আজ বুধবার,১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Childs Care

বাচ্চাদের যত্ন নেয়ার জন্য কিছু সাধারণ পরামর্শ

বাচ্চাদের যত্ন ও পরামর্শ


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো বাচ্চাদের যত্ন ও পরামর্শ নিয়ে। আশা করি, সবাই উপকৃত হবেন। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

জন্মের পরপর শিশুর মুখে মধু দিলে মুখ মিষ্টি হয়?

কথাটা কেবল ভুলই নয়, বিপজ্জনকও। জন্মের পর পর শিশুকে মায়ের প্রথম শালদুধ দিতে হবে। হলুদ তরল বলে অনেকে এটা ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু এই শালদুধেই আছে শিশুর প্রথম প্রয়োজনীয় পুষ্টি। তাই নবজাতককে মধু, চিনির পানি, মিছরির পানি বা কৌটার দুধ কিছুই দেওয়া যাবে না। হয়তো অনেকেই দিতে বলবে কিন্তু তা করা বাঞ্চনীয় নয়।

ছোটবেলা থেকেই সবকিছু চাই?

শিশুদের একেবারে ছোট থেকে সব বিষয়ে (যেমন বইপড়া, নাচ-গান, ছবি আঁকা ইত্যাদি) পারদর্শী করে তুলতে অনেকে অস্থির হয়ে পড়েন। এটা মোটেই উচিত নয়। মুঠোফোনে গেমস, আইপ্যাড চালাতে দেখে বিস্মিত ও খুশি হন। এর কোনোটাই ভালো লক্ষণ নয়।

অনেক বাবা-মা আবার আদবকায়দা ইত্যাদি নিয়ে অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। কোনো কিছু নিয়েই বাড়াবাড়ি ঠিক নয়। অনেকে সন্তানকে এত ভালোবাসেন ও প্রশ্রয় দেন যে তাকে সব কাজ থেকেই বিরত রাখেন।

জামাকাপড় পরানো বা স্কুলব্যাগ বহন করার জন্যও লোক রাখেন। দৈনন্দিন কাজকর্ম, যেমন খাওয়াদাওয়া, জুতা ও পোশাক পরা, ব্যাগ গোছানো ও বহন করা এসবে শিশুকে সাহায্য করতে পারেন, কিন্তু পুরোটাই করে দেবেন না। তাকে স্বাবলম্বী হতে শেখান। বাচ্চাকে কাজ সম্পর্কে ধারণা দিন। নিজের কাজগুলোকে তার নিজের হাতে করতে দিন।

শিশুর সামনে সংযত আচরণ করুনঃ
শিশুরা কোনো প্রশ্ন করলে তার উত্তর না দিয়ে বরং ধমক দিয়ে তাকে থামিয়ে দেন অনেকে। অতিথির সামনে কথা বললে বিরক্ত হন। এটা ঠিক নয়। সব অবস্থাতেই তাদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনবেন। শিশুরা তো মূলত অবুঝ। তারা যখন যে বিষয় নিয়ে ভাববে সেই বিষয়েই আপনাকে প্রশ্ন করে বসবে।

শিশুর সামনে নিজেরা কথা কাটাকাটি, চিৎকার, ঝগড়া করা বা কাউকে মারধর বা গালাগাল করা একেবারেই উচিত নয়। ধূমপান বর্জন করুন। শিশুর সামনে মিথ্যা বলবেন না কখনো। কোনো কিছুতে দক্ষতা কম বলে তাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে বকাবকি করবেন না। শিশুর সাফল্যে প্রশংসা করুন এবং উৎসাহ দিন। ভুল বা অন্যায় করলে বুঝিয়ে বলুন, শাস্তি দেবেন না।

আরও বাড়তি কিছু বিষয় যা মনে রাখা জরুরীঃ

শিশুর চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখতে প্রতিদিন চুল ভালোভাবে শিশুদের উপযোগী শ্যাম্পু দিয়ে ধুতে হবে। কারণ, বড়দের শ্যাম্পুতে ব্যবহৃত উপাদান বাচ্চাদের জন্য সহনশীল নয়। বাচ্চাদের চুলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই।

শিশুদের তেলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন নিতে হবে। সব ধরনের তেল শিশুদের জন্য উপযোগী নয়। বাচ্চাদের মাথার ত্বকে এক্সট্রা ভার্জিন গ্রেড নারকেল তেল অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাচ্চার মাথায় সরিষার তেল ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

বুকের দুধ খাওয়ানো মা হিসাবে আপনাকে কিছু খাবার এড়াতে বলা যেতে পারে যা থেকে এলার্জি হতে পারে, যেমন বাদাম, দুগ্ধ, সোয়া, চীনাবাদাম, শেলফিশ, মাছ প্রভৃতি। তবে এছাড়া, আপনি যেকোনো খাবার খেতে পারেন।

কারণ এটি বুকের দুধের মাধ্যমে আপনার শিশুর বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বিকাশে সহায়তা করে। তবে, আপনাকে অ্যালকোহল, অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যাফিনযুক্ত পানীয়, এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক খাবারগুলি কঠোরভাবে এড়াতে হবে। কয়েকদিনের জন্য মশলাযুক্ত খাবার এড়াতে হবে কিন্তু আপনাকে সহজপাচ্য খাবারে আটকে থাকতে হবে না।

বুকের দুধ স্বল্প মেয়াদে শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এমন অনেক তথ্য উপাত্ত রয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা বুকের দুধ খায় তারা বিশেষ করে অ্যালার্জি, পেটের সমস্যা এবং কানে সংক্রমণের মতো সমস্যায় কম পড়ে।

কিন্তু বুকের দুধের দীর্ঘমেয়াদী উপকারিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য গবেষকদের কাছে নেই। অর্থাৎ যাদের বুকের দুধ দেয়া হয়েছে ছোটবেলায়, বড় হলে তারা বেশি স্মার্ট হবে অথবা তারা স্থূল হবে না, কিংবা তাদের ডায়াবেটিস বা ক্যান্সারের ঝুঁকি কম হবে এমন কোন উপকারিতার কথা শোনা যায়নি।

তবে, সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের কিছু ধরণের ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার ঝুঁকি ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

অনেক প্রাচীন জনগোষ্ঠীর মানুষেরা এখনো ঘুমন্ত সন্তানকে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শক্ত করে বুকের কাছে বেঁধে রাখেন। গবেষণায় দেখা গেছে এটা শিশুদের জন্য ভালো, এর ফলে শিশু ভয় পেয়ে কেঁদে ওঠে না, এবং শিশুর ঘুম ভালো হয়।

তবে বুকের কাছে বেঁধে রাখার সময় শিশু যেন তার কোমর এবং পশ্চাৎদেশ ঠিকমত নড়াচড়া করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

বাবা মায়ের যা করা উচিৎ‌-

  • শিশুর প্রয়োজন, চাহিদা এবং অনুভূতিকে বুঝুন।
  • সব সময় পক্ষপাতশূন্য থাকবেন, অন্য কারও সঙ্গে শিশুর তুলনা করবেন না।
  • শিশুর সঙ্গে সহজ ও বন্ধু ভাবে মিশুন।
  • শিশুর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা করবেন না।

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক তখনই ভাল হবে যখন শিক্ষক-

  • ইতিবাচক চিন্তা করবেন।
  • শাস্তি দেওয়াকে এড়িয়ে যেতে পারবেন।
  • পড়ুয়াদের কথা শুনবেন ও তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবেন।
  • ছাত্রছাত্রীদের দুর্বলতা কটিয়ে উঠতে সাহায্য করবেন।

অভিভাবকের ভূমিকা-

বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু না হলেই নয়, অর্থাৎ খাদ্য, জল, বাসস্থান দিয়েই শিশুদের প্রয়োজন মেটে না। এগুলো ছাড়াও বেশ কিছু জিনিস তাদের প্রয়োজন হয়। সবসময় সেগুলোও মাথায় রাখতে হবে। যেমনঃ

শিশুদের এমন একজনকে প্রয়োজন, যার সঙ্গে তারা তাদের ভাবনা, সমস্যা ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে পারে। অভিভাবকদের উচিত রোজ তাঁর সন্তানের সঙ্গে কথা বলা ও সময় কাটানো।

  • বন্ধুরা শিশুর জীবনে বড় ও দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাই ভালো বন্ধু শিশুর জীবনে অত্যন্ত জরুরি। কথায় আছে, ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’। পছন্দ, অপছন্দ, স্বপ্ন, ইচ্ছায় তার সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন ব্যক্তির সঙ্গে শিশুরা মিশতে পছন্দ করে। তাই শিশুরা কার সঙ্গে মেলামেশা করছে, সে দিকে অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ নজর রাখা দরকার।
  • শিশুদের আত্মপরিচয়ের বিকাশ ঘটানো উচিত, এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করে তোলার চেষ্টা করা উচিত, যা তাদের অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে। শিশুরা অন্য সবার থেকে আলাদা, তারা একেবারে নিজস্ব ভঙ্গিমায় নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে। অভিভাবকদের অবশ্যই তাদের এ ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন, তাদের চেতনায় সঠিক নীতিবোধ যাতে জায়গা করে নিতে পারে সে ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া দরকার।

শীতে শিশুর যত্ন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়ঃ

শিতে শিশুকে উপযুক্ত আরামদায়ক ও কিছু বাড়তি গরম কাপড় গায়ে দিতে দেবেন। তার মাথা, ঘাড়, হাত এবং পা ভালোভাবে গরম কাপড়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন। এতে নিউমোনিয়া হবার ভয় থাকবে না।

সাধারনত প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের চেয়ে শিশুদের এক লেয়ার বেশি কাপড় নিশ্চিত করুন। আর অবশ্যই শিশুদের জন্য কয়েক জোড়া শীতের কাপড় ব্যবহার করবেন এবং দুই থেকে তিন দিন অন্তর অন্তর তা পরিস্কার করে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিবেন।

শীতের পোশাকঃ
শীত থেকে বাচ্চাদের নিরাপদ রাখার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাপড় পরানো। শীত থেকে রক্ষা করার জন্য শুধু গরম পোশাক পরালেই চলবেনা।

বড়দের চাইতে বাচ্চা বা অল্প বয়স্ক শিশুদের শরীরে শীতের অনুভূতি বেশি থাকে। তাই বাচ্চাদের যাতে ঠাণ্ডা লেগে না যায় তার জন্য শীতের তীব্রতা অনুযায়ী পোশাক পড়াতে হবে। বাচ্চার যত্নে শীতের পোশাকের ভূমিকা অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ।

গোসলঃ
অনেকেই শীতকালে বাচ্চাদের গোসল করাতে ভয় পান। গোসল করালে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পরবে এটাই বেশির ভাগ বাবা-মায়ের ধারণা। কিন্তু ব্যাপারটি পুরোটাই ভিন্ন।

বাচ্চাদের শীতকালে আরো বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিশুর শরীরের তেল ও ময়লা ধুয়ে ফেলতে গোসল করানো জরুরি। গোসল করানোর সময় বাচ্চাদের উপযোগী সাবান ব্যবহার করতে হবে।

কারণ বড়দের সাবানে অনেক বেশি ক্ষার থাকে এবং এই ক্ষার শিশুদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। খুব বেশি সময় ধরে শিশুকে গোসল করাবেন না। বাচ্চাদের যত্ন এর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

গোসল শেষে দ্রুত শরীর ও মাথা ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। গোসল শেষ করে হালকা রোদে বসতে পারলে শিশু বেশ আরাম পাবে।

মনে রাখবেনম, শিশুকে নিয়মিত গোসল করালেই ভালো থাকে। কিন্তু ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করানো থেকে বিরত থাকুন। সবসময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।

আজকের আলোচনা (বাচ্চাদের যত্ন ও পরামর্শ নিয়ে) এখানেই শেষ করা হলো। আবারও আসবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – কেবল সচেতন থাকুন। নিয়মিত মাস্ক পড়ুন এবং জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলুন।

শিশুদের যত্ন ও চিকিৎসা সম্পর্কে আরও পড়তে এখানে ক্লিক করুনঃ

শিশুর যত্ন সম্পর্কে আরও পড়ুন এখানেঃ

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (ভোর ৫:৫৬)
  • ২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২০শে রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
  • ১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন