আজ সোমবার,৭ই আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২১শে জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Pneumonia

নিউমোনিয়া বা ফুসফুসে প্রদাহ হলে করনীয় – হোমিও চিকিৎসা

নিমোনিয়া (ফুসফুসে প্রদাহ)


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো নিউমোনিয়া বা ফুসফুসে প্রদাহ হলে করণীয় নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।




রোগ বিবরণঃ ঠান্ডা লাগা, অনেকক্ষন জলে নামিয়া কাজ করা, অধিক সময় কঠিন পরিশ্রম করা প্রভূতি কারনে এই রোগের উৎপত্তি হইতে পারে। কাঁপ দিয়া জ্বর আসে শীঘ্র শীঘ্র তাপ বাড়িতে থাকে। ১০২ ডিগ্রি ১০৩ ডিগ্রি এমনি ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে। কাশিতে বুকে ব্যথা, শুস্ক কাশি, অত্যন্ত শ্বাস কষ্ট, কাশির সময় বুকে বেদনা গলায় গড় গড় শব্দ নিঃশ্বাস ফেলিতে, নাকের পাতা ফুলিয়া উঠে, শ্বাস টানিতে বুকের পাজর চপিয়া যায়। এছাড়াও নিউমোনিয়া রোগ হলে আরও কিছু লক্ষণ থাকতে পারে।

 

চিকিৎসাঃ 

নিউমোনিয়ার চিকিৎসা তেমন কঠিন কিছু নয়। কিন্তু লক্ষণ ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে যদি চিকিৎসা করা যায় তবে নিউমোনিয়া থেকে সেরে উঠতে তেমন কোনো সময় লাগে না। নিম্নে নিউমোনিয়া হলে তার জন্য হোমিওপ্যাথির বিভিন্ন কার্যকর ওষুধ লক্ষণানুযায়ী তুলে ধরা হলো।

একোনাইট ন্যাপ (Aconit Nap) : রোগের প্রথম অবস্থায় শীত করিয়া জ্বরের আর্বিভাব, দেখিতে দেখিতে জ্বর ১০৩, ১০৪ হইয়া উঠে। দারুন জল পিপাসা, ভীষন অস্তিরতা অদম্য ছটফটানি, মৃত্যু ভয়। কালবৈশাখী ঝড়ের মত আক্রমনে একোনাইট অব্যর্থ।

সেবন বিধি : শক্তি 1x বা 3x এক বা অর্ধ ঘন্টা অন্তর সেব্য।

ব্রাইওনিয়া (Bryonia) : শুস্ক কাশি, বুকে সুঁচ ফোটানো বেদনা, বেদনার স্থান চাপিয়া শুইলে আরাম, চুপ করিয়া পড়িয়া থাকে। নড়াচড়া করিতে চায় না। নড়াচড়ায় সকল যন্ত্রনার বৃদ্ধি কষ্টদায়ক কাশি, হাতে বুক চাপিয়া ধরিয়া কাশে, অনেক কাশির পর অল্প গয়ার উঠে। কোষ্ঠবদ্ধ জিহ্বায় সাদা প্রলেপ ইত্যাদি লক্ষনে ব্রাইওনিয়া অমোঘ।

সেবন বিধি : শক্তি 6 বা 30 তিন ঘন্টা অন্তর।

রাস টাক্স (Rhus Tart) : বৃষ্টির জলে ভিজিয়া, জলে ঠান্ডা জলে অনেকক্ষন কাজ করিয়া বা কোন প্রকার ঠান্ডা লাগিয়া, জ্বর শরীরের টাটানী বেদনা, খুক খুকে কাশি, শ্বাস কষ্ট, বুকে ব্যথা, ছটফটানি, অস্থিরতা, রোগী বাড়ে বাড়ে এপাশ ওপাশ নড়াচড়া করিতে দেখিলে রাস টক্স দিবেন উপকার হইবে।



সেবন বিধি : শক্তি 3, 6 বা 30 দুই তিন ঘন্টা অন্তর।

এন্টিম টার্ট (Antim Tart) : জ্বর কাশি, গলায় সাঁই সাঁই, গড় গড় শব্দ, শ্বাস কষ্ট, কাশিতে ভীষন কষ্ট, অনেক্ষন কাশিয়াও কফ তুলতে না পাড়িয়া নিশ্চুপ হইয়া পড়িয়া থাকে। মাঝে মাঝে উত্তেজিত হইয়া শিশু কাঁদে, শ্বাস ফেলিতে, বুকের পাজর চাপিয়া যায়, মাঝে মাঝে শরীরে ঠান্ডা ঘাম।

সেবন বিধি : শক্তি 2x, 3x বা 6 দুই তিন ঘন্টা পর পর এক মাত্রা।

লাইকোপোডিয়াম (Lycopodium) : জ্বর বিকাল ৪ টা হইতে ৮ টা পর্যন্ত বৃদ্ধি। বুকে গড় গড় সাঁই সাঁই শব্দ, প্রশ্বাস কষ্ট, নিশ্বাস টানিতে নাকের পাতা ফুলিয়া উঠে। সরল কাশিতে হলদে রঙের গয়ার উঠে। গয়ার উঠিলেও কাশির উপশম হয় না। নিমোনিয়ার শ্বাস প্রশ্বাসের টানে টানে নাকের পাতা উঠা নামা করা, বৈকাল ৪ টা হতে রাত ৮ জ্বরের বৃদ্ধিতে লাইকোপেডিয়াম অব্যর্থ।

সেবন বিধি : শক্তি 30, 200 তিন ঘণ্টা পর পর এক মাত্রা।

ফসফরাস (Phosphorus) : লম্বা একহারা চেহারা, কোল কুঁজো, শীত কাতর এই ধাতুর রোগীদের প্রবল শ্বাস কষ্ট, বুকে গড় গড় শব্দ। কষ্টকর কাশি, কাশি রাতে বৃদ্ধি। বুক বেদনা, অস্থিরতা, কাশিতে লোহার মরিচার মত কিংবা রক্তের ছিট মিশ্রিত গয়ার উঠে। বুলাইয়া দিলে আরাম বোধ হয়। ইত্যাদি লক্ষনে ইহা উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 তিন ঘন্টা অন্তর কয়েক মাত্রা।



বাইওকেমিক চিকিৎসাঃ

ফেরাম ফস (Farrum Phos) : নিমোনিয়া প্রথম অবস্থায় প্রবল জ্বর, গলায় সাঁই সাঁই, বুকে গড়ু গড়ু শব্দ, কষ্ট, অস্থিরতা। খুক খুকে কাশি জলের মত পাতলা গয়ার উঠে।

সেবন বিধি : শক্তি 6x, 12x ১-৪ বড়ি বয়স অনুপাতে এক বা দুই ঘন্টা অন্তর।

ক্যালি মিউর (Kali Mur) : রোগের বাড়াবাড়ি অবস্থায় যেমন ফেরাম ফস, দ্বিতীয় অবস্থায় ক্যালি মিউর ভাল কাজ করে। খুস খুসে কাশি, ঘুস ঘুসে জ্বর, কাশিলে গয়ার উঠে। সাদা বর্ণের শ্লেষ্মা, জিহ্বায় সাদা প্রলেপ, কোষ্ঠবদ্ধ ইত্যাদি লক্ষনে ক্যালি মিউর উপকারী।

সেবন বিধি : শক্তি 6x, 12x ১-৪ বড়ি এক মাত্রা বয়স অনুপাতে তিন ঘন্টা অন্তর।

ক্যালি সালফ (Kali Sulph) : নিমোনিয়ার তৃতীয় অবস্থায় জিহ্বায় হরিদ্রা বর্ণের লেপে আবৃত। গলায় গড় গড় শব্দ, কাশিলে হরিদ্রা বর্ণের শ্লেষ্মা উঠে। ঘর্ম বিহীন জ্বরে ইহা ভাল কাজ করে।

সেবন বিধি : শক্তি 6x, 12x ২-৪ বড়ি এক মাত্রা বয়স অনুপাতে তিন ঘন্টা অন্তর।

 

পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থাঃ

শরীরে যাহাতে কোন প্রকার ঠান্ডা না লাগে সেদিকে লক্ষ্যে রাখিবে। স্থির ভাবে শোয়াইয়া রাখিয়া বুকে পিঠে তুলা দিয়া বাধিয়া মোটা চাদর চাপা দিয়া রাখিবে। ঈষৎ গরম জলে তালের মিছরি গলাইয়া পান করিতে দিবে।

দুধ, সাগু, বার্লি, এরারুট সুপথ্য। কোন প্রকার ঠান্ডা পানিয় পান করা নিষিদ্ধ। রোগেীদের গৃহ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখিবে ও গৃহে যাহাতে বিশুদ্ধ বায়ু চলাচল করে সেদিকে লক্ষে রাখিবে। পুরাতন ঘি গরম করিয়া বুকে মালিশ করা ভাল।



আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করা হলো। আশা করি, পোস্টটি আপনাদের কাজে লাগবে। আবারও আসবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – কেবল সচেতন থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে আরও পড়তে এখানে ক্লিক করুনঃ

নিউমোনিয়া বা ফুসফুস সংক্রান্ত বিষয়ে আরও পড়তে এখানে ক্লিক করুনঃ

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

One response to “নিউমোনিয়া বা ফুসফুসে প্রদাহ হলে করনীয় – হোমিও চিকিৎসা”

  1. […] কাপড়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন। এতে নিউমোনিয়া হবার ভয় থাকবে […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ১২:২২)
  • ২১শে জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই জিলকদ ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন