেক ওষুধের একটা গুণ বা কার্যকরী শক্তি থাকে। সেই শক্তি অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায় প্রয়োগের দোষে। কোনো ওষুধ প্রয়োগ করার পরে পরবর্তী ওষুধ হিসাবে এমন ওষুধ নির্বাচন করতে হবে যেটি আগের ওষুধের গুণাগুণ নষ্ট করতে না পারে।

 

ওষুধ প্রয়োগে সাবধানতাঃ ওষুধ প্রয়োগ করার সময় কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা অবশ্যই দরকার। ওষুধ সেবনের ৩০ মিনিট আগে ও ৩০ মিনিট পরে কোনো প্রকার আহার গ্রহণ করা উচিত নয়। অর্থাৎ খাওয়ার আধা ঘন্টা আগে কিংবা খাওয়ার আধা ঘন্টা পরে ওষুধ সেবন করতে হবে। তবে, প্রয়োগ বিশেষে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েকটি ওষুধ খাওয়ার পরপরই সেবন করতে হয়। এ ব্যাপারে পরে আরও আলোচনা করা হবে।

 

লাগাবার ওষুধ বিষয়ে সাবধানতাঃ ব্যথা বা ক্ষতে কোনো ওষুধ লাগাবার প্রয়োজন হলে আলতোভাবে মালিশের মতো করে লাগানো উচিত। বেশি ঘর্ষণ করা আদৌ উচিত নয়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ লাগাবার পরে গরম সেক দেওয়া অনুচিত।

 

পানি পানঃ যারা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবন করেন তাদের পানি একটু বেশি পরিমাণে সেবন করা প্রয়োজন। এতে ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

 

ওষুধের শক্তি বৃদ্ধিঃ লিকুইড ওষুধ সেবন করার পূর্বে শিশির ছিপি না খুলে শিশিটাকে বাম হাতের তালুতে নিয়ে ৬ বার আঘাত করে নিয়ে তবে সেবন করা দরকার। এতে ওষুধের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

উপরে যেসব নিয়ম আলোচনা করা হলো, এগুলো ওষুধ সেবনকারীকে মেনে চলতে হবে। যদি ঠিকমতো মানা সম্ভব না হয় তবে উপকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না।



যিনি চিকিৎসা করবেন তার প্রথমেই মনে রাখা দরকার যে, রোগীকে যেনও একটি মাত্র ওষুধেই নিরাময় করা যায়। সত্বর নিরাময় করাও তার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

তবে সাধারনত পুরাতন পীড়া সত্বর সারে না, সেজন্য অনেকদিন পর্যন্ত ওষুধ প্রয়োগ করার প্রয়োজন পড়ে। আরও একটা কথা, ভালো দোকান থেকে ওষুধ কেনা উচিত।

কোনো অসাধু ব্যবসায়ীর দোকান থেকে ওষুধ কিনলে উপকার বিষয়ে হতাশা হবার আশংকাই বেশী। সময় নিয়ে হোমিওপ্যাথিক বিষয়ে এই কথাগুলো পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য করুন। ধন্যবাদ।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (দুপুর ১:৫১)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)