আজ শুক্রবার,১০ই বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৩শে এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এজমা রোগ থেকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় যেভাবে মুক্তি পাবেন

অ্যাজমা রোগ থেকে মুক্তির গল্প ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শঃ

 

 

 

রংপুরের রাজিয়া বেগম একজন গৃহিনী। তার বয়স ৩০ বছর। সে ২ সন্তানের জননী । অনেক দিন যাবত তার ঠান্ডার সমস্যা হচ্ছে। সকাল বিকাল হাচি হয় অনেক। কাশি হয় কফ ছাড়া। হাচি শুরু হলে থামতে চায় না। একসাথে ২০/৩০ টা হাচি হয়। রাতে শুইতে গেলে হাপানি হয়। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।বুকে সাঁই সাঁই বা বাঁশির মত শব্দ হয়।প্রচুর শ্বাস কষ্ট হয়। বুকে চাপ অনুভব করে।দীর্ঘ মেয়াদী কাশিতে ভুগতেছেন তিনি।ব্যায়াম করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তার।এই সমস্যা টা তার অনেক বেশী দেখা দেয়। আমি তাকে শ্বাস কষ্ট এর ট্রিটমেন্ট দেই এবং আল্লাহর রহমতে তিনি এখন অনেকটা সুস্থ আছেন। আমাদের আশেপাশে অনেক মা বোনরা হাপানীতে ভোগেন।
হাঁপানী বা অ্যাজমা একটি দুরারোগ্য ব্যাধি, এ্যাজমা হচ্ছে ক্রনিক এবং জীবনসংশয়ী মারাত্মক একটি ফুসফুসের রোগ, আমাদের দেশে হাঁপানি রোগ হিসেবে পরিচিত, এই রোগে সাধারণত কাশির সঙ্গে বুকে ঘড়ঘড় শব্দ এবং শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়ে থাকে।

পাক-ভারত উপমহাদেশে এটি অতি প্রাচীন রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এই রোগটি সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায়। বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে এসে পর্যাপ্ত গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ও এলোপ্যাথিতে হাঁপানীর কোনো স্থায়ী চিকিৎসা আজো আবিস্কৃত হয়নি, রোগটিকে শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় কিন্তু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে সেটিকে পূর্ণ আরোগ্য করা যায়।

আমাদের দেশের হাঁপানির সঠিক কোনো পরিসংখান জানা না থাকলেও আমেরিকায় প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ অ্যাজমায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ১০ মিলিয়নই (এর মধ্যে তিন মিলিয়ন শিশুও আছে) ভুগছেন অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমায়। তাই বলা যায় আমাদের দেশেও অ্যাজমার প্রকোপ কম নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক ও নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিকল্পিত জীবনযাপনের মাধ্যমে এ রোগীরা অ্যাজমার তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

আবার পৃথিবীর মধ্যে বেশ কিছু দ্বীপে এই রোগের প্রকোপ খুব বেশি, যেমন -এস্তা- দে-কুনে নামক দ্বীপ এর বাসিন্দাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৪৬ ভাগের ও বেশি মানুষ এই রোগের শিকার ছিল, আর একটি দ্বীপ যার নাম করিলিস্কি সেখানে ও প্রায় শতকরা ২০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষ এই রোগে ভুগে থাকে। অনুরুপে পৃথিবীতে অনেক দেশে আছে যেখানে এই রোগীর হার খুবই কম যেমন -জাম্বিয়া, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ইত্যাদি।

হাঁপানী এমন একটি দুরারোগ্য ব্যাধি যাতে একবার আক্রান্ত হলে দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে রোগীকে সারা জীবন কাটাতে হয়, হাঁপানী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কখনো সামাজিক বা পারিবারিক আনন্দ উল্লাসে যোগদান করতে পারে না, পারে না কোনো পরিশ্রমের কাজে অংশ নিতে, তাকে অনেক সময় গৃহবন্দী অবস্থা দিন কাটাতে হয়।

অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই ঠান্ডা আবহাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্ষার ঠান্ডায়, শীতের ঠান্ডায় রোগ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ব্রংকিয়াল হাঁপানী শীতকালে বাড়ে। শীতের ঠান্ডা রোগীর অসহ্য। শীতকালে নাকে একটুখানি ঠান্ডা বাতাস বা কুয়াশা প্রবেশ করলেই প্রথমে হাঁচি নাকঝরা ও পরে শ্বাসকষ্ট দেয়া দেয়। বর্ষা কালে দু এক ফোটা বৃষ্টির পানি গায়ে পড়লে, খোলা জানালার পাশে রাতে ঘুমালে, ভেজা বাতাসে ভ্রমণ করলে রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি পায়

★ এ্যাজমার ২ প্রকার

(১) একিউট এ্যাজমা: তীব্রতা অনুসারে এ্যাজমা- তীব্র হাঁপানি এতে ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীসমূহ আকস্মিকভাবে সংকুচিত হয় ও শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্টের সৃষ্টি করে।
(২) ক্রনিক এ্যাজমা: দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি এতে ঘন ঘন এ্যাজমায় আক্রান্ত হয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
কারণ: এলার্জিক এ্যাজমা সাধারণত কোনো এলার্জেন বা এন্টিজেন নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে।
যেমন- ফুলের রেণু, বিভিন্ন প্রাণীর লোম, মাইট ও ধুলাবালি ইত্যাদি। ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয় ও হাপানী দেখা দেয়। একে এটোপিক এ্যাজমা বা এলার্জিক এ্যাজমাও বলা হয়।

নন এলার্জিক এ্যাজমা এ ধরনের এ্যাজমা এলার্জি ঘটিত নয় বরং ধূমপান, রাসায়নিক দ্রব্য, জীবাণুর সংক্রমণ, মানসিক চাপ, অট্টহাসি, অধিক ব্যায়াম, এস্পিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন, খাদ্য সংরক্ষণকারী উপাদান, পারফিউম, অত্যাধিক ঠান্ডা, গরম, আর্দ্র ও শুষ্ক বাতাসের কারণে দেখা দেয়।

★ অ্যাজমা রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ

> বুকে সাঁই সাঁই বা বাঁশির মত শব্দ হওয়া,
> শ্বাস কষ্ট হওয়া,
> বুকে চাপ অনুভব করা।
> দীর্ঘ মেয়াদী কাশিতে ভুগতে থাকা,
> ব্যায়াম করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া,

★ সাধারন লক্ষণসমূহ

> শীতকালে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া।
> ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া,
> কাশির সঙ্গে কফ নির্গত হওয়া,
> গলায় খুসখুস করা ও শুষ্কতা অনুভব করা,
> রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া।
> নাড়ীর গতি দ্রুত হওয়া,
> কথা বলতে সমস্যা হওয়া,
> সর্বদা দুর্বলতা অনুভব করা,
> দেহ নীল বর্ণ ধারণ করা।

★ অ্যাজমা রোগীকে কিছু পরামর্শ মেনে চলতে হবে

(১) বিছানা ও বালিশ প্লাস্টিকের সিট দিয়ে ঢেকে নিতে হবে বা বালিশে বিশেষ ধরনের কভার লাগিয়ে নিতে হবে।
(২) ধুলো ঝাড়াঝাড়ি করা চলবে না।
(৩) ধোঁয়াযুক্ত বা খুব কড়া গন্ধওয়ালা পরিবেশে থাকা চলবে না।
(৪) আলো-হাওয়া যুক্ত, দূষণমুক্ত খোলামেলা পরিবেশ থাকা দরকার। কারণ স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ফাঙ্গাল স্পোর অনেক সময় হাঁপানির কারণ হয়।
(৫) হাঁপানি রোগীর আশেপাশে ধূমপান বর্জনীয় ও মশার কয়েল জ্বালানো যাবে না।
(৬) অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্যও হাঁপানি রোগীরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে পরিশ্রমের ঝুঁকি নেয়া উচিত।
(৭) হালকা খাওয়া-দাওয়া করা উচিত যাতে হজমের কোনো অসুবিধে না হয়। কারণ, বদহজম এবং অম্বল থেকেও হাঁপানি হতে পারে। যে খাবারে এ্যালার্জি আছে তা বর্জন করে চলতে হবে।

 

সুত্রঃ ইন্টারনেট

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার (দুপুর ২:৫৪)
  • ২৩শে এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ১০ই বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)