আজ শনিবার,২১শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৬ই মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আপনার জন্য কোনটি ভালো – হোমিওপ্যাথি নাকি এলোপ্যাথি?

কোনটা ভাল , হোমিওপ্যাথিক নাকি এলোপ্যাথিক?

 

 

 

পৃথিবীর কোনো প্যাথি ই স্বয়ংসম্পুর্ন না । কিন্তু স্বয়ংসম্পুর্নের কাছাকাছি চিকিৎসা হচ্ছে এলোপ্যাথিক । যখন রোগীর কোনো অর্গান নষ্ট হয়ে যায় , জটিল কোনো অবস্থায় , লাইফ সাপোর্টের বেলায় , জীবানু রুখে দিতে , ভাংগা বা আঘাতের রিপেয়ারে , সার্জিক্যাল ইত্যাদি কেসে এলোপ্যাথিক ছাড়া কোনো উপায় নেই । আবার এমন কিছু ডিজেনারেটিভ রোগ আছে যেখানে এলোপ্যাথিক অসহায় আর কিছু ক্ষেত্রে সার্জারি লাগে । যেখানে হোমিও বেশ সফল । আর সাইডিফেক্ট সব প্যাথিতে আছে , হোমিওতে কি নাই ? আছে । এখানে সহনিয় মাত্রায় বা সহনশীল হলে সমস্যা নাই । ওভারডোজ তো ভালো জিনিষ কেও ক্ষতি করবে । রোগের ও রোগীর অবস্থা অনুসারে সুইটাবল ডোজ কোনটা তা দেখতে হবে । ধরি, সাপে কামর দিছে রোগীরে , বিষাক্ত সাপ , এখানে যে ওষুধ আছে তার হালকা সাইডইফেক্ট আছে , বাট জীবন বাচানোর জন্য এটা মেনে নিতে হবে ।
.
ধরেন , আপনার এপেনডিক্সের প্রচুর ব্যাথা , প্রদাহ হয়ে গেছে । আপনি অসুস্থ্য হয়ে পরছেন ব্যাথা ও বমির কারনে , কি করবেন ? এলোপ্যাথ বলে অপারেশন , আর আপনি অপারেশনের ভয়ে হোমিও খাবেন ? আমার পরামর্শ একদম না , ডাইরেক অপারেশন করিয়ে ফেলুন । যেখানে কোনো উপায় নাই অপারেশনের সুযোগ নাই , এমন স্থানে আছেন , দুর্গম এলাকা, হাসপাতাল নেই , হ্যা এমন স্থানে হোমিও দিয়ে ট্রাই করুন , মন্দের ভালো হিসেবে । হোমিও এখানে যোগ্য ডাক্তারের হাতে মিরাকল দেখাতে পারে তবে তা নগন্য , আর নগন্য কখোনো উদাহরণ হয়না । তাই নো রিস্ক , এটা সার্জিক্যাল কেস । হোমীও ডাক্তারদের সার্জারি পড়ানো হয় পুরো একটা বছর , যেনো সে বুজতে পারে কখন রোগীকে সার্জনের কাছে রেফার করতে হবে ।
.
আমার এক হোমিওর ছাত্র ( এখন পড়ছে ) বুকে ব্যাথা , USG করে দেখাগেলো পিত্তথলিতে পাথর , আমায় ফোন দিলো স্যার কি করবো ? হোমীও বইতে তো লেখা , পাথর একদম হাওয়া হয়ে যাবে , হোমিও খাওয়া শুরু করবো ? আমি সরাসরি বলেদিলাম , একদম না । এক্ষন অপারেশন করিয়ে ফেলুন । রিস্ক নেবেন না । পিত্তথলির পাথরে হোমিওর রেজাল্ট খুব ভালো না ,আমার হাতে একদম না । অনেকের বইয়ে পড়েছি তারা সফল , হয়তো হবে । বাট আমার কাছে এটা রিস্ক । যদিও কিডনির পাথরে রেজাল্ট খারাপ না ।
.
ডায়েবেটিস , উচ্চরক্তচাপ , হরমোনের সমস্যা , হাইপার বা হাইপো থাইরয়েডিজম ইত্যাদি এসব রোগে রোগী হলো , “ ভালো হবেনা “ কিন্তু “ ভালো থাকবে” টাইপের । এখানে রোগীকে ভালো রাখা হলো মূল বিষয় । এই ভালো রাখাটা হোমিও , ইউনানি , আয়ুর্বেদির চেয়ে এলোপ্যাথিক ভালো পারে । হ্যা এলোপ্যাথির সাথে হার্বস বা হোমিও চলতে পারে চলতে পারে । তাই এখানে আপনি যদি বলেন এত কোর্স হোমিও সেবন করলেই ডায়েবেটিস একদম ভালো হয়ে যাবে , এটা হবে কোয়াকদের মত কথা চিকিৎকসুলভ কথা না । এজমার বিষয় হলো কিছু আছে ভালো হয়ে যায় , তবে যা ভালো হবেনা তা কোনো প্যাথিতেই হবে না । একেবারে কন্ট্রোলে রাখতে হবে , তার জন্য এলোপ্যাথ একটু বেশি আগাইয়া আছে অন্যপ্যাথির চেয়ে । বাচ্চা প্রসবের সময় যখন সত্যি জটিলটা আসে তখন সিজার ছাড়া উপায় থাকে না , তখন এই অবস্থায় সিজারই হচ্ছে একমাত্র চিকিৎসা । ( যদিও অনেক হাসপাতাল এটাকে এখন বিজনেস হিসেবে নিয়েছে , সেটা ভিন্ন কথা ) । বিষ খাওয়া রোগীর জন্য এলোপ্যাথের সহায়তা লাগবে ( পেট ওয়াস করতে আপনি পারলে ওকে, সমস্যা নাই, বাট আপনি হোমিওপ্যাথ এটা তো পারেন না ) , বিষাক্ত সাপে কামড় কোনো হোমিও ফোটায় কাম হবে না, এন্টি ভেনম লাগবেই ।
.
হাড় ভেঙ্গে গেলে , অনেক কেটে গেলে , খাদ্যানালীতে প্যাচ লাগলে, খাদ্যনালী ফুটো হয়ে গেলে ,কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেলে কই যাবেন ?
.
ক্যান্সার নিয়ে হোমিওতে প্রতারনা হয় বেশি , একদম টিভিতে বিজ্ঞাপন টিজ্ঞাপন দিয়ে এরা বলে থাকে আমি ক্যান্সার ভালো করি , কি হাস্যকর !! এখানে আমার রোগীদের একজন অনকোলোজিস্টের কাছে রেফার করি এবং রোগীর আগ্রহ থাকলে আমি অনকোলোজিস্টের সাথে কথা বলে বোজার চেস্টা করি ও এলোপ্যাথের সাথে হোমিও চালাই , রোগীকে যতটুকু পারি ভালো রাখার চেষ্টা করি আমরা উভয়েই ।
.
এলোপ্যাথকে গালী দেওয়া হোমিওপ্যাথ যখন এলোপ্যাথিক হাসপাতালে মারা যায় তখন মনে মনে চিন্তা করি , আরে বাবা কি দরকার ছিলো গালী দেওয়ার !! আপনি আপনার প্যাথির সাথে অন্যপ্যাথিকে সন্মান করলেই হয় । আসলে সব প্যাথি দরকার কোনটাকে ফেলবেন । স্বাস্থ্য রক্ষার সবাই কম বেশি অংশগ্রহন করছে । কিন্তু বেশি ভুমিকা রাখছে এলোপ্যাথি । যেখানে ক্রিটিক্যাল প্যাসেন্ট কেয়ারে এলোপ্যাথির ধারে কাছেও কেউ নাই ।
.
সেদিন , আমার বাম স্তনে প্রচুর জ্বালাপোড়া ,প্রথম গুরুত্ম না দিলেও কয়েদিন পরে এটা বেড়ে গেলে ভয় পেয়ে গেলাম , ফুলে গেলো হালকা । লক্ষন পেলাম হোমিও ওষুধ “আর্সেনিকে” এর ( এই আর্সেনিক মানে আর্সেনিক বিষ না , এটা ওষুধের নাম ) । জাস্ট একফোটা খেলাম , জার্মানি ওষুধ না , বাংলাদেশের নিউলাইফ কোম্পানির । ঐযে জ্বালাপোড়া গেলো আর আসেনায় । একদম মিরাকল । এর মানে এই না যে হোমিও সব ভালো করে ফেলবে ।
.
টিউমার , আচিল, কিডনির পাথর , করোনারি আর্টারিতে ব্লকেজ (হার্ট ব্লকেজ ) ইত্যাদি রোগ সার্জিকেল কেস হলেও এসব অভিজ্ঞ হোমিওর কাছে পানিভাত । অনেক এলোপ্যাথ বন্ধু আমার কাছে এসব রোগী রেফার করে , সত্যি বলছি । কিছু ক্রনিক রোগে হোমিও সফল , যেমন সফল ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক । সো , আপনি কাকে খারাপ বলবেন ? সব তো প্রয়োজন ।
.
ছোটো মুখে একটা বড় কথা বলি , পৃথিবীর অনেক দেশে হোমিও নাই , তারা কিন্তু এলোপ্যাথিক খেয়ে বেঁচে আছে । রোগ “চাপা পড়া” জনিত রোগে কাতারে কাতারে মরছে না ।
.
তাই আসেন নিজের প্যাথির সাথে অন্য প্যাথির সন্মান করি।

 

সুত্রঃ ইন্টারনেট

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার (সন্ধ্যা ৭:৩১)
  • ৬ই মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২১শে রজব ১৪৪২ হিজরি
  • ২১শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)