আজ বুধবার,১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Medical Promotion Officer Job

ওষুধ কোম্পানীর চাকরি (মেডিকেল প্রমোশন অফিসার) নিয়ে বাস্তব কথা

ওষুধ কোম্পানীর চাকরি ও কিছু কথা


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো ওষুধ কোম্পানীর চাকরি নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

একটা সময় ছিলো যখন মানুষকে খুঁজে খুঁজে চাকরি দেয়া হতো। মানুষ চাকরি করতেই চাইতো না। কিন্তু সময় পাল্টে গেছে। এখন প্রায় সবাই চাকরি খোঁজে। প্রধান কারণ একটাই আর সেটা হলো – জনসংখ্যা বেড়ে গেছে। দেশের আয়তন কিন্তু বাড়েনি। সেই ১৯৫০ সালে যা ছিলো এখনও কিন্তু তাই আছে। কিন্তু তখন জনসংখ্যা যা ছিলো এখন কি আর তাই আছে? উত্তর কখনোই না। এখন জনসংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।

ওষুধ কোম্পানীর চাকরি একটা সময় অনেক সম্মানের ছিলো। কিন্তু বর্তমানে এই চাকরি এতোটা সম্মানের নেই। এর পেছনে অনেক কারণ আছে। কিছু কারণ আমরা যারা চাকরি করি তারা নিজেরাই তৈরী করেছি। আর কিছু কারণ কোম্পানীগুলো তৈরী করেছে। আর অবশিষ্ট কারণ হলো পরিস্থিতি।

আপনি যদি বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই পদে যারা চাকরি করে তাদের দেখেন তবে আমাদের বাংলাদেশের সাথে ওদের আকাস-পাতাল তফাৎ। এখনও বিশ্বের অনেক দেশে মেডিকেল প্রমোশন অফিসার চাকরিটা অনেক সম্মানের। তারা ভালো বেতনও পায়।

যাই হোক, এই চাকরির হাল-চাল নিয়ে কিছু কথা বলি। আপনি যখন এই চাকরিতে আসবেন তখন আপনাকে ন্যূনতম অনার্স পাস হতে হবে। পাস কোর্স হলেও চলবে। তবে মাস্টার্স পাস হলে সবচেয়ে ভালো হয়। আপনি যদি তাদের ইন্টারভিউ এ সেলেক্ট হন তবে আপনাকে তারা ৩০ থেকে ৪৫ দিনের ট্রেনিং এ পাঠাবে।

প্রায় সব কোম্পানীর ট্রেনিং হয় ঢাকায়। ট্রেনিং এর সময় কিছু কোম্পানী আপনার জন্য একবেলা খাবার সরবরাহ করতে পারে। আর কিছু কোম্পানী আছে কেবল নাস্তা দেবে আর কিছু নয়। তবে ট্রেনিং শেষে আপনাকে কিছু টাকা দেয়া হতে পারে। বেশীরভাগ কোম্পানীই দেয়।

ট্রেনিং শেষ করার পরে আপনাকে কোম্পানীর ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশের যেকোন এলাকায় পোস্টিং দিতে পারে। আর যদি আপনার মামা, খালু থাকে তবে সম্পর্কের খাতিরে বাড়ি থেকে কাছেই কোন এলাকায় পোস্ট নিতে পারবেন।

বাংলাদেশে প্রায় ৩০০টি ওষুধ কোম্পানী আছে। ছোট-বড় সব মিলে। তন্মধ্যে ১ থেকে ২০ সিরিয়ালের কোম্পানীগুলোতে চাকরি করলে মোটামুটি মানসম্মত হিসেবে ধরা হয়। আর এর বাইরের কোম্পানীগুলোও যে ফেলে দেয়ার মতো তা কিন্তু নয়। সেগুলোর মধ্যেও অনেক কোম্পানী আছে যা অনেকটাই মানসম্মত। আমি নাম বলছি না।

ট্রেনিং শেষ করে যখন আপনি কোম্পানীতে প্রবেশ করবেন তখন ৩ থেকে ৬ মাস আপনার শিক্ষানবীশ কাল থাকবে। যদিও ৩ মাস পর থেকেই আপনার উপর প্রেসার আরোপ করা শুরু করবে কোম্পানী।

এখানে আবার আরো একটি ব্যাপার আছে। সেটা হলো – আপনি যদি ক্রেডিট কোম্পানীতে চাকরি করেন অর্থাৎ যে কোম্পানীগুলো কেমিস্টদের বাকিতে প্রোডাক্ট দেয় তাহলে মার্কেটে আপনার টাকা-পয়সা ইনভেস্ট করতে হবে। অবশ্যই করতে হবে। টপ টেন কোম্পানীগুলোর মধ্যে যেগুলো ক্রেডিট দেয় সেগুলোতে রিস্ক কম। কিন্তু যখনই আপনি এর বাইরের কোনো ক্রেডিট কোম্পানীতে চাকরি করবেন তখন আপনার জন্য তা রিস্কি অবশ্যই।

যদি আপনার পরিবারে টাকা-পয়সা যথেষ্ট পরিমাণে থাকে তবে কোনো সমস্যা নেই। বাড়ি থেকে ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকা এনে মার্কেটে যদি ইনভেস্ট করেন আর মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যান তবে চাকরি করতে পারবেন। নচেৎ আপনার জন্য চাকরি করাটা খুব কষ্টকর হয়ে যাবে।

এগুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত বলতে গেলে অনেকটা সময় লাগবে। তাই আমি সংক্ষিপ্তভাবে শেষ করার চেষ্টা করবো। আর যে কোম্পানীগুলো ক্যাশ (উদারহরণস্বরুপ স্কয়ার, বেক্সিমকো, হেল্থকেয়ার, ইউনিমেড ইউনিহেল্থ) সেগুলোতে চাকরি করাটা অনেকটাই সুবিধা। সেখানে আপনার কোনো রিস্ক নেই। মাস শেষে আপনার বিল-বেতন আপনার পকেটেই থাকবে। এর মধ্যেও কিছু ব্যাপার-স্যাপার আছে; সেগুলো না হয় এই নিবন্ধের শেষের দিকে বলবো।

চলবে…………

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সকাল ৭:১৯)
  • ২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২০শে রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
  • ১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন