আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Cinkara

সিনকারা ইউনানী ওষুধটির কার্যকারিতা ও উপকারিতা জানলে সত্যিই অবাক হবেন

সিনকারা ইউনানী ওষুধ


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো ইউনানী ওষুধ সিনকারার কার্যকারিতা ও উপকারিতা নিয়ে। বিস্ময়কর সব উপকারিতা রয়েছে এই ওষুধটির মধ্যে।তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

সিনকারা ওষুধটির কার্যকারিতাঃ

১। পরিশ্র্রম সাধ্য ব্যায়ামঃ সিনকারা খেলাধুলা ও ব্যায়াম পরবর্তী শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যোগান দেয়। অধিকন্তু সিনকারা বাড়তি শর্করার যোগান দেয় যা সংগৃহিত শক্তি হিসেবে শরীরে জমা থাকে, পরিশ্রম ও ব্যায়ামের সময় শরীর তা ব্যবহার করে। দৌড়বিদ, দীর্ঘলম্ফবিদ, সাতারু, দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ, ভাড় উত্তোলক, হকি, ফুটবল, ক্রিকেট প্রভৃতি খেলোয়ারের জন্য সিনকারা অবশ্যই প্রয়োজন।

২। মানসিক চাপ ও দূর্বল অবস্থাঃ সিনকারা বিপাক ক্রিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত করে এবং শারিরীক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে। এর উচ্চ ক্যালরির মান খাবারে রুচি বাড়ায়, দেহে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, মানসিক চাপ ও দূর্বলতার চিকিৎসার জন্য সিনকারা বিশেষভাবে তৈরী করা হয়।

৩। ভিটামিন ঘাটতিঃ সিনকারা শিশু, বয়স্ক, বৃদ্ধ সহ সকলের ভিটামিন ঘাটতি জনিত রোগ প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে। এটা সব বয়সী লোকের জন্য প্রয়োজন। বিশেষ করে, কেউ যখন অপুষ্টিকর খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তার জন্য সিনকারা আবশ্যক।

৪। রোগ মুক্তির সময়ঃ সংক্রামক ব্যাধি হতে রোগ মুক্তির পর স্বাস্থ্যের দ্রুত উন্নতির সময়, অস্ত্রোপচার ও শিশু জন্মের পর সিনকারা ব্যবহার খুবই ফলপ্রদ।

৫। ক্ষুধামান্দ্যঃ ক্ষুধামান্দ্য দূর ও স্বাচ্ছন্দ বোধের জন্য টনিক হিসেবে সিনকারা ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়। ইহা অত্যাধিক শক্তি যোগায়, সহনশীলতা বৃদ্ধি করে, শারিরীক দক্ষতা ও ক্ষুধা বৃদ্ধি করে।

৬। সংক্রমণ প্রতিরোধকঃ সিনকারা দেহের কোষ-কলার গঠন ও কার্যকারিতার উন্নতি ঘটায় এবং রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

৭। গর্ভকালীনঃ গর্ভকালীন সময়ে সিনকারা খুবই কার্যকারি ভূমিকা রাখে। ইহা শরীরে ভিটামিন সঞ্চিত রাখে এবং দূর্বলতার সময় ভিটামিনের অভাব পূরণ করে। ইহা গর্ভকালীন ও স্তন্য দানের সময়ে ভিটামিনের বাড়তি চাহিদা পূরণ করে।

৮। মানসিক কার্যক্ষমতাঃ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, সিনকারা ছাত্রদের মানসিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ইহা দেহে অণু পুষ্টি (মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট) যোগায় যা মস্তিষ্কের সুসংগঠিত কার্যক্ষমতার জন্য আবশ্যক।

৯। দেহের ওজন হ্রাস প্রতিরোধঃ সব বয়সী লোকের ওজন হ্রাস প্রতিরোধের জন্য সিনকারা ব্যবহার করতে বিশেষ ভাবে পরামর্শ দেয়া হয়।

১০। অদম্য মানসিক শক্তি বৃদ্ধিঃ সিনকারা মনঃসংযোগ ক্ষমতা এবং পরিশ্রম করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ফলে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থার উন্নতি হয়।

১১। স্নায়ু দূর্বল্য ও অবসাদঃ ক্ষুধামান্দ্য, স্নায়ু দূর্বল্য ও অবসাদ এর কারণে বাড়তি উদ্দীপনা এবং শক্তির সন্নিবেশ প্রয়োজন, সিনকারা সেসব অবস্থায় স্বাচ্ছন্দ্য ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে। ইহা ক্ষুধা হীনতা, মানসিক ও শারীরিক অবসাদ দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

১২। স্বল্প পুষ্টিহীনতাঃ শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের পুষ্টিহীনতা প্রতিরোধে সিনকারা খুবই কার্যকরী। যেসকল শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে মানসিক উদাসীনতা, কাজের মধ্যে ঝিমিয়ে পড়া, কর্ম শক্তির অভাব,. অলসতা এবং সংক্রমণ প্রবণতা দেখা দেয় তাদের জন্য সিনকারা অত্যন্ত কার্যকরী।

১৩। অতিরিক্ত বিপাকঃ অতিরিক্ত বিপাকজনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন – জ্বর, মাংস পেশীর অতিরিক্ত তৎপরতা, পুরাতন ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে সিনকারা খুবই কার্যকর।

১৪। অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে ভিটামিনের ঘাটতিঃ অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাবে অভ্যন্তরীণ ভিটামিন সংশ্লেষণে যে ঘাটতি দেখা দেয় সিনকারা তার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

১৫। স্নায়ুচাপ ও তীব্র অসুস্থ্যতাঃ শ্বাসকষ্ট ও তীব্র অসুস্থ্য শরীরে নানারকম রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তখন আবশ্যকীয় পুষ্টির সম্পূরক অপরিহার্য হয়ে ওঠে। আর এ অবস্থায় সিনকারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক হিসেবে কাজ করে।

১৬। পুষ্টি থেরাপিঃ ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, পুষ্টি থেরাপিতে সিনকারা অত্যন্ত কার্যকরী। যেমন – সংক্রামক রোগ, আর্থাইট্রিস, লিভারের রোগ, পরিপাকের গোলযোগ, অনু পুষ্টি শোষণে ত্রুটিযুক্ত সমস্যা, ক্ষয়রোগ, স্নায়ুরোগ, অস্ত্রোপচারের পূর্ব ও পরের অবস্থা, ত্বক এবং পাকস্থলী ও আন্ত্রিক রোগ ইত্যাদিতে সিনকারা কার্যকর।

 

সেবনবিধিঃ প্রাপ্ত বয়স্ক – ৬ চা চামচ দৈনিক ২ বার। অপ্রাপ্ত বয়স্ক – ২ চা চামচ দৈনিক ২ বার; শিশুদের মেধা ও স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির জন্য ৬ চা চামচ দৈনিক ২ বার সেবনে অত্যন্ত কার্যকরী ফলাফল পাওয়া যায় অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য।

 

প্রতি নির্দেশঃ কোনো প্রতি নির্দেশ নেই।

 

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ নির্ধারিত মাত্রায় সেবনে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়নি।

 

সতর্কতাঃ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

 

সংরক্ষণঃ আলো থেকে দূরে, শুষ্ক ও ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন।

 

পরিবেশনাঃ পিইটি বোতলে ৪৫০ মিলি এবং এম্বার বোতলে ২২৫ মিলি ও ১০০ মিলি সিরাপ।

 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, সিনকারা নিয়ে আপনাদের জানার কৌতুহল কিছুটা হলেও উপশমিত হয়েছে। ফিরে আসবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে অন্য কোন দিন। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। করোনার এই সময়ে নিজেকে সবসময় সাবধানে রাখুন। করোনাকে ভয় নয় – কেবল সচেতন থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় মনে হয় এবং ভালো লাগে তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (রাত ৮:৩৬)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)