আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আর্জেন্ট নাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

Argentum Nitricum

 

 

Prover(প্রুভার): ডাঃ হ্যানিম্যান ও ডাঃ জে, ও মুলার ১৮৪৫।

>>source (উৎস): সিলভার নাইট্রেট। মুলত এটা একটা খনিজ জাতীয় ঔষধ।

>>H.C.R( কাতরতা): গরম কাতর

>>Location (ক্রিয়াস্হল): মন, চোখ, ডিম্বকোষ,কিডনী, মুত্রথলী,গলনালী,চর্ম, সিরাম গ্লান্ড।

>>Miasom(মায়াজম):সোরিক(++), সাইকোসিস (+++), টিউবারকুলার।
সাধারন কিছু কথাঃ

১.খোলা বাতাসের আকাঙ্ক্ষা করে।

২.মিষ্টির প্রতি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা।

৩.লবণের প্রতি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা।

৪. অধিক খিটখিটে মেজাজের, অতি ব্যস্ত, —-এই চারটি লক্ষণ পেলে আর্জেন্ট নাইট্রিকাম সুনির্দিষ্ট হয়।আবার যদি মিষ্টির প্রতি আকাংখা এবং লবণের প্রতি আকাংখা লক্ষণদুটো একত্রে থাকে তাহলেও আর্জেন্ট নাইট্রিকাম সামনে চলে আসে।সঙ্গে গরমকাতরতা থাকলে নিশ্চিতভাবে ঔষধটাকে প্রয়োগ করতে পারবেন।

>>Argentum Nitricum ব্যক্তির প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য হল

1. Anticipatory Anxiety

2. Nervousness with Diarrhoea

3. Hurried impatience
অর্থাৎ কিছু হওয়ার পূর্বেই, তার চিন্তা শুরু হয়ে যায়। Argentum Nitricum এর feelings গুলি কখনো না কখনো আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। Argen Nit এর ব্যক্তি স্বভাবে introverted বা অন্তর্মুখী হয়। Argen Nit ব্যক্তি থেকে কথা সহজে বের করা কঠিন কারন সে খুলে কথা বলতে চায় না। স্বভাবে লাজুক ও ভীতু হয়। বেশির ভাগ এই ভয় যখন সে ভীড় যুক্ত জায়গায় যায় তখনি তার এই ভয় বেরিয়ে আসে। Irresolute হয় অর্থাৎ কোনো বিষয়ে নির্নয় বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খুব কম। Confused mind, কি করবে, কি না করবে। দুরত্ব ও জায়গা নিয়ে এর Concentration দুর্বল। যদি কোনো বিষয়ে সে Concentration করতে যায়, তার সামনে অন্ধকারময় মনে হয়। একে Mental weakness বলা যায়। তাছাড়া স্বভাবে Forgetfulness হয়। তার সব সময় মনে হয় আমি কিছু ভুল করছি বা ভুলে যাচ্ছি। কোনো বিশেষ বাক্য বলতে গিয়ে কোনো বিশেষ word ভুলে যায়। মনে করি সে তার বন্ধুকে দুইদিন আগে একটি মোবাইল দিয়েছে। সে তার বন্ধুকে ঐ কথা বলতে গিয়ে ” মোবাইল ” শব্দটি ভুলে যাবে। সে বলবে, আরে তোকে সেদিন ঐ জিনিসটা দিলাম যে, ঐ যে জিনিসটা। অর্থাৎ Argen Nit ব্যক্তি কথা বলতে বলতে একটি বিশেষ Word ভুলে যায়। যার মধ্যে উক্ত সমস্ত কিছু বর্তমান থাকলেও নিজেকে express করার সময় তার confidence down হয়ে যায়। confidence খুবই কম থাকে। এসবের সঙ্গে তার আরো অনেক কিছুর ভয় থাকে যেমন – ভীড়ে যেতে, ডাঃ এর কাছে যেতে, থিয়েটারে যেতে, সিনেমা যেতে অথবা কোনো closed place যেমন লিফট, এরকম স্থানে যেতে সে খুব ভয় পায়।
তার এই Appointment এর সময় যে Hurryness দেখা যায় তার একটি মুখ্য কারন রয়েছে, সে ভাবে ” আমি যদি perform করতে না পারি, লোকে আমাকে accept করবে না।
I will be despised, I will be alone, I will be isolated etc. তাই তার কাছে perform করাটা তার কাছে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। যখনি এরকম situation আসে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। যেমন Agoraphobia- Fear of places and situation that might cause panic, helplessness or embarrassment. সে অস্থির হয়ে যায়,
I should not be neglected. I should be appreciate, I should be accepted.
তাই fear of despised, fear of negligence এর কারনে তার ভয় এত বেড়ে যায় যে, সে কোনো কিছুতে perform করতে গেলে তা extremely prominent হয়ে যায়।

♦এবার আর্জেন্ট নাইট এর রোগীর মানসিক ও শারিরীক বৈশিষ্ট্য নিয়ে কথা বলবঃ

>>Argen Nit ব্যক্তির কিছু fixed ধারনা থাকে যা শুধু Argen Nit এ তেই দেখা যায়। যেমন সে যদি কোনো গলির পথ ধরে হাটে, তার মনে হয় দুই পাশের বাড়িগুলি ধীরে ধীরে তার দিকে চেপে এসে crashed করে দেবে। যদি কোনো ঘরের কোন তার দিকে অবস্থান করে, সে তার ভতে বিপরীত দিকে ছুটে পালায়। কখনো কখনো এই ভয় impulsive হয়, যেমন Argen Nit ব্যক্তি ব্রীজের দিয়ে হেটে যাচ্ছে, তখন তার impulse আসে যে ব্রীজ থেকে জলে লাফ দিই। সে Height কে খুব ভয় পায়। যখন সে উঁচু উঁচু বিল্ডিং গুলির দিকে তাকায় তার চক্কর আসে।

>>যখন Argen Nit ব্যক্তি Stage perform করতে যায় তখন তার খুব অসুবিধা তৈরি হয়। ধরে নিই, Argen Nit ব্যক্তিকে নিজের personality Test এর জন্য Stage এ নিজের সম্বন্ধে কিছু বলতে হবে। এই সময় তার সামনে আবার সেই দুটি জিনিস এসে হাজির হয়, প্রথমটি Crowd, দ্বিতীয়টি Closed place. সে এখান থেকে পালাতে পারে না, তাকে কিছু বলতেই হবে, speech দিতেই হবে। You have to speak. এরকম পরিস্থিতিতে তার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। Singer হোক বা Stage perform হোক, এসব থেকে ভয় দূর ও আত্মবিশ্বাস আনার জন্য Argen Nit খুবই কার্যকরী।

>> যখন Argen Nit ব্যক্তি কোথাও যেতে হয় বা যেখানে পূর্ব থেকেই সময় fixed করা আছে যেমন ট্রেনের যাত্রা, পরীক্ষা , সাক্ষাৎকার, Stage performance ইত্যাদিতে তার Anxiety বেড়ে যায়। তার বিভিন্ন ধরনের Anticipation বা পূর্বানুমান চলে আসে, কখন যাব, কিভাবে যাব, সঠিক সময়ে পৌছাতে পারব কি না, পরীক্ষা খারাপ হবে, ফেল করতে পারি ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব Anxiety এর প্রভাব পরে তার পেটের ওপর। তার পেট খারাপ হয়ে ডায়রিয়া দেখা যায়। একটি আশ্চর্য এর ক্রিয়া দেখা যায় তা হল, উভমুখী ক্রিয়া, অর্থা ৎ Anxiety প্রভাবে ডায়রিয়া আর ডায়রিয়ার কারনে তার Anxiety বেড়ে যায়। একটি অপকে বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কারন তার digestion এর অসুবিধা হয়।

>> Argen Nit ব্যক্তি মিস্টি খেতে খুব ভালোবাসে, বিশেষ করে চিনি। আবার এই মিস্টি তার রোগকে বৃদ্ধি করে। যখনি খাবার খায়, সব গ্যাসে পরিনত হয়ে যায়। না গ্যাস বের হয়, না ঢেকুর আসে, তখন তার Anxiety চরম আকারে বৃদ্ধি পায়। Anxiety এর কারনে ডায়রিয়া, আবার ডায়রিয়ার কারনে Anxiety. এক চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই Argen Nit এর সাথে পেটের একটি ভালো সম্পর্ক আছে। যখন ঢেকুর বের হয়, তা হয় ভয়ানক। It make so much noise.
Generals food and drinking sweets desire
Generals food and drinking sweets agg

>>Argen Nit একটি চোখের জন্য ভালো ঔষধ। Opthalmia (Inflammation of eyes).
Argen Nit এর মিউকাস মেমব্রেন থেকে মিউকাস বের হয় এবং প্রচুর পরিমানে চোখ থেকে গাঢ় ময়লা বের হয়। এর origin গনোরিয়াল Opthalmia হতে পারে। চোখ লাল হয়। এর একটি বিশেষ লক্ষন হল, চোখের কোনের canthus সেটি ফুলে বড় হয়ে বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে। eyelids swelling হয়। এরকম অবস্থায় Argen Nit 200 খুব কার্যকরী।

>>Argentum Nitricum ব্যক্তির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল Anticipatory Anxiety অর্থাৎ কিছু হওয়ার পূর্বেই, তার চিন্তা শুরু হয়ে যায় যেমন, Exam কেমন হবে, প্রশ্নপত্র কেমন হবে, ভালো রেজাল্ট হবে কিনা, রেজাল্ট খারাপ হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব পূর্বানুমান করতে করতে সে Anxiety ও Nervousness হয়ে পড়ে। আর Anxiety এর প্রভাব পরে তার পেটে। পেট ফুলে, Blotted feeling করে, এবং শেষে Diarrhoea আক্রান্ত্র হয়। সে বার বার পায়খানায় যায়। এই রোগীর অন্য প্রধান লক্ষন হল সব কাজ দ্রুত করতে চায় যাকে Hurried impatience বলে। কোথাও যেতে হলে অনেক আগেই সেখানে পৌছায়, যেমন পরীক্ষা সকাল ১১ টায় শুরু হলে সে স্কুলের সামনে ৮ টায় হাজির থাকবে। অনেক পূর্বেই স্কুলে উপস্থিত। এই রোগী মিস্টি খেতে খুব ভালো বাসে। এরকম লক্ষন পেলে আমরা Argentum Nitricum ব্যবহার করব।

♦ এবার আমরা আর্জেন্ট নাইটের রোগ বিষয়ে কথা বলবঃ

>> Headache(মাথা ব্যাথা): আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম অর্ধ শিরঃশূল বেদনায় কখন কখন একটি সৰ্বোকৃষ্ট ঔষধ। এইরূপ শিরঃপীড়া বড়ই যন্ত্রণাদায়ক এবং সহজে ইহা ভাল হয় না। শিরঃপীড়ায় আর্জেন্টাম নাইট্রিকামের একটি বিশেষ লক্ষণ হল – “মাথাটি যেন অতিশয় প্রসারিত হচ্ছে, “রোগীর এরূপ অনুভূতি”। এক্ষেত্রে পালসেটিলা ও এপিসের মত মাথা কষে বাধলে উপশম হয়। এই প্রসারণের অনুভূতি এই ঔষধের একটি সাধারণ ও সৰ্ব্বাঙ্গীন লক্ষণ। মনে হয় যেন সারা দেহ বা উহার অংশ বিশেষ প্রসারিত হচ্ছে। কেউ কেউ একে পূর্ণতা বোধ বলেছেন (এস্কিউলাস )। অন্যান্য ঔষধেও এই লক্ষণটি পাওয়া যায় কিন্তু আর্জেন্টাম নাইট্রিকামে ইহা খুব সুস্পষ্ট।

>> Vertigo(মাথা ঘোরা): আর্জেন্টাম নাইট্রিকামে অতিশয় মাথাঘোরা লক্ষণও আছে। এর সঙ্গে সৰ্ব্বদাই কানের মধ্যে গুন গুন শব্দ এবং সৰ্বাঙ্গীন দুর্বলতা ও কম্পন বর্তমান থাকে। রোগী চোখ বুজিয়ে হাঁটতে পারে না। উঁচু বাড়ীর দিকে তাকালে তার মাথা ঘোরে । এইগুলি সবই জেলসিমিয়ামে আছে। তবে উভয় ঔষধের অত্যধিক মাথা ঘোরা, অতিশয় কম্পন, দুর্বলতা ও তার সঙ্গে সৰ্ব্বাঙ্গীন দুর্বলতা, প্রকৃত কম্পন ও কম্পানুভব এবং লোকোমোটর এটাক্সিয়া থাকে। তাছাড়া অন্যান্য বিষয়ের লক্ষণ সমান হলেও তরুণ রোগের বা প্রারম্ভাবস্থায় জেলসিমিয়াম এবং পুরাতন রোগে আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম উপযোগী। তবে যাই হোক না কেন উভয়েরই প্রভেদক লক্ষণ দেখে এদের ব্যবস্থা করাই শ্রেয়।

>> Eye( চােখ):চোখের রোগে আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম হোমিওপ্যাথির একটি মূল্যবান ঔষধ। অন্যান্য আরও মূল্যবান ঔষধের মত অ্যালোপ্যাথদের হাতে ইহা অত্যন্ত অপব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে ইহা দুঃখের বিষয় এই যে তারা জানেন না এইসব মূল্যবান ঔষধের দ্বারা কিভাবে অপকার পরিহার করে উপকার পেতে হয়। কারণ তাদের হাতে অপব্যবহারের ফলে অনেক সময়েই এমন সব খারাপ ফল দেখা গেছে যে তাতে অনন্যরা একে সাহস করে ব্যবহার করতে চান না। আর এই জন্যেই প্রাচীন ভৈষজ্য ঔষধ ব্যবহারকারী চিকিৎসকগণ ধাতব ঔষধগুলিকে পরিহার করে চলতেন।

পারদ তাদের আতঙ্কিত করেছিল কিন্তু কিভাবে ঐগুলিকে ব্যবহার করলে ওদের কুফল পরিহার করা যায় তা হোমিওপ্যাথি শিখিয়েছে। তাই আমাদের উপর দায়িত্ব পড়েছে কিভাবে ঐ সমস্ত ঔষধগুলি শুভক্রিয়া প্রকাশ করে তা দেখানো।

চোখের রোগ সম্বন্ধে ডাঃ অ্যালেন ও নর্টন লিখেছেন – “আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম সৰ্বোপেক্ষা অধিক উপকার করে পুঁজযুক্ত চোখের প্রদাহে। হাসপাতালে ও আমাদের প্রাইভেট প্রাকটিসে আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম পুঁজযুক্ত চখের প্রদাহে সর্বাধিক উপকারী। আমরা হাসপাতালে ও প্রাইভেট প্রাকটিসে বহু রোগীকে চিকিৎসা করেছি কিন্তু তাদের কারো একটিও চোখ নষ্ট হয়নি। প্রত্যেক রোগীই চিকিৎসিত হয়েছিল আভ্যন্তরিক ঔষধ দ্বারা এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়েছিল আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম ৩০ বা ২০০। আমরা দেখেছি যে খুব উৎকৃষ্ট চোখের প্রদাহ তৎসহ রক্তাবরোধ, প্রভূত পূজস্রাব, এমনকি কর্ণিয়ার অস্বচ্ছতার উপক্রমে এবং পচা মাংস বসে পড়ার সম্ভাবনাতেও আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম আভ্যন্তরিক ভাবে উপকারী। এক্ষেত্রে অনুভূতিমূলক বা সাবজেকটিভ (subjective) কোনও লক্ষণ ছিল না। অনুভুতিমূলক কোন লক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও প্ৰভৃত পূঁজময় স্রাব ও চোখে পুঁজ জমায়; চোখের পাতা ফোলায় অথবা শুল্কমণ্ডলের নিম্নস্থ বিধান তন্তুর (tissure) স্ফীততায় এই ঔষধটি নির্দেশিত হয় (এপিস, রাসটক্স)।

পরে নর্টন লিখেছে – “আমার বিশ্বাস যে গনোরিয়া জনিত পূঁজস্রাবী চক্ষু প্রদাহ ব্যতীত যে কোন প্রকার চক্ষু প্রদাহে কটারাইজেশনের (cauterization) প্রয়োজন নেই”।

>>“জিহ্বার ডগা লাল ও প্যাপিলিগুলি সুস্পষ্টভাৱে খাড়া” এর একটি মূল্যবান লক্ষণ। এই লক্ষণকে পরিচালক হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন রোগের বহুরোগীকে এই ঔষধ দ্বারা আরোগ্য করা গেছে।

পরিপাক যন্ত্রেও এই ঔষধের কতকগুলি মূল্যবান লক্ষণ আছে যেমন –

চিনি খাওয়ায় দুর্নিবার প্রবৃত্তি তরল পদার্থ সোজাসুজি পাকস্থলীতে গড়গড় করে নেমে যায়; অধিকাংশ পাকস্থলীর রোগে উদার উঠে, প্রতি আহারের পরই উদ্গার বোধ হয় পাকস্থলী যেন বায়ুতে পূর্ণ এবং যেন ফেটে যাবে এরূপ অনুভুতি।
পরিপাক যন্ত্রেও এই ঔষধের কতকগুলি মূল্যবান লক্ষণ আছে যেমন –
চিনি খাওয়ায় দুর্নিবার প্রবৃত্তি তরল পদার্থ সোজাসুজি পাকস্থলীতে গড়গড় করে নেমে যায়; অধিকাংশ পাকস্থলীর রোগে উদার উঠে, প্রতি আহারের পরই উদ্গার বোধ হয় পাকস্থলী যেন বায়ুতে পূর্ণ এবং যেন ফেটে যাবে এরূপ অনুভুতি উদগার তোলা কষ্টকর হয়, শেষে বায়ু সশব্দে প্রবল বেগে নির্গত হয় ৷” এইগুলি সবই এর চরিত্রগত লক্ষণ এবং সময়ে সময়ে নিশ্চয়ই আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম ব্যবহৃত হয় কিন্তু কার্বোভেজ, চায়না বা লাইকোপোডিয়ামও এইসব ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রয়োজ্য।

>> Dyspepsia(পাকাশয়শূল): (gastralgia) ও পাকস্থলীর ক্ষতেও (gastric ulcer) কখন কখন আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম একটি শক্তিশালী ঔষধ। ইহা নানাপ্রকারের দুরারোগ্য উদরাময়ে উপকারী।

ক) “কাটা শাকের মত অর্থাৎ কুচি কুচি শাকের ন্যায় সবুজ ছিবড়ে সবুজ আম।”

খ) “মল শিশুর কপনিতে বা শয্যা বস্ত্রে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যে মলেরবর্ণ সবুজ হয়ে যায়।”

গ) মল অত্যন্ত পড়পড় শব্দে ও ছিটকে নির্গত হয়।

ঘ) মল দড়ি দড়ি, বা সূত্রাকার, লাল, সবুজ শ্লেষ্মা ও লসিকা (lymph)
মিশ্রিত বা উপত্বক বা এপিথেলিয়ামের মত (epithelium) পদার্থ যুক্ত হয়।

ঙ) মল ত্যাগকালে শব্দে অত্যধিক বায়ু নিঃসৃত হয়।
এগুলি আর্জেন্টামের মল লক্ষণ। অন্যান্য ঔষধেও এইসব লক্ষণের কতকগুলি বর্তমান থাকে, বিশেষ করে ক্যালকেরিয়া ফসে – মল অতিশয় পড়পড় শব্দে অত্যধিক বায়ুর সঙ্গে ছিটকে পড়ে। তবে একথা সত্য যে দুটি ঔষধই দীর্ঘকালস্থায়ী কঠিন এণ্টারোকোলাইটিসের পরবর্ত্তী হাইড্রোকেফালয়েড রোগে অত্যন্ত উপকারী।
যদি অস্থির পুষ্টি ধীরে ধীরে হয় এবং তার সঙ্গে ব্রহ্মরন্ধ্র বিমুক্ত থাকে ও মাথা ঘৰ্ম্মযুক্ত হয় তাহলে ক্যালকেরিয়া ফসই প্রযোজ্য। তাছাড়া ক্যালকেরিয়া ফসের শিশু; ধূমপক্ক মাংস ও শুকরের মাংসাদি খেতে চায় কিন্তু আর্জেন্টামের রোগী চিনি ও মিষ্টি দ্রব্য খেতে চায়। তথাপি দুটি ঔষধেই অত্যধিক শীর্ণতা থাকে। শিশুর আকৃতি বৃদ্ধের মত কুঞ্চিত হয়। তবে ওদের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার জন্য সময় সময় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত স্বতন্ত্রতা নিরূপণ করা অত্যন্ত দরকারী।

>> Throat pain(গলা ব্যাথা):গলার রোগে চিকিৎসায়ও আর্জেন্টাম নাইট্রিকামের উপযোগী। গলার গাঢ় চটচটে শ্লেষ্মা থাকায় রোগী খক খক করে কাশে; উহাতে অল্প স্বরভঙ্গ জন্মায়। গলায় অবদরণ বোধ (rawness), স্পর্শদ্বেষ ও টাটানি বশতঃ কাশির উদ্রেক হয়; রোগী গলা খেঁকারি দেয়। গলার মধ্যে চোঁচ ফুটে আছে এরূপ অনুভূতি নাইট্রিক অ্যাসিড, হিপার সালফ, ডলিকস।
>>Sore throat(স্বরভঙ্গ):গলার এরূপ অবস্থা নীচের দিকে প্রসারিত হয়ে স্বরযন্ত্রকে আক্রমণ করে, বিশেষতঃ গায়ক, প্রচারক অথবা উকিল প্রভৃতি ব্যক্তিদের যারা অত্যধিক স্বরের ব্যবহার করে তাদের মধ্যেই ইহা বিশেষভাবে দেখা যায়।

এক্ষেত্রে আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম অন্যান্য ঔষধ অপেক্ষা দ্বিগুণভাবে নির্দেশিত হয়।

>>Cottage pain(কটি বেদনা): দাঁড়ালে বা হাঁটলে উহার শান্তি ও আসন থেকে উঠবার ভ্রময় তীব্রতা বোধে আর্জেন্টাম নাইট্রিকামের একটি বিশেষ সম্মান আছে। ডাঃ ন্যাশ বলেন “আমি অনেক সময় ইহা সালফার ও কস্টিকাম দ্বারা প্রশমিত করেছি। কন্তু আর্জেন্টাম নাইট্রিকামকেও মনে রাখতে হবে”।

>>Back pain(পিঠে ব্যাথা) : পিঠের উপদ্রবে যদি অত্যন্ত আলস্য বা অবসাদ (কেলি কার্বনিকাম) দেখতে পাওয়া যায় এবং তার সঙ্গে ক্লান্তি, বিশেষ করে হাতের সামনের দিকে (forearm) ও পায়ের (leg) নিম্নভাগে বিশেষত্ব পায়ের ডিমে (calves) বর্তমান থাকে এবং এর সঙ্গে মাথা ঘোরা ও হাত পায়ের কাঁপুনি থাকে তাহলে নিশ্চিন্তে আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম উপকারী।

>>Paralysis (পক্ষাঘাত): দুর্বলতাজনক কারণে নিম্নাঙ্গের পক্ষাঘাতে বা ডিপথিরিয়ার পরবর্তী পক্ষাঘাতেও আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম উপকারী। মৃগীরোগের আক্ষেপেও আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম নির্দেশিত হয়। মৃগীরোগের একটি চরিত্রগত লক্ষণ হল -আক্রমনের পূর্বে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েকদিন তার চোখের তারা প্রসারিত থাকে। মৃগীরোগে রোগের আক্রমণের পূর্বে কিছুক্ষণ রোগীর অত্যন্ত অস্থিরতা প্রকাশ পায়।

* কুপ্ৰাম মেটালিকামে দুটি আক্রমণের মধ্যবর্তী সময়ে অত্যন্ত অস্থিরতা প্রকাশ পায়।

** আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম বা নাইট্রেট অফ সিলভারের অপব্যবহারের, বিশেষতঃ শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীতে অপব্যবহারের কুফলে নেট্রাম মিউর উপযোগী।
>> Agg (বৃদ্ধি): রাতে, গরম ঘরে, গরমে, গরম কোন খাদ্যে, আইসক্রিম, মিষ্টি, ঘামে, চিন্তায়।
>> Amel(হ্রাস): খোলা বাতাসে, ঠান্ডা পানিতে গোসল, দৃঢ চাপনে, সঞ্চালনে।
>> Complementary (সম্বন্ধ): ব্রায়ো, ক্যাল কার্ব, ক্যালি কার্ব, লাইকো, মার্ক, পালস,সিপিয়া।
>> Antidote (ক্রিয়া নাশক): আর্সেনিক, নেট্রাম মিউর,এসিড নাইট, ফসফরাস,পালসেটিলা, রাসটক্স, সিপিয়া।
>>Time and Durition( ক্রিয়া কাল): ৩০ থেকে ৪০ দিন।
>>Power(শক্তি): ২০০,১০০০ থেকে উচ্চ শক্তি।

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (রাত ৮:৫০)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)