আজ বৃহস্পতিবার,১৯শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৪ঠা মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কার্সিনোসিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

কার্সিনোসিন

 

প্রিয় বন্ধুরা আজ একটা গুরুপ্তপূর্ন ঔষধ কার্সিনোসিন সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করব। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। লেখাটা মুলত গতদিনে আমাদের ডাঃ মনা ষ্ট্যাডি গ্রুপের ডাঃ সুর্নিমল স্যার ও ডাঃ আব্দুল হাকিম স্যারের লেকচারের আলোকে তৈরি করা। যদি কোন সংযোজন করার দরকার হয় তাহলে সংযোজন করার জন্য অনুরোধ রইল।
>>Source: A nosede medicine মুলত (ক্যান্সারগ্রস্ত টিস্যু হতে প্রস্তুত)
>>Prover: Dr Foubister and Dr Burnett
>>Miasam: এন্টি সোরা, এন্টি সাইকো, এন্টি সিফিলিটিক।
>>H.C.R: suited to every temperament.
History: এটা একটা নোসডস মেডিসিন ডাঃ ফোবিষ্টার এটাকে ব্রেষ্ট ক্যান্সার হতে গলিত যে পুঁজ সেই পুঁজ হতে প্রক্রিয়াদির মাধ্যমে প্রোটেন্সিতে রুপদান করেন।
♦ Sphare of Action (কার্সিনোসিনের ক্রিয়াস্থল):
হৃদযন্ত্র, পরিপাক যন্ত্র, স্নায়ুকেন্দ্র, শ্বসন যন্ত্র, চর্ম-কার্সিনোসিনের মূল ক্রিয়াস্থল।
♦Special Diagnosis(বিশেষ প্রয়োগ ক্ষেত্র):
বিভিন্ন অসুস্থতায়, সদৃশ, ঔষধ প্রয়োগ করার পর যদি আশান্বিত ফল প্রদান না করে-সেখানে কার্সিনোসিনের কথা সবার আগে ভাবতে হবে।
“”Dr. Sankaran এবং Dr. Matani বলেন—বংশে ক্যানসার ইতিহাস থাকলে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করলে রোগ সেরে যায় বা অন্য নির্বাচিত ওষুধকে ক্রিয়াশীল করে তোলে।””
♦♦Mental Symptoms :হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগীর মনোলক্ষণ। কার্সিনোসিনের মানসিক লক্ষণগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল-ভয়, খিটখিটে-বদরাগী, খুঁতখুঁতে স্বভাব।
যে রোগীতে খুঁতখুঁতানি, খিটখিটানী
আরো আছে বদরাগী ও ভয়,
কার্সিনোসিন প্রয়োগে রোগীর রোগকে
করতে পারবে জয়।
♦♦ভয়-ভীতি : সবকিছুতে ভয়। অকারনে ভয়, শৈশব থেকে ভীতিগ্রস্থ, রোগের ভয়, মৃত্যুভয়, পরীক্ষার ভয়। প্রকাশিত বা সুপ্ত যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন-কার্সিনোসিনের প্রধান নির্দেশাত্মক লক্ষণ হলো ভয়। ভয়জনিত অসুস্থতা বা ভয় পাওয়ার পর অসুস্থতার ইতিহাস থাকলে কার্সিনোসিনকে সবার আগে ভাবতে হবে। ক্যান্সার বা ঐ রকম নানা অসুস্থতার ভয়। অসুস্থ হলেই ভাবে সে কোনও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। ভয় থেকে নানা রকম অসুস্থতার সৃষ্টি। ভয় থেকে কখনও কখনও মনে এমন বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয় যে তাকে কেউ খাদ্যে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলবে, কেউ তাকে হত্যা করার চক্রান্ত করছে ইত্যাদি। আত্মহত্যার প্রবণতা, হতাশা, চিন্তা বা কাজকর্ম করার ক্ষমতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি স্নায়ুবিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। রোগীর মনের অবস্থা ক্রমশ এমন স্তরে পৌছায় যে তারা বর্হিজগৎ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নেয়। পরিশেষে সম্পূর্ণ উন্মাদ পর্যন্ত হয়ে যায়।
♦♦আশঙ্কা : সবকিছুতে বিপদের আশঙ্কা (জেলসেমিয়াম)। আপাতত কোনও কারণ ছাড়াই আশঙ্কা। ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কা। স্বামী, ছেলে, মেয়ে, পরিবারের লোকজন যথাসময়ে বাড়ি ফিরছে না। কোন ও বিপদ ঘটেনি তো? ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে পাশ করবে তো? এরকম নানা অমূলক আশঙ্কা (আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, আর্সেনিক, কার্বো-ভেজ, জেলসেমিয়াম, লাইকোপোডিয়াম, মেডোরিনাম, ফসফরিক-অ্যাসিড, প্লাম্বম-মেটালিকাম, সাইলিশিয়া, থুজা)।
♦♦খিটখিটে বদরাগী : খিটখিটে স্বভাব কার্সিনোসিনের অন্যতম নির্দেশাত্মক লক্ষণ। উত্তেজনা প্রবণ। আমাদের ভেষজ ভান্ডারে যত রকম খিটখিটে স্বভাবের ওষুধ আছে সবার উপরে কার্সিনোসিন। শিশুদের ক্ষেত্রে এ লক্ষণ অন্যভাবে প্রকাশ পেতে পারে-অভদ্র, রূঢ়, মা বাবার অবাধ্য। মূল্যবান জিনিসপত্র ছুড়ে দেয়, ভেঙে ফেলে, তুচ্ছ বিষয়ে কান্না জুড়ে দেয়, চিৎকার-চেচামেচি করতে থাকে, প্রচন্ড রকমের জেদ। প্রাপ্ত বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে এরা ভদ্র, মাজির্ত স্বভাবের হলেও কোনও কিছু মনমতো না হলে বিপরীত মূর্তি ধারণ করে। অযৌক্তিক ভাবে হঠাৎ রেগে ওঠে। শান্ত স্বভাবের রোগীদের ক্ষেত্রে কার্সিনোসিন দেওয়া যায় না, তবে বদরাগী, উত্তেজিত রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক ভাল কাজ করে।
♦♦খুঁতখুঁতে স্বভাব : সব কাজে খুঁতখুঁতে, পিটপিটে স্বভাব (আর্সেনিক, অ্যানাকার্ডিয়াম, গ্রাফাইটিস, নাক্সভম)। বাড়ির কাজ, অফিসের কাজ সব কাজ নিখুঁত হওয়া চাই। সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ জেনে নেয়, বুঝে নেয় যাতে নির্ভূল হয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ফিটফাট, রুচিশীল। ঘরদোর, পোশাক আশাক সবকিছু ফিটফাট। আবার সোরিক রোগীদের মতো অগোছালো, গোসল করতে চায় না এমন বিপরীত লক্ষণও আছে।
♦♦বৈপরীত্য যেহেতু কার্সিনোসিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য- মানসিক লক্ষণেও বিপরীত লক্ষণ পাওয়া যায়।
বাতিক : সবধরনের বাতিক-সন্দেহবাতিক, বদ্ধমূল ধারণা, অশ্লীল জাতীয় স্নায়ুবিকতা, আতঙ্কগ্রস্ত ইত্যাদি কার্সিনোসিনে পাওয়া যায়।
হতাশা : মানসিক হতাশাগ্রস্ত। জীবনে হতাশা, আরোগ্য সম¡ন্ধে হতাশা, সব বিষয়ে একটা হতাশা। একসময় এ লক্ষণ এমন স্তরে পৌছায় যে রোগীরা জীবন শেষ করে দিতে চায়। আত্মহত্যা করতে চায় (অরাম-মেটালিকাম)। ডাঃ ক্লার্ক নির্দেশ দিয়েছেন- মানসিক রোগীদের আত্মহত্যার ঝোঁক থাকলে এবং ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা পেলে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করতে হবে।
♦♦অন্যান্য বিশেষ মনোলক্ষণঃ
শিশুরা মেধাবী, তীক্ষ বুদ্ধিমান। খুব মানসিক পরিশ্রম করতে পারে। নিরেট নির্বোধ শিশুও কার্সিনোসিনে পাওয়া যায়। এদের পড়াশোনা শেখানো, কোনও কিছু বোঝানো খুব সমস্যা। কোনও কিছু চিন্তা করা তাদের পক্ষে কষ্টকর। মানসিক বিকাশ পুরোপুরি ঘটে না। এখানেও সেই বৈপরীত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। মেধাবী বা জড় বুদ্ধি সম্পন্ন যাই হোক না কেন কার্সিনোসিনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো ভয়, আশঙ্কা।
♦♦আরো কিছু গুরুপ্তপূর্ন লক্ষনঃ
১. একগুয়ে, জেদি, অনমনীয় স্বভাব (টিউবারকুলিনাম)।
২. আত্মহত্যার প্রবণতা (অরাম মেট)।
৩. অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল (কস্টিকাম, ইগ্নেশিয়া, নেট্রাম -মিউর, নাক্র- ভমিকা, ফসফরাস)
৪. সান্ত্বনায় বিমুখ।
৫. তিরষ্কার বা ভৎর্সনায় অনুভূতিশীল (কলোফাইলাম, ইগ্নেশিয়া, ওপিয়াম, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া)।
৬. ঝড়বৃষ্টি-বজ্রপাতে আনন্দ পায় (সিপিয়া)। আবার বিপরীত লক্ষণও আছে, ঝড়ের হাওয়ায়, ঠান্ডায় শিশুরা ভয় পায়।
৭. ভ্রমণ প্রিয়তা( টিউবার)
৮. সঙ্গীতপ্রিয়।
সঙ্গীত, নৃত্যে অনুভূতিশীল। ছন্দ, তাল, লয় সমন্ধে সচেতন (ইগ্নেশিয়া, সিপিয়া, সাইলিশিয়া)। সঙ্গীতে কখনও কখনও কান্না পেয়ে যায় (ডিজিটেলিস, গ্রাফাইটিস, ক্রিয়োজোট, ক্যালি-নাইট্রিক এসিড, ন্যাট্রাম-কার্ব, নেট্রাম-সালফ, নাক্স-ভমিকা, থুজা)। ডাঃ হুই বনহুয়া বলেছেন, খুঁতখুঁতে স্বভাব ও সঙ্গীতে অনুভূতি প্রবণতা- দু’টি ওষুধে আছে। একটি কার্সিনোসিন ও অন্যটি নাক্র ভমিকা।
৯. শিশুরা নখের চারধারের চামড়াগুলি দাঁত দিয়ে কেটে বা চিমটি কেটে ছিড়ে ফেলে( সিনা)
বর্তমান সমস্যাসঙ্কুল পৃথিবীতে যেখানে প্রতিপদক্ষেপে মানসিক টেনশনে সকলেই ভুগছে- সমস্যা জটিল হতে জটিলতর হচ্ছে, যেখানে শৈশব থেকেই চাপাপড়া চিকিৎসায় চিকিৎসিত হয়ে বিভিন্ন মায়জমের জটিল সংমিশ্রন হচ্ছে, সেখানে এই ঔষধের উপযোগিতা প্রতি রোগীতেই দেখা যায় বলে মনে হয়।
>>>তিনটি কারণ একসাথে থাকলেই কার্সিনোসি ব্যবহার করা যায়- (১) রক্তের সর্ম্পক যুক্ত বংশে কারও ক্যান্সার বহুমুত্র ও ক্ষয়রোগের ইতিহাস। (২) ছোটবেলায় পরপর ৪/৫বার সংক্রামক রোগ হওয়ার ইতিহাস। (৩) দেহে বহু তিল জড়–ল প্রভৃতি চিহ্ন থাকলে।
* নিশ্চিত ক্যান্সার হলে এবং উপযুক্ত ঔষধ ব্যর্থ হলে কার্সিনোসিন প্রযোজ্য। ক্যান্সার বলে সন্দেহ হলে প্রয়োগ না করাই ভালো।
♦♦কার্সিনোসিনের সার্বদৈহিক লক্ষণ (Physical Symptoms):
Hesd(মস্তক) : মস্তিকের আড়ষ্টভাব (Sense of Symptoms) মস্তিষ্কের নিষ্ক্রিয়তা, জড়তা, গতিশক্তিহীনতা। মনে হয় মাথা কোনও কাজ করছে না। চিন্তা করা কষ্টদায়ক, দপদপানি ব্যথা, মাইগ্রেন-ডানদিকে। বেদনা অতি গভীরে বলে মনে হয় (টিউবারকুলিনাম)। মাথা ক্রমশ বড় হয়ে যাচ্ছে বলে অনুুভূতি, বিশেষত ডানদিকে। সেজন্য মাথা বেঁধে রাখতে চায়। ঝড় বাদলের আগে মাথা ধরা।
♦Skin(চর্ম) : চর্ম ধূসর, মেটে বর্ণ। দুধের সাথে কফি মেশালে যেরকম হয় অনেকটা সেরকম। প্রচুর সংখ্যক জরুল, আচিঁল, শ্লেষ্মাগুটি, জন্মকলঙ্ক। চর্মে বিশেষত বুকের মাঝখানে, দুই স্কন্ধস্থি (Scapula)-র মাঝখানে কাউর ঘা (Eczema) যা অনেকদিন ধরে সারছে না।
♦Eye(চোখ) : চোখ নীলবর্ণ। বিড়াল চক্ষু, চোখের সাদা অংশ নীলাভ, অনবরত চক্ষু পল্লবের মিটমিটানি, পিটপিটানি।
♦Nose(নাক) : নাকের ভিতর মারাত্মক প্রকৃতির ক্ষত, সর্দি প্রবণতা।
♦Face(মুখমন্ডল) : বর্ণ ধূসর, মেটে বর্ণ, দুধে-কফির বর্র্ণ, মুখমন্ডলের শিরাগুলি প্রকট, নীলাভা, মুখের পেশীগুলিতে অদ্ভুদ ধরনের খিঁচুনি, মুখে ব্রণ।
♦ Periodicity (পর্যায়শীলতা) : শরীরের একদিক থেকে অন্যদিকে রোগ লক্ষণের পর্যায়শীলতা (ল্যাক-ক্যানিনাম, সিপিয়া)।
♦Mouth (মুখ) : মুখে মারাত্মাক ধরণের ক্ষত, মাঢ়িতে অত্যানুভূতি, তালুতে যন্ত্রণা, গরম পানীতে উপশম দাঁতের যন্ত্রনা।
♦Throat (গলা) : গিলতে কষ্ট, গলায় সঙ্কোচন বোধ (Sense of constriction) স্বরভঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে, ফ্যাসফ্যাসে গলা।
♦Chest (বুক) : বুকে চাপ বোধ (Sense of constriction) এর থেকে উপশম পেতে ঘন ঘন শ্বাস নেয়, দীর্ঘশ্বাস নেয় (ইগ্নেশিয়া)।
হƒদকম্প-ধড়ফড়ানি, এত প্রচন্ড হƒদকম্প যে তা রোগী শুনতে পায়, অনুভব করে (স্পাইজেলিয়া)। বুকে বা স্তনে দলা, গুটলি। তাতে টাটানি ব্যথা। দীর্ঘস্থায়ী কষ্টকর কাশি। পাকস্থলী থেকে উদগত কাশি (ব্রায়োনিয়া)-স্টার্নাম অস্থির নিচের দিকে সুরসুর অনুভূতি। গরমে, গরম ঘরে বা ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি (রিউমেক্স), হাসলে বা কথা বললে বাড়ে (ফসফরাস, রিউমেক্স) পোশাক পরিবর্তনে বৃদ্ধি (রিউমেক্স) হাই তুললে বাড়ে (নেট্রাম সালফ)।
♦Extremeites(অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) : হাত পায়ের অসাড়তা। পেশীগুলিতে অনৈচ্ছিক খিঁচুনি। পায়ের পেশীগুলিতে দুর্বলতা। সায়েটিকা, ব্যথা-গরম প্রয়োগে, স্বাভাবিক চলাফেরায় (পালস্) অল্পক্ষণ ঘুমালেই উপশম (বিশেষ লক্ষণ)। জোরে হাটলে বাড়ে। বৃদ্ধাঙ্গুলের মাথা ফাটা ফাটা, সাথে যন্ত্রণা, চুলকানি।
♦ Intestinal and intestinal provinces( অন্ত্র ও আন্ত্রিক প্রদেশ) : পূরাতন যকৃত প্রদাহ। পেটে সবসময় এক অস্বস্তিভাব, ব্যথা অনুভব হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা সাথে উদরে ব্যথা। মলত্যাগের কোনও ইচ্ছা ও বেগ থাকে না। (অ্যালুমিনা, ব্রায়োনিয়া, গ্রাফাইটিস, হাইড্রাসটিস, ওপিয়াম) বদহজম-অবিরত বদহজম, বিশেষত শিশুদের। কিছু খেয়ে হজম করতে পারে না। মলদ্বারে সঙ্কীর্ণ অনুভূতি (Sense of constriction)| উদরশূন্য বিকেল ৪টা থেকে ৬টায় বৃদ্ধি। চাপ প্রয়োগে, সামনের দিকে ঝুকে থাকলে, গরম কিছু পান করলে উপশম পাওয়া যায় (ম্যাগ ফস)। বমি বমি ভাব সহ পেটে এক ধরনের অস্বস্তিকর অনুভূতি (Fear in pit of stomach with desire of vomit). উল্লেখ্য এ লক্ষণটি ভয়ের বা আতঙ্কের কারনেই সৃষ্টি।

♦♦কার্সিনোসিনের শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ (Physical Function)
♦ Appetite( ক্ষুধা) : ক্ষুধা মন্দা। খেতে অনীহা, দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যে অরুচি, বিতৃষ্ণা। আবার বিপরীত লক্ষনেও ভরপুর।
♦ Thirst(পিপাসা) : অত্যধিক পিপাসা ও পিপাসাহীনতা দু’টি লক্ষণই কার্সিনোসিনে দেখা যায়।
♦Stool(পায়খানা) : কোষ্ঠবদ্ধতা এবং উদরাময় দুটি লক্ষণের রোগী পাওয়া যায়। মলত্যাগের বেগহীন কোষ্ঠবদ্ধতা (ওপিয়াম)। মল শক্ত এবং শুকনো।
♦ Discharge (স্রাব) : মাসিক স্রাবের গন্ডগোল। যে কোন স্রাব ঘন ও ক্ষতকর (Thick and Acrid) যৌনক্ষেত্রে মহিলাদের জরায়ুর ক্ষত। ভীষণ যন্ত্রণাপূর্ণ ক্ষত। ক্ষত থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পূজ, ঝাঁঝালো প্রকৃতির রক্তস্রাব হয়। হস্তমৈথুনের ফলে স্বাস্থ্যহানি। পুরুষদের যৌন উত্তেজনা কম। পুরুষত্বহীনতা।
♦Sleep(নিদ্রা) : কার্সিনোসিনের অন্যতম নির্দেশক লক্ষণ-অনিদ্রা। ভয়, আশঙ্কা ইত্যাদির কারনে দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা। অস্থির নিদ্রা। বিঘ্নিত নিদ্রা, শরীরে এক ধরনের ঝাঁকি দিয়ে উঠে ঘুম আসতে চায় না। ভোর ৪টায় ঘুম ভেঙে যায়। অনিদ্রার কারণে মানসিক দুর্বলতা। এ অবস্থায় অল্প ঘুমালেই শান্তি ফিরে আসে।
♦স্বপ্ন : স্বপ্নবহুল নিদ্রা, উত্তেজনাপূর্ণ স্বপ্ন, ব্যস্ত তৎপর বিষয়গুলি নিয়ে স্বপ্ন (কফিয়া)।
কার্সিনোসিনের নিদ্রাকালীন অবস্থা (Position of sleep)
কার্সিনোসিনের নিদ্রাকালীন অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য ঔষধের সাথে তুলনা করে, সদৃশ্য অন্যান্য লক্ষণ পাওয়া গেলে কার্সিনোসিন অসাধারণ ফল প্রদান করে। হাঁটু দু’টো গুটিয়ে শোয়া। (ক্যাল্কেরিয়া-ফস, লাইকোপোডিয়াম, মেডোরিনাম, ফসফরাস, সিপিয়া, টিউবার-কুলিনাম)। হাঁটু ও কনুই একত্রে বুকের কাছে জড়ো করে উপুর হয়ে ঘুমায় (Genu pactoral position during sleep).
♦ Desire and Aversion(ইচ্ছা-অনিচ্ছা):
এ লক্ষণটি নয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। বয়স্করা মাথার উপর হাত দিয়ে চিত হয়ে ঘুমায় (পালস)। শিশুদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ওপরের উল্লেখিত নিদ্রা যাওয়ার লক্ষণটি পরিবর্তন হলেও শৈশবে ঐরকম নিদ্রা যাওয়ার অভ্যাস, জীবনের কোনও এক সময়ে দীর্ঘকাল ধরে অনিদ্রায় ভোগার ইতিহাস থাকলে, অন্য ঔষধে আশান্বিত ফল না পেলে বা সদৃশ্যতা না পাওয়া গেলে কার্সিনোসিনাম প্রযোজ্য।
নোনতা খাদ্য, দুধ, মিষ্টি, মাখন, চর্বিযুক্ত মাংস-এসব খাদ্যে আগ্রহ। ডিম, ফল, চর্বি জাতীয় খাদ্য, দুধ, চিনি-এসব খাদ্যে অনিচ্ছা। বিভিন্ন খাদ্যে আসক্তি যেমন আছে অভক্তি ও দেখা যায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে। আবার এমনও দেখা যায় সেসব খাবার হয়তো সহ্য করতে পারছেনা। খেলেই বদহজম হচ্ছে। এখানেও সেই বৈপরীত্য। সুতরাং কোন বিশেষ খাদ্য-দ্রব্যের প্রতি আগ্রহ, অপছন্দ তা সঠিকভাবে বলা খুবই কঠিন।

♦ Modalities(হ্রাস- বৃদ্ধি):
পোশাক পরিবর্তনের পর কাশি, চুলকানি বৃদ্ধি, বেলা ১টা থেকে ৬টা কিংবা রাতে বৃদ্ধি, রোগের চিন্তায় একা থাকলে বৃদ্ধি, অমাবস্যা-পূর্ণিমায় বৃদ্ধি (থুজা, সাইলেশিয়া), হাসলে বা কথা বললে বৃদ্ধি (ফসফরাস)। বিশ্রামে, ঘুমালে, কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকলে উপশম। হাঁপানি তথা শ্বাসকষ্ট, সমুদ্র এলাকায় বেড়াতে গেলে ভাল থাকে। কখনও ঠান্ডায় উপশম, কখনও গরমে উপশম। সমুদ্রের বায়ুতে কখনও ভাল থাকে, কখনও শরীর খারাপ করে (নেট্রাম-মিউর, মেডোরিনাম)। সমুদ্রের এই পাড়ে হয়তো ভাল, অন্য পাড়ে অসুস্থতা। বৈপরীত্য যেহেতু কার্সিনোসিনের অন্যতম প্রধান পরিচয়-এখানেও সে লক্ষণের অভাব হয় না।

♦ Positive Diagnosis (কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য):
আমরা জানি, হোমিওপ্যাথি রোগের চিকিৎসা করে না, করে রোগীর চিকিৎসা। সদৃশ লক্ষণ পাওয়া গেলে সমস্ত অসুস্থতায় কার্সিনোসিন কার্যকর হতে দেখা যায়। তবে বংশে ক্যান্সার সহ নানা রকমের অপকর্ষ রোগের ইতিহাস থাকলে, শিশু বয়স থেকে প্রদাহিক অসুস্থতায় ভোগার ইতিহাস থাকলে, অনিদ্রার ইতিহাস, ভীতু প্রকৃতির মানসিকতা ইত্যাদির চিত্র পাওয়া গেলে নিম্নলিখিত রোগলক্ষণে কার্সিনোসিন প্রযোজ্য। ক্যান্সারের পূর্বাবস্থায়, অপুষ্টি, দূরারোগ্য যেকোন ও অসুস্থাবস্থা, থ্যালসেমিয়া, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, স্পন্ডলাইসিস, অ্যালবুমিনযুক্ত রক্তপ্রস্রাব, কোষ্ঠবদ্ধতা, উদরাময়, অনিদ্রা, মারাত্মক প্রকৃতির রক্তহীনতা, একপার্শ্বিক রোগ, বংশগতভাবে অর্জিত যে কোন রোগ, টিউবারকুলোসিস। দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা,মানসিক আঘাত ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট শরীর-মনের বিভিন্ন অসুস্থতায় কার্সিনোসিন চিন্তেয়।

♦Potency and Dose (ঔষধের শক্তি ও মাত্রা):
উচ্চ শক্তি সিঙ্গেল ডোজ প্রয়োগ।
মনে রাখতে হবে, যথার্থ ক্ষুদ্র মাত্রায় প্রয়োগ করা হলে, চিকিৎসাকালে কোনও ওষুধজ বৃদ্ধি আসে না। চিকিৎসা সমাপ্ত হওয়ার আগে যখন আর ঔষধের প্রয়োজন নেই তখন বৃদ্ধি দেখা যায়। প্রথম দিকে বৃদ্ধি হলে বুঝতে হবে ঔষধের মাত্রা বড় হয়েছে। আরোগ্যোন্মুখ অবস্থায় আর ঔষধের প্রয়োজন আছে কিনা তা দেখার জন্য কয়েকদিন ঔষধ বন্ধ রাখতে হবে। নির্ভরযোগ্য ভাবে, নির্বিঘ্নে চিকিৎসা করা সম্ভব এটা বর্তমানকালের সমস্ত প্রতিষ্ঠিত হ্যানিম্যানীয় চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা।
♦Other Related Remedis (তুলনীয় ঔষধ) :
অ্যালুমিনা,আর্সেনিক-অ্যাল্ব, ক্যাল্কেরিয়া-ফস, ডিসেন্টেরি কম্পাউন্ড,ডায়াস্কোরিয়া, গার্টনা,লাইকোপোডিয়াম,মেডোরিনাম,নেট্রামমিউর,নেট্রামসালফ,ওপিয়াম,ফসফরাস, পাল্সটিলা, সোরিনাম, সিপিয়া, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া, সালফার, সিফিলিনাম, থুজা, টিউবারকুলিনাম সহ অন্যান্য নসোড ঔষধগুলি।
♦Warning ( সর্তকতা):
ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করা উচিত নয়। তাতে রোগ অন্যত্র ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় অথবা রোগ আরও বৃদ্ধি হয়ে রোগীর জীবন সংশয় হতে পারে বলে ডাঃ ফবিস্টার জানিয়েছেন। ক্যান্সার তৃতীয় অবস্থায় যখন বিধ্বংসী কাজ শুরু হয়ে যায় তখন রোগীকে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করা হলে প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় যন্ত্রনাহীন মৃত্যু সম্পন্ন হয়।

 

সুত্রঃ ইন্টারনেট

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (সন্ধ্যা ৭:৩৪)
  • ৪ঠা মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৯শে রজব ১৪৪২ হিজরি
  • ১৯শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)