আজ শনিবার,২১শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৬ই মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

যারা নতুন চিকিৎসক তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট

নব্য চিকিৎসকের জানা জরুরী

 

 

ডাঃ হ্যানিম্যানের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সর্ম্পকে চিকিৎসকের কতিপয় জরুরী বিষয় যেগুলো নতুন চিকিৎসকদের জানা বড়ই জরুরী। যদি এটা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে তাহলে চিকিৎসা জীবনে নানা ক্ষেত্রে বড়ই অস্বস্হির মধ্যে পড়তে হয়। তাই সে সম্পর্কে আলোকপাত করার উদ্দেশ্যে আজকের এ পোষ্টঃ

>> কোন রোগীর চিকিৎসা কালে রোগীর ধাতুগত লক্ষণ, মাসনিক লক্ষণ ও রোগীর নির্দেশক লক্ষণের সাথে ঔষধের লক্ষণ সাদৃশ্য যে ঔষধে সর্বাপেক্ষা অধিক, সেই ঔষধটি সেই পীড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।

>>ঔষধের পরিমাণ ও মাত্রা যতদুর সম্ভব স্বল্প হয়, উপকারও তত অধিক ও ক্রিয়া অধিক দিন স্থায়ী হইয়া থাকে। পুরাতন রোগের চিকিৎসাকালে ৮, ১০ টি পোস্ত বা সাগুদানার মত ২/৪ টি অনুবটিকা জিহ্বার উপর দিবেন কিংবা অর্দ্ধ ছটাক পরিশ্রুত জলসহ মিশিয়ে, প্রথম মাত্রা প্রাতে খালিপেটে মুখ প্রক্ষালনের পর রোগীকে সেবন করিতে দিয়ে নূন্যতম দুই ঘন্টা কাল কোনও দ্রব্য আহার বা পান করতে দিবেন না। পরে এক, দুই বা তিন সপ্তাহকাল ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবেন, উপকার না হলে কিংবা আবশ্যক বুঝলে উক্ত সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় মাত্রা প্রয়োগ করতে পারেন। ৬/৭ মাত্রা ঔষধ প্রয়োগের পর যদি দেখতে পান যে, কিছুই উপকার হয়নি, তখন মনোনীত অন্য একটি ঔষধ কিংবা পূর্ব ঔষধের শক্তি পরির্বতন করে উক্ত প্রকারের প্রয়োগ করিবেন। শুধুমাত্র একটি ঔষধের সাহায্য নিয়ে জটিল পুরাতন পীড়ায় চিকিৎসা কখনও সম্পাদিত হতে পারে না, নতুন লক্ষণ উৎপাদিত হইলে তদনুযায়ী ঔষধের ও পরিবর্তন করতে হবে। রোগ লক্ষণের সাথে ঔষধ লক্ষনের বিশেষ সাদৃশ্য থাকলেও ৫/৬ মাত্রায় ঔষধে কোন ক্রিয়া না হইলে হ্যানিম্যান রোগীর ধাতু অনুযায়ী দুই এক মাত্রা এন্টিসোরিক, এন্টিসাইকোটিক বা এন্টিসিফিলিটিক কোন ঔষধের মধ্যে প্রদান করে পরে সেই পূর্বের ঔষধ পুনঃ প্রয়োগ করিতে উপদেশ দেন।

>>কোনও ঔষধের ২/৩ মাত্রায় পীড়ার একটু উপশমবোধ হইলে যতক্ষণ ঐ ঔষধের ক্রিয়া শেষ না হয়, অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত ঔষধের ক্রিয়ার স্পষ্ট উপকার বুঝতে পারা যায়, ততক্ষণ দ্বিতীয় মাত্রা প্রয়োগ করবেন না।

>>কোনও ঔষধ প্রয়োগ করে রোগের বৃদ্ধি হইলে মনে করবেন না যে, ঔষধ নির্বাচনে ভুল হইয়াছে, সে স্থলে ২/৪ দিন ঔষধ সেবন বন্ধ রাখিলেই উক্ত প্রকারের বৃদ্ধি আপনা হইতেই হ্রাস হবে এবং আরও কিছুকাল অপেক্ষা করলে আসল পীড়াটিও ধীরে ধীরে আরোগ্য লাভ করবে। ঔষধ সেবন জনিত রোগের বৃদ্ধি সাধারণত ৩/৪ দিনের মধ্যেই উপশমিত হয়; কিন্তু তাহা না হইয়া রোগ লক্ষণ উত্তরোত্তর বর্দ্ধিত হতে থাকলে বুঝতে হইবে যে, উহা ঔষধ সেবন জনিত বৃদ্ধি না। ঔষধ সেবন জনিত রোগ বৃদ্ধিতে ঔষধ প্রয়োগ না করলে ঔষধের ক্রিয়ার ব্যাঘাত হয়, রোগের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ঔষধ প্রয়োগ না করলে রোগের অতিরিক্ত বৃদ্ধি হয়।

>>কোনও ঔষধ সেবন করিবার অনতিপরে কোনও পুরাতন পীড়ার উপসর্গ সমূহ অন্তর্হিত হলে বুঝবেন যে, ঔষধ নির্বাচন ঠিক হয় নাই এবং তাহাতে সেই পীড়াও আরোগ্য হইবে না, এইরুপ রোগের উপশম হওয়াকে ক্ষণস্থায়ী উপকার বলে।

>>আভ্যন্তরিক কোনও ঔষধ সেবনকালীন মাদার টিংচার ইত্যাদি কোনও প্রকার বাহ্য প্রয়োগের ঔষধ ব্যবহার করা কেহ কেহ বলেন হোমিওপ্যাথির নীতি বিরুদ্ধ। কারণ আভ্যন্তরিক ঔষধের পরিমাণ অতি ক্ষুদ্র এবং বাহ্য প্রয়োগের পরিমাণ অতি স্থুল, সুতরাং তাহাতে প্রথমোক্ত ঔষধের ক্রিয়া নষ্ট হওয়া সম্ভব। অনেকে আবার বাহ্যিক ঔষধ ব্যবহারের পক্ষপাতী এবং অনেক সময় তাহাতে রোগ যন্ত্রণার আশু উপশমও হইতে দেখা যায়, এরুপস্থলে ও ক্ষত ইত্যাদিতে আবশ্যক বুঝিলে রোগী যে ঔষধ সেবন করিতেছে সেইটিই কিংবা তাহার সাদৃশ অন্য কোনও ঔষধ অর্থাৎ যাহাতে সেবনীয় ঔষধের ক্রিয়ার ব্যঘাত না হয়, এরুপ কোনও একটি ঔষধ উক্ত প্রণালীতে ব্যবহার করিতে পারেন। সাধারণতঃ এক আউ¯œ ভ্যাসেলিনে, গ্লিসারিণে বা অলিভ অয়েলে বা জলে ২০ ফোঁটা মূল আরক (মাদার টিংচার) মিশাইয়া লইলেই মৃদু বাহ্য প্রয়োগের ঔষধ প্রস্তুত হইয়া থাকে।

>>একমাত্রা ঔষধ প্রথমতঃ সেবন করাইয়া যতদিন ঔষধে উপকার হইতে থাকিবে, ততদিন রোগীকে শুধু গ্লোবিউলস, সুগার অব মিল্ক বা কেবলমাত্র স্পিরিট ২/১ ফোঁটা, একটু জলে মিশাইয়া প্রত্যহ তিন, চার বার করিয়া সেবন করিতে দিবেন। ইহাতে রোগীর বিশ্বাস থাকিবে যে, সে প্রত্যহই ঔষধ সেবন করিতেছে। এইরুপ শূণ্য ঔষধ ফাইটাম, নিলম বা গ্লাসিবো ইত্যাদি নামে অভিহিত হয়।

>>পর্যায়ক্রমে ঔষধ অর্থাৎ একবার একটি, দ্বিতীয়বার আর একটি, এইরুপ পর পর দুই তিন প্রকার ঔষধ সেবন হোমিওপ্যাথির নীতিবিরুদ্ধ। ইহাতে একটি ঔষধের ক্রিয়া আর একটি ঔষধের ক্রিয়াকে সাধ্যমত বাধা প্রদান করে। এখানে হয়ত কেহ বলিতে পারেন যে, তিনি এ প্রকার করেন ও তাহাতে অনেক পীড়াও আরোগ্য হয়, সেস্থলে তাহাঁর নিকট বক্তব্য যদি তিনি শুধু একটিমাত্র ঔষধ ব্যবহার করিয়া দেখেন, তাহা হইলে বুঝিতে পারিবেন যে, যে পীড়া দুইটি ঔষধ পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করিয়া ৭ দিনে আরোগ্য হইতেছিল। একটিমাত্র ঔষধ ব্যবহৃত হওয়ায় সেই পীড়া ৩/৪ দিনে আরোগ্য হইয়াছে। তবে কলেরা, ইত্যাদি পীড়ায় কখনও কখনও দুইটি ঔষধ পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করিতে হয় এবং তাহাতে বিশেষ ফলও পাওয়া যায়। সুসলারের টীসু ঔষধগুলি পর্যায়ক্রমে ব্যবহৃত হয়। ডাঃহিউজেস সমুদয় সদৃশ লক্ষণ এক ঔষধে না মিলিলে দুইটি ঔষধ পর পর ব্যবহারের উপদেশ দেন, মহাতœা হ্যানিম্যান কিন্তু এই মতের অনেকটা বিরোধী ছিলেন ।

>>কোনও নতুন পীড়া, যেমনঃ- জ্বর, নিমোনিয়া, উদরাময়, কলেরা ইত্যাদি চিকিৎসাকালে পীড়ার উপসর্গের মধ্যে যে উপসর্গটি প্রবল ও অধিক যন্ত্রণাদায়ক, প্রথমতঃ সেইটির উপশম করাইয়া রোগীর মন সুস্থির রাখিবার জন্য চেষ্টা করিবেন। চিকিৎসাকালে চিকিৎসক লিভার, ফুসফুস, মস্তিক, হৃৎপিন্ড ইত্যাদি আভ্যন্তরিন যন্ত্রগুলির উপরই সর্বদাই দৃষ্টি রাখিবেন, ঔষধ কখনও ঘন ঘন পরিবর্তন করিবেন না এবং পীড়ায় ভোগকাল পর্যন্ত চিকিৎসক কখনও ব্যস্ত হইবেন না।

>> পুরাতন জটিল পীড়ায় চিকিৎসাকালে সাধারণ রোগলক্ষণের উপর বিশেষ লক্ষ্য না রাখিলেও তত ক্ষতি হয় না; কিন্তু পীড়ার মূল কারণ অর্থাৎ কোন বিষ শরীরের মধ্যে গুপ্তভাবে নিহিত আছে ও কোথা হইতে পীড়ার উৎপত্তি সেইটির উপর সর্বাগ্রে লক্ষ্য রাখিতে হইবে। হ্যানিম্যান তাঁহার ক্রণিক ডিজিজ নামক গ্রন্থে সোরা, সিফিলিস ও সাইকোসিস, এই তিন প্রকার বিষ সর্ববিধ পুরাতন পীড়ার আকার বা উৎপত্তি স্থল বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন, সুতরাং উক্ত তিন প্রকার মূল বিষেরই প্রতিবিষ ঔষধ প্রয়োগ দ্বারা প্রথমে চিকিৎসা আরম্ভ করিতে হইবে। পরে লক্ষণ অনুযায়ী ঔষধ অন্যান্য ঔষধ পর পর প্রয়োগ করিতে থাকিবেন। পুরাতন পীড়ায় চিকিৎসাকালে চিকিৎসক ও রোগী ঊভয়ের ধৈর্যধারণ আবশ্যক। হ্যানিম্যান বলেন, অত্যন্ত জটিল পুরাতন পীড়া অসাধ্য হইলেও অন্যূন্য দুই বৎসর ঔষধ সেবন করিয়া দেখা আবশ্যক।

>>নতুন শিক্ষার্থীগণ ঔষধের শক্তি লইয়া অনেক সময় বড়ই ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়েন। এ বিষয়ে অনেকে মতভেদ আছে কেহ নি¤œ, কেহ উচ্চক্রম ব্যবহারের পক্ষপাতী। প্রকৃত ঔষধ নির্বাচিত হইলে ঔষধের শক্তিতে কিছু আসে যায় না, তবে সাধারণতঃ তরুণ পীড়ায় ১ম ও ১. হইতে ৩০শ শক্তি, কখনও বা ২০০ শক্তি এবং পুরাতন পীড়ায় ১,০০০ হইতে সি, এম; এম, এম শক্তি পর্যন্ত ব্যবহৃত হইয়া থাকে। পুরাতন পীড়ায় শক্তি যত উচ্চ হইবে ততই আমূল প্রোথিত গুপ্ত পীড়ার উপর ক্রিয়া করিবে, পুরাতন পীড়ায় ৬/৩০/২০০ শক্তিতে বোধ হয় ফল হইবে না। উচ্চ শক্তির ক্রিয়া নি¤œ শক্তির অর্থাৎ স্থুলমাত্রার ঔষধ অপেক্ষা অধিকদিন স্থায়ী হয় এবং উপকার হইলে একমাত্রা ঔষধ দিয়ে ১ মাস বা ২মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করিতে পারেন। পরীক্ষায় কেবলমাত্র ৯ম শক্তি পর্যন্ত মূল ঔষধের অংশ পাওয়া যায়।

>> উচ্চশক্তির সাঙ্কেতিক চিহ্ন সমূহ- সি (C) – ১০০; ডি (D) – ৫০০; এম (M)- ১,০০০; সি,এম (C.M) – ১,০০,০০০; ডি,এম (D.M) – ৫,০০,০০০; এম,এম (M.M) – ১০,০০,০০০।

>>রোগ লক্ষণ সমূহ ঔষধ লক্ষণ মিলিত হইয়াও যখন কোনও একটি নির্বাচিত ঔষধে উপকার বা স্থায়ী উপকার না হয়, তখন হঠাৎ প্রদত্ত ঔষধটি কে পরিবর্তন না করিয়া কেবলমাত্র সেই ঔষধের শক্তিটি ক্রমশঃ পরিবর্তন করিয়া ব্যবহার করিলে উপকার হওয়া সম্ভব। যেমন প্রথমে উচ্চশক্তি ব্যবহারে উপকার না হইলে পরেরবারে মধ্যশক্তি, পরিশেষে নি¤œশক্তি। পুনরায় উচ্চশক্তি, প্রতিবারেই কেবলমাত্র ইহার শক্তিটি ঐ রুপ পরিবর্তন করিলেই উপকার হইবে। জলমিশ্রিত ঔষধ হইলে প্রতিদিন প্রাতে প্রথম মাত্রা সেবনকালীন ঔষধের শিশির তলদেশটি হস্তের উপর ৬/৭ টি জোরে আঘাত করিলে কিঞ্চিৎ শক্তির পরিবর্তন হইয়া উপকার অধিক হয়।

>>এলোপ্যাথিক কিংবা কবিরাজী চিকিৎসায় ব্যর্থ হওয়া পর কোনও রোগী সদৃশ বিধান চিকিৎসা নিতে আসলে প্রথমে ৬ষ্ঠ শক্তি এবং হোমিওপ্যাথিক পরিত্যক্ত রোগীকে ৩০ শক্তির দ্বারা চিকিৎসা আরম্ভ করিবেন।>ঔষধ ব্যবহারকালীন পানসহ চুন, সোডা, লিমমেড, সির্কা এবং চা ও তিক্ত পর্দাথের দ্বারা দন্তমার্জন করা সর্বসম্মত ভাবে পরিহায্য। (হিপার, ক্যালকেরিয়া, সাইলি ব্যবহারকালীন চুন, সোডা নিষিদ্ধ)হিউজেস সমুদয় সদৃশ লক্ষণ এক ঔষধে না মিলিলে দুইটি ঔষধ পর পর ব্যবহারের উপদেশ দেন, মহাত্না হ্যানিম্যান কিন্তু এই মতের অনেকটা বিরোধী ছিলেন।

 

সুত্রঃ ইন্টারনেট

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার (সন্ধ্যা ৭:৪২)
  • ৬ই মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২১শে রজব ১৪৪২ হিজরি
  • ২১শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)