আজ শনিবার,২১শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৬ই মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নেট্রাম মিউর সম্বন্ধে জেনে নিন – পর্ব ১

নেট্রাম মিউর

 

 

 

sad but cannot weep:
অবরুদ্ধ কান্না, মানুষের কান্না হচ্ছে সহজাত আবেগ, যার উৎপত্তি দুঃখ বোধ থেকে। আবেগের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে কান্না। সেটা থেমে গেলে অশ্রু থাকে না।
ডা. ‌বোগার বলেন thin, thirsty, hopeless সরু মানুষ, পিপাসার্ত আনন্দহীন বা আশাহীন।

বিভিন্ন মেটেরিয়া মেডিকায় শুধু নিচের ঠোঁটের মাঝ খান ফাটা বলা হলেও ডা. হেরিং গাইডিং সিম্টোমে উভয় ঠোঁট ফাটার কথা বলেছেন। গরম বা শীতকাতর বলা হলেও গরম, তাপে বৃদ্ধি। ডা. ধাওয়াল শান্তনায় বৃদ্ধি লক্ষণটি কে বেশি গুরুত্ব দিতেন। চোরের স্বপ্ন দেখে ডা. এলেন এনসাইক্লোপিডিয়া।

জ্বরের সময় নেট্রাম প্রয়োগে বৃদ্ধি, ডাক্তার পাঠক এ কথা বললেও ডা. পি সংকরণ বলছেন আমি এমনটা পাইনি। ডা. কেন্ট অসম প্রেমে পড়ার কথা বলেছেন। ডা. পি সংকরণ এর যথার্থতা পেয়েছেন। মানসিক লক্ষণ
অন্তর্মুখিতা, শব্দে স্পর্শকাতরতা, নস্টালজিয়া, প্রেমে হতাশা, দুঃখ, কথা বলতে বিলম্ব, জীবনের প্রতি অন্যমনস্কতা ও উদাসীনতা, শান্তনায় বৃদ্ধি, লোক সঙ্গে অনীহা। একা থাকতে পছন্দ।

প্রচুর পিপাসা, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা, শুষ্কতা, তাপে বৃদ্ধি মাসিকের পূর্বে, সূর্যতাপে বৃদ্ধি নির্দিষ্ট। সহবাসে বিতৃষ্ণা, ব্যথাযুক্ত। বন্ধ্যাত্ব, রুটি অপছন্দ, লবণ পছন্দ।
ধাতুগত ভাবে কেউ ফসফরাস হিসাবে জন্মগ্রহণ করলেও জীবনের পরিবর্তিত গতিধারায় বিশেষ ধরনের দুঃখ পেলে তার মধ্যে নেট্রাম মিউর জন্ম নেই। এই গভীর দুঃখ বোধ থেকে পরবর্তীতে স্পর্শকাতরতা, অন্তর্মুখিতা, হিস্টিরিয়া হতে পারে।

গোসল ও খোলা বাতাসে আগ্রহ আঙ্গিক বা সর্বাঙ্গীণ শুষ্কতা, রক্তস্বল্পতা, ১০ টা থেকে ৩ টার মধ্যে বৃদ্ধি।
গরম কাতর হলেও ঠান্ডা লাগার প্রবণতা, cold Tendency to take এখানে দুটি ১ম শ্রেণীর ঔষধ। নেট্রাম ও কেলি-আয়োড। মাছ করলা পছন্দ।

মা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সন্তানকে উপযুক্তভাবে প্রতিপালন করতে না পেরে স্ট্রাগল করছে, দুঃখ কষ্ট পাচ্ছে, ফলে মা নেট্রামের দিকে আগাচ্ছে, আবার যে সন্তানটি পিতা-মাতা ছাড়াই মানুষ হচ্ছে, যাকে ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, মাতৃত্বের অভাবে সে অনেকটা নেট্রামের লেয়ারে প্রবেশ করছে।

এরা স্পর্শকাতর, অভিমানী, সমালোচনায়, অপমানে, বিচ্ছেদের কারণে ভীষণ আহত হন, কষ্ট পান। তখন অন্যদের সাথে একটা দেয়ালের সৃষ্টি করেন, সংকুচিত হয়ে পড়েন। মুষড়ে পড়েন, নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন, ক্লোজ পার্সোনালিটি বা অন্তর্মুখী।

ডাক্তারের কাছে এসে কম কথা বলবে, কম তথ্য দিবে। এজন্য এ ধরনের রোগীদের প্রথমে মানসিক লক্ষণ জানতে চাইবেন না। অসুখের বিভিন্ন দিক হ্রাস বৃদ্ধি, অন্যান্য কথা জানার চেষ্টা করুন, সম্পর্ক তৈরি করুন, বিশ্বস্ত হন, আস্তে করে মনের কথা জিজ্ঞাসা করুন তখন হয়তো তিনি তথ্য দিবেন। কারণ পানি যেমন বেশি ঠান্ডা হলে বরফ হয়ে যায়, সে বরফ গলতে কিছুটা সময় লাগে।

ঠিক তেমনি নেট্রামের মানুষেরা দুঃখে কষ্টে যেন ফ্রিজ হয়ে গেছে, তাই তাকে একটু সময় দিন কথা বলুন বরফ গলে পানি হবে, তখন আপনি তার থেকে প্রকৃত তথ্য পাবেন। কারণ বরফ পানি হতে একটু সময় লাগে।

সেকেন্ডারি পাশ করলে যেমন স্কুল ছেড়ে কলেজে ভর্তি হতে হয়, ঠিক তেমনি গভীর ও পুরাতন দুঃখে ইগ্নেশিয়া ছেড়ে নেট্রামে যেতে হয়। লাজুক ও স্পর্শকাতরের কারণে কেউ কাছে থাকলে প্রস্রাব করতে পারে না। কথা কম বললেও কথা দিলে কথা রাখে। প্রয়োজনীয় কথাটা যথার্থ ভাবে বলে, সময় দিলে মেনে চলে, ব্যতিক্রম হলে রাগ হয়।

তর্ক বিতর্ক একদম পছন্দ করে না। দায়িত্বপূর্ণ কথা বলে, কষ্ট পাওয়ার ভয়ে ঝামেলা এড়িয়ে চলে। নেট্রামের কিছু মানুষের সহজে চোখে পানি আসলেও বেশিরভাগ নেট্রাম কে সহজে কান্না করতে দেখা যায় না। এরা রিজার্ভ প্রকৃতির। তবে হিস্টিরিয়ার মানুষেরা একটু ব্যাতিক্রম খোলামেলা আচরণ করবে।

সাইকোসিসের নিদর্শনের জন্য টিকা দেওয়ার ইতিহাস থাকলে যেমন থুজা, কোন সাপ্রেশন থাকলে যেমন সালফার দেন, তেমনি গভীর দুঃখ বোধ থাকলে নেট্রাম কে মনে করা উচিত।
এরা যেমন ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে পছন্দ করে, তেমনি যেন মুখের দরজা বন্ধ রাখে কথাবার্তা বিশেষ পছন্দ করে না।

দুঃখের মাঝে গভীরভাবে ডুবে থাকে, কাউকে বলতে চায় না, কেউ জিজ্ঞাসা করলে বিরক্ত বোধ করে, অনধিকার চর্চা মনে করে।
পালস শান্তনা পছন্দ করে, ফসফরাস শান্তনা আকাঙ্ক্ষা করে, নেট্রাম কাউকে শান্তনা দিতে কিংবা নিতে পছন্দ করে না। তবে পারলে অন্য ভাবে সহযোগিতা করতে চাই, শান্ত্বনা দিয়ে নয়।

গভীর দুঃখ বোধ তার চোখের জল, আবেগ এবং শরীরকে শুকিয়ে দেয়। রক্ত স্বল্পতা এনে দেয়। রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে তখন প্রচুর লবণের চাহিদা সৃষ্টি হয়। আর্জেন্ট নাইট গরম কাতর ও লবণ প্রিয় হলেও এরা অন্তর্মুখী নয়, খোলামেলা।

রোদ একদম অসহ্য, শীতের সময় সামান্য রোদে ছাতা নিয়ে বের হয়।
সমুদ্রের লোনা পানিতে যার জন্ম সেই নেট্রাম সমুদ্রের তীরে গেলে নাকি তার রোগ বৃদ্ধি, কেমন জানি উল্টো কথা।

মানুষ হিসেবে এরা ভাবুক এবং রোমান্টিক সেন্টিমেন্টাল, প্রেমিক প্রকৃতির। সমুদ্রের তলদেশে যেমন কেউ হারিয়ে যায় ঠিক তেমনি নেটট্রামের প্রেমিকেরা পরস্পরের ভালোবাসার গভীরে হারিয়ে যায়। এরা খুব বিশ্বস্ত হয়, এদের আপন বলা হয়। এদের ক্ষতির পরিমাণটা এত গভীর যে শান্ত্বনা সহ্য করতে পারে না। এ অবস্থায় এরা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে, এদের বাইরে কঠোরতা ভাব থাকলেও স্রোতস্বিনী নদীর মত এরা ভিতরে ভিতরে বয়ে চলে।

হালকা দুঃখবোধের প্রকাশ থাকে কিন্তু গভীর দুঃখবোধের প্রকাশ খুব কম থাকে। তাই এই প্রেমিক ও ভাবপ্রবণ মানুষগুলো জীবনে বিপর্যয় এলে পুরোপুরি পাল্টে যায়। অতীতের স্মৃতি খুব কষ্ট দেয়, স্মৃতি রোমন্থন করে।
স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের কাঁচা প্রেম ব্যর্থ হলে(নতুন অবস্থায়) ইগ্নেশিয়া, কিন্তু কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের গভীর, পাকা প্রেম ব্যর্থ হলে(পুরাতন অবস্থায়) নেট্রাম দিন।

রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে সহজে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা চলে আসে তখন এরা শীতকাতর হতে পারে।
প্রাণী গ্রুপে যেমন প্রতিযোগিতা, মিনারেল গুরুপে তেমন রিলেশন ও সংগঠিত করা।

 

মূল লেখকঃ ডাঃ আশরাফুল আলম

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার (রাত ৮:২০)
  • ৬ই মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২১শে রজব ১৪৪২ হিজরি
  • ২১শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)