আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Hemmorroids

অর্শ বা গেঁজ রোগের লক্ষণসমুহ কি কি এবং চিকিৎসা কি তা জেনে নিন

অর্শ (গেঁজ) রোগ


সানরাইজ৭১এ আপনাকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো অর্শ  বা গেঁজ রোগ নিয়ে। রোগটি প্রায় মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। খুবই কষ্টদায়ক একটি রোগ। হোমিওপ্যাথিতে এর সুচিকিৎসা রয়েছে। আপনি যদি ধৈর্য্য নিয়ে চিকিৎসা করেন তবে অবশ্যই সুস্থ্য হতে পারবেন। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

রোগ বিবরন :নানাবিধ কারনে অর্শ রোগ জন্মাইতে পারে। গুহ্য দ্বারে সুত্রবত কৃমি জনিত উপসর্গের কারণে এই রোগ অধিক হয়। অলস প্রকৃতির রোগী যাহারা বসিয়া বসিয়া দিন কাটায় তাহাদের প্রায়ই এই পীড়ায় ভোগীতে দেখা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্যও এই রোগের কারন। অর্শ রোগ প্রায়ই দুই প্রকার দেখা যায়। অন্তঃবলি- যে বলি গুহ্য দ্বারের ভিতরে থাকে তাহাকে বলে অন্তঃবলি। বহিঃবলি- যে বলি গুহ্য দ্বারের বাহিরে থাকে তাহাকে বলে বহিঃবলি। অন্তঃবলি থেকে প্রায়ই রক্তস্রাব হয়। বহিঃবলি থেকে তেমন একটা রক্তস্রাব হয় না । বংশগত কারনেও এই রোগ হইতে পারে ।

চিকিৎসাঃ
কলিনসোনিয়া (Collinsonia) :যদি জানতে পারেন রোগীর কোষ্ঠবদ্ধ শুকনা মল অতি কষ্টে নির্গত হয়। গুহ্যদ্বার ব্যথা করে মনে হয় যেন কতগুলি কাচের টুকরা মলদ্বারে ঢুকিয়া রহিয়াছে, খোচা লাগে, রক্ত পড়ে, জ্বলে এবং রক্ত স্রাবীয় অর্শে ইহা মহৌষধ। ইহা ব্যবহারে বহু রোগী আরোগ্য হইয়াছে।

সেবন বিধি : শক্তি 6 বা 30 দিনে তিন বার। শক্তি 200 দিনে ২ বার। পুরাতন রোগে 1m বা 10m বা আরো উচ্চ শক্তি ব্যবহার্য।

ইসকিউলাস হিপ (Aesculas Hip): কোমরে ব্যথা এই ঔষধের নিত্য সহচর। অর্শ (গেঁজ) রোগীর কোমরে অত্যন্ত ব্যথা, রক্ত স্রাব তেমন একটা হয় না। যদিও হয় অনেক দিন পরে অল্প পরিমাণে হয়। মলদ্বারে খোচানি, টাটানি ব্যথা, মলদ্বারে চুলকায়, জ্বলে সহ ইত্যাদি লক্ষণে ইহা উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি 3x বা 6 বা 30 দিনে তিন মাত্রা। পুরাতন রোগে 200 বা 1m উপকারী।

আর্সেনিক এলব (Arsenic Alb):অস্থিরতা, খিট খিটে স্বভাব, শীত কাতর, রোগীদের মলদ্বারে অত্যন্ত জ্বালা ও বেদনা এবং ছটফট করে। সে জ্বালা ও বেদনা গরমে আরাম, গরম সেকে আরাম হইলে আর্সেনিক অব্যর্থ । আমি এক সময় একটি রোগী পাইয়াছিলাম যার গুহ্যদ্বারের জ্বালায় ও বেদনায় রোগী অস্থির। চুলায় গরম মাটিতে গুহ্যদ্বার লাগাইয়া সেক লইলে আরাম পাইত জানিয়া আমি তাহাকে আর্সেনিক 200 শক্তি 20 নং গ্লোবিউলস 2 টি অর্ধ আউন্স ডিস্টিল ওয়াটারে মিশাইয়া সেবন করিতে দেই। দুই দিন পর সংবাদ পাইলাম রোগী ভাল আছে। তাহলে দেখুন, বিষয়টি কতোটা আশ্চর্যজনক।

এসিড সালফ (Acid Sulps): কাজে কর্মে অত্যন্ত ব্যস্ত, সব কাজে তাড়াতাড়ি করে। এই ধাতুর রোগীদের যদি জানিতে পারেন যে, অর্শ বড় হইয়া মলদ্বার বন্ধ হইয়া গিয়াছে, গন্ধহীন রসে কাপড় ভিজিয়া যায় গুহ্যদ্বার জ্বলে। এসিড সালফ দিবেন উপকার হইবে।

সেবন বিধি : শক্তি 6 বা 30 প্রত্যহ ৩ মাত্রা। পুরাতন রোগে 200 বা 1m ব্যবহার্য।

মেডোরিনাম (Medorrhinum): অর্শ (গেঁজ) বা ভগন্দর পীড়ায় মলদ্বার হইতে মাংস ধোয়া জলের মত দুর্গন্ধ রস ঝরিলে মেডোরিনাম অব্যর্থ।

সেবন বিধি : শক্তি 200 বা 1m সকাল বিকাল দুই মাত্রা। পুরাতন রোগে 10m, 50m বা cm অধিক উপকারী।

এসিড নাইট (Acid Nit): খিট খিটে স্বভাব, শীত কাতর, প্রস্রাবে তীব্র গন্ধ ও সহজে ঠান্ডা লাগার প্রবনতাময় রোগীদের পায়খানা নরম বা শক্ত যাহাই হোক – পায়খানার সময় ও পরে মলদ্বারে অত্যন্ত জালা করে। মলদ্বারে কতগুলি সুঁচ বা আলপিন ফোঁটানো, খোচা লাগে এইরুপ অনুভবে ইহা উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি 6 বা 30 দিনে তিন বার। 200 শক্তি দিনে ২ বার। পুরাতন রোগে 1m, 10m এবং আরো উচ্চ শক্তি ব্যবহার্য।

এসিড মিউর (Acid Mur): মেজাজ খিট খিটে, সামান্য কারনে রাগিয়া উঠে, শীত কাতর। এই ধাতুর রোগীদের জিজ্ঞাসায় জানিতে পারিলেন অর্শে টাটানি ব্যথা এবং কাপড়ের ঘর্ষন লাগিলেও কষ্ট পায়। গরম জলে বা সেকে কিঞ্চিত উপশম রোধ করে। ঠান্ডা জলে যন্ত্রনা বাড়ে। এসিড মিউর ব্যবস্থা করিবেন উপকার হইবে।

সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 সকাল বিকাল ২ বার।

এলো (Aloe): অলস প্রকৃতির, দৈহিক বা মানসিক পরিশ্রমে অনিচ্ছা, অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত, গরম কাতর, পায়খানায় বসিয়া বেগ দিলে অর্শের বলী আঙ্গুরের থোকার মত বাহির হইয়া পড়ে। গুহ্যদ্বার চুলকায় এবং জ্বলে ।সেই জ্বালা ঠান্ডা জলে আরাম বোধ করে। এইসব লক্ষণে ইহা উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি 6 বা 30 দিনে ৩ বার। পুরাতন রোগে 200 বা 1m ব্যবহার করিতে হইবে ।

মিলিফোলিয়ম (Millefolium): যন্ত্রনাবিহীন অর্শ রোগ গুহ্যদ্বার হইতে টক টকে লাল রক্ত স্রাবে ইহা অব্যর্থ।

সেবন বিধি : শক্তি Q (মাদার টিংচার) ৩/৪ ফোটা অর্ধ ছটাক জলের সহিত প্রত্যহ ৩/৪ বার।

ব্লমিয়া অডোরেটা (Blumia Odorata):ইহা আমাদের বাংলাদেশী ঔষধ। রক্ত স্রাবীয় অর্শে একটি মহৎ কার্যকরী ঔষধ।

সেবন বিধি :শক্তি Q (মাদার টিংচার) 3/4 ফোটা অর্ধ ছটাক জলসহ দিনে ৩/৪ বার কিছু দিন সেবন করিতে হয়।

এমোন কার্ব (Ammon Carb):ইহা রক্ত স্রাবীয় অর্শে একটি চমৎকার ঔষধ। শুকনা মল গাট গাট হইয়া অতি কষ্টে নির্গত হয়, রক্ত পরে, মলদ্বার চুলকায়, মল ত্যাগের সময় অর্শ বলি বাহির হইয়া পড়ে, ব্যথা করে এইসব লক্ষণে ইহা ব্যবহার্য।

সেবন বিধি :শক্তি 30 বা 200 দিনে ২ বার।

নাক্স ভমিকা (Nux Vom) অথবা সালফার (Sulphur): নানা প্রকার অর্শ রোগের এই ঔষধ দুইটি ব্যবহার হইয়া আসিতেছে। সকালে সালফার শক্তি 30 এক মাত্রা এবং সন্ধ্যায় নাক্স শক্তি 30 এক মাত্রা। এই ভাবে কিছু দিন সেবন করার পর উক্ত নিয়মে 200 শক্তি সেবন করিলে অর্শ রোগে উপকার হয়। ডাঃ কালির মতে, সালফার 1m বা 10m সকালে এক মাত্রা সেবনে অর্শ রোগে অব্যর্থ ফল হয়।

বাইওকেমিক চিকিৎসাঃ
ক্যালকেরিয়া ফ্লোর (Calcarea Fluor): সর্ব প্রকার অর্শ রোগে এই ঔষধ কার্যকরী। রক্ত স্রাবীয় অর্শ ফেরাম ফসের সহিত উক্ত ঔষধ পর্যায় ক্রমে সেবন করিলে উত্তম ফল পাওয়া যায়।

সেবন বিধি : শক্তি 6x মাত্র ২/৪ বড়ি এক মাত্রা (বয়স অনুপাতে) দিনে ৩/৪ বার।

ম্যাগনেসিয়া ফস (Magnesia Phos):অর্শ রোগীর মলদ্বারের ব্যথায় ইহা উত্তম কার্যকরী ঔষধ।

সেবন বিধি : শক্তি 3x বা 6x মাত্র ২/৪ বড়ি কয়েক মাত্রা (বয়স অনুপাতে) গরম জলসহ পুণঃ পুণঃ কয়েক মাত্রা সেবনেই যন্ত্রনা উপশম হয়। লক্ষন অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সঙ্গে বাইওকেমিক ঔষধ পর্যায়ক্রমে সেবন করিলে আরো দ্রুত উপকার হয় (অভিজ্ঞতা থেকে বললাম)।

পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থাঃ
অর্শ রোগ আরোগ্য করিতে হইলে ঔষধ ব্যবহারের সঙ্গে নিয়ম নীতি পালন করিতে হইবে। কোষ্ঠ যাহাতে পরিস্কার থাকে সেই বিষয়ে চেষ্টা রাখিবে, শীতল জলে গোসল করা ভাল। সকাল বিকাল খোলা বাতাসে ভ্রমন করা হিতকর। পাঁকা বা কাঁচা বেল পোড়া সরবত, সাগু ভিজাইয়া চিনিসহ সেবন, প্রত্যহ বেশী করিয়া জল পান করা। পুরাতন সরু চাউলের অন্ন, জীবিত মাছের ঝোল সুপথ্য। মাংস, ডিম, গরম মসলা, চা, কফি, মদ্যপান বর্জনীয়।

ক্যালকেরিয়া ফ্লোর : 1x বা 2x বিচুর্ণ এক ভাগ নিয়ে তিন ভাগ ভ্যাসিলিনের সাথে মিশ্রিত করিয়া অর্শ বলিতে বাহ্যিক প্রয়োগের ফলে উপকার হয়। গুহ্যাদ্বারে অত্যন্ত জ্বালা যন্ত্রনা থাকিলে ইসকিউলাস হিপ Q (মাদার টিংচার) এক ভাগ নিয়ে তিন ভাগ ভ্যাসিলিনের সাথে মিশ্রিত করিয়া বাহ্যিক ব্যবহারে উপকার হয় ।

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করছি, বুঝতে পেরেছেন। আবারও আসবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন। করোনা’কে ভয় নয় – কেবল সচেতন থাকুন।
এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

2 responses to “অর্শ বা গেঁজ রোগের লক্ষণসমুহ কি কি এবং চিকিৎসা কি তা জেনে নিন”

  1. parimal says:

    তথ্য সমৃদ্ধ। আরও বিস্তারিত চাই।

  2. আপনার কমেন্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আসলে সব সময়ই চেষ্টা করি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার জন্য। আপনি যেহেতু আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন আমরা চেষ্টা করবো এই পোস্টটিকে আপডেট করে আরও তথ্য সমৃদ্ধ করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সন্ধ্যা ৭:৪২)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)