আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Unsleep Girl

ঘুম না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার | হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

ঘুম না হওয়া


সানরাইজ৭১ এ আপনাকে স্বাগতম। আশা করছি, ভালো আছেন। আমরা অনেক সময় ঘুম কম হওয়া সমস্যায় ভুগি। ঘুম কম হলে সারাদিন কোন কাজই ঠিক মতো হয় না। চোখে ঘুম ঘুম ভাব থেকেই যায়। আজ আলোচনা করবো কিভাবে এই ঘুম কম হওয়া সমস্যা দূর করা যায় তা নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

রোগ বিবরন : অত্যাধিক চিন্তা-ভাবণা, অতিরিক্ত দৈহিক বা মানসিক পরিশ্রম, অধিক চা, কফি, মদ্যপান, গুরুপাক দ্রব্য ভোজন, শোক, তাপ, মানসিক গোলযোগ ইত্যাদি কারন হেতু ও বৃদ্ধ বয়সে এই রোগ অধিক হয়।

চিকিৎসা :

কফিয়া (Coffea) : অনুভূতি প্রবন, মতলব বাজ, হঠাৎ মানসিক উত্তেজনা ও শীত কাতর এই ধাতুর রোগীদের জন্য ইহা উপকারী। রোগী আসিয়া বলিল – ডাক্তার সাহেব, আমাকে ঘুমের ওষুধ দিন, সারা রাত্রি বিছানায় এপাশ ওপাশ করি। মনে মনে নানা রুপ কল্পনা জাগে ঘুম আসে না। যদি সামান্য ঘুম আসে আবার জাগিয়া উঠি। নানা বিষয় চিন্তা করিতে করিতে সমস্ত রাত্রি জাগিয়া থাকি। তখন আপনি তাহাকে কফিয়া 200 শক্তি সন্ধা ও রাত্রে কিছু দিন সেবন করিতে দিবেন, ইনশাআল্লাহ নিদ্রা হবে অর্থাৎ ঘুমের এই সমস্যা দূর হইবে।

ইগ্নেশিয়া (Ignatia) : রোগী অতিশয় নির্জনতা প্রিয়, মেজাজ খুবই রুক্ষ, শীত কাতর – আপনি যদি জানিতে পারেন কোন প্রকার শোক বা দুঃখ অন্তরে চাপিয়া রাখিয়া একাকী থাকিয়া দুঃখ ভোগ করে। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলিয়া অথবা যদি শোনেন কোন প্রেমিক বা প্রেমিকা প্রেমে ব্যর্থ হইয়া অনিদ্রায় ভোগে তবে তাহাকে ইগ্নেশিয়া দিবেন। অব্যর্থ ফল পাইবেন। ভয় জনিত অনিদ্রায়ও ইগ্নেশিয়া উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 দিনে ২ মাত্রা। পুরাতন রোগে 1M অথবা 2M শক্তির ওষুধ ব্যবহার করিতে হইবে।

ক্যালকেরিয়া (Calcarea Carb) : মোটা থল থলে মেদ পূর্ণ রোগী ঘুমের ঔষধের জন্য আপনার নিকট হাজির। জিজ্ঞাসায় জানিতে পারিলেন রোগীর মাথা ঘামে, টক গন্ধ যুক্ত ঘামে বালিশ ভিজিয়া যায়। ঠান্ডা লাগার প্রবনতা, ডিম খাইবার অত্যন্ত ইচ্ছা, শীত কাতর, সমস্ত রাত্রি জাগিয়া থাকে ঘুম হয় না, যদিও ঘুম হয় সামান্য শব্দেই জাগিয়া উঠে। চক্ষু মুদিত করিয়া ঘুমের ভান করিলেই নানা প্রকার কাল্পনিক স্বপ্ন দেখে। তখন তাহাকে ক্যালকেরিয়া কার্ব দিবেন নিদ্রা হইবে ইনশাআল্লাহ।

সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 সকাল বিকাল ২ বার।

হায়োসিয়ামস (Hyoseyamus) : খিট খিটে স্বভাব, শীত কাতর – শিশুর মা আসিয়া বলিলেন আমার ছেলেকে ঘুমের ঔষধ দিন। কোন প্রকারেই ঘুম পারাইতে পারি না। যদি একটু ঘুমায় তখনই হাত পা কাঁপিয়া জাগিয়া উঠে। সমস্ত রাত্রি ছটফট করে। কেন সে ঘুমায় না তাহার কারন বুঝিতে পারিনা। শিশুটিকে হায়োসিয়ামস দিবেন উপকার হইবে।

সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 সকাল বিকাল দিনে ২ বার।

ক্যামোমিলা (Chamomilla) : বদ মেজাজী, খিট খিটে স্বভাব, অত্যন্ত রাগী সামান্য কিছুতেই ঝগড়া লাগিয়া বসে, কথায় কথায় রাগিয়া উঠে, প্রতিবাদ সহ্য হয় না। এই ধাতুর রোগীদের অনিদ্রায় ইহা উৎকৃষ্ট ঔষধ। শিশু কেবল কোলে থাকিতে চায়। কাঁদে কিন্তু কোন জিনিস হাতে দিলে ছুড়িয়া ফেলিয়া দেয়। মনে হয় যেন রাগিয়াই আছে। নিজেও ঘুমায়না অন্যকে ঘুমাইতে দেয়না। ইহাতে ক্যামোমিলা অব্যর্থ।

সেবন বিধি : শক্তি 6, 30 বা 200 সকাল বিকাল ২ বার।

চায়না (China) : হতাশা, বিমর্ষ, উৎসাহ শূন্য, উদাসীন ব্যাক্তিদের অতিরিক্ত রক্ত, বীর্য বা শরীরের তরল পদার্থের ক্ষয় জনিত দুর্বল রোগীদের অনিদ্রায় চায়না মহা উপকারী ঔষধ।

সেবন বিধি : শক্তি 3x বা 6 শক্তি ৪ ফোটা সামান্য ঠান্ডা জলসহ দিনে ৩ বার। তবে শক্তি 30 বা 200 আরও বেশি উপকারী ।

প্যাসিফ্লোরা (Passiflora) : শিশু, যুবক, বৃদ্ধ যে কোন বয়সের রোগীই হোক, অনিদ্রায় কোন কারন খুঁজিয়া না পাওয়া গেলে বা অন্যান্য ঔষধ প্রয়োগ করিয়া ব্যর্থ হইলে ইহাতে উপকার হইবে।

সেবন বিধি : শক্তি Q (মাদার টিংচার) ৩০ ফোটা অর্ধ ছটাক জলসহ রাত্রে শয়নের পূর্বে সেবন করিতে হয়। (শিশুদের ক্ষেত্রে অর্ধ বা সিকি মাত্রা ব্যবহার্য।)

এভেনা স্যাট (Avena Sat) : অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম জনিত কারনে যাহারা অনিদ্রায় ভোগে কিংবা হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ, অতিরিক্ত স্ত্রী সহবাস বা অস্বাভাবিক বীর্যক্ষয় করিয়া নিদ্রাহীনতা দেখা দেয় এভেনা তাহাদের পরম বন্ধু।

সেবন বিধি : শক্তি Q (মাদার টিংচার) ১০ ফোটা অর্ধ ছটাক গরম জলসহ প্রত্যহ তিনবার।

রাউলফিয়া (Rauwolfia) : চিন্তা ভাবনা অথবা মানসিক উত্তেজনা হেতু কিংবা অন্য কোন কারনে অনিদ্রায় কষ্ট পাইতে থাকিলে ইহা উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি Q (মাদার টিংচার) ৫-১০ ফোঁটা (বয়স অনুপাতে) সকালে ও রাত্রে মোট ২ বার।

ককুলাস ইন্ডিকা (Cocculus Indica) : কাহারো কোন কারনে অনেক দিন পযর্ন্ত রাত্রি জাগিয়া থাকিবার ফলে অনিদ্রা রোগ দেখা দিলে ককুলাস উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 দিনে ২ বার ।

বায়োক্যামিক চিকিৎসাঃ
ক্যালি ফস (Kali Phos) : স্মৃতি শক্তি খর্বতাদের অনিদ্রা রোগে এই ঔষধ উত্তম কার্যকরী। অত্যাধিক লেখাপড়া করিয়া, দিবা-রাত্রি নানান কাজে ব্যস্ত থাকিয়া, শোক-দুঃখ বা কোন প্রকার ভয় পাওয়ার কারনে মানসিক অশান্তি জনিত অনিদ্রাতে এই ঔষধ বিফলে যায় না। শিশু ঘুমায় না, অল্পক্ষণ ঘুমাইলে ভয় পাইয়া কাঁদিয়া উঠে।

সেবন বিধি : শক্তি 6x বা 12x ১টি থেকে ৪টি বড়ি এক মাত্রা (বয়স অনুপাতে) প্রত্যহ ৩ বার।

ফেরাম ফস (Ferrum Phos) : অত্যধিক ঘুমের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটিলে ফেরাম ফস সেবনে ঘুম দূর হইবে অর্থাৎ ঘুম কমে যাবে।

সেবন বিধি : শক্তি 3x ২টি থেকে ৪টি বড়ি এক মাত্রা প্রত্যহ রাত্রে এক বার।

পথ্য ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ
নিদ্রার পূর্বে শীতল জল দ্বারা মাথা ধৌত করিবে। গুরুপাক দ্রব্য ভোজন, অতিরিক্ত চা, কফি, মদ্যপান নিষিদ্ধ। লঘু পথ্য আহার হিতকর। নিদ্রার পূর্বে শীতল জল পান উপকারী। শক্ত বিছানায় শয়ন করা ভাল ।

আজ এখানেই শেষ করছি। নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আবারও আসবো অন্য দিন। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – শুধু সচেতন হউন।
পোস্টটি আপনার ভালো লাগলে এবং প্রয়োজনীয় মনে হলে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সন্ধ্যা ৭:৩৮)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)