আজ বুধবার,২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জন্ডিস/পান্ডু রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

জন্ডিস


 

রোগ বিবরন : পিত্ত থলি হইতে পিত্ত বাহির হইয়া কোন কারনে অন্ত্রে যাইতে না পারিয়া রক্তে মিশ্রিত হইলে চক্ষু, মূত্র, হাত, পা, হাতের, পায়ের নখ হরিদ্রা বর্ণ ধারন করে তাহাকে জন্ডিস বা কামলা বলে ঠান্ডা লাগা, সবিরাম, স্বল্প বিরাম জ্বর ভোগ, আহারের দোষ, দূষিত বায়ু সেবন, কোষ্ঠ বদ্ধ বা অজীর্ণ মানসিক অবসাদ, পরায়নতা, মনঃকষ্ট প্রভূতি কারনে এই রোগ হইতে দেখা যায়।

চিকিৎসা

হাইড্রোসটিস (Hydrastis) : নতুন পুরাতন উভয় প্রকার জন্ডিস রোগে এই ঔষধ অব্যর্থ। চক্ষু, প্রস্রাব, চর্ম হলুদ বর্ণ হলুদ বর্ণ দেখায় মুখে অরুচি। জিহ্বা শ্বেতবর্ণ মাঝে মাঝে বমির ভাব।

সেবন বিধি : শক্তি Q ৩-৪ ফোঁটা অর্ধ ছটাক জলের সহিত দিবসে তিন চার বার। 2x বা 3x ও উপকারী। আমি এই ঔষধ উক্ত নিয়মে সেবন করিতে দিয়া বহু রোগী আরোগ্য হইতে দেখিয়াছি।

চেলিডোনিয়াম (Chelidonium) : মুখের স্বাদ তিক্ত, জিহ্বায় হরিদ্রা বর্ণের ময়লা, চোখ, মুখ, গায়ের চামড়া হরিদ্রা বর্ণ। পায়খানার ছাই বা মাটির মত, মাঝে মাঝে গন্ধকের মত হলুদ বর্ণের পায়খানা ক্ষুধা হীনতা, গা বমি বমি, মাঝে মাঝে পিত্ত বমি। ইত্যাদি লক্ষনে ইহা অব্যর্থ।

সেবন বিধি : শক্তি Q ৪-৬ ফোঁটা সামান্য ঠান্ডা জলের সহিত দিনে চার বার।

কার্ডুয়াস মেরি (cardous Mere) : হলুদ বর্ণের গাঢ়, অল্প প্রস্রাব, চক্ষু হলুদ, মুখে তিক্ত স্বাদ বিস্বাদ মাঝে মাঝে বমি ও বমির ভাব। কোষ্ঠ কাঠিন্য মল গাট গাট হইয়া নির্গত হয়। মাঝে মাঝে উদরাময়। লিভারের স্থানে টাটানী ব্যথা। ডান দিকে চাপিয়া শুইতে অক্ষমতা ইত্যাদি লক্ষনে ইহা বিশেষ উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি Q ৪/৫ ফোঁটা সামান্য ঠান্ডা পানিসহ দিনে চার বার।

মাইরিকা (Myrica) : চোখ হরিদ্রা বর্ণ, জিহ্বায় হলদে ময়লার প্রলেপ। প্রস্রাব হলুদ বা ঘোলা, ঘুম ঘুম ভাব, অক্ষুধা বমি বমি ভাব, মুখমন্ডল হলুদ বর্ণ। নবজাত শিশুর জন্ডিস রোগে অতি ফলপ্রদ ঔষধ।

সেবন বিধি : শক্তি Q ১/৪ ফোঁটা বয়স অণুপাতে সামান্য জলসহ দিনে তিন চার মাত্রা।

ইলাটিরিয়ম (Elatrium) : সদ্য প্রসূত নবজাত শিশুর পিত্তভেদ চক্ষু প্র্রস্রাব হলুদ বর্ণ, বমি ইত্যাদি লক্ষনে শিশুর জন্ডিস রোগে ইহা উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি 3x বা 6 দিনে চার বার।

নাক্স ভূমিকা (Nux Vom) : অতিরিক্ত কুইনাইন সেবন জনিত কারনে জন্ডিস পীড়া হইলে নাক্স ভমিকা অমোঘ।

সেবন বিধি : শক্তি 3x ৪ ফোঁটা সামান্য ঠান্ডা জলসহ দিনে ৪ বার।

বাইওকেমিক চিকিৎসা

নেট্রাম সালফ (Narum Sulph) : চক্ষু প্রস্রাব হলুদ, গা বমি বমি। মাঝে মাঝে পিত্ত বমি, মুখে তিক্ত স্বাদ। সর্ব শরীর হরিদ্রা বর্ণ দেখায় নেট্রাম সালফ অব্যর্থ।

সেবন বিধি : শক্তি 6x বা 12x ১-৩ বড়ি এক মাত্রা বয়স অনুপাতে দিনে তিন বার।

ক্যালি মিউর (Kali Mur) : ঠান্ডা লাগিয়া রোগ উৎপত্তি, কোষ্ঠবদ্ধ জিহ্বায় সাদা বর্ণের প্রলেপ যুক্ত কামলা রোগীতে ইহা অব্যর্থ।

সেবন বিধি : শীক্ত 6x ১-৪ বড়ি এক মাত্রা বয়স অনুপাতে দিনে তিন বার।

পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা

গরম কাপড় দ্বারা গা টাকিয়া রাখা ভালো। যাহাতে ঠান্ডা না লাগে তৎপ্রতি সাবধান থাকিবে। প্রত্যহ স্নান হিতকর। মুক্ত বায়ুতে বেড়ান উপকারী। লঘু ও সহজে পরিপাক হয় এই রূপ আহার বিধেয়। আটা রুটি আলু ছাড়া অন্যান্য তরি তরকারী উপকারী। কামলা লেবু, আনারস, সুপক্ক ফল দুধ দধি বা ঘোল আহার ভাল। গ্লোকোজের জল পান করা উপকারী। মাংস, ঘৃত, মিষ্টি দ্রব্য, ডিম, তৈলাক্ত বা চর্বি জাতীয় আহার নিষিদ্ধ।

রোগী বিবরনী : ১৯৮৩ সানের জুন মাসের শেষ ভাগে মঙ্গল সর্দার, নিবাস করিমপুর, নরসিংদি। জন্ডিসে আক্রান্ত হয়,। কবিরাজী, এলোপ্যাথি বিভিন্ন চিকিৎসা করার পর আরোগ্য হইতে না পারিয়া আমার নিকট চিকিৎসার জন্য আসেন। চক্ষু, প্রস্রাব, গায়ের বর্ণ হলুদ। কোষ্ঠবদ্ধ খাওয়ায় অরুচি, বমি বমি ভাব, জিহ্বা ময়লাবৃত। উক্ত লক্ষনে আমি তাহাকে হাইড্রাসটিস 2x 6 ফোঁটা সামান্য জলসহ দিনে চার বার ও পর্যায়ক্রমে নেট্রাম সালফ 6x ৪ বড়ি এক মাত্রা সকাল বিকাল দুই মাত্রা কিছুদিন সেবন করিতে দেওয়ায় সে সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়।

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

Subscribe: Dinajpur School

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (রাত ৯:২০)
  • ১২ই মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান ১৪৪২ হিজরি
  • ২৯শে বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)