আজ বুধবার,১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Child's Fever

হঠাৎ জ্বর হলে করণীয় – জ্বর হলেই করোনা নয়

  জ্বর হলে করণীয়


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো জ্বর ও এর চিকিৎসা নিয়ে। এখন এমন একটা সময় যাচ্ছে যে, জ্বর হলেই অনেকেই মনে করে করোনা হয়েছে। আসলে কিন্তু তা নয়। তাই আপনার যদি জ্বর হয় তবে তাৎক্ষনিক নিম্নোক্ত কাজগুলো করলে জ্বর কমে যাবে। আপনার আর ভয় পেতে হবে না। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।




জ্বর হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ে। তাই অনেক বাড়তি ক্যালরির প্রয়োজন হয়। অনেকে জ্বর হলে কিছু খাবেন না বলে ঠিক করেন। এতে নিজেরই ক্ষতি। জ্বরে সাধারণত শরীরের তাপমাত্রাকে ১০০–এর নিচে নামিয়ে আনা, গা মোছা ছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করা জরুরী। জ্বরের সময় বেশির ভাগ মানুষেরই রুচি কমে যায়।খাওয়া করতে চাই না। তাই এই সময় রোগীর খাবারের প্রতি অনীহা থাকলেও পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে রোগীকে সঠিক খাবারদাবার চালিয়ে যেতে হয়।

১। তরলঃ জ্বরের সময় যেই খাবারটির চাহিদা সবচেয়ে বৃদ্ধি পায়, সেটি হলো তরল জাতীয় খাবার। রোগীর বিপাকের হার বৃদ্ধি, শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিকে আনা, হজমে ব্যাঘাত না ঘটানো ইত্যাদি বিষয়কে মাথায় রেখে তরল খাবার নির্ধারণ করা হয়। তরল হিসেবে ফলের রস, স্যুপ, লাল চা ইত্যাদি খেতে পারেন। বিশেষ করে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল, যেমন: কমলা, মালটা, লেবু, জাম্বুরা, আনারস ইত্যাদি। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।




২। নরম পথ্যঃ তরলের পাশাপাশি রোগীকে নরম বা অর্ধ তরল খাবার দেওয়া গেলে ভালো। রোগীকে যেন বেশি চিবোতে না হয়, সহজে গেলা যায় এবং সহজে হজম হয় সে জন্য নরম পথ্য নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু তরল খাবারের ক্যালরি কম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কম পাওয়া যায়, তাই তরল খাবারের পাশাপাশি রোগীকে নরম খাবারও দিতে হবে। নরম পাতলা মুগডালের খিচুড়ি, জাও ভাত, সুজি, সাগু, পুডিং, নরম কাটা ছাড়া মাছ ইত্যাদি খাবার রোগীকে দিতে পারলে ভালো। তাহলে পুষ্টির অভাব অনেকটা পুরণ হবে।

 

 শিশুদের দিকে বিশেষ নজরঃ




ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত শিশু প্রায়ই পানিশূন্যতায় ভোগে। কেননা জ্বরের তাপে শরীর পানি কমে যায়। তাই শিশুকে প্রচুর পানি ও তরল খাবার দিন। শুধু পানি পান করতে না চাইলে ফলের রস, তরমুজ বা আঙুর, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদিও খাওয়ান। সেই সঙ্গে শিশুর দরকার প্রচুর বিশ্রাম। বেশির ভাগ শিশুর খাওয়ার রুচি যায় নষ্ট হয়ে, কিছুই খেতে চায় না। এমন খাবার দিন, যা অল্প খেলেও বেশ শক্তি পাবে। যেমন দুধ-চিনি দিয়ে তৈরি কোনো নাশতা, মুরগির মাংসের স্যুপ, পাস্তা, ফলমূল ইত্যাদি।

জ্বর বাড়লে গা মুছে দিন, সঙ্গে সাধারণ প্যারাসিটামল খেতে পারে। ওষুধের সঠিক মাত্রাটি জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে। নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন পানির ড্রপ ব্যবহার করা যায়। খুসখুসে কাশিতে মধু বা আদার রস বেশ আরাম দেবে। ভাইরাল ফ্লু বা জ্বর পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় এমনিতেই কমে যায়। কিন্তু জ্বর দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মাত্রার হলে, শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে বা সে খাওয়াদাওয়া একদম ছেড়ে দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।




 

সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথায় কী করবেন?

সর্দি, কাশি বা সামান্য গলাব্যথা এমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। তবে একবার ঠান্ডা লাগলে তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবেই। ( কারণ,সাধারণ জ্বর সরাদি ও কাশি ওষুধ খেলেও সাতদিন যাবে না খেলেও সাতদিন যাবে।

ডাক্তারী ভাষায় একটা কথা আছে সাধারণ জ্বর সর্দি ওষুধ খেলে ৭দিন না খেলে এক সপ্তাহ। আর কাশি তো বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সাধারণ কাশির চিকিৎসা আপনিই করতে পারেন। এ ধরনের কাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায়।

কাশির সঙ্গে যদি জ্বর হয়, তাহলে গুরুত্ব দিতে হবে। ঠান্ডা খাবার, ফ্রিজের পানি পরিহার করতে হবে। কুসুম গরম পানি পান করতে পারলে ভালো হয়। হালকা কুসুম কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গলা গড়গড়া করলে গলাব্যথা সহজেই ভালো হয়ে যায়। দিনে কমপক্ষে ২ বার ৫-১০ মিনিট সময়ে গড়গড়া করা উচিত। ধুলাবালু এড়িয়ে চলুন। আশা করি আপনার জ্বর ভালো হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্‌।




আজ এ পর্যন্তই। আবার আসবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – কেবল সচেতন থাকুন।

এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলে এবং প্রয়োজনীয় মনে হলে অনুগ্রহ করে নিচের বাটনগুলোর মাধ্যমে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

আরও পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুনঃ

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

পোস্টটি লিখেছেন- মো: জাহাঙ্গীর আলম (অনার্স – অ্যাকাউন্টিং) দিনাজপুর সরকারি কলেজ এবং সিইও – Dinajpur School নামক ইউটিউব চ্যানেল। এখানে ক্লিক করে চ্যানেলে প্রবেশ করুন। 

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সকাল ৭:০৭)
  • ২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২০শে রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
  • ১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন