আজ শুক্রবার,১০ই বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৩শে এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাত ও সন্ধি বাতের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সাফল্য ও অবদান

বাত ও সন্ধিবাতের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির অবদানঃ

 

 

ক্যালি-সালফ ( Kali – Sulph ) ।> বহিঃবায়ুতে আরাম বোধ – গরমে কষ্ট ও সন্ধ্যার সময় বেদনার বৃদ্ধি । ঘাড়ে, পিঠে, হাতে, পায়, কোমরে, সন্ধিস্থানে ও সকল স্থানে বাতের বেদনা – তবে সেই বেদনা নড়িয়া নড়িয়া বেড়ায় । ( এই সঙ্গে জ্বর থাকিলে ফেরাম-ফসের সহিত পর্যায়ক্রমে ব্যবহার্য ) ।
ক্যালমিয়া ( Kalmia ) ।> ক্যালমিয়ার বাত ( ক্যাকটাসের মত ) উপরদিক হইতে নিন্মগামী হয় । বেদনা হঠাৎ এক স্থান হইতে অন্য স্থানে চালিত হয় । ( পালসেটিলা ও ক্যালি-সালফের মত ) তবে বাতের সহিত যদি হৃৎপিণ্ড আক্রান্ত হয় – এবং বেদনা যদি এক স্থান হইতে অন্য স্থানে চালিত হয় – তাহা হইলে পালসেটিলার পূর্বে ক্যালমিয়া ব্যবস্থাই যুক্তিযুক্ত । ( ডাঃ ফ্যারিংটন বলেন – লিডামের ন্যায় ক্যালমিয়ার – বেদনা ঊর্ধ্বগামী হয় । কিন্তু ডাঃ ন্যাস বলেন – ক্যালমিয়ার বেদনা ক্যাকটাসের ন্যায় উপর হইতে নিন্মদিকে আসে । তবে ঊর্ধ্বগামী ও নিন্মগামী উভয়প্রকার বেদনায় ইহা ব্যবহারে উপকার হয় ) ।
ল্যাক-ক্যানিনাম ( Lac – Caninum ) ।> বাতের বেদনা ও স্ফীতি Crosswise যদি চালিত হয় – তাহা হইলে ইহা অব্যর্থ । বাতে বেদনা এক স্থান হইতে অন্য স্থানে চালিত হইলে – পালসেটিলা ও ক্যালি-সালফ উপকারী, কিন্তু এই দুই ঔষধে ল্যাক-ক্যানিনামের মত Crosswise বেদনা নাই অর্থাৎ আজ ডান দিক, কাল বামদিক অথবা আজ ডানদিকের উপরিভাগে বেদনা – কাল বামদিকের নিন্মভাগে বেদনা এবং পর দিন বাম বা ডানদিকের উপর দিকে যদি বেদনা হয় – তাহার পর দিন নিন্মদিকে বেদনা হইবে – এরূপ লক্ষণ নাই ।
লিডাম পাল ( Ledum Palustre ) ।> বাতরোগে নিন্মলিখিত লক্ষণ স্মরণ রাখিবে ।
* ধাতুগত বাতরোগে এবং যে সকল লোক বহুদিন হইতে মদ্যপান করেন, তাঁহাদের বাতরোগে ইহা বিশেষ উপযোগী ।
* লিডামের বাত – পায়ে আরম্ভ হইয়া প্রায় উপর দিকে চালিত হয় ( ক্যালমিয়ায় – ঊর্ধ্বদেশে আরম্ভ হইয়া নিন্মদেশে প্রায় চালিত হয় ) ।
* যাহারা এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় প্রথমে অধিক মাত্রায় কলচিকাম সেবন করিয়াছে – তাহাদের বাত রোগে ইহা অধিকতর উপযোগী ।
* কিছুদিন রোগ ভোগ করিবার পর সন্ধিস্থানে ডেলা ডেলা বাত-পাথরি ( nodosities or gout-stones ) যদি জমে ।
* যদিও লিডামে – কেবল নিন্মদেশ প্রায় বাতে আক্রান্ত হয়, কখনও কখনও বাম স্কন্ধদেশে এবং ডান উরুসন্ধিতে পীড়া দেখা দিলেও ইহাতে উপকার হয় ।
* লিডামের বেদনার প্রকৃতি – খোঁচানি দপদপানি ও যেন ছিঁড়ে ফেলছে – এবং সন্ধিস্থানের বেদনা নড়িলে চড়িলেই বাড়ে ( stieking, tearing, throbbing and pain in joint aggravated by motion ) ।
লিথিয়াম-কার্ব ( Lithium-Carb ) ।> সন্ধি-বাতে ইহা বেশ উপযোগী – বাতের সহিত দুর্বলতা ইহার একটি বিশেষ লক্ষণ । বাতের সহিত নানা প্রকার প্রস্রাব লক্ষণ থাকিলে লিথিয়ম যেমন উপযোগী, বেঞ্জয়িক-অ্যাসিড, লাইকোপোডিয়ম এবং ক্যাল্কেরিয়া কার্ব তেমনি উপযোগী ।
** বেঞ্জয়িক অ্যাসিড > বাতের সহিত প্রস্রাবে যদি ভয়ানক কটু গন্ধ থাকে – ঐ গন্ধ এত কড়া যে হঠাৎ মনে হয় যেন ঘোড়ার প্রস্রাব ।
** ক্যাল্কেরিয়া কার্ব > প্রসাবে দুর্গন্ধ – প্রস্রাব খুব ঘোলাটে নয় – কিন্তু প্রস্রাবে শাদা তলানি পড়ে ।
** লাইকোপোডিয়ম > বাতে উপকারী, বিশেষতঃ যদি প্রস্রাবের সহিত লিথিক-অ্যাসিডের তলানি বা রাঙা রঙের বালির মত তলানি থাকে ।
** লিথিয়ামের বাতে প্রস্রাবের সহিত যদি মিউকাস, ইউরিক-অ্যাসিড ও পূয নিঃসৃত হয় । এতদ্ভিন্ন পুরাতন বাতরোগের সহিত হৃৎপিণ্ড আক্রান্ত হইলে লিথিয়াম অধিকতর উপকারী ।
লাইকোপোডিয়ম ( Lycopodium ) ।> রাসটক্সে যেমন নড়িলে চড়িলে বেদনার নিবৃত্তি হয়, তবে প্রথম নড়নে বেদনা অনুভব করে – এবং ব্রাইওনিয়ার যেমন সামান্য নড়িলে চড়িলে বেদনার বৃদ্ধি হয় – লাইকোপোডিয়ম ও পালসেটিলার বাত আস্তে আস্তে বাড়ে এবং নড়িলে চড়িলে যেন বেদনার উপশম হয় । ( ফেরামে রাত্রিকালে আস্তে নড়িলে বেদনার উপশম হয় ) । সন্ধি বা গেঁটে বাতের সহিত প্রস্রাবে লিথিক-অ্যাসিড ও ডিপজিট নিষ্ক্রান্ত হইলে লাইকোপোডিয়ম তাহার মহৌষধ ।
ম্যাগ্নেসিয়া-কার্ব ( Magnesia – Carb ) ।> ডান দিকের কাঁধের সন্ধির বাতে ম্যাগ্নেসিয়া-কার্ব বিশেষ উপযোগী । অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বাত হইলেও ইহার প্রয়োজন হয় – তবে রোগী অনেক দূর বেড়াইবার পর যদি তাহার বেদনার বৃদ্ধি হয়, এবং ঐ বেদনা যদি গরমে উপশম হয় ও বিছানায় শুইলে বৃদ্ধি পায় – তাহা হইলে ইহা অধিকতর উপযোগী ।
মার্কিউরিয়স-সল ( Merc – Sol ) ।> পারদ বা উপদংশ-সম্ভূত বাতে, প্রমেহরোগে ( যদি সবুজ স্রাব নির্গত হয় ) এবং আইরাইটিস রোগে থুজার ন্যায় এই ঔষধ উপকারী । বাতের বেদনা – বিছানার গরমে কিম্বা ঘাম হইয়াও বৃদ্ধি পাইলে মার্ক-সল উপযোগী । অনাবৃত স্থানে ঘর্ম হওয়া থুজার লক্ষণ – আবৃত স্থানে ঘর্ম হইলে বেলেডোনা ।
নেট্রাম – কার্ব ( Natrum – Carb ) ।> “ সামান্য মাত্র মানসিক পরিশ্রমে পীড়া-লক্ষণের বৃদ্ধি ” এই লক্ষণ – এই ঔষধের এত বিশিষ্ট পরিমাণে দৃষ্ট হয় যে, যে পীড়াই হউক না এই লক্ষণ বর্তমান থাকিলে নেট্রাম – কার্ব প্রয়োগে আমরা তাহাতে বিশেষ উপকার পাইয়া থাকি । রোগী কোন বিষয়ে চিন্তা করিতে গেলে বা কোনরূপ
মানসিক পরিশ্রম করিলে তাহার মাথা ব্যথা করে , মাথা ঘোরে ও তাহার মস্তিস্ক যেন স্তম্ভিত থাকে ।
পায়ের গাঁটের দুর্বলতা নিবন্ধন চলিতে অসামর্থ্য বা কষ্ট ; সামান্য মাত্র চলিলেই যেন পায়ের গাঁট বা সন্ধি ক্লান্ত হইয়া পড়ে ও শরীরের ভার বহিতে যেন অপারগ হয় । এতদ্ভিন্ন “ পায়ের তলার টাটানি ব্যথা ও তথায় ফোলা ” এই লক্ষণে নেট্রাম – কার্ব বিশেষ উপযোগী । নেট্রাম – কার্বে যেমন পায়ের তলায় ব্যথা আছে, এন্টিম-ক্রুডেও তাহা আছে কিন্তু নেট্রাম – কার্বের মত পায়ের পাতায় ফোলা নাই ।
নাক্স-মস্কেটা ( Nux-Moschata ) ।> বামদিকের স্কন্ধের পেশীতে ( deltoid ) বাত হইলে নাক্স-মস্কেটা উপযোগী ।
নাক্স-ভমিকা ( Nux-Vomica ) ।> কোমরে ব্যথা ( Located in lumbar region )- রাত্রে বিশেষতঃ শুইলে তাহার বৃদ্ধি ল না বসিয়া পাশ ফিরিতে পারে না ( কোমরের বাতে এই লক্ষণে নাক্স উপযোগী-প্রাতকালে যত অধিকক্ষণ শুইয়া থাকিবে, ততই কোমরের ব্যথাও বৃদ্ধি হইবে ) । যেখানে বৃহৎ সন্ধি সকল ও পেশী সমূহ আক্রান্ত হয় ( বিশেষতঃ হাত পা ব্যতীত ধড় আক্রান্ত হইলে ) সেখানে নাক্স-ভমিকা উপযোগী । তবে প্রাতে রোগ বৃদ্ধি ও সন্ধি-স্ফীতির রঙ ফেকাসে- এই বিশেষত্ব সর্বদা স্মরণ রাখিবে ।
ওলিয়াম জেকরিস এসেলি ( Oleum Jecoris Aselli ) ।> রীতিমত স্বাস্থ্যকর বায়ু, জল, রৌদ্র, আলোক প্রভৃতির অভাবহেতু শরীরের পরিপোষণ-ক্রিয়ার অভাবে বাত হইলে – কডলিভার-অয়েল উপকারী ।
পেট্রোলিয়াম ( Petroleum ) ।> পুরাতন বেতো রোগীর সন্ধি-স্থানে মোচড়ানি-ব্যথাতে ( Sprains of Joints ) – পেট্রোলিয়াম উপযোগী । বাতে যখন হাঁটু অত্যন্ত শক্ত হইয়া যায় ও সেই সঙ্গে তথায় যন্ত্রণাদায়ক খোঁচামারা ব্যথা হয় এবং ঐ হাঁটু ব্যতীত ঘাড় শক্ত হইয়া মাথা নাড়িলে চাড়িলে সেখানে খট খট করিয়া শব্দ হয়-তখনও পেট্রোলিয়াম উপকারী ।
** কোমরের বাতে রুটা ও পেট্রলিয়াম- প্রাতে এমন কি উঠিবার অগ্রে কোমরের ব্যথার বৃদ্ধি হয় ।
ফাইটোলক্কা ( Phytolocca ) ।> বর্ষাকালে বাতের বৃদ্ধি ফাইটোলক্কার একটি লক্ষণ । সায়াটিকা রোগে বেদনা যেন উরুর উপরিভাগ দিয়া চালিত হয় ( Pains in the outer part of thigh ) ভয়ানক মাথা ও কোমর কামড়ানি সেই সঙ্গে সমস্ত গাত্রে এত টাটানি ও কামড়ানি ব্যথা যে রোগী সেই জন্য অনবরত কোঁথায় ও গেঙায় । ( রাস টক্স – যেমন রোগী নড়িলে আরাম পায় এবং সেইজন্য কেবল এপাশ ওপাশ করে – ফাইটোলক্কায় ঐরূপ কেবল এপাশ ওপাশ করিতে চাহে অথচ তাহাতে রোগী কোনরূপ আরাম না পাইয়া বরং বেদনার বৃদ্ধি অনুভব করে ) ।
পালসেটিলা ( Pulsatilla ) ।> অজীর্ণ-দোষ-হেতু ক্রমে গেটেবাত আসিয়া পড়িলে পালসেটিলা উপযোগী – ইহাতে আরোগ্য না হইলে কলচিকাম উপকারী ।
গনোরিয়া-স্রাব রুদ্ধ হেতু বা গনোরিয়া বিষ দ্বারা দেহ আক্রান্ত-নিবন্ধন কিম্বা আঘাত-জনিত বাতে পালসেটিলা উপযোগী । ( সিরাস মেমব্রেনের উপর যেমন একোনাইট ও ব্রাইওনিয়ার ক্রিয়া লক্ষিত হয় – সেইরূপ সাইনোভিয়াল স্যাকে পালসেটিলার ক্রিয়া প্রকাশিত হয় ) । সন্ধিস্থানের বাতে আক্রান্ত-স্থান ফুলিলে এবং ঐ বেদনা অতি প্রচণ্ড ভাবের হইলে – এমন কি সেই জন্য মনে হয় যেন সেখানে হুল ফোটাইতেছে ও ভিতরে এমন টাটান ভাব যেন সেখানে ক্ষতই বা আছে – এইরূপ বাতে পালসেটিলার আর কয়েকটি বিশেষত্ব স্মরণ করিয়া উহা প্রয়োগ করিবে ঃ- ( ১ ) বেদনা এই খানে – পরদিনে আবার অন্যস্থানে প্রকাশ পায় ( Erratic – now here , now there ) । ( ২ ) সন্ধিস্থানে বেদনায় সময়ে সময়ে মনে হয় যেন ছিঁড়ে ফেলছে সেই সময়ে উপশম আশায় আক্রান্ত-স্থান নাড়িতে বাধ্য হয় – ফলতঃ তাহাতে যত উপকার হউক বা নাই হউক কিন্তু চাপে – আরাম বোধ ( pressure relieves ) হয় – এবং সন্ধ্যাকাল হইতেই বেদনার বৃদ্ধি হইতে আরম্ভ হয় । উত্তাপ লাগাইলে বেদনা বাড়ে এবং ঠাণ্ডা জল বা হাওয়া লাগাইলে উপশম বোধ করে ।
* সাইনোভাইটিস > এপিসে – আক্রান্ত স্থানে – রক্ত-সঞ্চার ও শোথ – পালসেটিলা অপেক্ষা অধিক থাকে । বেদনা একস্থান হইতে অন্যস্থানে নড়িয়া চড়িয়া বেড়ায় ; এই লক্ষণ কেলি-বাইক্রম, সালফার ও ব্রাইওনিয়ায় আছে ।
রডোডেনড্রন ( Rhododendron ) ।> ঋতু-পরিবর্তনে বিশেষতঃ গরমের পর ঠাণ্ডা হইলে অথবা চুপ করিয়া থাকিলে – বাতের বেদনা বৃদ্ধি ( worse from rest and change of weather ) এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সন্ধিতে বাত বা গেঁটে বাত হইয়া ঝড়ের পূর্বে পীড়ার বৃদ্ধি হইলে ইহা উপকারী ।
রাস-রেডিকেন্স ( Rhus – Radicans ) ।> পায়ে টেনে ধরা ও ছিঁড়ে ফেলার মত বেদনা এবং কখনও কখনও মাথার পশ্চাৎভাগে বাত-জনিত বেদনা ( Drawing tearing pains shoot into the legs, rheumatic pains in the back of the head ) হয় । অক্সিপট প্রদেশে মাথা-ব্যথা, সেই সঙ্গে বাত-জনিত ঘাড়ে শক্ত ও আড়ষ্টভাব – বেদনা যখন – স্কন্ধের দিকে পরিচালিত হয়, তখন ইহা উপযোগী ।
রাস-টক্স ( Rhus – Tox ) ।> বাত ও সন্ধি-বাতে এই ঔষধ অতীব উপকারী । জলো হাওয়া ও ঝড় বৃষ্টির পূর্বেই বেদনার বৃদ্ধি হয় এবং হাত পা শক্ত হইয়া থাকে । ইহার রোগীর দিনে অস্থিরতা থাকে না – রাত্রে অস্থিরতা খুব বৃদ্ধি পায় – এক ভাবে শুইয়া থাকিলে কষ্টানুভব করে, সেইজন্য রোগী ক্রমাগত পার্শ্ব-পরিবর্তন করে । বিশ্রামের পর কিম্বা শয়ন বা বসিয়া থাকার পর প্রথমে উঠিতে গেলে – অথবা চুপ করিয়া থাকার পর প্রথমে কোন অঙ্গ নাড়িতে গেলে অতিশয় বেদনা অনুভব করে । প্রাতকালে শয্যা হইতে উঠিতে গেলে পায় শক্তবোধ হয় ও বেদনা হয় এবং খুঁড়িয়া খুঁড়িয়া চলিতে হয় – কিন্তু খানিকক্ষণ চলিবার পর বেদনার উপশম হয় । মোচড়াইয়া যাওয়ার মত বেদনা । কোমরে ও তলপেটে থেতলিয়া যাইবার মত বেদনা ; যে পাশ ফিরিয়া শয়ন করা যায় সেই ধারে অধিক বেদনা – পাশ ফিরিতে বেদনার বৃদ্ধি । বাম অঙ্গের পেশী-সমূহের বাত ; বাম অঙ্গে সায়েটিকা বা এক প্রকার স্নায়ু-শূল ও বাত ।
রুটা ( Ruta Grav ) ।> হাত পার হাড়ে ও পায়ের পাতায় বাত হইলে এবং বিশেষতঃ হাড়ের ভিতর ব্যথা বোধ করিলে ইহা বিশেষ উপযোগী । যে অঙ্গ চাপিয়া শোয় – সেখানে ব্যথা ইহার বিশেষত্ব ( আর্ণিকা, রাসটক্স, ফাইটোলক্কা, ব্যাপটিসিয়া প্রভৃতির সহিত ইহার প্রভেদ দেখা দরকার ) ।
স্যাবাইনা ( Sabaina ) ।> হাতের কব্জিতে ও বুড় আঙ্গুলের সন্ধিতে বাত-জনিত ফোলা ও ব্যথায় স্যাবাইনা উপযোগী । এইরূপ হাতের কব্জির বাতের সহিত যদি স্ত্রী-জননেন্দ্রিয় হইতে রক্তস্রাব থাকে, তাহা হইলে স্যাবাইনা ও কলোফাইলাম এই উভয় ঔষধই উপযোগী । ইউট্রাসের পীড়ার সহিত বিশেষতঃ গর্ভস্রাবের পর কিম্বা শ্বেত-প্রদর বা গনোরিয়া বন্ধ হইয়া বাত রোগ হইয়া যদি ওভেরিও আক্রান্ত হয় – তাহা হইলেও স্যাবাইনা উপযোগী ।
স্যাঙ্গুইনেরিয়া ( Sanguinaria ) ।> অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক খোঁচামারা ব্যথা, সেই সঙ্গে পেশীসমূহে টাটানি ব্যথা ও আড়ষ্ট ভাব । দক্ষিণ ডেলটয়েড পেশীতে বেদনা ( Rheumatism of the right deltoid muscle which is very painful ) । ( দক্ষিণদিকের স্কন্ধের ( in deltoid muscle ) ঐরূপ বেদনায় ম্যাগ্নেসিয়া-কার্ব – বামদিকের স্কন্ধের ঐরূপ বেদনায় – ফেরম-মেট ) ।
সিকেলি – কর্ণিউটম ( Secale Corn ) ।> Lumbago হঠাৎ কোমরে খেঁচে ধরার মত ভাব ( sudden eatch or kick ) হইলে – সিকেলি উপকারী ।
একটি কথা সরণ রাখিবেন হোমিওপ্যাথিক মতের চিকিৎসায় প্র্যাকটিস – অব – মেডিসিন – মতে চিকিৎসা কখন ফলদায়ক হইতে পারে না । কারণ রোগের বিবিধ লক্ষণ, রোগীর পীড়ার সাধারণ লক্ষণ, বিশেষ লক্ষণ, ধাতুজ লক্ষণ, ( Eonstitutional Symptoms ), মানসিক লক্ষণ ( Mental Symptoms ) বিশেষত্ব ( Peeuliarity Modality ) প্রভৃতির সহিত ঔষধের লক্ষণ-সমষ্টির সাদৃশ্য মিলাইয়া ঔষধ নির্বাচন করিলে তবে তরিদ্বেগে ও সমূলে রোগ আরোগ্য হয় । এ সকল বিষয় প্র্যাকটিসের অন্তর্গত নহে – মেটিরিয়া–মেডিকারই অন্তর্গত ।
আর এক কথা – মেটিরিয়া–মেডিকায়ই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রত্যক্ষ শিক্ষা-সোপান বটে , কিন্তু ইহা সুবিস্তীর্ণ ও জটিল । সেই জন্যই বিশেষ পর্যালোচনা পূর্বক উহা পাঠ না করিলে এক ঔষধের লক্ষণের সহিত অন্য ঔষধের লক্ষণের এতই সাদৃশ্য দৃষ্ট হয় যে তাহাতে ঠিক ঔষধ নির্বাচন দুরূহ হইয়া পড়ে । অনেক সময় এমন কি যে ঔষধটি যে রোগের যে অবস্থার ও যে লক্ষণের প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নহে, সেটি সেই রোগের সেই অবস্থার ও লক্ষণের ঔষধ বলিয়া ভ্রম হয় – কিন্তু সূক্ষ্মানু সূক্ষ্মরূপে ঔষধ সমূহের সাধারণ-লক্ষণ , বিশেষ-লক্ষণ , ধাতুজ-লক্ষণ , মানসিক-লক্ষণ , বিশেষত্ব (( Peeuliarity and Modality ) , রোগ উপশম ও বৃদ্ধির কারণ ও সময় ( Aggravation and Amelioration ) প্রভৃতি ও অন্য ঔষধের সহিত তাহাদের পরস্পরের লক্ষণগত ও Pathologieal প্রভেদ জানা থাকিলে পূর্বোক্ত সাদৃশ্য-ভাবের ভিতর হইতে পার্থক্য নির্ধারিত হইয়া ঠিক ঔষধ নির্বাচন সহজ হইয়া পড়ে ।

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার (দুপুর ২:০৮)
  • ২৩শে এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ১০ই বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)